Tuesday, 23 June 2026 |
শিরোনাম
Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার অঙ্গীকার State Minister for Foreign Affairs Urges Stronger Global Action to Protect Civilians, Uphold Humanitarian Law and Support Rohingya Repatriation বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন সমুন্নত রাখা ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামার মহররম মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত! Bangladesh Calls for Stronger Humanitarian Action and Women’s Leadership in Peacebuilding at UN Forum নিউইয়র্কে জাতিসংঘ ফোরামে মানবিক সহায়তা জোরদার ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় নারীর নেতৃত্ব বৃদ্ধির আহ্বান বাংলাদেশের
সব ক্যাটাগরি

নিউইয়র্কে অ্যাসাল’র ৭ম বার্ষিক কনভেনশন : মূলধারার রাজনীতিতে দক্ষিণ এশীয়দের অবস্থানকে শক্তিশালী করার প্রত্যয়

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 137 বার

প্রকাশিত: December 12, 2014 | 5:02 AM

সাখাওয়াত হোসেন সেলিম : নিউইয়র্কে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো অ্যালায়েন্স অব সাউথ এশিয়ান আমেরিকান লেবার (অ্যাসাল)-এর ৭ম বার্ষিক কনভেনশন। দক্ষিণ এশিয়ার ইমিগ্র্যান্টদের একমাত্র সংগঠন অ্যাসালের এ কনভেনশন নিউইয়র্কে ম্যানহাটানের লোকাল ইউনিয়ন হলে গত ৬ ডিসেম্বর শনিবার অনুষ্ঠিত হয়। এদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত চলে এ ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠান।
কনভেনশনে সূচনা বক্তব্য রাখেন অ্যাসালের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট মাফ মিসবাহ উদ্দিন। সূচনা বক্তব্যে মাফ মিসবাহ উদ্দিন অ্যাসাল প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কনভেনশন কমিটির চেয়ার রাধাকৃষ্ণ মোহন।
অ্যাসালের এ কনভেনশনে আমেরিকার মূলধারার রাজনীতিকরা বলেছেন, ভবিষ্যতে বিভিন্ন নীতিনির্ধারণী ভূমিকায় ইমিগ্র্যান্টরা থাকবেন চালকের আসনে। অনেক কিছুই নির্ভর করবে ইমিগ্র্যান্টদের সমর্থনের ওপর।
বক্তারা বলেন, আমেরিকার অর্থনীতি ও রাজনীতিতে দক্ষিণ এশিয়ানরা যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে আগামীতে দক্ষিণ এশিয়ানরাই হবে আমেরিকার নিয়ন্ত্রক। সবসময় তারা ইমিগ্র্যান্টদের পাশে থাকার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেন।
অ্যাসালের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট মাফ মিসবাহ বলেন, আমেরিকায় দক্ষিণ এশিয়ান শ্রমিকদের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্যে নিরন্তরভাবে কাজ করে যাচ্ছে অ্যাসাল। আগামীতে আমেরিকার মূলধারার রাজনীতিতে দক্ষিণ এশিয়ান কমিউনিটির অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করার জন্য অ্যাসাল জোরালো ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত অ্যাসালের মোট মেম্বারের ৫০০ জন বাংলাদেশী। এ সংখ্যা আরো বাড়াতে হবে। তাহলে অ্যাসালের প্ল্যাটফরম থেকে আমরা বাংলাদেশীদের দাবি দাওয়া আরো জোরালোভাবে উপস্থাপন করতে সক্ষম হবো। তিনি বলেন, ইতোমধ্যেই মূলধারায় অ্যাসালের গুরুত্ব বেড়েছে। তিনি নেতৃবৃন্দের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানান। কারণ তারা অ্যাসালসহ বাংলাদেশীদের যে কোনো ডাকে সাড়া দেন।
এ অনুষ্ঠান থেকে অ্যাসাল-এর প্রেসিডেন্ট মাফ মিসবাহ বলেন, আমেরিকায় দক্ষিণ এশিয়ান শ্রমিকদের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্যে নিরন্তরভাবে কাজ করে যাচ্ছে অ্যাসাল। আগামীতে আমেরিকার মূলধারার রাজনীতিতে দক্ষিণ এশিয়ান কমিউনিটির অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করার জন্য অ্যাসাল জোরালো ভূমিকা রাখবে।
নিউইয়র্ক সিটির পাবলিক এডভোকেট লাতিশিয়া জেম্স, ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল-৩৭ এর এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর (জানুয়ারী ২০১৫ থেকে) হেনরি এ গ্যারিডো, নিউইয়র্ক স্টেট কম্পট্রোলার টমাস দিনাপলি, ম্যানহাটান ব্যুরো প্রেসিডেন্ট গ্যাল ব্রিইয়ার, ব্রুকলীন ব্যুরো প্রেসিডেন্ট এরিক এল এডামস, অ্যাসেম্বলিম্যান এন নিক পেরি, অ্যাসেম্বলিম্যান ডেভিড ওয়েপ্রিন, অ্যাসেম্বলিওম্যান রোক্সিয়ানি পারসাউড, ডিস্ট্রিক্ট ৯-এর কাউন্সিলওম্যান আইনিজ ই ডিকেন্স, ডিস্ট্রিক্ট ২৭-এর কাউন্সিলম্যান আই ড্যানিক মিলার, ডিস্ট্রিক্ট ২৪-এর কাউন্সিলম্যান রোরি ল্যান্সম্যান, নিউইয়র্ক সিটি এএফএল-সিআইও এর প্রেসিডেন্ট ভিনসেন্ট আলভারেজসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
কনভেনশন শুরুতে আমেরিকার জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করেন সিনথিয়া হোসেনসহ অন্যান্যরা।
কনভেনশনে আরো বক্তব্য রাখেন অ্যাসাল-এর পলিটিকাল অ্যাকশন ডিরেক্টর অ্যাটর্নি আলি নাজমি, অ্যাসাল-এর উইমেন্স কমিটির চেয়ার কমিউনিটি এক্টিভিস্ট মাজেদা উদ্দিন, অ্যাসাল-এর ন্যাশনাল এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর শফিকুর রহমান মিলন, ব্রঙ্কস চ্যাপ্টার প্রেসিডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার আবু শাকুর, ব্রুকলিন চ্যাপ্টার প্রেসিডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার এহ্সানুল হক, কুইন্স চ্যাপ্টার প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ তুহিন, কুইন্স চ্যাপ্টার এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর মোহাম্মদ শাবুল উদ্দিন, ককাস কমিটির কোচেয়ার জেনিফার রাজকুমার প্রমুখ।
কনভেনশনে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বাংলা পত্রিকা সম্পাদক ও টাইম টেলিভিশনের সিইও আবু তাহের, আমেরিকায় মদিনার আলো’র প্রেসিডেন্ট আলহাজ আব্দুল ওয়াহিদ টুপন, কমিউনিটি লিডার খান শওকত, সাংবাদিক তাসের মাহমুদ প্রমুখ।
বক্তারা দক্ষিণ এশিয়ান কমিউনিটির উন্নয়নের স্বার্থে অ্যাসাল-এর কাজের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও এই ধরনের উন্নয়নমূলক কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য উৎসাহ প্রদান করেন। এছাড়াও তারা নিউইয়র্কে বিভিন্ন নির্বাচনে অ্যাসাল যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে তার জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।
কনভেনশনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্যানেল ভিত্তিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ‘ওয়ার্কার রাইটস’ শীর্ষক প্যানেলের আলোচনায় অংশ নেন অ্যাসাল-এর উইমেন্স কমিটির চেয়ার মাজেদা উদ্দিন ও লোকাল-৩ এর প্রোগ্রাম ডিরেক্টর ড. পার্থ ব্যানার্জি। মডারেটরের দায়িত্বে ছিলেন অ্যাসাল ম্যানহাটন চ্যাপ্টারের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট চাক মোহন। প্যানেল আলোচকরা বাংলাদেশের গার্মেন্টস শ্রমিকদের স্বার্থরক্ষাসহ বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এ ব্যবসা উন্নয়নে নানা পরামর্শ তুলে ধরেন।
‘ট্যাক্সি অ্যন্ড লিমোজিন প্রফেশন’ শীর্ষক প্যানেলে মডারেটরের দায়িত্বে ছিলেন অ্যাসাল-এর পলিটিক্যাল একশন ডিরেক্টর আলি নাজমি। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন অ্যাসাল-এর ভাইস প্রেডিডেন্ট এরমুগহান আসার শাহ, ওসমান চৌধুরী ও লিভারি ব্ল্যাক ক্যাব ড্রাইভার নাসের জায়েদ। আলোচকরা ট্যাক্সি চালকদের ইউনিয়ন গঠন, বিভিন্ন সমস্যা ও তার প্রতিকার নিয়ে কথা বলেন।
’ইমিগ্রেশন রিফরম’ শীর্ষক প্যানেলের আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টের ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস’র কমিউনিটি রিলেশন্স অফিসের শাইকোনিয়া বারডেন নুট্যান এবং ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নি ব্রায়ন পু ফোলকেস। আলোচকরা দক্ষিণ এশিয়ানদের ইমিগ্রেশন ইস্যুসহ প্রসিডেন্ট বারাক ওবামার গত ২০ নভেম্বর ঘোষিত নির্বাহী আদেশে অবৈধ ইমিগ্র্যান্টদের সাময়িক বৈধতা দেয়ার বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তারা ঘোষিত আদেশে সম্ভাব্য বেনিফিটসহ এ সংক্রান্ত নানা তথ্য তুলে ধরেন।
অ্যাসালের এ অনুষ্ঠানে মূলধারার রাজনীতিকরা অংশ নিয়ে অ্যাসালের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তারা শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা ও বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডের স্বীকৃতি স্বরূপ অ্যাসালকে প্রক্লেমেশন ও সাইটেশন প্রদান করেন।
কনভেনশনে নিউইয়র্ক সিটিতে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে অবদান রাখার জন্য অ্যাসাল-এর পক্ষ থেকে বিভিন্ন জনকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল-৩৭ এর এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর (জানুয়ারী ২০১৫ থেকে) হেনরি এ গ্যারিডোরের হাতে এওয়ার্ড তুলে দেন অ্যাসালের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট মাফ মিসবাহ উদ্দিন। এছাড়া অ্যাসালের কুইন্স চ্যাপ্টার এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর মোহাম্মদ শাবুল উদ্দিন ও ইউনাইট হেয়ারের সাবেক প্রেসিডেন্ট জন ডাব্লিউ উলহেম কেও এওয়ার্ড প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে মেরিল্যান্ড গভার্নম্যান্টের পক্ষ থেকে অ্যাসাল-এর উইমেন্স কমিটির চেয়ার মাজেদা উদ্দিন এবং মেরিল্যান্ড কমিশনের পক্ষ থেকে অ্যাসাল-এর পলিটিক্যাল একশন ডিরেক্টর আলি নাজমিকে প্রোক্লেমেশন প্রদান করা হয়।
পরে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেন সাবরিনা রহমান, তাসনিন আহমেদ এবং থ্রুবা ইশহার। কনভেনশন উপলক্ষে একটি বিশেষ জার্নাল প্রকাশ করা হয়।
অ্যাসাল-এর এ কনভেনশনে মূলধারার রাজনীতিবিদ, অ্যাসাল-এর সদস্যসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন কমিউনিটির বিপুল সংখ্যক অতিথি অংশগ্রহণ করেন। প্রতিকুল আবহাওয়ার মধ্যেও অ্যাসাল-এর এ কনভেনশনে মূলধারার রাজনীতিবিদ, শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, অ্যাসাল-এর সদস্যসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিপুল সংখ্যক অতিথি অংশগ্রহণ করেন।

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Situs Streaming JAV