নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির সংবাদ সম্মেলন: আর্থিক হিসাব, বাংলাদেশ সেন্টার, ভবনের ভায়োলেশন ও ফিউনারেল ফান্ড নিয়ে ব্যাখ্যা
ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম, নিউইয়র্ক : বাংলাদেশ সোসাইটির বর্তমান কার্যকরী পরিষদকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে ওঠা আর্থিক অনিয়ম, বাংলাদেশ সেন্টার ক্রয়, ভবনের ভায়োলেশন, ইফতার মাহফিলের ব্যয়, কর্মকর্তাদের নামে চেক ইস্যু এবং ফিউনারেল ও কবরের অর্থ নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছে সংগঠনটির বর্তমান নেতৃত্ব।
গত ২৮ সেপ্টেম্বর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সোসাইটির সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম স্বাগত বক্তব্য দেন এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান শাহ নেওয়াজ ও সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বোর্ড অব ট্রাস্টির সদস্য আজিমুর রহমান বোরহান, জুনায়েদ চৌধুরী, নাঈম টুটুল, আহসান হাবিব ও মোহাম্মদ আতোয়ারুল আলম, সিনিয়র সহ-সভাপতি মহিউদ্দিন দেওয়ান, সহ-সভাপতি কামরুজ্জামান কামরুল, সাংগঠনিক সম্পাদক ডিউক খান, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অনিক রাজ, স্কুল ও শিক্ষা সম্পাদক মোহাম্মদ হাসান জিলানী, কার্যকরী সদস্য হারুন অর রশিদ, জাহাঙ্গীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী, আবুল কাশেম চৌধুরী, মুনসুর আহমদ ও হাছান খান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ২০২৪ সালের ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সেলিম-আলী নেতৃত্বাধীন প্যানেল বিজয়ী হয়। ১৬ ডিসেম্বর ২০২৪ শপথ নেওয়ার পর ১ জানুয়ারি ২০২৫ থেকে নতুন কার্যকরী পরিষদ দায়িত্ব গ্রহণ করে।
বর্তমান নেতৃত্বের দাবি, দায়িত্ব গ্রহণের সময় বিদায়ী কমিটির পক্ষ থেকে প্রায় ৩ লাখ ৮৫ হাজার ডলার থাকার কথা জানানো হলেও ব্যাংক হিসাব বুঝে নেওয়ার পর প্রকৃত অর্থ পাওয়া যায় ১ লাখ ৩৫ হাজার ৬৭৩.৮৯ ডলার। এর বিপরীতে পূর্ববর্তী সময়ের প্রায় ২০ হাজার ডলারের দায় পরিশোধের পর কার্যকর আর্থিক অবস্থান ছিল প্রায় ১ লাখ ১৬ হাজার ডলার।
সোসাইটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত নিয়মিত পরিচালন ব্যয় হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৫ হাজার ৪৭ ডলার এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও কর্মসূচিতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার ৪১৮ ডলার। সব মিলিয়ে মোট ব্যয় প্রায় ৫ লাখ ২৫ হাজার ৪৬৫ ডলার। এর পরও ৩১ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত সোসাইটির বিভিন্ন হিসাবে প্রায় ৯ লাখ ১৯ হাজার ডলার রয়েছে বলে দাবি করা হয়।
৭ লাখ ২৫ হাজার ডলার ব্যয় বা ‘হরিলুট’-এর অভিযোগের বিষয়ে সোসাইটির নেতারা বলেন, অভিযোগের পক্ষে গ্রহণযোগ্য প্রমাণ থাকলে তা প্রকাশ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। তাদের দাবি, প্রকাশিত হিসাবের সঙ্গে ওই অভিযোগের মিল নেই।
বাংলাদেশ সেন্টার প্রসঙ্গে বলা হয়, জ্যামাইকায় একটি ভবন কেনার জন্য ২০২৫ সালের ৩১ অক্টোবর শর্তসাপেক্ষ ক্রয়চুক্তি করা হয়েছিল এবং ২ লাখ ডলার ডিপোজিট দেওয়া হয়। এর মধ্যে ১ লাখ ২৫ হাজার ডলার ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান শাহ নেওয়াজ ব্যক্তিগতভাবে অনুদান হিসেবে দেন বলে জানানো হয়। ভবনটির ভায়োলেশন ও অন্যান্য শর্ত পূরণ না হওয়ায় পরে চুক্তি বাতিল করে পুরো ডিপোজিট ফেরত নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
সোসাইটির ভবনের পূর্ববর্তী ভায়োলেশন ও জরিমানার বিষয়ে বর্তমান নেতৃত্বের বক্তব্য, দায়িত্ব নেওয়ার সময় প্রায় ৮২ হাজার ডলারের জরিমানা ছিল। একটি পেশাদার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিষয়টি পর্যালোচনার পর তা প্রায় ৩১ হাজার ডলারে নামিয়ে আনা হয়েছে বলে জানানো হয়।
ইফতার মাহফিলের ব্যয় নিয়েও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। সোসাইটির দাবি, দুই বছরে চারটি এলাকায় মোট আটটি ইফতার মাহফিলে প্রায় ৮৯ হাজার ডলার ব্যয় হয়েছে। এর মধ্যে ৪২ হাজার ৫৭০ ডলারের বেশি স্পন্সর ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছ থেকে এসেছে এবং সোসাইটির নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৪৬ হাজার ৪৩০ ডলার।
কর্মকর্তাদের নামে চেক ইস্যু প্রসঙ্গে বলা হয়, সোসাইটির প্রয়োজনে কোনো কর্মকর্তা ব্যক্তিগত অর্থে অনুমোদিত ব্যয় পরিশোধ করলে রসিদ ও ভাউচার যাচাইয়ের পর সেই অর্থ ফেরত দেওয়া হয়। কর্মকর্তাদের নামে ইস্যু করা সব চেককে ব্যক্তিগত অর্থ গ্রহণ হিসেবে দেখানো সঠিক নয় বলেও দাবি করা হয়।
বার্ষিক সাধারণ সভা ও অডিট প্রসঙ্গে নেতৃত্ব জানায়, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বার্ষিক সাধারণ সভায় আয়-ব্যয়ের হিসাব সদস্যদের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং আগামী ডিসেম্বরেও পূর্ণাঙ্গ হিসাব উপস্থাপন করা হবে।
ফিউনারেল সার্ভিস ও কবরের অর্থ নিয়ে অভিযোগের বিষয়ে সোসাইটির পক্ষ থেকে বলা হয়, এ খাতের অর্থ পৃথকভাবে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কবরের ব্যবস্থা ও ফিউনারেল সহায়তা অব্যাহত রয়েছে বলে জানানো হয়। দায়িত্ব গ্রহণের দিন বিদায়ী পরিষদের সময়ে কবর ক্রয়ের উদ্দেশ্যে দেওয়া ২ লাখ ৪০ হাজার ডলার ফেরত আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান কয়েক কিস্তিতে অর্থ ফেরত দিতে সম্মত হয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বর্তমান নেতৃত্ব আরও দাবি করে, দায়িত্ব গ্রহণের সময় সোসাইটির নিবন্ধিত সদস্যসংখ্যা ছিল প্রায় ১৮ হাজার, যা বর্তমানে ৩৫ হাজারের বেশি হয়েছে। তাদের ভাষ্য, বর্তমান কার্যকরী পরিষদের মেয়াদ ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এবং মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দায়িত্ব পালন, চলমান কাজ সম্পন্ন করা এবং সোসাইটির আর্থিক ও সাংগঠনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, এসব বক্তব্যের উদ্দেশ্য কারও বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়; বরং সোসাইটিকে ঘিরে প্রচারিত অভিযোগ ও প্রশ্নের বিষয়ে নিজেদের হিসাব ও অবস্থান গণমাধ্যমের মাধ্যমে সদস্যদের সামনে তুলে ধরা। তারা অভিযোগের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট নথি ও হিসাব যাচাইয়ের আহ্বান জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ সোসাইটিকে ঘিরে মতপার্থক্য থাকলেও প্রতিষ্ঠানটির স্বার্থ ও কমিউনিটির ঐক্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন।
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির সংবাদ সম্মেলন: আর্থিক হিসাব, বাংলাদেশ সেন্টার, ভবনের ভায়োলেশন ও ফিউনারেল ফান্ড নিয়ে ব্যাখ্যা
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেটে কনস্যুলার ফি পরিশোধে নতুন নিয়ম: স্বশরীরে সেবায় মানি অর্ডার-চেক বন্ধ, এখন শুধু ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড
- আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের ১৮ বছর পূর্তি উদযাপন: ‘রাজনৈতিক তোষামোদী মিডিয়া গ্রহণযোগ্যতা হারায়’
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন ঘিরে এস্টোরিয়ায় কুনু-ফিরোজ পরিষদের মতবিনিময় সভা: বর্তমান কমিটির কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান
- নিউইয়র্কে জবস এনওয়াইসি সেন্টার চালু : সরকারি চাকরির আবেদন, সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা ও নিয়োগে এক ছাদের নিচে সহায়তা
- বর্ণবৈষম্য অবসানের প্রতিশ্রুতি পূরণে বিশ্ব এখনো অনেক দূরে: জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান
- নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় বাংলাদেশ সোসাইটি ইনক’র বাংলা স্কুল উদ্বোধন।
- নিউইয়র্কের ব্রুকলীনে কুনু-ফিরোজ প্যানেলের নির্বাচনী সভা: ‘মিথ্যা প্রতিশ্রুতি নয়, জবাবদিহিমূলক সোসাইটি গড়তে চাই’