Monday, 22 June 2026 |
শিরোনাম
Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার অঙ্গীকার State Minister for Foreign Affairs Urges Stronger Global Action to Protect Civilians, Uphold Humanitarian Law and Support Rohingya Repatriation বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন সমুন্নত রাখা ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামার মহররম মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত! Bangladesh Calls for Stronger Humanitarian Action and Women’s Leadership in Peacebuilding at UN Forum নিউইয়র্কে জাতিসংঘ ফোরামে মানবিক সহায়তা জোরদার ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় নারীর নেতৃত্ব বৃদ্ধির আহ্বান বাংলাদেশের
সব ক্যাটাগরি

নিউইয়র্কে টাক্সি চালিয়ে মাসে সাত হাজার ডলার আয়!

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 55 বার

প্রকাশিত: June 2, 2014 | 7:44 PM

taxi2নাশরাত আর্শিয়ানা চৌধুরী, যুক্তরাষ্ট্র : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশীদের জন্য বিভিন্ন কাজের ক্ষেত্র রয়েছে। ওই সব ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ নিয়ে কাজে প্রবেশ করা সহজ। তবে বেশিরভাগ বাংলাদেশী প্রশিক্ষণ নেয়ার ঝামেলায় ও এই জন্য টাকা খরচ করতে চায় না। আর এই কারনেই তারা সহজ, স্বাধীন ও বেশি অর্থ উপার্জনের পথ হিসাবে বেছে নেয় ট্যাক্সি চালানোর পেশা। টাক্সি চালানোর জন্য বিভিন্ন নিয়ম রয়েছে। প্রথম যোগ্যতা হচ্ছে এখানে ড্রাইভিং বিষয়ে পরীক্ষা দিয়ে তাকে পাশ করতে হবে। পরীক্ষা ভীষন কঠিন। ড্রাইভিং শেখার জন্য বিভিন্ন দেশসহ বাংলাদেশী মালিকাধীন প্রশিক্ষন কেন্দ্র রয়েছে। এক একটি প্র্যাকট্রিকাল ক্লাসের জন্য দিতে হয় ৩০ ডলার করে। ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতাও একটি বড় বিষয়। ড্রাইভিং চালানোর জন্য বিভিন্ন নিয়মকানুন রয়েছে। সবচেয়ে বড় হচ্ছে সিগন্যাল মানা। সিগন্যাল ও ট্রাফিক আইন না মানলে জরিমানা করে দিবে পুলিশ। তারা জানে যে সাধারনত কোন কোন জায়গাতে ও সিগন্যালে ড্রাইভাররা নিয়ম অমান্য করতে পারে। সেই সব জায়গাতে তারা জরিমানা করে। একজন ড্রাইভার একাধিক বার নিয়ম অমান্য করলে ও টিকিট খেলে জরিমানা দিলেও তাদের লাইসেন্স বাতিল করে দিতে পারে কর্তৃপক্ষ। বেশ কয়েকজন বাংলাদেশী ট্যাক্সি ক্যাব চালকের সঙ্গে ও ড্রাইভিং বিষয়ে প্রশিক্ষন দেন তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে এই সব তথ্য।
তাদের একজন বলেন, আমি দেশে নাটকের শিল্পী ছিলাম। বাবা ছিলেন রাজনীতিবিদ। আমি আর রাজনীতি করিনি। এখানে আছি তবে এখনও নাগরিকত্ব নেইনি। তা না নিয়েই দেশে ফিরে যেতে চাই। এখানেও নাটকের সঙ্গে যুক্ত আছি। কিন্তু এখানে নাটকের জন্য তেমন সম্মানী নেই তাছাড়াও সময়ও তেমন পাওয়া যায় না। তারপরও কেবল নাটকের সময় দেয়ার জন্য স্বাধীন পেশা হিসাবে ড্রাইভিংটাই বেছে নিয়েছি। এটা স্বাধীন পেশা যখন তখন নাটকের জন্য যেতে পারি। বন্ধুদের আড্ডায়ও বসা যায়। এছাড়াও বলা প্রয়োজন অন্য কাজে গেলে এর চেয়ে বেশি কষ্ট করলেও এত টাকা আয় করা যেত না যেটা ট্যাক্সি চালিয়ে মিলে। তিনি বলেন, আমার ট্যাক্সির নিয়ম হলো যখনই কেউ কল দিবে তখনই আমরা কেবল যাই। যেতেই হবে এমন বাধ্যবাধকতা নেই।
অন্য দিকে ড্রাইভিং স্কুল পরিচালনা করতেন মিল্লাত। তিনি বলেন, এটা অনেক ভাল পেশা। তবে এই প্রশক্ষন কেন্দ্র চালাতে গিয়ে দেখা গেছে যে বেশির ভাগ সময় পরিচিতরা আসতেন তারা কম টাকা দিতে চাইতেন। এতে করে ব্যবসাটা লাভ করা কঠিন ছিল। পরে ঠিক করলাম নিজেই ট্যাক্সি চালাবো। এখন হলুদ ট্যাক্সি চালাই তাতে করে মাসে ছয় থেকে সাত হাজার ডলার আয় করতে পারি। লক্ষ্য থাকে কমপক্ষে একদিন দুই’শ ডলার আয় করার। সেটা হয়। এখানে আসার দেড় বছরের মধ্যে বাড়ি ও ব্যবসা করার কথা ভাবছি। কাজটা একটু কঠিন হবে চালাতে পারলে অনেক টাকা।
আব্দুর রহিম হাওলাদার তিনিও একটি ডাইভিং শেখানোর স্কুল চালান। তিনি বলেন, এখানে কেউ ড্রাইভিং শিখতে পারলে অনেক দ্রুত অনেক টাকা আয় করা সম্ভব। অনেকেই সেটা করছে। অনেকেই আছে প্রথমে ট্যাক্সি চালায় পরে বাড়ি ও ব্যবসা শুরু করতে পারলে এরপর তারা ব্যবসায় মনোনিবেশ করে।
তিনি বলেন, ট্যাক্সি সব সময় চালানোর জন্য ভাল নয়। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে এসে একজন বাংলাদেশীকে যেই সব হার্ড পরিশ্রম করতে হয় এর চেয়ে অনেক ভাল। স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে।
এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তিন ধরনের ট্যাক্সি সার্ভিস রয়েছে। ড্রাইভিং লাইসেন্সের ক্যাটাগরী অনুযায়ী এক একজন লাইসেন্স পেয়ে থাকেন। একটি সূত্র জানায়, তিন ধরনের গাড়ীতে প্রায় ৫০ হাজার বাংলাদেশী ট্যাক্সি চালক আছেন। তবে তারা সবাই প্রতিদিন গাড়ি চালান না। কেউ কেউ সপ্তাহে সাত দিনে ১৪ শিফটের মধ্যে সাত শিফট, কেউ দশ শিফটও চালান। আবার কেউ কেউ রাতের প্রতিদিনের শিফটে কাজ করেন। যে যত বেশি গাড়ি চালান তারা বেশি টাকা আয় করেন।
এই ব্যাপারে কয়েকজন চালক জানিয়েছেন, আমরা গাড়ী চালিয়ে ভাল পয়সা আয় করছি। কিন্তু দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা, নিরাপত্তাহীনতা ও চাঁদাবাজির জন্য পয়সা বিনিয়োগ করার ও পাঠানোর সাহস পাই না। একজন বলেন, আমার বাড়ি নোয়াখালী। সেখানে আমার বাড়িতে বিল্ডিং করবো এই জন্য নাকি মহল্লার ছেলেদের টাকা দিতে হবে। তারা নাকি আবার বিশেষ রাজনৈতিক দলের। এটা কি বাস্তব সম্মত কথা! এই জন্য সিদ্ধান্ত নিয়েছি যাই আয় করবো এখানেই রাখবো। দেশে চাঁদা দিয়ে সম্পদ করবো না। যখন পরিবেশ ভাল হবে বিনিয়োগ নিরাপদ হবে তখন বিনিযোগ করবো। তিনি বলেন, আমার মতো এমন আরো অনেকেই সেখানে বিনিয়োগের নিরাপদ পরিবেশ পাচ্ছেন না বলে আমেরিকা থেকে যে পরিমান রেমিট্যান্স দেশে পাঠানোর সুযোগ রয়েছে সেই পরিমান রেমিট্যান্স যাচ্ছে না। বিনিয়োগ নিরাপদ ও নিশ্চিত হলে আমেরিকা থেকে প্রচুর অর্থ বাংলাদেশে যেত। কারণ এখানে টাকা আয় করলেও ব্যবসায় না খাটালে লাভ করা যায় না। ব্যাংলাদেশের মতো এখানে ব্যাংকে টাকা রাখলে টাকার উপর ৯-১২ শতাংশ হারে মুনাফা দেয় না। এই কারণে এখানে অর্থ থাকলেও ব্যাংক রেখে লাভ করার সুযোগ কম। তবে এখন অনেকেই দেশের ব্যাংকগুলোতে বেশিরভাগ টাকা এফডিআর সহ বিভিন্ন বিনিয়োগ করে রাকছে। বছরে বছরে লাভটা নিয়ে আসে। বাকি টাকা জমা থাকে। কিন্তু তারা বিনিয়োগে করলে দেশের উন্নতি হতো। নতুন নতুন শিল্প কলকারখানা হতো। হাউজিং খাতে লোন না দেয়ার কারণে ও দাম বেশির কারণে তারা ফ্ল্যাট কিনতেও আগ্রহী হচ্ছে না। প্রবাসীদের জন্য সরকারকে নিরাপত্তা ও নিশ্চয়তা দিতে হবে বিনিয়োগে। তাহলে দেশে সম্পদ করা গেলে আস্তে অস্তে দেশও উন্নত হবে। আমরাও সম্পদের মায়ায় হোক কিংবা নাড়ির টানে হোক দেশে ফিরে যাবো।আমাদের সময়.কম

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Situs Streaming JAV