Wednesday, 21 October 2026 |
শিরোনাম
New York Attorney General James Secures Reimbursements for T-Mobile Customers Whose Rates Were Unjustly Raised নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে কুনু-ফিরোজ পরিষদের সাত দফা ইশতেহার ঘোষণা; কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠা, সাশ্রয়ী ফিউনারেল সেবা, বিমানের সরাসরি ফ্লাইট ও আর্থিক স্বচ্ছতায় অঙ্গীকার ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থন: জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত আইরিন খান নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বিতর্ক, গুরুত্ব পেল স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি New York Attorney General James Warns New Yorkers About AI-Generated Election Misinformation Ahead of November Elections Bangladesh calls for global treaty to protect victims of crimes against humanity নিউইয়র্কে জাতিসংঘে মুহাম্মদ নওশাদ জমির এমপি: মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রতিরোধে শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সনদ প্রণয়নের আহ্বান সোশ্যাল মিডিয়ার তথ্য গোপন করলে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাখ্যান, আবেদনপত্রে চাওয়া তথ্য সঠিক ও সম্পূর্ণভাবে দেওয়ার নির্দেশনা মার্কিন দূতাবাসের ভার্জিনিয়ায় অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক হারুন চৌধুরীকে দেখতে গেলেন বাংলাদেশি কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ New York Attorney General James Issues Voter Guidance to Inform New Yorkers of Their Rights Ahead of November Election
সব ক্যাটাগরি

ধর্মীয় সন্ত্রাস যখন ছত্রছায়ায় : আকায়েদ উল্লাহরা সন্ত্রাসী না পরিস্থিতির শিকার?

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 40 বার

প্রকাশিত: December 14, 2017 | 8:50 PM

ইমাম কাজী কায়্যূম : ইসলামকে শান্তির ধর্ম বলে আমরা বিশ্বাস করি। মুসলমান ও ইসলাম দুটো ভিন্ন জিনিস। ইসলাম স্বয়ং সম্পূর্ণ শান্তি সে কথায় কোন সন্দেহ নেয়, তবে মুসলমানরা কি শান্তির বাহক? নবী মোহাম্মদ (সাঃ) ইসলামের প্রবর্তক। ৬৩২ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর বিদায় হজের ভাষণে ইসলামকে পরিপূর্ণ একটি জীবন ব্যবস্থায় রূপ দিয়ে সে সময় উপস্থিত লক্ষ লক্ষ জনতার কাছ থেকে এই অঙ্গীকার নিয়ে ছিলেন যে, আজ থেকে এই পৃথিবীর শেষ দিন পর্যন্ত আসা মানুষের নিকট আমার এই ইসলামই চলবে। তোমাদের প্রতি আমার এই অনুরোধ যে, আমার এই শান্তির ইসলামের কথা তোমরা তোমাদের পরবর্তীদের নিকট পৌছে দিবে। কিন্তু দুঃখ জনক হলেও সত্য যে, পরবর্তী পর্যায়ে মুসলমানরা নবী মোহাম্মদ (সাঃ) কে বাদ দিয়ে নতুন নতুন প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ, ঘোষিত ও অঘোষিত নবীদেরকে মানতে শুরু করে দিলেই শান্তির ধর্ম ইসলাম অশান্তিতে পরিণত হয়ে যায়। নবী মোহাম্মদ (সাঃ) এর শান্তিপূর্ণ ইসলামকে রক্ষা করতে সন্ত্রাসী মুসায়লামাতুল কাজ্জাবদের বিরুদ্ধে সর্ব প্রথম যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন প্রথম খলিফা হযরত আবু বক্কর সিদ্দীক (রাঃ)। চতুর্থ খলিফা হযরত আলী (রাঃ) যুদ্ধ করেছেন ‘জমিনে কেবল আল্লাহর আইন চলবে’ বলে নতুন ইসলামের প্রতিষ্ঠাতাকারী ও হুংকারকারী খাওয়ারেজদের বিরুদ্ধে। যিনি বলেছেন ধর্মীয় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করাই হবে প্রকৃত জিহাদ এবং এই কাজে যারা শাহাদাত বরণ করবে, মহান আল্লাহর নিকট তারাই হবে প্রকৃত শহীদ। ৯/১১’র বাংলাদেশী অভিবাসীদের মধ্যে বহুল আলোচিত যুবক কাজী নাফিসের সন্ত্রাসী ঘটনা যা, ২০১৩ সনের আগষ্ট মাসে নিউইয়র্ক শহরের ফেডারেল রিজার্ভ বিল্ডিং উঠিয়ে দেয়ার পরিকল্পনায় তার ৩০ বছর জেল হাজতে সাজা পাবার পর গত সোমবার, ১১ই ডিসেম্বর ২০১৭ ইং নিউইয়র্ক পোর্ট অর্থোরটি বাস টার্মিনালের ব্যস্ত যাত্রী পথে বাংলাদেশী বৈধ অভিবাসী আকায়েদ উল্লাহ্র জঘন্য অবৈধ সুইসাইট পাইপ বোমা হামলা, সারা বিশ্বের নজর কাড়ার সাথে সাথে নিউইয়র্ক ও গোটা আমেরিকাসহ বিশ্বের প্রবাসী বাংলাদেশীদের হীনও নিচু করে দিয়েছে, যা ভাষায় প্রকাশ করা অসম্ভব। এমনকটি আন্তর্জাতিক গৃহপালিত প্রভূদের উসকানিতে উদ্বুদ্ধ হয়ে আকায়েদ উল্লাহ্র এমন পরিকল্পিত ও দুঃসাহসিক জঙ্গি হামলা আমেরিকায় বৈধ হয়ে আসন্ন অভিবাসীদের পথও বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। নতুন মনগড়া ইসলামী রাষ্ট্র কায়েমের ঠিকাদাররা আমাদের যুবক যুবতীদেরকের ইসলামী জিহাদের নামে দেশেই শুধু বিভ্রান্তির ভেড়া জালে ফেলে দিয়ে হলি আর্টিজানের মত সন্ত্রাসী ঘটনাই ঘটাচ্ছে না, বরং প্রবাসেও সুন্দর সুন্দর ইসলামী নামে ধর্মীয়, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও মানবিক কর্মকান্ডের আড়ালে বাংলাদেশী আমাদের নতুন প্রজন্ম যুবকদের মগজ ধোলাই করে তাদের দ্বারাও এমন জঘন্য ও ঘৃণ্য কাজ করিয়ে যাচ্ছে, যার খবর এমন একটি ঘটনা ঘটার আগে কেউই জানতো না।
বলা বাহুল্য যে, আমেরিকার কারাগারে ৩০ বছরের শাস্তি পাওয়া নাফিসের ঘটনায় সে সময় তার জন্য অনেককে মায়া কান্না করতে দেখা গেছে, নিউইয়র্কেরও প্রেস কনফারেন্স ও র‌্যালির নামে জমায়েতেও কিছু কিছু নামধারী এক্টিভিষ্ট একই ভাবে অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় পরিচালিত আকায়েদ উল্লাহর ধিক্কার জনিত সন্ত্রাসী এই অপকর্মকে হেলার চোখে দেখে তাকেও একটি মস্তিস্ক বিকৃত আখ্যা দিয়ে বাঁচানোর নিলর্জ্জ চেষ্টা হরদম চালিয়ে যাচ্ছেন, যা আকয়েদ এর বর্বর কাজের চেয়েও আরও ঘৃণিত ও নিন্দনীয় অপরাধ বলে সচেতন বাংলাদেশীরা মনে করেন।
প্রশ্ন উঠছে, প্রবাসে আমাদের নতুন প্রজন্মরা ধর্মীয় শিক্ষা ও কর্মকান্ডের নামে কোথায় যাচ্ছেন? কারা এদেরকে শিক্ষা দিচ্ছেন?। শতকরা ৯০ ভাগ অভিভাবক তার খোঁজ খবর রাখেন না। আকায়েদের ঘটনা ও বিশেষ ইসলামী রাষ্ট্র তৈরীর কারিগর বাংলাদেশী জঙ্গিদের সাথে সম্পৃক্ততা হয়তবা প্রবাসী অভিভাবকদের চোখ কান এখন খোলে দিবে বলে বিজ্ঞ প্রবাসীরা মনে করছেন। প্রবাসে হাজারো বাংলাদেশীদের ধিক্কার জানানোর বিপরীতে আকায়েদ উল্লাহদের প্রতি সহানুভূতি ও তাকে মস্তিস্ক বিকৃত বলে সহয়তা দানকারীরা কাদেরকে খুশি করার জন্য এমন চেষ্টা-তদবির করে যাচ্ছেন, তা খতিয়ে দেখার সময় এসেছে। আকায়েদ উল্লাহ্দের জঘন্য সন্ত্রাসী কর্মকান্ডকে একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে উঠিয়ে দিয়ে ধর্মীয় সন্ত্রাসকে কারা লালন করছেন? তাদেরকে খোঁজে বের করে চিহ্নিত ও এদেরকে বয়কটের মাধ্যমে তাদের মুখোশ উন্মোচনই হবে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রবাসী বাংলাদেশীদের রুখে দাঁড়ানোর পদক্ষেপ ও প্রত্যয়।
তাই আসুন, অনেক হয়েছে! আর কোন বাংলাদেশী নাফিজ বা আকায়েদ উল্লাহ্ বিধ্বংসী মনোভাবে গজে উঠার আগে এদের গৃহপালিত প্রভু ও ধর্মীয় বা সামাজিক কর্মকান্ডের আড়ালে আমাদের যুবকদের নিয়ে খেলার আগেই এদেরকে গোল দিয়ে পরাস্ত করি। আমরা আর আমাদের যুবক যুবতীদেরকে এমন পরিস্থিতির স্বীকার হতে দিয়ে বিশ্বের সারা বাংলাদেশীদেরকে হেনস্তা ও অপমানিত করতে চাই না। আসুন, আমরা শান্তিপূর্ণ ও শান্তিকামী মুসলমানের দাবী যদি সত্যি সত্যি করে থাকি, তাহলে এই বলে শপথ নেই যে, আমরা নবী মোহাম্মদের (সাঃ) ৬৩২ খ্রিষ্টাব্দের ঘোষিত ইসলামই চাই। চাই না কোন ওয়াহাবী, খারেজি, ইয়াজেদী, ইখওয়ানী, মওদুদীর জামায়াতী, তালেবানী, আল-কায়েদা, জাকের নায়েকী কিংবা নবী মোহাম্মদ (সাঃ) এর শান্তির ইসলামের বিপরীত অন্য কোন ইসলামী রাষ্ট্র বা স্টেটের নামে প্রতারিত আইএস মার্কা ইসলাম। যেজন্য আসুন, ইসলামের শান্তির নবী মোহাম্মদ (সাঃ) এর প্রতি পূর্ণ আস্থা রেখে আবারও আমরা প্রবাসী মুসলমানরা শপথ নেই যে, উপরেল্লিখিত বিভ্রান্তকারীদের কোন ইসলাম আমরা চাই না। না তো ওদের প্রবাসী গৃহপালিত ঠিকাদারদের কোন মিষ্টি বড়ির প্রলেপিত ইসলাম চাই। আমরা ঐ ইসলাম চাই, যে ইসলামের কথা ৫ ওয়াক্ত নামাযে আমরা আল্লাহর কাছে ভিক্ষা চাই। ‘ইহদিনাস সীরাতাল মুস্তাকীম’ চালাও সে পথে, যে পথে তোমার প্রিয়জন গেছে চলি। যে পথে তোমার চির অভিশাপ, যে পথে ভ্রান্তি, চির অরিতাপ, হে মহা চালক! মোদেরে কখনও করনা সে পথগামী।

-ইমাম কাজী কায়্যূম, পরিচালক, এন্টি-টেরোরিজম এওয়ারনেস ইউনিট, নিউইয়র্ক।

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ