নিউইয়র্ক বইমেলা ও একজন বিশ্বজিত
জুলি রহমান : বইমেলা ও একজন বিশ্বজিত জুলি রহমান এই মার্কিন মুল্লুকে বইমেলা এক প্রাণের উৎসব।মেল বন্ধন।স্বদেশ এবং বিদেশের সংগে।অসংখ্য অগনিত লেখকের বই নিয়ে রমরমাট পি এস সিক্সটি নাইনের গতর।নতুন বইয়ের মৌ মৌ গন্ধে মাতাল নিচ তলার অবয়ব। পূর্ণতা পেয়েছে ছাব্বিশ বছরেরবইমেলাটি। এ শেকড়হীন প্রবাস নয়।বরং শেকড় বাকড়ের দরারদরিতে আমরা মুখর এখন বাঙালী।আসছে বই। আসছেন মাওলা ব্রাদার্স থেকে শুরু করে দূরাগত লেখক প্রকাশক গন।আমার বাঙলার নাট্য গুনিজন।শিল্পী কবি লেখক প্রকাশকের মিলন মেলা।প্রবাস নিবাস একই ফুলে মালাগাঁথা। এই মালাটি যিনি গেঁথেছিলেন আজ থেকে ছাব্বিশ বছর আগে তাঁর নামটি সবার পূর্বেই আসা উচিত। তিনি আমাদের বিশ্বজিত।আমি গত তিন দিনের পর্যবেক্ষণে যে অমানবিক পরিশ্রম তাকে করতে দেখলাম এ সবই কী পয়সার বিনিময়ে হয়? কিংবা এ ঋণ পরিশোধ যোগ্য? এই যে এতো লেখক কবির মিলন মেলা ;তারপর কেউ একটু আসন চ্যূত হলেই কতো কথার উদ্ধৃতি। হায়রে মানুষ!উপরে উঠার মই পাবার জন্য নিজের বিবেক বুদ্ধি বিবেচনা কে কী ভাবে বিক্রি করে।
যদি ঘরে ঘরে এমন শ্রমিক বিশ্বজিত তৈরী হতো তবে আমার দুখি বাংলার তরুন ছেলেরা সোনার ছেলে পরিনত হতো।এতো খুন হত্যা রাহাজানি ধর্ষণ পরশ্রী কাতরতা হিংসা বিদ্বেষের সূত্রপাত হতো না।প্রতিটি ভালো কাজের পেছনে কিছু মন্দ লোকের নিঠুর কালো হাত আজীবন থাকে। আর এ টি থাকে বলেই ভালো কাজটি আরো ভালো হয়ে উঠে। তাই আজ বিশ্বজিতের বই মেলার বিগত হলো ছাব্বিশ বছর। সকলকে সংগে নিয়ে দৃঢ়তার সংগেই এগিয়ে যাবে বই মেলা।
আকবর হায়দার কিরণ ভাই বলেছিলেন কেমন লাগছে বই মেলা এই প্রবাসে।প্রবাস কোথায়? আর তো কোনো প্রবাস নিবাস নেই। বই মেলাই তা আমাদেরকে বুঝিয়ে দিলো।নতুন বইয়ের মৌ মৌ গন্ধ যখন বাতাসে মিশে হরেক রঙে রন্জিত হয়ে পা জামা পান্জাবী শাড়ি ছাপিয়ে মেদুর হয় তখন মাটি মা প্রকৃতি দূরে থাকে না।সভ্য সংস্কৃতি আমাদের অবয়বে লালন করে। এখন শুধু আমাদের সুন্দর সাবলীল চর্চার প্রয়োজন।দরকার সহনুভূতি সহনশীলতা।নতুনদের জায়গা করে দেয়া।পুরনোদের শ্রদ্ধার আসনটিকে মর্যাদাশীল করা।এই পারস্পারিক সৌহার্দ প্রীতিই আমাদের সজীব রাখবে।কাউকে নিরাশ করে হতাশ করে নয়।আশাহতের দীর্ঘ শ্বাসের আঁচড় যেনো না লাগে বই মেলার গতরে। এই সুন্দর গঠন মূলক কর্মটি যেনো উত্তরোত্তর বৃ্দ্ধিপ্রাপ্ত হয় হৃষ্টপুষ্ট ভাবে। সেই দিকটাতেও লক্ষ রাখতে হবে আয়োজকদের।আজ এখানে যে বইয়ের সমাগম তাতে বাংলা একাডেমী কী খুব বেশী দূরে?আমাদের বাচ্চারা দু ভাষী হলেও তাঁরা সংস্কৃতি অংগন টাকে ধরে রাখছে। এতো কঠিন জীবন ব্যব্সথায় ও তাঁরা বাঙলাটাকে বুকের পাঁজরে কোথায় কোন সিন্দুকের কোনায় যেনো লুকিয়ে রেখেছে। সময়ের দাবীতে তাঁরা পৌরানিক চাবির গোছা দিয়ে সেই তালা খুলে যেনো নিজেদেরকে দাঁড় করাচ্ছে।বিপা , বাফা ,শতদল, সুরছন্দ, উদিচী আরো বহু সংগঠন আছে যারা কাজ করে যাচ্ছেন।তাই বলছি বাংলা একাডেমীকে আমরা আর মিস করবোনা। এখানে কিছু ভালো প্রকাশনা তৈরী হলেই ষোলোকলা পূর্ণ।
এবার বই মেলার প্রথম দিনের আড্ডাটি বাংলার প্রান্তরকে ছাড়িয়ে গ্যাছে।চন্চলা বাতাস।উদলা আকাশ। এলোমেলো চুল।বিক্ষিপ্ত শাড়ির আঁচল কথার যাদু। আসন বিহীন কবিতার পঙতি বাতাসে ছড়িয়ে দেয়া।বন্ধুদের সংগে মন খুলে কথার খই ফোটানো।চিপ্স চা কফি ।বহুদিনের অদেখা আদল।পুরনো বন্ধুদের কাছে পাওয়া। এসবই বই মেলাতে সবাই পেয়েছে। আর এর মূলে যে বিশ্বজিত তাকে আপনারা একটা স্যালুট দিবেন ই দিবেন।
হাসান ফেরদৌস,নিনি ওয়াহেদ, সাজেদীন ভাই,রেখা আহমেদ ,মনজুর আহমদ,কৌশিক ভাই মোহাম্মদ উল্লাহ, প্রফেসর আপা হুসনেয়ারা ফজলুর রহমান বেলাল বেগ এ কয়টি মুখ দর্শণ না করলে কোথাও কিছু নেই যেনো। এরা বট বৃক্ষের মতো ছায়া দানকারী। আমরা সেই ছায়া তলে পরম নিশ্চিন্তে চলছি ফিরছি। আমি আমরা বাস করছি এমন একটা শহরে যেখানে বাস করছেন মোত্তালিব বিশ্বাস তাজুল ইমামের মতো মানুষেরা। আমরা তো কোনো দিক দিয়েই অপূর্ণ নই। যেই শহরে গীতিকার নাদিম আহমদের বাস! আমরা ধনে ধান্যে পরিপূর্ণ।তাদের দীর্ঘায়ু কামনা করছি।এদের মুখনিসৃতকথা গুলো কে মনে রেখে প্রজন্ম অগ্রসর মুখী হচ্ছে তাঁরই প্রমান শ্যামন্তী ওয়াহেদ।মুমু আনসারী।
ক্ষুদে বন্ধু কাব্যসহ আরো অনেকেই। হয়তো অজ্ঞাত আরো কতো মেধা আছে যা চাপা পড়ে আছে।তাদেরকে বেরিয়ে আসতে হবে। আর এদেরকে আমরা দেখি বিভিন্ন সংগঠনে তন্মধ্যে বইমেলাটাই উন্মুক্ত প্রাঙ্গন। আর এই উঠোনটি যিনি নিজ হাতে গড়েছেন তিনি সেই বিশ্বজিত।যার রয়েছে বই বাড়ি।মুক্তধারা ফাউন্ডেশন।বইয়ের দাম বেশী? নিশ্চয়ই একটা শাড়ি কিংবা মূল্যবান স্যূট-কোটের চেয়ে বেশী নয়?বেলোয়ারী যেমন বাহ্যিক শোভা বর্ধনের সহায়ক।বই তেমন মনন বৃদ্ধি বোদ্ধাংকের গড় নির্ণয়ের সহায়ক। বই কিনুন।আশাবাদী আমরা বই মেলাতে ছড়া বই গুলোর কাটতি দেখে। বিলুপ্ত নয় বংশধর।ওরা তৈরী হচ্ছে !হবে। অভিভাবকদের সন্তান প্রীতিতে মুগ্ধ। তাঁরা প্রিয় বইটি তুলে দিচ্ছেন সন্তানের হাতে।সাধুবাদ বাঙলার পিতামাতাকে।সার্থক কবিকূল ছড়াকার বইমেলা এবং আমাদের বিশ্বজিত।
জুলি রহমান, নিউইয়র্ক-২০১৭ ইং।
- দুই তরুণী রোগীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ; নিউইয়র্কে বাংলাদেশি-আমেরিকান চিকিৎসক ডা. ফজলুল ইউসুফ গ্রেপ্তার, জামিনে মুক্ত
- বাংলাদেশে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফনে বাধার প্রতিবাদ, ‘শিখা অনির্বাণ’ প্রজ্জ্বলিত রাখার দাবি নিউইয়র্কে
- শান্তি প্রতিষ্ঠায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের সব পর্যায়ে নারীর অংশগ্রহণ জরুরি: জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির প্রচার সম্পাদক রিজুর পিতার ইন্তেকাল
- যুক্তরাষ্ট্রের ডিভি লটারি ফের স্থগিত, নিম্ন আদালতের আদেশে আপিল আদালতের বাধা
- যুক্তরাষ্ট্রে ডেলাইট সেভিং টাইমের অবসান, ১ নভেম্বর ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পেছাবে
- নিউইয়র্কে ন্যাশনাল ইমিগ্র্যান্টস ডে উদ্যাপন; বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি, সাত বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মাননা প্রদান
- জাতিসংঘে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সাফল্য; এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ল আরও ৩ বছর