ঢাবি অধ্যাপকের প্রেম ও অভিসার নিয়ে তোলপাড়
সোলায়মান তুষার: এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু বিভাগের এক শিক্ষকের প্রেম ও অভিসার নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। ওই শিক্ষকের নাম মোহাম্মদ ইস্রাফিল। তিনি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। একই বিভাগের ও কুয়েত মৈত্রী হলের চতুর্থ বর্ষের আবাসিক এক ছাত্রীকে বিয়ের কথা বলে প্রায় দেড় বছর অভিসার করেছেন তিনি। বারবার বিয়ের কথা বললেও এখন ছাত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছেন। এ অবস্থায় ওই ছাত্রী রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, প্রক্টর ড. কে এম সাইফুল ইসলাম খানের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। এর আগে হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ফরিদা বেগমের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। এছাড়া ওই ছাত্রী মানবজমিনের কাছে তার প্রেমের বিষয়ে বিস্তারিত সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। বিয়ে না করায় এর আগে ওই ছাত্রী ৭ই অক্টোবর ঘুমের বড়ি খেয়ে আত্মহত্যা করতে যান। বিষয়টি হল কর্তৃপক্ষ জানতে পেরে তৎক্ষণাৎ উদ্ধার করে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করান। ওই সময় ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়ে ছাত্রী মা হতে চলেছেন। ছাত্রীর অভিযোগ থেকে জানা গেছে, তাকে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে ওই শিক্ষক এখন বলছেন, বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেছে। তাই আর বিয়ে করা সম্ভব নয়। এখন তিনি কোন প্রকার যোগাযোগ করছে না। ফোনও ধরছেন না। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, অনেক চেষ্টা করা হয়েছে বিষয়টি সমাধানের জন্য। কিন্তু ওই শিক্ষক কোন পাত্তা-ই দিচ্ছে না। ওই ছাত্রী বলেছেন, সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ ইস্রাফিল আমার বিভাগের টিচার। তার সঙ্গে আমার মাঝেমধ্যে ফোনে কথা হতো। একপর্যায়ে দেখা গেছে কথাটা একটু বেশি হতো। এ রকম করে কথা হচ্ছিল। এক সময় তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করেন, তুমি আমাকে নিয়ে ভাবো কিনা বা ভালবাসো কিনা? এভাবে বিষয়টা হয়ে গেছে। দেড় বছর আগে থেকে আমাদের সম্পর্কের শুরু। আর ওনার সঙ্গে আমার কমিটমেন্টটা হয়েছে গত বছরের ২০শে মে। আমাদের নবীনবরণের প্রোগ্রামে ওনার সঙ্গে আমার কমিটমেন্ট হয়। তিনি আমাকে বিয়ে করার কথা বলেন। কোন সম্পর্ক থাকলে যে ধরনের কমিটমেন্ট হয় আমাদের মাঝে তা-ই হয়েছে। তিনি আমাকে বিয়ে করার কথা বলেন। তারপর থেকে তার সঙ্গে আমার রিলেশন চলছে। অক্টোবরের দিকে তিনি আমার সঙ্গে খুব রাগারাগি করেন। তিনি আমার সঙ্গে রিলেশন না রাখার কথা বলেন। তারপর আমি তাকে অনেক বোঝানোর চেষ্টা করেছি যে, দেড় বছর পর কেন এমন করবেন? আমি অনেক বোঝানোর চেষ্টা করেছি, কিন্তু তিনি কোনভাবেই মানবেন না। এরপর থেকে আমার সঙ্গে দেখা করেন না, কথা বলেন না, ফোন দেন না ঠিকমতো, আমি ফোন দিলেও রাগারাগি করেন। পরে অক্টোবরের ৬ ও ৭ তারিখ আমাকে বলে দেন- আমার সঙ্গে আর রিলেশন রাখবেন না। পরে আমি ৭ তারিখ রাতে ঘুমের বড়ি খাই। এর আগে তাকে বারবার বলি- আমি কিন্তু কোন ধরনের এক্সিডেন্ট করবো। আমি মরে যাবো, এসব কথা তাকে অনেকবার বলেছি। কিন্তু তিনি বিশ্বাস করেননি। আর বলেন, মেয়েমানুষের কথা আমি বিশ্বাস করি না। মেয়েরা সব কিছু মুখে মুখে বলে। তার সঙ্গে আমার রিলেশনটা এমন পর্যায়ে ছিল যে, আমার মনে হয়েছে আমি তাকে ছাড়া থাকতে পারবো না। আমি তাকে হাতে-পায়ে ধরেছি, অনেক বোঝানোর চেষ্টা করেছি রিলেশনটা রক্ষা করার জন্য। তিনি আমাকে বলেছিলেন, ফেব্রুয়ারির ১৩ তারিখে আমাকে বিয়ে করবেন। ৩১শে ডিসেম্বর আমাদের এনগেজমেন্ট করার কথা ছিল। সম্পর্কটা স্বামী-স্ত্রীর মতো ছিল কিনা জানতে চাইলে ওই ছাত্রী বলেন, হ্যাঁ, আমাদের সম্পর্ক অনেক ভাল ছিল। আমরা সপ্তাহে একদিন সাভারে যেতাম। সারাদিন ঘুরতাম, আশপাশের অনেক রেস্টুরেন্টে গেছি। তার সঙ্গে আমার শারীরিক রিলেশন ছিল। মাসে ৫-৬ বার আমরা শারীরিকভাবে মিলিত হতাম। তিনি বলেন, আমরা মাঝেমধ্যেই লং জার্নিতে যেতাম। বেশির ভাগ সময় সাভারের ওদিকে যেতাম। সকালে যেতাম, দুপুরে যেতাম, রাতে হলে ফিরতাম। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের অরণ্যালয়ে, পিকনিক স্পটে যেতাম। ওখানে জঙ্গলের মতো একটা জায়গা আছে সেখানে থাকতাম। মিলিটারি অরণ্যালয় আছে, সেখানে যেতাম। ওই ছাত্রী বলেন, সর্বশেষ ২৪শে ডিসেম্বর অনেকবার ফোন দেয়ার পর তিনি রিসিভ করেন। এরপর আমি তাকে অনেক বোঝানোর চেষ্টা করি। বলি, এখন এমন করছেন কেন? এ ঘটনার পর বাসা থেকেও বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছে। তিনি বলেন, তুমি তোমার মতো থাকো। ভিসির কাছে যাও, প্রক্টরের কাছে যাও, যা ইচ্ছা তা-ই করো। ছাত্রীটি জানান, আমি আমার বিভাগের সিনিয়র স্যারদের সঙ্গে কথা বলেছি। একদিন আমার বাবাকে নিয়েও প্রক্টর স্যারের কাছে এসেছিলাম। তার ভাইকে নিয়ে আসার কথা ছিল। কিন্তু তিনি আসেননি। স্যারেরা অনেকবার তার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তিনি পাত্তা দেন না।
সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য: এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. কে এম সাইফুল ইসলাম খান বলেন, ছাত্রীর অভিযোগ পেয়েছি। আমরা বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেছি। বারবার ওই শিক্ষককে অনুরোধ করার পরও তিনি পাত্তা দেননি। এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে কর্তৃপক্ষ। বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মাহমুদুল ইসলাম বলেন, ছাত্রীর বিষয়টি আমি শুনেছি। বিভাগের প্রধান হিসেবে আমি দু’জনকে মুখোমুখি করে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেছি। কিন্তু ওই শিক্ষক আমাদের কোন প্রকার সহযোগিতা করেননি। যেহেতু বিষয়টা ব্যক্তিগত তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ বডি এটা ভেবে দেখবে। কুয়েত মৈত্রী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক কর্নেল ফরিদা বেগম বলেন, আমরা বিষয়টার সুষ্ঠু বিচার চাই। তিনি বলেন, ওই ছাত্রী আত্মহত্যা করতে চেয়েছিল। আমরা তাকে নিয়ে হাসপাতালে ছোটাছুটি করেছি। এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছুটি চলছে। ওই ছাত্রী হলে নেই। আমি তার একটি অভিযোগ পেয়েছি। ওই ছাত্রী আমাদের বলেছে, উর্দু বিভাগের এক শিক্ষকের সঙ্গে তার সম্পর্ক রয়েছে। এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য মোহাম্মদ ইস্রাফিলের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তাকে মোবাইলে মেসেজ দিলেও কোন উত্তর দেননি। মানবজমিন
সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য: এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. কে এম সাইফুল ইসলাম খান বলেন, ছাত্রীর অভিযোগ পেয়েছি। আমরা বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেছি। বারবার ওই শিক্ষককে অনুরোধ করার পরও তিনি পাত্তা দেননি। এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে কর্তৃপক্ষ। বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মাহমুদুল ইসলাম বলেন, ছাত্রীর বিষয়টি আমি শুনেছি। বিভাগের প্রধান হিসেবে আমি দু’জনকে মুখোমুখি করে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেছি। কিন্তু ওই শিক্ষক আমাদের কোন প্রকার সহযোগিতা করেননি। যেহেতু বিষয়টা ব্যক্তিগত তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ বডি এটা ভেবে দেখবে। কুয়েত মৈত্রী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক কর্নেল ফরিদা বেগম বলেন, আমরা বিষয়টার সুষ্ঠু বিচার চাই। তিনি বলেন, ওই ছাত্রী আত্মহত্যা করতে চেয়েছিল। আমরা তাকে নিয়ে হাসপাতালে ছোটাছুটি করেছি। এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছুটি চলছে। ওই ছাত্রী হলে নেই। আমি তার একটি অভিযোগ পেয়েছি। ওই ছাত্রী আমাদের বলেছে, উর্দু বিভাগের এক শিক্ষকের সঙ্গে তার সম্পর্ক রয়েছে। এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য মোহাম্মদ ইস্রাফিলের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তাকে মোবাইলে মেসেজ দিলেও কোন উত্তর দেননি। মানবজমিন
সর্বশেষ সংবাদ
- New York Attorney General James Secures Reimbursements for T-Mobile Customers Whose Rates Were Unjustly Raised
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে কুনু-ফিরোজ পরিষদের সাত দফা ইশতেহার ঘোষণা; কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠা, সাশ্রয়ী ফিউনারেল সেবা, বিমানের সরাসরি ফ্লাইট ও আর্থিক স্বচ্ছতায় অঙ্গীকার
- ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থন: জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত আইরিন খান
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বিতর্ক, গুরুত্ব পেল স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি
- New York Attorney General James Warns New Yorkers About AI-Generated Election Misinformation Ahead of November Elections
- Bangladesh calls for global treaty to protect victims of crimes against humanity
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘে মুহাম্মদ নওশাদ জমির এমপি: মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রতিরোধে শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সনদ প্রণয়নের আহ্বান
- সোশ্যাল মিডিয়ার তথ্য গোপন করলে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাখ্যান, আবেদনপত্রে চাওয়া তথ্য সঠিক ও সম্পূর্ণভাবে দেওয়ার নির্দেশনা মার্কিন দূতাবাসের