নিউইয়র্কে বেনের সভা থেকে ভারতের নবনির্বাচিত সরকারকে নদী-সংযোগ প্রকল্প বাস্তবায়ন থেকে বিরত থাকার আহ্বান
ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম : নিউইয়র্কে বেন আয়োজিত এক সভা থেকে ভারতের নবনির্বাচিত সরকারকে নদী-সংযোগ প্রকল্পের বাস্তবায়ন থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক নদী বিষয়ক কনভেনশনে সাক্ষর দানের উপর গুরুত্ব আরোপ করে কুইন্সের জ্যাকসন হাইটসে স্থানীয় সময় ২৪শে মে শনিবার বেনের এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ভারত কর্তৃক ক্রমাগতভাবে উজানে পানি প্রত্যাহারের আলোকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বৃষ্টির পানি ধরে রাখার মাধ্যমে দেশের নদ-নদীসমূহ রক্ষার প্রয়োজনীয়তার উপর এই সভায় দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। এছাড়া সভায় বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার ধানমন্ডী মাঠকে জনগণের জন্য উন্মুক্ত রাখার লক্ষ্যে বাপা এবং অন্যান্য পরিবেশবাদীদের সংগ্রামের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করা হয়।
সভায় গত বছর ঢাকায় বাপা এবং বেন আয়োজিত “আঞ্চলিক পানি সম্পদ ঃ সংঘাত থেকে সহযোগিতা” শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে পরিবেশিত প্রবন্ধাবলী এবং প্রস্তাব সহকারে সম্প্রতি প্রকাশিত বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
বেনের বিশ্ব-সমন্বয়কারী ড. নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তণ উপ-উপাচার্য এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের প্রাক্তণ সদস্য, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক তাজুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগ দেন বিশিষ্ট নদী বিশেষজ্ঞ পেনসিলভিনিয়ার লক হ্যাভেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক খালেকুজ্জামান। সভা পরিচালনা করেন বেনের নিউ ইয়র্ক, নিউ জার্সী এবং কানেক্টিকাট শাখার সমন্বয়কারী সৈয়দ ফজলুর রহমান।
সভায় অধ্যাপক তাজুল ইসলাম পরিবেশের উপর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সম্ভাব্য অভিঘাত সম্পর্কে একটি সারগর্ভ আলোচনা পেশ করেন। আলোচনায় তিনি উল্লেখ করেন, শেষ বিচারে এই অভিঘাতের চরিত্র ও মাত্রা নির্ভর করে কোন দেশ কর্তৃক অনুসৃত নীতিমালার উপর। সুষ্ঠু নীতি গ্রহণের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণ করেও অর্থনৈতিক উন্নতি অর্জন করা যায়। পৃথিবীর অনেক দেশের অভিজ্ঞতা তার সাক্ষ্য বহন করে।
অধ্যাপক তাজুলের পরিবেশনার উপর সভায় প্রাণবন্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশগ্রহণ করেন সাংবাদিক সাখাওয়াত হোসেন সেলিম, শিহাবুদ্দিন কিসলু, হাসানুজ্জামান সাকী প্রমুখ।
সভার দ্বিতীয় পর্যায়ে তিস্তা নদীর সাম্প্রতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে পাওয়ার পয়েন্ট সহযোগে তথ্যবহুল আলোচনা উপস্থাপন করেন অধ্যাপক খালেকুজ্জামান। তিনি দেখান যে, গাজলডোবা বাধের মাধ্যমে তিস্তার পানি দক্ষিণ এবং উত্তর উভয় অভিমুখে প্রতিসারিত হচ্ছে; ফলে তিস্তার বাংলাদেশ অংশে কোন পানি থাকছে না। এ অবস্থার প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি তিস্তা অববাহিকার ভারতীয় ও বাংলাদেশে অংশে বসবাসরত জনসংখ্যার অনুপাত অনুযায়ী এই নদীর পানি ভাগাভাগি হওয়া উচিত বলে মত প্রকাশ করেন।
অধ্যাপক খালেকুজ্জামানের পরিবেশনার উপর বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশগ্রহণ করেন মোস্তফা মোরশেদ, প্রকৌশলী মতিন তালুকদার, পানি বিশেষজ্ঞ ড. ফারুক জামান, প্রিন্সিপাল শেখ আল মামুন, খোরশেদুল ইসলাম, বাসমা শিয়া প্রমুখ। তাদের অনেকে ভারতের সাথে নদীর পানি ভাগাভাগি সমস্যা নিরসনে আন্তর্জাতিক আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার আহ্বান জানান। ড. ফারুক জামান লং আইল্যান্ডের পানি সাশ্রয়ী কৃষির অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এবং ভারত ও বাংলাদেশকে তা থেকে শিক্ষা গ্রহণের আহ্বান জানান।
সভাপতি ড. নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের পরিবেশ রক্ষায় “বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)” ও অন্যান্য সংগঠনের সাম্প্রতিক তৎপরতা সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য পরিবেশন করেন। বিশেষত রাজধানী ঢাকার ধানমন্ডী খেলার মাঠ রক্ষার আন্দোলনের প্রতি তিনি সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এই আন্দোলনে সকলকে শামিল হওয়ার আহ্বান জানান। এছাড়া সিলেটের রাতারগুলের জলজ বন রক্ষায় বাপার সিলেট শাখার সাম্প্রতিক অনশন কর্মসূচি এবং তার ফলে এই বন ধ্বংসকারী বিভিন্ন নির্মাণকাজ সাময়িকভাবে স্থগিত হওয়া সম্পর্কে সকলকে অবহিত করেন। তিনি আগামীতে বেনের কাজে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশের পরিবেশ রক্ষার সংগ্রামে অংশগ্রহণের জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান। সভায় বেনে যোগদানকারী কয়েকজন বিশিষ্ট তরুন সদস্যের স্বাগত জানানো হয়। তাদের মধ্যে রয়েছেন সেমন্তী ওয়াহেদ, তানভির রব্বানী এবং হুমায়ুন কবীর। সবশেষে সৈয়দ ফজলুর রহমান বেনের সভায় যোগদানের জন্য সকলকে ধন্যবাদ জানান।
- Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN
- এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ
- Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda
- নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ
- নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার অঙ্গীকার
- State Minister for Foreign Affairs Urges Stronger Global Action to Protect Civilians, Uphold Humanitarian Law and Support Rohingya Repatriation
- বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন সমুন্নত রাখা ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামার
- মহররম মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত!