Friday, 26 June 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে বহির্বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম করবস্থান স্কচটাউন বাংলাদেশ সেমিট্রির যাত্রা শুরু নিউইয়র্কে মুন্সিগঞ্জ-বিক্রমপুর অ্যাসোসিয়েশনের বর্ণিল অভিষেক Bangladesh Calls for Stronger Support for LDCs Ahead of Doha Midterm Review নিউইয়র্কে জাতিসংঘে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য আরও আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার অঙ্গীকার State Minister for Foreign Affairs Urges Stronger Global Action to Protect Civilians, Uphold Humanitarian Law and Support Rohingya Repatriation
সব ক্যাটাগরি

নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নিউ ইয়র্ক টাইমস দর্শন

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 126 বার

প্রকাশিত: November 23, 2016 | 10:44 PM

নাজমুল আহসান : বহু নাটকীয়তার পর অবশেষে প্রখ্যাত মার্কিন সংবাদপত্র নিউইয়র্ক টাইমসের দপ্তরে পত্রিকাটির প্রকাশক, সম্পাদক, কলামিস্ট ও সাংবাদিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। এর আগে দেশের
শীর্ষস্থানীয় টিভি চ্যানেলের তারকা উপস্থাপক ও নির্বাহীদের সঙ্গে নিজের মালিকানাধীন ট্রাম্প টাওয়ারে সাক্ষাৎ করেন তিনি। ওই সাক্ষাতের বিষয়বস্তু ছিল ‘অফ-দ্য-রেকর্ড’। অংশগ্রহণকারীরাও চুক্তিতে সম্মত হন যে, তারা আলোচনার বিষয়বস্তু অন্যত্র প্রকাশ করবেন না। তবে তা প্রকাশ পেয়ে যায়। নিউ ইয়র্ক পোস্ট জানায়, নির্বাচনী প্রচারাভিযানকালে নেতিবাচক কাভারেজ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন ট্রাম্প। শুরুটা করেন সিএনএন’র প্রেসিডেন্ট জেফ জাকারকে নিয়ে। তাকে বলে উঠেন, ‘আপনার নেটওয়ার্ককে আমি ঘৃণা করি। সিএনএন’র প্রত্যেকে মিথ্যুক। আপনার লজ্জা হওয়া উচিত।’ এর কিছুক্ষণ পর তিনি বলেন, ‘মিথ্যুক, শঠ, অসৎ মিডিয়ায় ভর্তি একটা রুমে আমরা বসে আছি।’ এসব শুনে উপস্থিত সাংবাদিকরা হতভম্ভ হয়ে পড়েন। বৈঠকের পর ট্রাম্পপন্থি ওয়েবসাইট আর পোর্টালগুলোতে রীতিমতো জয়োল্লাস দেখা যায়। যেমন, ড্রুজ রিপোর্ট নামে একটি পোর্টালের শিরোনাম ছিল: ‘মিডিয়া এলিটদের সামনা-সামনি ধুয়ে দিলেন ট্রাম্প’!
ও পথে হাঁটেনি নিউ ইয়র্ক টাইমস। ট্রাম্প শিবির থেকে যখন সাক্ষাতের প্রস্তাব এলো, তখন পত্রিকাটি ট্রাম্পের ‘অফ-দ্য-রেকর্ড’ আলোচনার শর্ত মানেনি। পত্রিকাটি আগে ভাগেই জানিয়ে দেয়, আলোচনা হবে ‘অন-দ্য-রেকর্ড’। তবে প্রকাশকের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত ‘অফ-দ্য-রেকর্ড’ আলোচনা মেনে নেয়া হয় টাইমসের পক্ষ থেকে। ট্রাম্প শিবিরও রাজি হয়। কিন্তু কিছুক্ষণ পর ট্রাম্প দাবি করেন, টাইমস নতুন শর্ত দিয়ে আলোচনা প্রত্যাখ্যান করেছে। টাইমস এ দাবি অস্বীকার করে বিবৃতি দেয়। পরে জানা যায় বিষয়টা ছিল ভুল বোঝাবুঝি। অবশেষে টাইমস কার্যালয়ে এসে সাক্ষাৎ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট। এ সাক্ষাতের সংক্ষিপ্ত ধারাবর্ণনা উপস্থিত প্রতিবেদকরা নিজেদের টুইটার অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করেন। এ টুইট আবার সঙ্কলিত আকারে প্রকাশ করেছে নিউ ইয়র্ক টাইমস। পুরো কথোপকথনই পরে হুবহু নিজেদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে পত্রিকাটি।
এখানে মনে রাখা উচিত, নির্বাচনী প্রচারাভিযানকালে নিউ ইয়র্ক টাইমসের ‘নেতিবাচক’ কাভারেজ নিয়ে ভীষণ ক্ষিপ্ত ছিলেন ট্রাম্প। পত্রিকাটির বিরুদ্ধে তিনি প্রচুর টুইট করেছেন। প্রত্যেকবার সঙ্গে জুড়ে দিয়েছেন ‘ফেইলিং’ বিশেষণটি। এমনকি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পরও টাইমসের সমালোচনা করা বন্ধ করেননি ট্রাম্প।
গণমাধ্যম বিশ্লেষকরা টাইমসের অবস্থানের প্রশংসা করেছেন। ওয়াশিংটন পোস্টে মার্গারেট সুলিভান লিখেছেন, টিভি সাংবাদিকদের মতো একই ফাঁদে পা দেয়নি ‘দ্য গ্রে লেডি’। ট্রাম্পের ‘অফ-দ্য-রেকর্ড’ আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে ও স্বচ্ছভাবে সংবাদ হিসেবে বৈঠকটিকে কাভার করে সঠিক কাজটিই তারা করেছে। এর মাধ্যমে সংবাদকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি ট্রাম্প। সিএনএন এক প্রতিবেদনে বলেছে, টাইমসের সাংবাদিক, সম্পাদক ও কলামিস্টদের সঙ্গে ৭৫ মিনিট ধরে বৈঠক করেন তিনি।
এ সাক্ষাৎকারে ট্রামপ বেশ কয়েকটি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দিয়েছেন। বিশেষ করে নির্বাচনী প্রতিপক্ষ হিলারি ক্লিনটনকে জেলে পুরার যে হুমকি দিয়েছিলেন, তা থেকে সম্পূর্ণ সরে গেছেন তিনি। ওয়াটারবোর্ডিং-এর মতো নির্যাতনের কৌশল পুনঃপ্রবর্তনের প্রতিশ্রুতিতেও ইউটার্ন নিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট পদে থাকা আবার নিজের ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য পরিচালনা করা- এ দু’কাজ করতে গিয়ে স্বার্থের সংঘাত (কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট) তৈরি হবে কিনা এমন প্রশ্ন এড়িয়ে গেছেন। পাশাপাশি তিনি নিও-নাৎসি গোষ্ঠীগুলোর দায় নিতে অস্বীকার করেছেন, যদিও নিন্দা জানাননি। নিউ ইয়র্ক টাইমস, সিএনএন ও ফরেইন পলিসি ম্যাগাজিন অবলম্বনে সাক্ষাৎকারের ৬টি গুরুত্বপূর্ণ অংশ তুলে ধরা হলো।
বিভীষণদের ভুলেননি ট্রাম্প
ডেমোক্রেটিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের প্রতি তার সুর ছিল নরম। প্রচারাভিযান চলাকালে প্রতিপক্ষ হিলারি ক্লিনটনকে জেলে ঢুকানোর হুমকি দিলেও, সে-ই অবস্থান থেকে তিনি সরে এসেছেন। তিনি বলেন, ক্লিনটন পরিবারের ক্ষতি করার ইচ্ছা নেই তার। আর করলে, তা হবে ‘দেশের জন্য খুবই, খুবই বিভেদজনক’। পাশাপাশি তিনি প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রশংসায়ও পঞ্চমুখ হয়ে উঠেন। বলেছেন, ওবামার ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়ার পরিচালনা দেখে তিনি সন্তুষ্ট। ব্যক্তিগতভাবেও ওবামাকে পছন্দ তার। তার ভাষ্য- ‘আমি জানতাম না যে, আমি তাকে পছন্দ করবো কিনা। আমি হয়তো ভেবেছিলাম যে, আমি করবো না। কিন্তু বাস্তবে আমি পছন্দ করেছি। আমি তার কথা অনেক উপভোগ করেছি।’ নিউ ইয়র্কের জ্যেষ্ঠ সিনেটর ও ডেমোক্রেটিক পার্টির সিনেট প্রধান চাক শামার সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমি চাক শামারকে অনেকদিন ধরে পছন্দ করে আসছি।’ দৃশ্যত, ডেমোক্রেটদের নিয়ে তার অসন্তোষ অতটা নেই। কিন্তু নিজের দল রিপাবলিকান পার্টির যেসব নেতা তার কাছ থেকে দূরে সরে গেছেন, সেসব বিভীষণদের তিনি ভুলেননি। গর্বসহকারে তিনি বলেন, আমি অনেক সিনেটরকে জিততে সাহায্য করেছি। নিউ হ্যাম্পশায়ারের সিনেটর কেলি আয়োত্তের সমালোচনা করেন তিনি। নির্বাচনের সময় আয়োত্তে ট্রাম্পের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রেখেছিলেন। পরে সামান্য ব্যবধানে হেরে যান। তিনি নেভাদার কংগ্রেসম্যান জো হেককে নিয়েও মজা করেন। হেকও ট্রাম্পের বিরোধিতা করে নির্বাচনে হেরে যান। কংগ্রেসে রিপাবলিকান নেতা হাউস স্পিকার পল রায়ান ও সিনেট সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা মিচ ম্যাককনেলকে নিয়েও সতর্ক প্রতিক্রিয়া দেখান তিনি। তার ভাষ্য, ‘এখন তারা আমার প্রেমে মুগ্ধ। কিন্তু ৪ সপ্তাহ আগে পরিস্থিতি এমন ছিল না।’
‘কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট’ নিয়ে ‘নিক্সনীয়’ দৃষ্টিভঙ্গি
স্বার্থের দ্বন্দ্ব বা কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট নিয়ে ট্রাম্পের দৃষ্টিভঙ্গি অনেকটা সাবেক প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়। ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা নিয়ে নিজের ব্যবসা পরিচালনা করলে তা স্বার্থের সংঘাত সৃষ্টি করবে কিনা। জবাবে সরাসরি কিছু না বলে তিনি বলেন, ‘আইন আমার পক্ষে আছে। প্রেসিডেন্টের কোনো স্বার্থের সংঘাত থাকতে পারে না।’ সাংবাদিক ডেভিড ফ্রস্টকে অনেকটা একই কথা বলেছিলেন আমেরিকার ইতিহাসে অভিসংশিত হওয়া একমাত্র প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন। তিনি বলেন, সংজ্ঞানুসারে, একজন প্রেসিডেন্টের কার্যক্রম আইন ভঙ্গ করে না। তিনি বলেন, ‘যখন প্রেসিডেন্ট কিছু করেন, তার মানে হলো এসব অবৈধ নয়।’ সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্বীকার করেন যে, তার বিজয়ের ফলে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের লাভ হয়েছে। নিজেই বলেছেন, ওয়াশিংটনে তার একটি হোটেল এখন হয়তো আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি মূল্যবান। কিন্তু তিনি বলেন, ব্যবসা নিয়ে তার অত আগ্রহ নেই আর। ব্যবসার দায়িত্ব তিনি সন্তানদের হাতে ছেড়ে দেবেন।
জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি
নিজের নির্বাচনী প্রচারাভিযানকালের প্রায় পুরোটা সময় ট্রাম্প দাবি করেছিলেন জলবায়ু পরিবর্তন একটি ভ্রান্ত ধারণা। তার মতে, মার্কিন ব্যবসায় ধস নামাতে চীন এমন উদ্ভট ধারণার জন্ম দিয়েছে। এছাড়া প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নাম প্রত্যাহারেরও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। তবে সাক্ষাৎকারে এ ইস্যুতে বেশ অস্পষ্ট ছিলেন এই বিলিয়নিয়ার। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি খুব ঘনিষ্ঠভাবে বিষয়টি দেখছি। এ ব্যাপারে আমি এখনও সিদ্ধান্ত নিইনি।’ পূর্বে ট্রাম্প বিজ্ঞানীদের দাবি উড়িয়ে দিতেন। মানুষ এ পৃথিবীর উষ্ণতা বৃদ্ধিতে দায়ী, এমন বক্তব্য সমর্থন করতেন না তিনি। তবে গতকাল তিনি বলেছেন, মানুষ আর জলবায়ু পরিবর্তনের মধ্যে ‘আমি মনে করি কিছুটা যোগাযোগ আছে।’ এ নিয়ে বিস্তারিত আর বলেননি তিনি।
শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদীদের দায় নিতে অস্বীকার
‘অল্ট-রাইট’ বলে পরিচিত একটি শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী (সুপ্রিমেসিস্ট) সংগঠন কয়েকদিন আগে ওয়াশিংটনে জড়ো হয়েছিল ট্রাম্পের বিজয় উদযাপন করতে। কিন্তু বেশ কয়েকদিন পরে হলেও ট্রাম্প বলেছেন যে, এদের সঙ্গে তার কোন সম্পর্ক নেই। তিনি বলেন, ‘আমি এই গোষ্ঠীকে উজ্জীবিত করতে চাই না। আমি এদের প্রত্যাখ্যান করি। এটা এমন কোন গোষ্ঠী নয় যাদের আমি উজ্জীবিত করতে চাই। আর যদি তারা উজ্জীবিত হয়ে থাকে, তাহলে আমি এ ব্যাপারটি ঘেঁটে দেখতে চাই যে কেন তারা এমন হলো।’ তবে এখানে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, শ্বেতাঙ্গ বর্ণবাদীদের তিনি নিন্দা করেননি। সমালোচকরা বলছেন, অনেক সামান্য বিষয়েও ট্রাম্প টুইটারে নিজের মতামত জানাতে দেরি করেন না। তাদের প্রশ্ন, বর্ণবাদীরা ওয়াশিংটনে জড়ো হয়েছে তার বিজয় উদযাপন করতে, আর তিনি কেন কোনো মন্তব্য করার প্রয়োজন মনে করেননি
এছাড়া, ট্রাম্প এ সাক্ষাৎকারে অল্ট-রাইটের সঙ্গে জড়িত স্টিভ ব্যাননকে হোয়াইট হাউসের প্রধান কৌশলবিদ হিসেবে নিয়োগ দেয়ার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন। অবশ্য ব্যানন এখন ইহুদি-বিদ্বেষ বা বর্ণবাদী গোষ্ঠীর সঙ্গে তার যোগাযোগ থাকার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করছেন। নিজেকে তিনি ‘অর্থনৈতিক জাতীয়তাবাদী’ বলে ঘোষণা দিয়েছেন। নিউ ইয়র্ক টাইমসের সঙ্গে এই বৈঠকে ট্রাম্প ব্যাননের পক্ষাবলম্বন করেন। তিনি বলেন, ‘আমি তাকে অনেকদিন ধরে চিনি।’ তার দাবি, ব্যাননের বিরুদ্ধে ইহুদি-বিদ্বেষ ও উগ্র ডানপন্থিদের সংযোগ থাকার যে অভিযোগ, তা সত্য নয়। তার ভাষ্য, ‘যদি আমি মনে করতাম যে, তিনি (ব্যানন) বর্ণবাদী বা অল্ট-রাইট, তাহলে আমি কখনই তাকে নিয়োগের কথা চিন্তা করতাম না।’
মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আনবেন জামাতা কুশনার
ট্রাম্প পররাষ্ট্র নীতিতে বেশ উচ্চাকাঙ্ক্ষী কিছু লক্ষ্যের কথা বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি এমন একজন হতে চাইবো যিনি ইসরাইল ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে শান্তি আনয়ন করবেন। এটা হবে দারুণ এক অর্জন।’ কিন্তু কীভাবে তিনি তা করবেন জবাবটা অত স্পষ্ট নয়। সিএনএন লিখেছে, বরং নিজের পররাষ্ট্র নীতির জ্ঞান কত সীমাবদ্ধ তা প্রকাশ করেছেন এই বলে যে, তার জামাতা জ্যারেড কুশনার হয়তো ইসরাইলি ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে শান্তি আনতে পারবেন!
জিজ্ঞাসাবাদে নির্যাতন নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গি
প্রচারাভিযান চলাকালে ট্রাম্প ‘ওয়াটারবোর্ডিং’ পুনরায় চালু করার পক্ষে বলেছিলেন। ওয়াটারবোর্ডিং মূলত নির্যাতনের এক ধরনের কৌশল। বারাক ওবামার প্রশাসন এটি বাতিল করে। প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা অনেকদিন ধরেই বলে আসছিলেন, নির্যাতন করে জিজ্ঞাসাবাদে ভালো ফল আসে না। কিন্তু ট্রাম্প এই নির্যাতনের কৌশল সন্ত্রাসীদের ওপর প্রয়োগ করার পক্ষপাতি ছিলেন। তবে টাইমসের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে এ অবস্থান থেকেও পিছু হটেছেন তিনি। বলেছেন, তার এখন ধারণা হয়েছে যে, নির্যাতন আসলে অত কার্যকরী কোন পন্থা নয়। তিনি জানান, তার ধারণার পরিবর্তনের পেছনে কাজ করেছেন মেরিন জেনারেল জেমস ম্যাটিস। তাকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পদে বিবেচনা করছেন ট্রাম্প। সম্প্রতি ম্যাটিসের সঙ্গে এক আলাপচারিতায় ওয়াটারবোর্ডিং পুনঃপ্রবর্তন প্রসঙ্গে তার মতামত জানতে চান নব নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট। ম্যাটিস তাকে প্রত্যুত্তরে বলেন, তথ্য আদায়ে নির্যাতন ফলদায়ক বলে তিনি মনে করেন না। ট্রাম্পকে তিনি সরাসরি বলেন, ‘আমাকে বরং এক প্যাকেট সিগারেট, কিছু বিয়ার দিন, আমি আরও ভালো করবো।’ ট্রাম্প সাক্ষাৎকারে এ কথোপকথনের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘আমি তার এমন উত্তরে বেশ মুগ্ধ হই।’ তিনি একপর্যায়ে উপসংহার টানেন যে, নির্যাতনের ফলে অত পার্থক্য আসবে না, যতটা অনেক মানুষ ভাবছে। তবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদে ট্রাম্প যাদেরকে নিয়োগ করেছেন, তাদের সকলেই এ ধরনের নির্যাতনের পক্ষে। ট্রাম্পের মনোনীত সিআইএ পরিচালক, অ্যাটর্নি জেনারেল, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা- সকলেই সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধে নির্যাতনমূলক কলাকৌশল পুনঃপ্রবর্তনের আহ্বান জানিয়েছেন। ভবিষ্যৎ বলে দেবে এ ইস্যুতে কি অবস্থান হবে তার প্রশাসনের। মানবজমিন

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Situs Streaming JAV