নিউইয়র্কের হাওয়ার্ড হেবার স্কুলে বর্ণিল আয়োজনে বাংলা নববর্ষ বরন
তৈয়বুর রহমান টনি, নিউইয়র্ক : ‘মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা/অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা।’ শুভ হউক বাংলা নববর্ষ-১৪২৪। নানান আয়োজনের মধ্য দিয়ে আমেরিকার বসন্তের রিমঝিম রোদ্দুরের এক বর্ণিল পরিবেশে গত ২১ এপ্রিল শুক্রবার বরাবরের ন্যায় এবারোও নিউইয়র্কের ব্রকন্স এ অবস্হিত আমেরিকান স্কুল “হাওয়ার্ড হেবারে” পালিত হলো বাংলা নববর্ষ-১৪২৪। বর্নিল সাজ আর রূপ এবং আকর্ষনীয় পরিবেশে সবাই মেতে উঠলো হাওয়ার্ড হেভার আর্লি লার্নিং সেন্টারে উচ্ছ্বাস আর উৎসবের রঙ্গের ছটায়। বাঙ্গালী অভিবাবকদের রঙ্গীন শাড়ী, কপালে লাল টিপ আর খোপায়-বেনীতে সুশোভিত ফুলের অপরুপ সজ্জায় মেতে উঠলো স্কুল প্রাঙ্গন। যুক্তরাষ্ট্রের মুলধারার কোন স্কুলে বাংলা নববর্ষ উদযাপন একটি বিরল ঘটনা। স্কুলের বাঙ্গালী শিক্ষিকা মুর্শেদা কাঁকন প্রায় ১১ বছর যাবত স্কুলের দেশী বিদেশী শিক্ষীকা, ছাত্র/ছাত্রী এবং তাদের অভিভাবকদের নিয়ে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করে আসছেন। বাঙালির জীবনে পয়লা বৈশাখের গুরুত্ব ও তাৎপর্য কতো ব্যাপক তা অনুধাবন করার জন্যই বিদেশের মাটিতে স্বদেশী সংষ্কৃতির মহিমা ও বাংলা নববর্ষের তাৎপর্য দেশী ও বিদেশী ছাএ/ছাএীদের কাছে প্রানবন্ত করে তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশের মানুষ অর্থাৎ বাঙালি অন্যদের তুলনায় এই ভেবে অনায়াসে গর্ব করতে পারে যে, তাদের একটি নিজস্ব বর্ণমালা এবং একটি বর্ষপঞ্জি রয়েছে, যা বিশ্বের অনেক বিখ্যাত জাতিরও নেই৷ নিজস্ব বর্ষপঞ্জি থাকার কারণে বাঙালি বছরে দু’বার বর্ষবরণ করে৷ এক তার পয়লা বৈশাখ আরেকটা হলো ১লা জানুয়ারি৷ দেশী ও বিদেশী ছাএ/ছাএীরা বৈশাখের গান, কবিতা এবং নাচ পরিবেশনের মধ্য দিয়ে বাংলা নববর্ষেকে বরন করে। সাথে ছিল বিভিন্ন রকমের দেশীয় খাবার, রকমারী পিঠার সমাবেশ। স্কুলের বাংলাদেশী অভিবাবকরা ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশী খাবার তৈরী করে আনেন। মুর্শেদা কাঁকন এই প্রসঙ্গে বলেন ইচ্ছা ও সুযোগ থাকলে বিদেশের মাটিতেও অনেক কিছু করা যায়। বিদেশীদের কাছে বাংলার সংস্কৃতি ঐতিহ্যকৃষ্ঠি তথা বাংলাদেশকে তুলে ধরতে পেরে আমি আনন্দিত এবং গর্বিত। তিনি বলেন নববর্ষ পালনের পাশাপশি আমরা প্রতি বৎসর পবিত্র ঈদ উৎসব পালন করে আসছি। মুর্শেদা কাঁকন আরও জানান যে-স্কুলের শিক্ষিকা বেবী মজুমদার এর আন্তরিক সহযোগিতা ও অনুপ্রেরনায় এবং সর্বোপরি অভিবাবকদের আন্তরিক সহযোগিতা ও আগ্রহের কারনে তার পক্ষে বিগত কয়েক বছর ধরে বাংলা বর্ষবরণ পালন করা সম্ভব হচ্ছে। এই আয়োজনে আরোও সহযোগীতা করেন প্রবাসের গুনী শিল্পী ও এই স্কুলের শিক্ষিকা তাহমিনা শহীদ, শিক্ষিকা এমিলী, জেসীকা, এভেলিন, নুসরাত, স্টেফেনী প্রমুখ। উপস্হিত দেশী/বিদেশী অতিথীদের অনুরোধে শিল্পী তাহমিনা শহীদ অনেক গুলো জনপ্রিয় বাংলা গান পরিবেশন করেন। প্রবাসের এই জনপ্রিয় সংগীত শিল্পীর গান উপস্হিত সকলের মন কেড়ে নেয়। এই আয়োজনে উপস্হিত ছিলেন স্কুলের প্রিন্সিপাল পেস্ট্রেসীয়া, প্রোর্গাম কর্ডিনেটর জোহান ও জর্জিয়া, সহ আরোও অনেক শিক্ষিকাবৃন্দ। সাংষ্কৃতিক পর্বে অংশগ্রহনকারী ছাএ/ছাএীরা হলো যুনায়রা, ফাতিমা, নাওফা, তামজিদ, ডেভিট, শাফীকা, পেড্রো, যুনায়েদ, রোজ, ডেনিয়েল, আকরাম, জারাইয়া, আবিদ, আরীয়ান, নিশী, কেইডেন, নামিশা, রাইদা, মৃত্যন্জয়, ট্রেইসী, সোলায়মান, রায়হান, এইডেন, কেইলী, আরহাম প্রমূখ।
- নিউইয়র্কে বহির্বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম করবস্থান স্কচটাউন বাংলাদেশ সেমিট্রির যাত্রা শুরু
- নিউইয়র্কে মুন্সিগঞ্জ-বিক্রমপুর অ্যাসোসিয়েশনের বর্ণিল অভিষেক
- Bangladesh Calls for Stronger Support for LDCs Ahead of Doha Midterm Review
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য আরও আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ
- Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN
- এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ
- Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda
- নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ