Friday, 23 October 2026 |
শিরোনাম
ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট ইউএসএর সাধারণ সম্পাদক ড. সাদিয়া আফরিন এরা চরমোনাই পীরের যুক্তরাষ্ট্র সফর উপলক্ষে নিউইয়র্কে দোয়া মাহফিল, কুরআন-সুন্নাহর আলোকে বয়ান New York Attorney General James Secures Reimbursements for T-Mobile Customers Whose Rates Were Unjustly Raised নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে কুনু-ফিরোজ পরিষদের সাত দফা ইশতেহার ঘোষণা; কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠা, সাশ্রয়ী ফিউনারেল সেবা, বিমানের সরাসরি ফ্লাইট ও আর্থিক স্বচ্ছতায় অঙ্গীকার ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থন: জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত আইরিন খান নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বিতর্ক, গুরুত্ব পেল স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি New York Attorney General James Warns New Yorkers About AI-Generated Election Misinformation Ahead of November Elections Bangladesh calls for global treaty to protect victims of crimes against humanity নিউইয়র্কে জাতিসংঘে মুহাম্মদ নওশাদ জমির এমপি: মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রতিরোধে শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সনদ প্রণয়নের আহ্বান সোশ্যাল মিডিয়ার তথ্য গোপন করলে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাখ্যান, আবেদনপত্রে চাওয়া তথ্য সঠিক ও সম্পূর্ণভাবে দেওয়ার নির্দেশনা মার্কিন দূতাবাসের
সব ক্যাটাগরি

দুর্নীতির অভিযোগে পদ্মাসেতুর ঋণচুক্তি বাতিল করছে বিশ্বব্যাংক : বিশ্বব্যাংকের বিবৃতি অগ্রহণযোগ্য – অর্থমন্ত্রী,ঋণ চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত লজ্জাজনক – টিআইবি

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 159 বার

প্রকাশিত: June 30, 2012 | 11:39 AM

ডেস্ক: ব্যাপক দুর্নীতির তদন্তে সরকারের অসহযোগিতার কারণে পদ্মাসেতুতে প্রতিশ্র“ত ১২০ কোটি ডলার ঋণচুক্তি বাতিল করছে বিশ্বব্যাংক। তারা এক বিবৃতিতে বলেছে, বাংলাদেশ সরকার ওই দুর্নীতিতে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না নেয়ায় এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি। আজ সকালে বিবিসি’র প্রত্যুষা অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, বাংলাদেশের স্থানীয় সময় গত গভীর রাতে এ বিবৃতি দেয়া হয়। এতে আরও বলা হয়, বিশ্বব্যাংকের সদর দফতর ওয়াশিংটন থেকে জারি করা এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই সেতু নির্মাণে পরামর্শক নিয়োগের ক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকার সহযোগিতা না করায় তারা এ পদক্ষেপ নিয়েছে।

বিশ্বব্যাংক তাদের বিবৃতিতে বলেছে, পদ্মা সেতু নির্মাণে বাংলাদেশ সরকারের কর্মকর্তা, কানাডার পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি ব্যক্তিদের যোগসাজশে দুর্নীতির বিশ্বাসযোগ্য তথ্যপ্রমাণ তাদের হাতে রয়েছে। এসব তথ্য প্রমাণ বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের কাছে দেয়া হয়েছে বলে সংস্থাটি বলছে। বিশ্বব্যাংক বলছে, বাংলাদেশ সরকার বিষয়টিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেবে বলে তারা আশা করেছিল। বিশ্বব্যাংকের দাবি ছিল যেসব সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের সরিয়ে দেয়া হোক। কিন্তু সার্বিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের পদক্ষেপ সন্তোষজনক ছিল না বলে বিবৃতিতে বলা হয়। এজন্য বিশ্বব্যাংক বিষয়টিতে চোখ বন্ধ করে থাকতে পারে না বলে উল্লেখ করা হয়। সব মিলিয়ে সরকারের কাছ থেকে পর্যাপ্ত সাড়া না পাওয়ায় বিশ্বব্যাংকের প্রতিশ্র“ত ১.২ বিলিয়ন ডলার ঋণ বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে সংস্থাটি বলছে।

বিবিসি আরও জানায়, ২০১১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এবং ২০১২ সালের এপ্রিল মাসে ওই সব তথ্য-প্রমাণ দেয়া হয়। বিশ্বব্যাংক বলছে, দুর্নীতির এ অভিযোগ পুর্ণাঙ্গভাবে তদন্ত করে দায়ীদের শাস্তি দেবার জন্য তারা বাংলাদেশ সরকারের কাছে আহবান জানিয়েছিল। কারণ বিশ্বব্যাংক ভেবেছিল বাংলাদেশে সরকার বিষয়টিতে যথেষ্ঠ গুরুত্ব দেবে। কিন্তু বিশ্ব ব্যাংক বলছে, বাস্তবে সেটি হয়নি। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুর্নীতির যে তথ্য-প্রমাণ বিশ্বব্যাংক পেয়েছে সেক্ষেত্রে তারা কিছু পদক্ষেপ নেয়ার দাবি করেছিল। বিশ্বব্যাংকের প্রথম দাবি ছিল, যেসব সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের সরিয়ে দেয়া। দ্বিতীয়ত, এ অভিযোগ তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনে একটি বিশেষ তদন্ত দল নিয়োগ করা। বিশ্বব্যাংক বলছে, এমন প্রেক্ষাপটে সংস্থাটির অবস্থান ব্যাখ্যা করা এবং বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে উত্তর জানার জন্য একটি উচ্চ পর্যায়ের দল ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সরকারের প্রতিক্রিয়া বা উত্তর সন্তোষজনক ছিল না বলে বিশ্বব্যাংক বলছে। এমন অবস্থায় দুর্নীতির প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও বিশ্বব্যাংক বিষয়টিতে চোখবুজে থাকতে পারে না বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে পর্যাপ্ত সহযোগিতা না পাওয়ার কারণেই ১.২ বিলিয়ন বা ১২০ কোটি ডলারের এই ঋণচুক্তিটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাংক বলেছে, তারা একটি প্রকল্পে তখনই অর্থায়ন করতে পারে যখন তারা সেই প্রকল্পের স্বচ্ছতা এবং কার্যক্রমের পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়। বিবিসি আরও জানায়, পদ্মাসেতু নির্মাণ প্রক্রিয়ার শুরুতেই বিশ্বব্যাংক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে অর্থায়ন স্থগিত রাখে। তবে বাংলাদেশ সরকার বরাবরই সে অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। এছাড়া বিকল্প অর্থায়নের পথও খুঁজছিল বাংলাদেশ সরকার। এমন প্রেক্ষাপটে কয়েকদিন আগে মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে অর্থায়ন প্রশ্নে চূড়ান্ত চুক্তির খসড়া প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের কয়েকদিন আগেই বলেছেন, অর্থ মন্ত্রণালয় বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সম্মানজনক সমাধানের চেষ্টা করছে। বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে এখনো সমঝোতার পথ বন্ধ হয়নি বলে তখন তিনি উল্লেখ করেছেন।

বিশ্বব্যাংকের বিবৃতি অগ্রহণযোগ্য:অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত

স্টাফ রিপোর্টার: পদ্মা  সেতু নিয়ে বিশ্বব্যাংকের বিবৃতি ‘সম্পূর্ণভাবে অগ্রহণযোগ্য’ বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, বিজ্ঞপ্তিতে যে ভাষা এবং ভাব ব্যক্ত করা হয়েছে বিশ্বব্যাংক সে রকম বিবৃতি সদস্য কোন দেশ সম্বন্ধে দিতে পারে কি না, সে সম্বন্ধে আমার যথেষ্ট সন্দেহ আছে। এই বিবৃতি আমরা সম্পূর্ণভাবে অগ্রহণযোগ্য বলে মনে করি। আমার মনে হয় এটি বিশ্বব্যাংকের মন্তব্য নয়। এটি বিশ্বব্যাংকের বিদায়ী সভাপতি রবার্ট জোয়েলিকের ব্যক্তিগত মন্তব্য। অর্থমন্ত্রী বলেন, ৩০শে জুন ভোররাতে আমরা অবহিত হই যে বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুর জন্য যে ঋণ অনুমোদন করেছিল, সেটি তারা বাতিল করেছে। তারপর আজ সকালে বিশ্বব্যাংকের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। অর্থমন্ত্রী বলেন, বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ আমাদের কাছে তুলে ধরে এবং সে বিষয়ে আমরা কোন পদপে নিইনি। এই বক্তব্যটি সঠিক নয়। এই বিষয়ে গত নয় মাস ধরে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আমাদের আলোচনা এবং চিঠিপত্রের আদান-প্রদান হচ্ছে এবং বিশ্বব্যাংকের সন্দেহ নিরসনের জন্য আমরা অসাধারণ সব পদপে নিয়েছি। পদ্মা সেতু প্রকল্পে প্রকৃতপে কোন ধরনের দুর্নীতি আজ পর্যন্ত হয়নি। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা মো. শাহেদুর রহমান অর্থমন্ত্রীর পক্ষে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে জানান, আগামী সোমবার জাতীয় সংসদে একটি বিস্তৃত বক্তব্য রাখবেন অর্থমন্ত্রী।

‘বিশ্বব্যাংকের সিদ্ধান্ত বজ্রাঘাতের মতো’-যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের

যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের

অনলাইন ডেস্ক: পদ্মা সেতুতে অর্থায়নে করা ঋণ চুক্তি বাতিল করাকে বজ্রাঘাতের মতো বলে মন্তব্য করেছেন যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, ‘পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্পে পরামর্শক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ উঠার পর এসব অভিযোগের ব্যাপারে সর্বোচ্চ পর্যায়ে সরকার তদন্ত চালাচ্ছে। কিন্তু তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই বিশ্বব্যাংকের চুক্তি বাতিল করা আমাদের কাছে বজ্রাঘাতের মতো। আজ টাঙ্গাইল সফরকালে সাংবাদিকদের কাছে দেয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি এমন মন্তব্য করেন। যোগাযোগমন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাংকের এই আচরণ অত্যন্ত দুঃখজনক। পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন নিয়ে সরকারের সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের টানাপড়েন চললেও যোগাযোগমন্ত্রী এতোদিন আশা প্রকাশ করে আসছিলেন যে এ বিষয়ে তারা সমঝোতায় পৌঁছতে পারবেন। কিন্তু এ বিষয়ে আলোচনা সমালোচনা চলাকালেই শুক্রবার এ সেতুতে অর্থায়ন করা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরে দাঁড়াল বিশ্বব্যাংক।

ঋণ চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত লজ্জাজনক: টিআইবি

স্টাফ রিপোর্টার: পদ্মা সেতু প্রকল্পের মোট ২.৯ বিলিয়ন ডলারের ১.২ বিলিয়ন ডলার ঋণ বাতিলের সিদ্ধান্তকে দুঃখজনক, নিরাশাব্যঞ্জক ও লজ্জাজনক মনে করছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সরকারের কাছে টিআইবি অনতিবিলম্বে একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন, নিরপে ও কোন প্রকার প্রভাবমুক্ত বিচারিক কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছে। দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্তদের দোষ প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবিও জানানো হয়। অন্যদিকে টিআইবি বিশ্বব্যাংকের সিদ্ধান্তকে পুণর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে। অভিযোগের তদন্তে সক্রিয় সহায়তার পাশাপাশি ঋণের দরজা খোলা রাখারও প্রস্তাব করেছে।

বিশ্বব্যাংকের সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় আজ এক বিবৃতিতে টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, পদ্মা সেতুকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের সম্পর্কের এটা শেষ নয়, বরং নতুন অধ্যায়ের শুরু মাত্র। সরকারের জন্য এটা এক অগ্নি-পরীক্ষা। সরকারকে জনগণের কাছে প্রমাণ করতে হবে যে,  দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত যেই হোক না কেন প্রমাণ সাপেে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। ক্ষেত্রে  কোন ভয় বা করুণার সুযোগ নেই।

ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বিশ্বব্যাংক ব্যথার ধারণা থেকে মাথা কেটে ফেলার নিয়ম অনুসরণ করছে। দেশবাসীকে বঞ্চিত না করে বিশ্বব্যাংকের উচিত বাংলাদেশ ও কানাডা উভয় দেশের তদন্তে সক্রিয় সহায়তা করা। এ প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানের সুবাদে ব্যাংক এমন ভূমিকা রাখতে পারে যেন প্রকল্প বাস্তবায়নে সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংক বা সরকার কারও কোন অধিকার নেই কিছু মানুষের কথিত অনিয়মের কারনে সারা দেশবাসীকে শাস্তি প্রদান করা। বিবৃতিতে বলা হয়, বিকল্প সূত্র থেকে অর্থায়নের উদ্যোগ দুর্নীতির অভিযোগ থেকে দৃষ্টি সরিয়ে নেবার প্রয়াস হতে পারে। কিন্তু সরকার পদ্মা সেতুকে কেন্দ্র করে যে অগ্নি-ক্ষেত্রে  মুখোমুখি তার যথার্থ উত্তরণের জন্য সরকারকে অবশ্যই প্রমাণ করতে হবে যে দুর্নীতি প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ সদিচ্ছা রয়েছে।মানবজমিন

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ