Sunday, 21 June 2026 |
শিরোনাম
Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার অঙ্গীকার State Minister for Foreign Affairs Urges Stronger Global Action to Protect Civilians, Uphold Humanitarian Law and Support Rohingya Repatriation বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন সমুন্নত রাখা ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামার মহররম মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত! Bangladesh Calls for Stronger Humanitarian Action and Women’s Leadership in Peacebuilding at UN Forum নিউইয়র্কে জাতিসংঘ ফোরামে মানবিক সহায়তা জোরদার ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় নারীর নেতৃত্ব বৃদ্ধির আহ্বান বাংলাদেশের
সব ক্যাটাগরি

নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মনিরুল ইসলাম এবং তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন নিজ গৃহকর্মি

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 37 বার

প্রকাশিত: March 22, 2014 | 4:34 AM

ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম : নিউইয়র্কে ভারতের পর এবার বাংলাদেশী কুটনৈতিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন নিজ গৃহকর্মি। নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মনিরুল ইসলাম এবং তাঁর স্ত্রী ফাহিমা ইসলাম প্রভার বিরূদ্ধে স্থানীয় সময় ২১ মার্চ শুক্রবার ম্যানহাটান ফেডারেল আদালতে এ মামলা হয়েছে। কনসাল জেনারেল মনিরুল ইসলামের বাংলাদেশী গৃহকর্মি মাসুদ পারভেজ রানা বাদী হয়ে ন্যুনতম মজুরী আইন লংঘন, নির্যাতন এবং অসাধু শ্রম ব্যবহারের জন্য এ মামলা দায়ের করেন।
আদালতে দায়ের করা অভিযোগে মাসুদ পারভেজ রানা উল্লেখ করেন, চাকুরীর নামে দেশ থেকে আনার পর তাকে রীতিমত গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছিল। নিউইয়র্কে ম্যানহাটনের ৫৭ স্ট্রীটের কনসাল জেনারেল মনিরুল ইসলামের সরকারি বাসায় তাকে দিয়ে ভোর ছ’টা থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত কাজ করানো হয়। মাসে তিন হাজার ডলার করে মজুরি দেয়া হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেয়া হলেও গত ১৮ মাসে মাসুদ পারভেজকে কোন মজুরীই দেয়া হয়নি। ঘরের রান্না, পরিচ্ছন্ন করা, হাত দিয়ে কাপড় ধোয়া সহ সব কাজ তাকে দিয়ে করানো হয়। বাংলাদেশ থেকে নিয়ে আসার পর মাসুদ মাসুদ পারভেজ রানার কাছ থেকে তার পাসপোর্ট নিয়ে যাওয়া হয়। ঘরের বাইরে বেরুলে পুলিশ তাকে যেকোন সময় গ্রেফতার করবে বলে ভয় দেখানো হয়।
মামলায় অভিযোগে মাসুদ পারভেজ বলেন, মনিরুল ইসলাম এবং তাঁর স্ত্রী ফাহিমা ইসলাম প্রভা গত ১৮ মাসে গৃহবন্দি অবস্থায় তাকে দাসের মত ব্যবহার করেছেন। মাসুদ পারভেজ রানা অভিযোগ করেন, এখানে আসার পর গত ১৮ মাসে তাকে অন্তত দু’দফা শারিরীক নির্যাতন করা হয়। পুরো এ সময়ে তাকে কখনো ছুটি বা বিশ্রামে যাওয়ার সুযোগ পর্যন্ত দেয়া হয়নি।
মাসুদ পারভেজ রানার পক্ষে মামলাটি দায়ের করেছেন আইনজীবী ডানা সাসম্যান।
উল্লেখ্য, ভারতীয় কূটনীতিক দেবযানী খোবড়াগাড়ের বিরুদ্ধে তার পরিচারিকাকে কম বেতন দেয়ার মামলায় পরিচারিকার পক্ষে আইনি লড়াই করছেন এই আইনজীবী।
ন্যুনতম মজুরী আইন লংঘন, গৃহকর্মি নির্যাতন এবং অসাধু শ্রম ব্যবহারের জন্য বাংলাদেশী কুটনৈতিক মনিরুল ইসলাম এবং তাঁর স্ত্রী ফাহিমা ইসলাম প্রভার নামে যে কোন সময় পুলিশি ততপরতা শুরু হওয়ার আশংকা রয়েছে।
উল্লেখ্য, কনসাল জেনারেল মনিরুল ইসলাম আগামী এপ্রিলের মাঝামাঝি মরক্কোতে বাংলাদেশ দুতাবাসে রাষ্ট্রদূত হিসেবে যোগ দেয়ার জন্য নিউইয়র্ক ছাড়ার কথা। তিনি পদোন্নতি পেয়ে মরক্কোর রাষ্ট্রদূত হয়েছেন। এরইমধ্যে মনিরুল ইসলাম তার বদলির আদেশ পেয়েছেন।
এবিষয়ে শুক্রবার রাতে যোগাযোগ করা হলে কনসাল জেনারেল মনিরুল ইসলাম বলেন, মামলার বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। এ বিষয়ে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, গৃহ কর্মি মাসুদ পারভেজ রানার আনীত সব অভিযোগ মিথ্যা, ভিত্তিহীন। তিনি জানান, গত ৭/৮ দিন আগে হঠাত করেই উধাও হয়ে গেছেন মাসুদ পারভেজ রানা। গভীর রাতে না বলে বাসা থেকে বের হয়ে যাবার পর তার কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিলনা। তার সাথে কোন যোগাযোগও করা যাচ্ছে না। তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের সংক্রান্ত খবর জানার পর কনসাল জেনারেল মনিরুল ইসলাম এ প্রতিনিধিকে বলেন, তিনি এখনই দেশে গৃহকর্মি মাসুদ পারভেজ রানার বাবার সাথে যোগাযোগ করবেন।
কনসাল জেনারেল মনিরুল ইসলাম জানান, মাসুদ পারভেজ রানার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায়। মাসুদ পারভেজ রানার বাবার নাম নাসির উদ্দিন। কনসাল জেনারেল মনিরুল ইসলাম জানান, দেশ থেকে গৃহকর্মি হিসাবে নিউইয়র্কে নিয়ে আসার আগে মাসুদ পারভেজ রানার বাবা নাসির উদ্দিনের হাতে তিনি নগদ ১২ লাখ টাকা অগ্রিম দিয়ে এসেছেন।
মামলা দায়েরের সংবাদ পাওয়ার পর মাসুদ পারভেজ রানার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। মাসুদ পারভেজ রানার ডাক নাম মিলন বলে জানা গেছে। সপ্তাহের শেষ কর্ম দিবসে দায়ের করা চাঞ্চল্যকর এ মামলায় নিউইয়র্কে প্রবাসী বাংলাদেশীদের মধ্যে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশী কূটনীতিকের বিরুদ্ধে

গৃহকর্মীর মামলা

মানবজমিন : নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশী কনসাল জেনারেল মনিরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী ফাহিমা তাহসিনা প্রভার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন তাদেরই গৃহকর্মী মাসুদ পারভেজ রানা। ম্যানহাটন ফেডারেল কোর্টে মামলায় বলা হয়েছে, মাসুদকে তাদের বাসায় রাখা হয়েছিল ‘ক্রীতদাসের মতো’। সকাল সাড়ে ছয়টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত তাকে দিয়ে একটানা কাজ করাতেন তারা। সপ্তাহে সাতদিনই এই পরিস্থিতিতে কাজ করতে হতো। কোন ছুটি ছিল না। খাবার দেয়া হতো উচ্ছিষ্ট। থাকার জায়গা হতো রান্নাঘরে অথবা ওই রকম কোন একটি স্থানে। ঘর থেকে বের হতে দেয়া হতো না। তাকে ভয় দেখানো হতো হত্যার। মাসুদের পাসপোর্টও তারা কাছে নিয়ে রাখে। এসব অভিযোগে মামলা হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের বেশির ভাগ পত্রিকার অনলাইন সংস্করণ তা বেশ গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়, মাসুদকে মাসে ৩০০০ ডলার বেতন দেয়ার প্রলোভন দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যান মনিরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী। তাদের বাসায় ওই ‘ক্রীতদাসের মতো’ পরিস্থিতিতে তাকে বাধ্য হয়ে কাটাতে হয়েছে ১৮ মাস বা দেড় বছর। এর বিনিময়ে তাকে ১০ সেন্টও বেতন দেয়া হয় নি। এ নিয়ে দ্য নিউ ইয়র্ক পোস্টের শিরোনাম ‘ম্যান সোল্ড অন ড্রিম জব এনস্লেভড বাই বাংলাদেশ ডিপ্লোম্যাট: স্যুট’। অর্থাৎ স্বপ্ন পূরণের চাকরির প্রলোভনে পরিচারক কিনে দাস বানিয়েছেন বাংলাদেশের কূটনীতিক। নিউ ইয়র্ক ডেইলি নিউজের শিরোনাম ‘বাংলাদেশী ম্যান সেস হি ওয়ার্কড ইন স্লেভ-লাইক কন্ডিশনস ফর কনসাল জেনারেল ইন ডব্লিউ. ৫৭স্থ স্ট্রিট এপার্টমেন্ট: স্যুট’। অর্থাৎ ডব্লিউ ৫৭স্থ স্ট্রিটের এপার্টমেন্টে কনস্যুলার জেনারেলের বাসায় ক্রীতদাসের মতো কাজ করানো হতো- এমন অভিযোগ করেছেন এক বাংলাদেশী। অনলাইন এমিরেটস-এর শিরোনাম ‘কনসাল জেনারেল, ওয়াইফ ইন অ্যাবিউজ ক্লেইমস: ১৭ আওয়ারস এ ডে উইথ নো অফ, থ্রেট টু কিল’। অর্থাৎ কনসাল জেনারেল ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ: বিরতি ছাড়া দিনে ১৭ ঘণ্টা কাজ করানোর অভিযোগ, হত্যার হুমকি। মাসুদ পারভেজ রানার পক্ষে এ মামলাটির আইনজীবী ডানা সুসম্যান। ভারতীয় কূটনীতিক দেবযানী খোবড়াগাড়ের বিরুদ্ধে তার পরিচারিকাকে কম বেতন দেয়ার মামলায় পরিচারিকার পক্ষে আইনি লড়াই করছেন এই আইনজীবী। বিভিন্ন পত্রিকার রিপোর্টে বলা হয়েছে, ম্যানহাটনে বিলাসবহুল এপার্টমেন্টে বসবাস করেন বাংলাদেশ কনসাল জেনারেল মনিরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী ফাহিমা তাহসিনা প্রভা। বিস্তৃত পরিসরের এ বাসাটির ভাড়া মাসে ৮০০০ ডলার। এই বাড়িতে নেয়ার পর মাসুদকে বাড়ি থেকে বের হতে দেয়া হতো না। তাকে প্রহার ও হত্যার হুমকি দেয়া হতো। বলা হতো, বাইরে বেরুলে পুলিশ গ্রেপ্তার করবে তাকে। হত্যাও করতে পারে। মাসুদ তার অভিযোগে বলেছেন, তাকে কমপক্ষে দু’বার শারীরিকভাবে নির্যাতনও করা হয়েছে। মামলায় বলা হয়েছে, প্রতি রাত ১১টার মধ্যে নিত্যদিনের কাজ শেষ করতে হতো মাসুদ রানাকে। কনসাল জেনারেল ও তার স্ত্রী ফাহিমা কখনও বাড়ির বাইরে গেলে অপেক্ষায় থাকতে হতো মাসুদকে। তারা ফিরলে তাদের কি কি প্রয়োজন তা তাকেই দেখভাল করতে হতো। তারপর রান্না করতে হতো তাদের জন্য। এমন অবস্থায় পড়ে মাসুদ রানাকে রাত প্রায় ১টা পর্যন্ত কাজ করতে হতো। প্রতি মাসে বেশ কয়েকবার তারা বাসায় পার্টি দেন। লোকজনের জমায়েত হয়। তখন ওইসব অতিথির জন্য খাবার রান্নার দায় পড়তো একা মাসুদের ওপর। অতিথিরা চলে গেলে বাসনকোসন পরিষ্কার করতে হতো তাকেই। যখন এমন অনুষ্ঠান হয় বাসায় তখন রাত তিনটার আগে কাজ শেষ করতে পারেন না তিনি। ই. ৪৩তম স্ট্রিটে বাংলাদেশ কনস্যুলেট। সেখানেও মাঝে মাঝে বিভিন্ন অনুষ্ঠান হয়। সেখানকার রান্নাও করতে হয় মাসুদ রানাকে। নিজ হাতে এত রান্না করলেও তাকে সেই খাবার দেয়া হয় না। মামলায় বলা হয়েছে, তাকে দেয়া হতো পড়ে থাকা অথবা উচ্ছিষ্ট খাবার। মাসুদ রানাকে বাংলাদেশী এই কূটনীতিকের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন তার সৎপিতা। তিনিই তাকে যুক্তরাষ্ট্রে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ পেতে সুপারিশ করেছিলেন। বলা হয়েছিল, প্রতিদিন কাজে বিরতি পাবেন কিছু সময়। ভিসা নবায়ন করতে সহায়তা করবেন ওই কূটনীতিক দম্পতি। মামলায় বলা হয়, এ প্রত্যাশায় তিনি ২০১২ সালের সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্ক যান। তারপরই দেখতে পান যেমনটা বলা হয়েছিল আসলে মূল কাজ তার থেকে অনেক ভিন্ন। এ বিষয়ে বিভিন্ন পত্রিকা বাংলাদেশ কনস্যুলেটে যোগাযোগ করেছে। তবে সেখান থেকে তাৎক্ষণিক কোন বক্তব্য মেলে নি।

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Situs Streaming JAV