Thursday, 25 June 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে বহির্বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম করবস্থান স্কচটাউন বাংলাদেশ সেমিট্রির যাত্রা শুরু নিউইয়র্কে মুন্সিগঞ্জ-বিক্রমপুর অ্যাসোসিয়েশনের বর্ণিল অভিষেক Bangladesh Calls for Stronger Support for LDCs Ahead of Doha Midterm Review নিউইয়র্কে জাতিসংঘে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য আরও আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার অঙ্গীকার State Minister for Foreign Affairs Urges Stronger Global Action to Protect Civilians, Uphold Humanitarian Law and Support Rohingya Repatriation
সব ক্যাটাগরি

নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় জন্মাষ্টমী উপলক্ষ্যে বিশাল প্যারেড ও সম্প্রীতি শোভাযাত্রা

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 189 বার

প্রকাশিত: August 31, 2016 | 12:29 AM

নিউইয়র্ক : শুভ জন্মাষ্টমী। শান্তির অন্বেষণে পৃথিবী। এই ছিল লীলা পুরুষোত্তম ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শুভ আবির্ভাব তিথি জন্মাষ্টমী উপলক্ষে গত শনিবার জ্যামাইকার বাঙালি অধ্যুষিত হিলসাইড এলাকায় মহামায়া মন্দির তথা আমেরিকান বাঙালি হিন্দু ফাউন্ডেশন আয়োজিত কম্যুনিটির বৃহত্তম প্যারেড ও সম্প্রীতি শোভাযাত্রার মূল স্লোগান। প্যারেডের সূচনা গত বছর হলেও, এবারই জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে অনেকগুলো সংগঠনের প্রতিনিধিত্ত্বকারী সহস্রাধিক প্রবাসীর অংশগ্রহণে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে এবং একটি সার্বজনীন উৎসবের মূর্ততা লাভ করে। প্যারেড শুরু হবার নির্ধারিত সময়ের আগেই বিকাল চারটা থেকে উৎসুক নর-নারী, শিশু-কিশোর বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় সংগঠনের ব্যানার নিয়ে ১৭৩ স্ট্রিটে হিলসাইড এভেন্যুর পাড় ঘেঁষে মেজর মার্ক পার্কে সাড়ি সাড়ি বৃহৎ ওক কাছের ছায়াতলে প্রতিষ্ঠিত ব্রোন্জ মূর্তির পাদদেশে জড়ো হতে থাকেন। উল্লেখ্য, আমেরিকার গৃহযুদ্ধে কুইন্সের যেসব যোদ্ধা অকাতরে জীবন বিলিয়ে দিয়ে আজকের এই আমেরিকার ব্যুৎপত্তি রচনা করেন এবং এদেশে অভিবাসীদের বসতি স্থাপনের সুযোগ করে দেন তাদের আত্মত্যাগকে অবিস্মৰণীয় করে রাখতে ওই সময়কার তুখোড় সেনানী জন ডব্লিউ মার্ক এর নামানুসারে প্রতিষ্ঠিত অর্ধ চন্দ্রাকার পার্কটি। অভ্যাগত সকলের চোখে মুখে উদ্ভাসিত ছিল ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আগমনী বারতা। আনন্দের উচ্ছলতায় প্রাণে প্রাণে ধ্বনিত হয়েছে আমরা হিন্দু। আমরা বাঙালি। প্যারেডে অংশগ্রহণকারী অহিন্দুদের মাঝেও ছিল আনন্দের উদ্বেলতা, ছিল শতকণ্ঠে মনের ভাবাবেগে আপ্লূত হৃদয়ের চিরন্তন উচ্চারণ আমরা বাংলার মুসলমান-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান। এমনি বৈচিত্রময় সাজ-সাজ পরিবেশ ও প্রাণের মেলবন্ধনে মুখরিত ছিল হিলসাইড এলাকা। সম্প্রীতি শোভাযাত্রার শুরুতে মহামায়া মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক শ্রী প্রদীপ দাস আগত সকলকে অভ্যর্থনা জ্ঞাপন করেন। অতঃপর সংগঠনের সদস্য সচিব ডঃ দিলীপ নাথ গ্রান্ড মার্শাল হিসাবে অর্গানাইজেশন অব ইন্ডিয়ান অরিজিন এর প্রেসিডেন্ট অশোক রামচরণকে অভ্যর্থনা জানান। এরপর বিশেষ অতিথি হিসবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় ডাঃ হরি কৃষ্ণ শুক্লা, রমেশ কালীচরণ, অ্যাসেম্বলি ওমেন আলিশা হাইন্স, মিলন কর্মকার ও গৌরাঙ্গ কুণ্ডকে। এই পর্যায়ে ডঃ দিলীপ নাথ ও প্রণবেন্দু চক্রবর্তী আমেরিকান বাঙালি হিন্দু ফাউন্ডেশন এর পক্ষে সংগঠনের সামাজ কল্যাণ মূলক কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ নিউ ইয়র্ক সিটি কম্পট্রলার প্রদত্ত সম্মাননা পত্র গ্রহণ করেন। সংগঠনের প্রেসিডেন্ট শ্রী শ্যামল চক্রবর্তী হিন্দু ফাউন্ডেশন এর পক্ষ থেকে নিউ ইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের অন্তর্ভুক্ত জ্যামাইকার ১০৩ প্রেসিঙ্কটকে সম্মান সূচক প্ল্যাক প্রদান করেন। এটি গ্রহণ করেন কমিউনিটি অ্যাফেয়ার্স কর্মকর্তা ডিএঞ্জেলো রাসেল। তারপর শুরু হয় ১৭৩ স্ট্রীট থেকে হিলসাইড এভেন্যু ধরে ১৫০ স্ট্রিট পর্যন্ত বিশাল পথ শোভাযাত্রা। লোকে লোকারণ্য এই শোভাযাত্রায় যেসব সংগঠন ব্যানার নিয়ে বা ব্যক্তিগত ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন তন্মধ্যে বিশেষ উল্লেখযোগ্য– মহামায়া মন্দির তথা আমেরিকান বাঙালি হিন্দু ফাউন্ডেশন, সার্বজনীন গীতা সংঘ, জ্যামাইকা কালী মন্দির, বেদান্ত এসোসিয়েশন অব নিউ ইয়র্ক, বিবেকানন্দ স্টাডি এন্ড ফিলানথ্রোপিক সেন্টার, শ্রী শ্রী বাল গোপাল রাধা গোবিন্দ সম্প্রদায়, অটিজম সোসাইটি, ওম শক্তি মন্দির, হিন্দু কউন্সিল অব নর্থ আমেরিকা, গুরু চক্র পরিবার, জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটি, জ্যামাইকা বাংলাদেশ বিজনেস এসোসিয়েশন, শ্রীমদভাগবত গীতা সংঘ, রাধা মাধব মন্দির, গৌড় নিতাই মন্দির, সার্বজনীন পূজা উদযাপন পরিষদ, উত্তর আমেরিকা হিন্দু কল্যাণ পরিষদ ও অন্যান্য সংগঠন সমূহ। শোভাযাত্রার মাঝপথে হিলসাইড এলাকার বিভিন্ন ব্যবসায়ী জল, মিষ্টি, তরমুজ ও অন্যান্য খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন। তাদের মধ্যে সাইফুল্লা ভূঁইয়া, বোম্বে ভিডিও, আপনার ফার্মেসি, রিমেক্স ওয়ার্ল্ড ক্লাস রিয়েলটি, এজে একাউন্টিং এন্ড টেক্স সার্ভিসেস (অঞ্জন ভট্টাচার্য্য), পানশি রেস্তোরাঁ এন্ড পার্টি হল, ফাতেমা গ্রোসারি, কাওরান বাজার, ফ্যামিলি কেয়ার আরএক্স ফার্মেসী ও আরো অনেক ব্যবসায়ী ও ব্যক্তিবর্গ। গুরু চক্র পরিবারের পক্ষ থেকে জন্মাষ্টমী শোভাযাত্রা উপলক্ষ্যে সৌজন্যমূলক পাঁচ শতাধিক টি-শার্ট বিতরণ করা হয়। শহরের রাজপথে সহস্রকণ্ঠে ভক্তরা গেয়েছেন ভগবানের মহানাম, প্রচার করেছেন জন্মাষ্টমীর মহিমা। রাস্তার দুই ধারে শত শত ভাবাবেগে আপ্লূত নরনারী হাত নেড়ে অথবা হরি-ধ্বনি, উলুধ্বনি দিয়ে এই ঐতিহাসিক শোভাযাত্রায় নিজেদেরকে শামিল করেন। পরিশেষে পঁচিশ ব্লক দূরে, শোভাযাত্রাটি ১৫০ স্ট্রিটে অবস্থিত বাবা বালাক নাথ মন্দির সংলগ্ন টিডি ব্যাংকের পার্কিং লটে এসে শেষ হয়। সমাপনী বক্তব্য প্রদান করেন, সংগঠনের চেয়ারম্যান ডাঃ অশোক সাহা, প্রেসিডেন্ট শ্যামল চক্রবর্তী, ট্রাস্টি বোর্ড মেম্বার গোবিন্দ দাস, ওম শক্তি মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা গৌরাঙ্গ কুন্ড, শ্রী বৃন্দাবন ধামে অবস্থিত মুরারি মোহন কুঞ্জের স্বামী মুরারি মোহন মহারাজ, সুনীল দাস ও জন্মাষ্টমী উদযাপন কমিটির আহবায়ক শ্রী প্রণব চক্রবর্তী । এই পর্যায়ে সকলকে পুনরায় মিষ্টি, তরমুজ ও জলপানে আপ্যায়ন করা হয়।

প্যারেড শেষে ভক্তগণ লিবার্টি এভেন্যু ও লিভারপুল স্ট্রিটে অবস্থিত মহামায়া মন্দিরে গমন করেন ও মহাপ্রসাদ গ্রহণ করেন। অতঃপর সন্ধ্যায় শুরু হয় জন্মাষ্টমী ও নন্দোৎসব উপলক্ষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নাটক ও পদাবলী কীর্তন। প্রথমেই শ্রীকৃষ্ণের শতনাম পরিবেশন করেন নিভা দত্ত, দীপা নাথ, সঞ্চিতা দে, রিঙ্কু চক্রবর্তী, আল্পনা চক্রবর্তী ও অন্যান্যরা। মৌসুমী চক্রবর্তীর পরিচালনায় নৃত্য পরিবেশন করেন সেঁজুতি, সূচনা, মেঘা, আনন্দিতা, রশ্মিকা, ঊর্মি ও অনিন্দিতা। একক সঙ্গীত পরিবেশন করেন ইরা পাল, টুম্পা সাহা, কাকলী চক্রবর্তী, স্বর্ণা চক্রবর্তী ও জবা চৌধুরি। গোবিন্দ দাসের পরিচালনায় এবং শিল্পী চৌধুরী ও গোবিন্দ দাসের যৌথ উপস্থাপনায় মঞ্চস্থ হয় নাটক ভক্তের ভগবান। বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেন, সেজুতি ও সূচনা দে, রশ্মিকা চক্রবর্তী, মৃত্তিকা দাস , অনিন্দিতা ভট্টাচার্য, আনন্দিতা চৌধুরী, পূজা চক্রবর্তী, মেঘ দাস, ঊর্মি দেবী ও সুরভী পাল। পরিশেষে দেবাশীষ দেব এর নেতৃত্ত্বে পদাবলী কীর্তনে অংশ নেন স্বপন বণিক, পরেশ নাথ ও সহদেব তালুকদার। যন্ত্র ও সাজ সজ্জায় বিশেষ সহযোগিতা করেন রাজেন সাহা, অনুপ চৌধুরী, তাপস কৃষ্ণ সরকার, জয়ন্তী ভট্টাচার্য, ডালিয়া ও উৎপল চৌধুরী, ময়ূরী ভট্টাচার্য প্রমুখ। প্রসাদ প্রস্তুতিতে সহযোগিতা করেন শিল্পী চৌধুরী, সিউলী সরকার, বিপ্লব দেয়, মিলন কর্মকার, সাথী বনিক, দীপা নাথ, রিঙ্কু চক্রবর্তী, সুপর্ণা দেবনাথ, মিন্টু নাথ, আলপনা চক্রবর্তী, শিপ্রা সাহা, বাসন্তী দাস, অমিয় ব্যানারজী, নিভা দত্ত, সঞ্চিতা দে সহ আরও অনেকে। সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন ডা: অশোক সাহা, শ্যামল চক্রবর্তী, ডঃ দিলীপ নাথ, প্রদীপ দাস, রণজিৎ সাহা, বিপ্লব বণিক, প্রণবেন্দু চক্রবর্তী, গোপাল সাহা, দীপক কর্মকার, পরিমল কর্মকার, তাপস মালো, তাপস দে, অঞ্জন ভট্টাচার্য, রঞ্জন ভট্টাচার্য, সাহা রঞ্জন কুমার, মধু সূদন দত্ত, অমর চন্দ্র দাস, গৌতম সরকার, প্রমুখ। এর আগে, বৃহস্পতিবার, ২৫ শে আগস্ট পূর্ণ তিথি অনুযায়ী জন্মাষ্টমী পূজা সম্পন্ন হয়। সারা দিন উপবাস রেখে বিপুল সংখ্যক সনাতনী ভক্তগন মহামায়া মন্দির প্রাঙ্গনে সমবেত হন ভগবানের জন্ম-তিথির মাহেন্দ্রক্ষনে ভক্তি ভরে লীলা পুরুষোত্তম শ্রীকৃষ্ণকে স্মরণ করতে। পুজায় পৌরোহিত্য করেন পণ্ডিত শ্রী অমল শাস্ত্রী। জন্মাষ্ঠমীর পুরো অনুষ্ঠানে আহ্বায়ক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন প্রণব চক্রবর্তী এবং যুগ্ম আহবায়ক হিসাবে পরেশ নাথ ও সহদেব তালুকদার তাকে সহযোগিতা করেন। জন্মাষ্টমীর উৎসব ও শান্তি শোভা যাত্রায় মিডিয়া পার্টনার হিসাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন সাপ্তাহিক বাঙালী ও কৌশিক আহমেদ। সর্বশেষ, তিনদিন ব্যাপী জন্মাষ্টমী ও নন্দ উৎসব উদযাপন কমিটির পক্ষ থেকে সনাতন ধর্মাবলম্বী সকল ভক্তবৃন্দ, সহায়তাকারী বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, সংবাদ মাধ্যম ও ভক্ত-অনুরাগীদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন শ্রী প্রনব চক্রবর্তী। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Situs Streaming JAV