নিউইয়র্কে ভার্চুয়াল ভাইরাস সচেতনতামূলক সেমিনার : ভার্চুয়াল ভাইরাস মাদকাশক্তির চেয়েও ভয়ানক
https://www.facebook.com/USANewsNY/videos/657203708059028/
ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম ডেস্ক, নিউইয়র্ক : নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে অনুষ্ঠিত হলো ভার্চুয়াল ভাইরাস সচেতনতা বিষয়ক সেমিনার। ৩ মার্চ রোববার সন্ধ্যায় স্টার্লিং এভিনিউ-এর এশিয়ান ড্রাইভিং স্কুলের হলরুমে সেমিনার ছাড়াও এ বিষয়ের ওপর নির্মিত দু’টি বিশেষ ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয় এবং সোস্যাল মিডিয়াসহ প্রযুক্তি পণ্যের আসক্তিপূর্ণ ব্যবহারের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে বাচতে বিশেষ ভার্চুয়াল ভাইরাস মেডিটেশনের আয়োজন করা হয়। আত্মউন্নয়নে সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন-এর ব্রঙ্কস সেল এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন হৃদয়ে বাংলাদেশ যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে।

হৃদয়ে বাংলাদেশের সম্পাদক পল্লব সরকারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সেমিনারের বিষয় ছিলো ‘ভার্চুয়াল ভাইরাস, নিজে বাচুন পরিবারকে বাচান’। এতে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন ভোরের কাগজের সিনিয়র সাংবাদিক শামীম আহমেদ। বিষয়টির ওপর আয়োচনায় অংশ নেন, কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন ব্রঙ্কস সেল-এর পরিচালক ফরিদা আক্তার, হৃদয়ে বাংলাদেশের সভাপতি সাইদুর রহমান লিংকন, মূল ধারার রাজনীতিক আব্দুস শহীদ,

ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম এবং সাপ্তাহিক জনতার কন্ঠ’র সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন সেলিম, কবি, লেখক ও সমাজকর্মী মাকসুদা আহমেদ, এনওয়াই ইউনিভার্সিটির কর্মকর্তা আহমেদ জামিল, হৃদয়ে বাংলাদেশের সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জান ফয়েজ, সাংবাদিক আনোয়ান হোসেন বাবর, হৃদয়ে বাংলাদেশের মোতাসিম বিল্লাহ তুষার, রাশেদুল ইসলাম, সাধন ব্যান্ডের ভোকাল মুসাফির মুক্তা, ফাল্গুনীর কর্নধার মাসুদ রানা প্রমুখ।

এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, স্টার্লিং বাংলাবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব গিয়াস উদ্দিন, বাঙালি চেতনা মঞ্চের সভাপতি ও আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুর রহিম বাদশা, মামুন টিউটোরিয়ালের প্রিন্সিপ্যাল শেখ আল মামুন, বাংলাদেশ একাডেমি অব ফাইন আর্ট এর সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন, ব্রঙ্কস বাংলাদেশ এসোসিয়েশনের সভাপতি এ ইসলাম মামুন, সহ সভাপতি মোজাফফর হোসেন, সমাজকর্মী মামুন রহমান, সাহিত্য সংগঠন পঞ্চায়েতের মাসুম আহমেদ।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, আমাদের পরিবারগুলো দিন দিন স্মাট ফোন এবং সোস্যাল মিডিয়ায় আসক্ত হয়ে পড়ছে। এতে আমরা অতিমাত্রায় আত্মকেন্দ্রিক হয়ে যাচ্ছি। আমাদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ কমে যাচ্ছে। বাস্তব বন্ধুর জায়গায় আমরা এখন ভার্চুয়াল এবং বায়বীয় বন্ধুদের গুরুত্ব বেশি দিচ্ছি। এক ছাদের নিচে বসবাস করেও পরিবারের সদস্যরা একজন আরেকজনকে সময় দিতে পারছে না। তাদের মধ্যে দুরত্ব বারছে। এতে পরিবারে অশান্তি বাড়ছে। বাড়ছে হতাশা, টেনশন। এসব কারনে মানসিক এবং শারিরিকভাবে আমরা রোগাক্রান্ত হয়ে পড়ছি। আমাদের সন্তানরা এখন আর আমাদের কথা শুনছে না। তারা ঘরের দরজা বন্ধ করে রাতের পর রাত দিনের পর দিন কাটিয়ে দিচ্ছে। পড়াশুনায় তাদের মনোযোগ কমে যাচ্ছে। ফলে তারা স্কুল বা কলেজের পরীক্ষায় রেজাল্ট খারাপ করছে। স্বামী বা স্ত্রীরা পরকীয়ার মতো সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ছে। তারা বলেন, প্রযুক্তির অনেক ভালো দিকও রয়েছে। আধুনিক সমাজ ব্যবস্থায় প্রযুক্তি পণ্য ছাড়া জীবন কল্পনা করাও কঠিন। যন্ত্রের সঙ্গে আমাদের জীবন এমনভাবে জড়িয়ে গেছে যে, চাইলেই আমরা তা থেকে বেরিয়ে আসতে পারছি না।
বক্তারা বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর কারনে পরস্পরকে গালিগালাজ, গীবত, পরচর্চা এবং পরনিন্দা বেড়েছে। আগে আমরা যেসব গালিগালাজ মুখে আনতেও সংঙ্কোচ বোধ করতাম এখন ফেসবুকের কল্যানে তা অহরহ ঘটছে। অর্থহীন, অশ্লীল এবং কটুক্তিপূর্ণ বাক্যের ব্যবহার নজীরবিহীন হারে বেড়ে গেছে। এভাবে চললে পরিবারে, সমাজে অস্থিরতা, অশান্তি বাড়বে। এতে থেকে রেহাই পেতে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহার সীমিত করে ফেলতে হবে বলেও বক্তারা অভিমত ব্যক্ত করেন।

মূল আলোচনায় অংশ নিয়ে সাংবাদিক শামীম আহমদ বলেন, বৈজ্ঞানিক তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতেই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব ভার্চুয়াল ভাইরাস মাদকাশক্তির চেয়েও মারাত্মক; যার মর্মান্তিক পরিণতি শুধু ব্যক্তিকে নয়, ধ্বংস করে দিতে পারে পরিবার, সমাজ এমনকি একটি জাতিকেও। গত কয়েক বছরে মার্কিন টিনএজারদের মধ্যে আত্মহত্যা প্রবণতা মারাত্মকভাবে বেড়ে যাওয়ার পেছনেও স্মার্টফোনের বড় ভূমিকা আছে বলে মনে করছেন সে-দেশের মনোবিজ্ঞানীরা।
৭ জুন ২০১৭ সালে ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউকে- তে প্রকাশিত তথ্যমতে, যুক্তরাজ্যের হার্লি স্ট্রিট রিহ্যাব ক্লিনিকের একটি গবেষণায় বলা হয়, শিশুর হাতে স্মার্টফোন/ ট্যাব তুলে দেয়া আর কোকেন বা মদের বোতল তুলে দেয়া একই কথা।
ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউরোসায়েন্স বিভাগের পরিচালক ড. পিটার হোয়াইব্রোর মতে, স্মার্টফোন/ ট্যাব স্ক্রিন হলো ইলেক্ট্রনিক কোকেন। চীনা গবেষকরা একে বলছেন ডিজিটাল হেরোইন। আর পেন্টাগন ও ইউএস নেভির অ্যাডিকশন রিসার্চ বিভাগ ভিডিও গেম ও স্ক্রিন টেকনোলজিকে অভিহিত করেছে ডিজিটাল মাদক হিসেবে।
তিনি বলেন, আপনারা জানেন যে বিশ্বব্যাপী ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২০০ কোটি ছাড়িয়েছে। পিছিয়ে নেই বাংলাদেশও।

এগোচ্ছে রীতিমতো পাল্লা দিয়ে। সমীক্ষা বলছে, বর্তমানে পৃথিবীর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ফেসবুক ব্যবহারকারীর শহর আমাদের এই ঢাকা। ফেসবুক দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে ‘লাইক‘ ফিচারটি চালু হওয়ার পর। লাইক পাওয়ার জন্যে উসকানিমূলক মন্তব্য বা ছবি পোস্ট করার ঘটনাও কম নয়। মজার বিষয়, লাইকের উদ্ভাবক জাস্টিন রোজেনস্টাইন নিজের ফোন থেকে এই ফিচারটি সরিয়ে ফেলেছেন। কেন? আসক্ত হওয়ার ভয়ে!
২০১৫-তে মাইক্রোসফটের সমীক্ষা অনুযায়ী, ফেসবুক নিরবচ্ছিন্ন মনোযোগের বারোটা বাজায়। তাই কোনো বিষয়ে মনোনিবেশ করা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। ক্ষতিগ্রস্ত হয় ব্যক্তির চিন্তাশক্তি ও বিশ্লেষণী ক্ষমতা এবং আইকিউ লেভেলও কমতে থাকে ধীরে ধীরে। এখানে আমরা যারা আছি প্রত্যেকেই নিঃসন্দেহে অনেক বড় বড় কাজের সাথে জড়িত। যেকোনো কাজে দক্ষতার পাশাপাশি মনোযোগ অনেক বেশি প্রয়োজন। ভার্চুয়াল ভাইরাস এর প্রভাব আমাদের কর্মক্ষেত্রেও অন্যসব মানুষের মতই মনোযোগের অভাবে ঘটতে পারে বড় কোনো ভুল। ফলে ছাত্র ছাত্রীদের পড়াশোনা থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষের কর্মজীবন বিঘ্নিত হতে পারে।
স্মার্টফোনের আরেক অবদান সেলফি সিনড্রোম। বৈশ্বিকভাবে এখন সেলফি তোলার প্রবণতা একটি মানসিক রোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সেলফি সিনড্রোম বর্তমানে একটি রোগের নাম। তাই সেলফি থেকে দূরে থাকুন।
তিনি বলেন, এখন অনেক স্বামী বা স্ত্রী বুঝে ওঠার আগেই দেখেন- তার জীবনসাথী ফেসবুকের কল্যাণে পরকীয়ার লিপ্ত হয়ে পুরো সংসার তছনছ হয়ে যাচ্ছে। পরকীয়াকে এখন তারা আবার পরকীয়া বলতে নারাজ, বেশ কায়দা কানুন করে আধুনিক ভাষায় তারা বলেন,‘আমিও তো মানুষ- আমার তো একটা ব্রিদিং স্পেস লাগে।‘ আরেকজনের স্বামী বা স্ত্রীর সাথে অনৈতিক সম্পর্কের নাম কি ‘ব্রিদিং স্পেস?‘
দাম্পত্য সম্পর্ক ভাঙতেও ইদানীং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে ফেসবুক। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি পাঁচটি ডিভোর্সের অন্তত একটির পেছনে ফেসবুক ভূমিকা রাখছে বলে একটি জরিপে জানা গেছে। গবেষণালব্ধ এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেসবুকের মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের অজান্তে এমন সব নারী-পুরুষের সঙ্গে একান্ত সম্পর্ক গড়ে তুলছেন যাকে অবিশ্বস্ততা বলা যায়। ফলে দাম্পত্য সম্পর্কে তৈরি হচ্ছে অশান্তি ও অবিশ্বাস এবং নিঃসন্দেহে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে তাদের সন্তানেরা।
আমেরিকান একাডেমি অব ম্যাট্রিমনিয়াল লইয়ার্স দেশটিতে সংঘটিত সাম্প্রতিক কিছু ডিভোর্সের ওপর একটি গবেষণা পরিচালনা করেছে। দেখা গেছে, ফেসবুক ব্যবহার করে স্বামী-স্ত্রীদের মধ্যে পরস্পরকে প্রতারণা করার হার দিন দিন বাড়ছে। ফেসবুকের মাধ্যমে তারা অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলছেন। ব্রিটেনেও প্রতি একশ-র মধ্যে ২০টি ডিভোর্সের ঘটনায় ভূমিকা রাখছে ফেসবুক। তাই সময় থাকতে নিজে সচেতন হোন এবং পরিবারের সদস্যদের দিকে খেয়াল রাখুন যে, এত বিশাল ক্ষতির সাথে কেউ জড়িত আছেন কিনা?
সমাজের সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আলোচক বলেন, আসুন সময় থাকতেই সচেতন হই। ভার্চুয়াল ভাইরাসের মরণ-আগ্রাসন থেকে নিজে বাঁচি। বাঁচাই সন্তানদের। সচেষ্ট হই আত্মীয়-বন্ধু-প্রতিবেশীদেরও বাঁচাতে। বাঁচাই প্রিয় দেশবাসীকে। ভোরের কাগজ
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘ ফোরামে মানবিক সহায়তা জোরদার ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় নারীর নেতৃত্ব বৃদ্ধির আহ্বান বাংলাদেশের
- বাংলাদেশের সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ স্মরণে নিউইয়র্কে বৃহত্তর বরিশালবাসীর দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা
- নিউইয়র্কে চিটাগাং অ্যাসোসিয়েশন অফ আমেরিকা’র সংবাদ সম্মেলন: সংগঠনের বিরুদ্ধে চলমান মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোন নির্বাচন নয়
- যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশীদের মূলধারার ব্যবসা-বাণিজ্য রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. তিতুমীরের
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সেমিট্রির কবরে মরদেহ সমাহিত করা যাবে ১ জুলাই থেকে
- যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের জন্যে বাংলাদেশ এখন সবচেয়ে কার্যকর ও উপযোগী দেশ: প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতি ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. তিতুমীর
- নিউ জার্সির আটলান্টিক সিটিতে মেয়র মার্টি স্মল সিনিয়র স্কলারশিপ প্রোগ্রাম, আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৫ জুন
- নিউইয়র্কে মুনার ঈদ পুনর্মিলনী