ঢাকায় ব্যস্ত সময় কাটালেন যুক্তরাষ্ট্রের গ্লোবাল ক্রিমিনাল জাস্টিস বিষয়ক অ্যাম্বাসেডর-অ্যাট-লার্জ র্যাপ
বাংলাদেশে একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারকাজে যুক্তরাষ্ট্রের জোরালো সমর্থন রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুদ্ধাপরাধ বিষয়ক বিশেষ দূত স্টিফেন জে র্যাপ। গতকাল দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পরিদর্শন ও সংশ্লিষ্ট বিচারপতিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের পর তিনি এ মন্তব্য করেন। স্টিফেন জে র্যাপ তিন দিনের সফরে গতকাল সকালে ঢাকায় আসেন। যুদ্ধাপরাধের বিচার শুরু হওয়ার পর বাংলাদেশে এটি তার পঞ্চম সফর। দুপুর সোয়া একটার দিকে ট্রাইব্যুনালে এসে পৌঁছেন তিনি। এসময় তাকে স্বাগত জানান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার একেএম নাসিরউদ্দিন মাহমুদ ও ডেপুটি রেজিস্ট্রার অরুণাভ চক্রবর্তী। এরপর ট্রাইব্যুনাল ১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নিজস্ব কক্ষে দু’টি ট্রাইব্যুনালের ছয়জন বিচারপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন স্টিফেন জে র্যাপ। প্রায় এক ঘণ্টা স্থায়ী সৌজন্য সাক্ষাতে স্টিফেন জে র্যাপ ট্রাইব্যুনালের বিচারসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে খোঁজখবর নেন। পরে সাংবাদিকদের বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় যে যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত হয়েছে, তার বিচার করা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন দেশে যে সব মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে সে সব অপরাধ জুডিশিয়াল প্রসেসে আনা আমেরিকা সমর্থন করে। তবে নিজের অভিমত ব্যক্ত করার পর উপস্থিত সাংবাদিকদের কোন প্রশ্নের সুযোগ দেননি স্টিফেন জে র্যাপ। ট্রাইব্যুনাল পরিদর্শন শেষে তিনি সেগুনবাগিচায় অবস্থিত মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর পরিদর্শনে যান। সেখানেও সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। এর আগে তিনি প্রায় তিন ঘণ্টা সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ধানমন্ডিস্থ তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে। সাক্ষাতে বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ক্ষেত্রে তদন্ত কর্মকর্তারা কিভাবে কাজ করছেন, কতটি মামলার তদন্ত করেছেন, কতটি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে, কতটি মামলার রায় ঘোষিত হয়েছে এবং কতটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রয়েছে- এসব বিষয়ে খোঁজখবর নেন তিনি। বিকালে তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন কার্যালয়ে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন। এ সময় তিনি ট্রাইব্যুনালের মামলার বিষয়ে সার্বিক খোঁজখবর নেয়ার পাশাপাশি মামলা বাছাই করার প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রশ্ন করেন। উত্তরে চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন ১৯৭৩-এর ৩(২) ধারা অনুযায়ী যার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের এলিমেন্ট (উপাদান) পাওয়া গেছে শুধুমাত্র তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হয়েছে। সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি হোটেলে স্টিফেন জে র্যাপের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ট্রাইব্যুনালের ডিফেন্স কাউন্সিলের আইনজীবীরা। এসময় তারা ট্রাইব্যুনাল ও বিচারকাজ সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে স্টিফেন জে র্যাপকে অবহিত করেন। যুক্তরাষ্ট্রের গ্লোবাল ক্রিমিনাল জাস্টিস বিষয়ক অ্যাম্বাসেডর-অ্যাট-লার্জ স্টিফেন জে র্যাপ এর আগেও চারবার ঢাকা সফরে এসেছেন। তবে ৫ই জানুয়ারি নির্বাচনের পর এটি তার প্রথম ঢাকা সফর। আর যুদ্ধাপরাধের বিচার শুরু হওয়ার পর বাংলাদেশে এটি তার পঞ্চম সফর। এর আগে ঢাকায় এসে তিনি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেয়া রায় নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তবে বর্তমানে অভিযুক্ত অনেক যুদ্ধাপরাধীর বয়স বিবেচনা করে মৃত্যুদণ্ডের বিষয়টি বিবেচনা করার আহ্বান জানান তিনি।মানবজমিন
- Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN
- এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ
- Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda
- নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ
- নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার অঙ্গীকার
- State Minister for Foreign Affairs Urges Stronger Global Action to Protect Civilians, Uphold Humanitarian Law and Support Rohingya Repatriation
- বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন সমুন্নত রাখা ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামার
- মহররম মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত!