Tuesday, 23 June 2026 |
শিরোনাম
Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার অঙ্গীকার State Minister for Foreign Affairs Urges Stronger Global Action to Protect Civilians, Uphold Humanitarian Law and Support Rohingya Repatriation বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন সমুন্নত রাখা ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামার মহররম মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত! Bangladesh Calls for Stronger Humanitarian Action and Women’s Leadership in Peacebuilding at UN Forum নিউইয়র্কে জাতিসংঘ ফোরামে মানবিক সহায়তা জোরদার ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় নারীর নেতৃত্ব বৃদ্ধির আহ্বান বাংলাদেশের
সব ক্যাটাগরি

‘দুর্ভাগ্যই’ ক্যানসারের কারণ!

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 28 বার

প্রকাশিত: January 2, 2015 | 6:18 PM

দুরারোগ্য ক্যানসার রোগটি কখন কার শরীরে বাসা বাঁধবে আর কাকে রেহাই দেবে, তা নির্ধারণে নিছক দুর্ভাগ্যই অধিকাংশ ক্ষেত্রে মূল ভূমিকা রাখে—জিন, জীবনযাত্রা, অভ্যাস বা পরিবেশগত কারণগুলো নয়। যুক্তরাষ্ট্রের জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক গত বৃহস্পতিবার এ কথা জানিয়েছেন।
সায়েন্স সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, দুই-তৃতীয়াংশ ক্যানসারের জন্য কোষ বিভাজনের সময়কার দৈব বা এলোমেলো রূপান্তরের ব্যাপারটিকে দায়ী করা যায়, বংশানুক্রম বা ঝুঁকিপূর্ণ বিভিন্ন অভ্যাসকে নয়। মানবদেহের বিভিন্ন টিস্যুতে কয়েক ধরনের ক্যানসার ছড়িয়ে পড়ার পরিসংখ্যানভিত্তিক একটি নমুনার ভিত্তিতে গবেষকেরা এ তথ্য পেয়েছেন। তবে স্তন ক্যানসার এবং প্রোস্টেট ক্যানসার এই গবেষণার অন্তর্ভুক্ত নয়।
স্তন ক্যানসার রোগটি নারীদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। আর পুরুষেরা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হন ত্বক ক্যানসারে। তাঁদের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দেখা যায় প্রোস্টেট ক্যানসার। কিছু কিছু টিস্যুতে ক্যানসার তৈরি হওয়ার ঝুঁকি অন্যগুলোর চেয়ে লাখ লাখ গুণ বেশি। বিজ্ঞানীরা গবেষণায় এর কারণ জানার চেষ্টা করছেন।
পূর্ণবয়স্ক যেসব ক্যানসার রোগীর ওপর গবেষণা চালানো হয়, তাঁদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশের জিন বা ডিএনএতে এলোমেলো পরিব্যক্তি বা রূপান্তর ঘটার পরিণামে টিউমার বা ক্যানসার কোষ তৈরি হয়েছে। আর বাকি এক-তৃতীয়াংশের ক্যানসার হয়েছে পরিবেশগত কিছু উপাদান এবং বংশানুক্রমিক জিনের কারণে। জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা অনুষদের অধ্যাপক বার্ট ভোগেলস্টেইন বলেন, ধূমপান বা জীবনযাত্রায় অন্যান্য বদ অভ্যাসের কারণেও কিছু কিছু ক্যানসার হয়। তবে জীবনযাত্রা বা বংশগত কারণ ছাড়াও বিশেষ একটি জিনে দুর্ভাগ্যজনক পরিব্যক্তির কারণেও অনেক ক্যানসার হতে পারে।
ভোগেলস্টেইন আরও বলেন, নিয়মিত ধূমপান বা সরাসরি সূর্যালোকে বিচরণ করা সত্ত্বেও কেউ কেউ ক্যানসারমুক্ত দীর্ঘায়ু পেতে পারেন। ব্যাপারটা এমন নয় যে তাঁদের শরীরে ‘ভালো জিন’ রয়েছে। আসলে তাঁরা সৌভাগ্যের অধিকারী।
গবেষক দল ক্যানসারকে নতুন আলোকে দেখার চেষ্টা করেছেন। তাঁরা গড়পড়তা মানুষের জীবনে স্টেম সেলগুলো কতবার বিভাজিত হয়, সেই তথ্য বৈজ্ঞানিকভাবে বিশ্লেষণ করেন। এতে দেখা যায়, শরীর প্রাকৃতিকভাবেই নতুন করে গঠিত হয় এবং নির্দিষ্ট কোনো অঙ্গে মৃত কোষগুলোর জায়গায় নতুন কোষ তৈরি হয়। এভাবেই পুরোনো কোষগুলোর জায়গায় অবিরত ঠাঁই করে নিচ্ছে বিভাজন প্রক্রিয়ায় তৈরি নতুন নতুন কোষ।
স্টেম সেলগুলোর আকস্মিক ভুল করার ব্যাপারটি পরিব্যক্তি বা মিউটেশন নামে পরিচিত। এই পরিব্যক্তির সময়ই ক্যানসার তৈরি হয় বলে গবেষকেরা দীর্ঘদিন আগেই জেনেছেন। নতুন গবেষণায় ওই পরিব্যক্তি প্রক্রিয়ায় ক্যানসার তৈরির হার এবং পারিবারিক ইতিহাস বা জীবনযাত্রার কারণে ক্যানসার রোগের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হয়েছে প্রথমবারের মতো। জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা বলছেন, দৈব পরিব্যত্তির কারণে ৩১টি টিস্যুতে প্রায় ২২ ধরনের ক্যানসার হতে পারে। বাকি নয়টি ক্ষেত্রে ‘দুর্ভাগ্য’ এবং সম্মিলিতভাবে দুর্ভাগ্য ও পরিবেশগত বা বংশানুক্রমিক কারণকে দায়ী করা যেতে পারে। এই নয় ধরনের ক্যানসারের মধ্যে রয়েছে ফুসফুস ও ত্বকের ক্যানসার। ধূমপান এবং সরাসরি সূর্যালোকের প্রভাবে এ দুটি ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে।
ডিএনএর দৈব পরিব্যক্তির কারণে সব মিলিয়ে প্রায় ৬৫ শতাংশ ক্যানসার হয় বলে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন। ভোগেলস্টেইন বলেন, কেউ ক্যানসারে আক্রান্ত হলে লোকে অবিলম্বে তার কারণ জানতে চায়। তবে রোগটির আসল কারণ জীবনাচরণ বা পরিবেশের খারাপ প্রভাব নয়, বরং আক্রান্ত ব্যক্তিটির দুর্ভাগ্য। ব্যাপারটা লটারিতে হেরে যাওয়ার মতোই।
গবেষকেরা ক্যানসার রোগটি তাড়াতাড়ি বা প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ক্রিস্টিয়ান টোমাসেটি বলেন, জীবনযাত্রা এবং অভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে কিছু কিছু ক্যানসার প্রতিরোধের চেষ্টায় সফল হওয়া যায়। কিন্তু সব ক্যানসারের ক্ষেত্রে এ পদ্ধতি কার্যকর না-ও হতে পারে। এসব ক্যানসার আগে আগে বা সারিয়ে তোলার পর্যায়ে নির্ণয় করার চেষ্টা করতে হবে।
সূত্র: এএফপি, রয়টার্স ও বিবিসি/প্রথম আলো

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Situs Streaming JAV