ধর্ম ও বর্ণের কারণে বাংলাদেশীরা যেন বৈষম্যের শিকার না হয় সেবিষয়ে সতর্ক থাকবো – কংগ্রেসম্যান (ইলেক্ট) হাকিম জেফরী
সালাহউদ্দিন আহমেদ : নিউইয়র্ক (ইউএনএ): নিউইয়র্কের কংগ্রেসনাল ডিষ্ট্রিক-৮ (ব্রুকলীন) থেকে নির্বাচিত কংগ্রেসম্যান (ইলেক্ট) হাকিম জাফরী প্রেসিডেন্ট ওবামার ইমিগ্রেশন সংস্কার বিলে বাংলাদেশীরা যাতে সুনির্দিষ্টভাবে লাভবান এবং ধর্ম ও বর্ণ পরিচয়ের কারণে যেন বাংলাদেশীর যাতে সাংবিধানিক অধিকার লংঘনের শিকার না হয় সেজন্য তিনি কংগ্রেসে বাংলাদেশীদের প্রতিনিধিত্ব করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বাংলাদেশী কমিউনিটি প্রদত্ত ফান্ড রেইজিং পার্টিতে বক্তব্য প্রদানকালে তরুণ এই কংগ্রেসম্যান নিজেকে বাংলাদেশীদের ‘ভাই’ হিসাবে দাবী করে বলেন, বাংলাদেশীদের জন্য বিশেষ করে একটি কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠায় তিনি সব রকম উদ্যোগ গ্রহণ করবেন। এছাড়াও নতুন বছরের শুরুতেই কংগ্রেসম্যান হিসেবে শপথ নিয়েই তিনি বংলাদেশ ককাসে যোগ দেবেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, শুধু বলার জন্য নয়, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের গৃহীত বিভিন্ন কর্মসূচিতে নির্দিষ্টভাবে বাংলাদেশীরা যাতে লাভবান হতে পারেন, বাংলাদেশীদের স্বার্থ যেন গুরুত্ব পায়, সে জন্য কংগ্রেসে কাজ করাই হবে তার অন্যতম কাজ।
সিটির এস্টোরিয়ায় সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকা কার্যালয়ে কংগ্রেসম্যান জাফরীর সম্মানে আয়োজিত সম্বর্ধনা ও ফান্ড রেইজিং অনুষ্ঠানে কংগ্রেসম্যান হাকিম জাফরী উপরোক্ত কথা বলেন। কুইন্সের বাংলাদেশী আমেরিকানদের উদ্যোগে গত ২৯ ডিসেম্বর শনিবার সন্ধ্যায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। খবর ইউএনএ’র।
অনুষ্ঠানে কংগ্রেসম্যান হাকিম জাফরী যুক্তরাষ্ট্র সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর অধিকারের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘স্টপ এন্ড ফ্রিস্ক’ এর নামে ধর্ম বর্ণ বৈষম্যের শিকার হয়ে বাংলাদেশীসহ কোন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কেই যেন নাস্তানাবুদ হতে না হয় সেজন্য অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসে আইন প্রণয়নে উদ্যোগ নিতে কোন কার্পণ্য করা হবে না। প্রয়োজনে এর বিরুদ্ধে ক্যাম্পেইন গড়ে তোলা হবে। একই সাথে সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে বর্ণিত ভাব প্রকাশ ও ধর্মীয় অধিকার পালনের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন এবং অধিকার নিশ্চিত করণের জন্যই কংগ্রেসম্যান হিসেবে কাজ করে যাবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি সংবিধানের দ্বিতীয় সংশোধনী ‘সর্বনাশা’ উল্লেখ করে বলেন, এন আর এ তাকে সর্বনিম্ন এফ গ্রেড দিয়েছে। এটা আমার জীবনে সবচেয়ে বড় পাওয়া। কারণ অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে আমি আপোষহীন। তিনি বাংলাদেশী অভিবাসীদের প্রশংসা করে বলেন, অন্যান্য কমিউনিটির চেয়ে বাংলাদেশী ইমিগ্র্যান্টরা পরিশ্রমী ও সৎ। তারা আমেরিকার অর্থনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অভ্যর্থনা কমিটির কনভেনর ও বাংলা পত্রিকা’র সম্পাদক আবু তাহের। বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সোসাইটি ইন্্ক নিউইয়র্ক-এর সভাপতি কামাল আহমেদ, সহ সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম, ফান্ড রেইজিং কমিটির চীফ কো-অর্ডিনেটর সৈয়দ ইলিয়াস খসরু, কো-কনভেনার জাহাঙ্গীর কবির, বিলাল আহমেদ চৌধুরী, আহবাব চৌধুরীসহ বিশিষ্ট সাংবাদিক মাহমুদ খান তাসের, বিশিষ্ট রাজনীতিক জিল্লুর রহমান জিল্লু, হেলাল উদ্দীন, শাহাদাত হোসেন, আখতার হোসেন বাদল, ওজনপার্কের বিশিষ্ট কমিউনিটি নেতা আনোয়ার হোসেন, ব্রঙ্কসের কমিউনিটি নেতা আব্দুস শহিদ, বিশিষ্ট রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী জাকির খান, বাংলাদেশ সোসাইটির সহ সাধারণ সিরাজ উদ্দিন সোহাগ, কমিউনিটি এক্টিভিস্ট মোশাররফ হোসেইন ভুঁইয়া, নাসরিন আহমেদ, মুকিত চৌধুরী, মিনহাজ আহমেদ সাম্মু,এমডি আবু ইউসুফ, মাওলানা রশিদ আহমদ, ওয়েল কেয়ারের সিনিয়র ম্যানেজার সালেহ আহমেদ, ব্রঙ্কসের স্টারলিং বাংলা বাজার বিজনেস এসোসিয়েশন ও বাংলা বাজার জামে মসজিদের সভাপতি আলহাজ্ব গিয়াস উদ্দিন, আসসাফা ইসলামিক সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ইকবাল আহমেদ মাহমুদ, কবি মোখলেসুর রহমান, মদিনা মসজিদের সভাপতি এডভোকেট নাসির উদ্দিন, মাওলানা রশিদ আহমেদ, মুকিত চৌধুরী, ব্রুকলীনের কমিউনিটি নেতা মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, বাংলাদেশ সোসাইটির সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেইন, জালাবাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকার ট্রাস্টি বোর্ড সদস্য আব্দুল হাসিম হাসনু, এসোসিয়েশনের সহ সভাপতি আব্দুল বাসির খান, বালাগঞ্জ সমিতির সভাপতি বশির উদ্দিন, শাপলা ওয়েল ফেয়ারের সভাপতি মোহাম্মদ এফ ফখর, আবিদুর রহমান, জকিগঞ্জ সমিতির সভাপতি এমএইচ মতিন, জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির সহ সভাপতি শেখ হায়দার আলী, সিলেট সদর থানা এসোসিয়েশনের সভাপতি সাহাব উদ্দিন, আব্দুর রাজ্জাক খান, আবুল বাসার, ব্রঙ্কস বাংলাদেশী ওম্যান এসোসিয়েশনের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমীন, সাংবাদিক সাখাওয়াত হোসেন সেলিম, শামীম আহমেদ, আশফাক চৌধুরী প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ফান্ড রেইজিং কমিটির সদস্য সচিব মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরান থেকে তেলাওয়াত করেন হাফেজ জুলফিকল চৌধুরী এবং গীতা থেকে পাঠ করেন সবিতা দাস। বাংলাদেশ ও আমেরিকার জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করেন শিল্পী সাকিনা ডেনী, শহিদুল সরকার ও সবিতা দাস। পরে কংগ্রেসম্যান জাফরীকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন ফান্ড রেইজিং কমিটির সদস্য যথাক্রমে মোহাম্মদ শাহজাহান, এএফ মিসবাহউজ্জামান ও কবির চৌধুরী। এছাড়া হাকিম জাফরীর পরিচয় তুলে ধরেন এএফ মিসবাহউজ্জামান। অনুষ্ঠানে মুলধারার রাজনীতিবিদ, কমিউনিটি এ্যাক্টিভিস্ট ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে কংগ্রেসম্যান হাকিম জাফরী বলেন, আমার জয়ের পিছনে বাংলাদেশী কমিউনিটির অনেক অবদান রয়েছে। তারা আমার জন্য নির্বাচনে ক্যাম্পেইন ও অর্থ সংগ্রহ করেছে। আমেরিকান বাংলাদেশী উন্নয়নে গঠিত ককাসে যোগ দেয়ার ঘোষণা দিয়ে হাকিম জাফরি বলেন, কংগ্রেসে বাংলাদেশের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করতে চাই। বাংলাদেশের সুখে দুঃখে পাশে থাকতে চাই। তিনি উপস্থিত সবাইকে ‘ভাই’ সম্বোধন করে তাকে এখন থেকে ভাই বলে ডাকার অনুরোধ জানান।
হাকিম জাফরী বলেন, বাংলাদেশী কমিউনিটিতে বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে। নিউইয়র্কে বাংলাদেশীদের ঘন বসতি হলেও তাদের কোন কমিউনিটি সেন্টার নেই। কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি সার্বিকভাবে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এছাড়াও পাবলিক স্কুলগুলোতে হালাল ফুড সরবরাহ করার জন্য এডুকেশন বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট বিভাগে কাজ করবেন বলে জানান কংগ্রেসম্যান জাফরী। মুসলমানদের ধমীয় উৎসব ঈদের দিন ছুটির জন্য কাজ করার কথা উল্লেখ করে জাফরী বলেন, অন্যায়ভাবে মুসলিম কমিউনিটির গোয়েন্দা নজরদারী বিরুদ্ধেও ইউএস কংগ্রেসে তিনি বক্তব্য উত্থাপন করা হবে।
সম্প্রতি কানেকটিকাটের স্কুলে দুবৃর্ত্তের হাতে নিহত শিশুদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, আমেরিকা আমার, আপনার, সবার, এই আমেরিকাকে নিরাপদ করার জন্য অস্ত্র নিয়ন্ত্রণসহ সম্ভাব্য সব ধরণের প্রদক্ষেপ নিতে হবে।
বাংলাদেশীদের সুবিধার্থে ওজনপার্ক এলাকায় তার অফিস খোলার ঘোষণা দিয়ে হাকিম জাফরী বলেন, বাংলাদেশীদের যোগ্যতা অনুসারে ফেডারেল জব পাওয়ার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করা হবে। এছাড়াও আন-ডুকুমেন্ট ইমেগ্র্যান্টদের বৈধতার বিষয়েও তার পক্ষ থেকে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। কংগ্রেসম্যান জাফরী বলেন, ২০১৩ সালে নিউইয়র্কের মেয়র নির্বাচনসহ সিটির গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি এখন থেকেই বাংলাদেশী কমিউনিটির ইস্যুগুলো নির্দিষ্ট করে প্রার্থীদের কাছে পেশ করার পরামর্শ দেন।
অনুষ্ঠানে কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের গার্মেন্টস পণ্য শুল্কমুক্ত প্রবেশের ব্যাপারে কংগ্রেসে হাকিম জাফরীর সহযোগিতা কামনা করেন। তারা বলেন, বাংলাদেশী কমিউনিটি এখন আর মাইনরটি নয়, আমরা আগে মূলধারার রাজনীতিবিদদের কাছে যেতাম, এখন তারাই আমাদের কাছে আসছেন।
সাম্প্রতিক কানেকটিকাটে এক অস্ত্রধারী গুলিতে শিশুসহ ২৭ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বক্তারা বলেন, আমেরিকা এখন আমাদের জন্য নিরাপদ নয়। প্রতিদিন বিভিন্ন স্থানে মানুষ খুন হচ্ছে। এমনকি পুলিশও খুনের শিকার হচ্ছে। আমেরিকাকে নিরাপদ করার জন্য অবিলম্বে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ করার জোর দাবী জানান তারা। এছাড়াও পাবলিক স্কুলে হালাল ফুড ও ঈদে ছুটি ঘোষণার দাবী জানান বক্তারা। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে আবু তাহের অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহনের জন্য উপস্থিত সকল অতিথির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, অনুষ্ঠানটি কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠির স্বার্থে নয়। একান্তই কমিউনিটির উন্নয়নে মুলধারার সাথে যোগসূত্র স্থাপনের উদ্যোগ হিসেসে এই আয়োজন। এই ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখা হবে। প্রসঙ্গত তিনি বলেন, বাংলা পত্রিকা অফিস থেকেই হাকিম জাফরী কংগ্রেসম্যান প্রার্থী হিসেবে নিজেকে ঘোষণা দিয়েছিলেন। তিনি বিজয়ে বাংলাদেশীরাও গৌরবের অংশীদার। শেষে হাকিম জাফরী বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশী কমিউনিটি নেতৃবেৃন্দর প্রশ্নের উত্তর দেন।
- ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট ইউএসএর সাধারণ সম্পাদক ড. সাদিয়া আফরিন এরা
- চরমোনাই পীরের যুক্তরাষ্ট্র সফর উপলক্ষে নিউইয়র্কে দোয়া মাহফিল, কুরআন-সুন্নাহর আলোকে বয়ান
- New York Attorney General James Secures Reimbursements for T-Mobile Customers Whose Rates Were Unjustly Raised
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে কুনু-ফিরোজ পরিষদের সাত দফা ইশতেহার ঘোষণা; কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠা, সাশ্রয়ী ফিউনারেল সেবা, বিমানের সরাসরি ফ্লাইট ও আর্থিক স্বচ্ছতায় অঙ্গীকার
- ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থন: জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত আইরিন খান
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বিতর্ক, গুরুত্ব পেল স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি
- New York Attorney General James Warns New Yorkers About AI-Generated Election Misinformation Ahead of November Elections
- Bangladesh calls for global treaty to protect victims of crimes against humanity