নিউইয়র্কে আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের নৌ-ভ্রমণে সেমিনার : ‘জঙ্গি দমনে চাই জাতীয় ঐক্য’
এনআরবি নিউজ, নিউইয়র্ক : ‘বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ এখন জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। এই সমস্যা নিরসন বা জঙ্গি দমন করতে দল-মত-ধর্ম নির্বিশেষে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। নতুন প্রজন্মকে নজরদারি করতে হবে এবং তাদের মেধাভিত্তিক কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত করতে হবে’-এমন অভিমত পোষণ করা হয় নিউইয়র্কে কমরত সাংবাদিকদের প্রতিষ্ঠান ‘আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাব’ এর বার্ষিক নৌ-ভ্রমণ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত সেমিনারে। গত ২৮ আগষ্ট রোববার নিউইয়র্ক সিটির ম্যানহাটান পরিবেষ্ঠিত ইষ্ট রিভার ও হাডসন রিভারে বিলাসবহুল জাহাজ ‘স্কাইলাইন প্রিন্সেস’-এ দিনব্যাপী এই ভ্রমণ অনুষ্ঠিত হয়। ফ্লাশিংয়ের ফ্রেসমেডো ঘাট থেকে জাহাজ ছাড়ে এবং তা ফিরে আসে একইস্থানে বেলা গড়ার সাথে সাথে। প্রেসক্লাবের সদস্য এবং শুভার্থীরা সপরিবারে অংশ নেন।
নির্মল আনন্দদায়ক পরিবেশে বাংলাদেশে এ সময়ের প্রধান ইস্যুভিত্তিক ‘জঙ্গি দমনে মিডিয়ার ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। জাহাজটি রওয়ানা দেয়ার সাথে সাথেই শুরু হয় সেমিনার। শুরুতে কবি শহীদ কাদরীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশের পর তাঁর আত্মার মাগফেরাত কামনা করে এক মিনিট দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করা হয়। সেমিনারে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক দর্পণ কবীর। পরিচালনা করেন প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি ও সাপ্তাহিক প্রবাস’র সম্পাদক মোহাম্মদ সাঈদ। সভাপতিত্ব করেন প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাপ্তাহিক পরিচয় সম্পাদক নাজমুল আহসান। সেমিনারে অতিথি হিসাবে নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত ‘ঠিকানা’র সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি ও সাবেক এমপি এম. এম. শাহীন বলেছেন, ‘বাংলাদেশ নিয়ে দেশি-বিদেশী ষড়যন্ত্র অব্যাহত রয়েছে। আমাদের দেশকে আফগানিস্থান-আলজেরিয়া বানানোর চেষ্টা চলছে। যারা বাংলাদেশকে তালেবানী রাষ্ট্র বানাতে চায়, তারা দেশে জঙ্গিবাদের মদদদাতা।’
তিনি আরো বলেন, ‘প্রবাসীদের দেশপ্রেম অটুট। তাই আমাদের সকলকে এই ধরনের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। ষড়যন্ত্র প্রতিরোধে সোচ্চার হতে হবে।’এম. এম. শাহীন প্রবাসীদের দেশের জন্য অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হবার আহবান জানান। তিনি নিজের পত্রিকা ঠিকানা’ সবসময়ই দেশের স্বার্থে অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করছে বলে উল্লেখ করেন।বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সভাপতি নার্গিস আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশে সম্প্রতি জঙ্গিরা নৃশংসভাবে মানুষ খুন করেছে, এতে মনে হচ্ছে আমরা মানুষ থেকে অমানুষ হয়ে যাচ্ছি। আমাদের অমানুষ থেকে মানুষ হতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘জঙ্গি দমনে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। রাজনৈতিক দলের চশমা খুলে ফেলতে হবে। আমি আওয়ামী লীগ আর তুমি জামাত বা মাদ্রাসা জঙ্গির কারখানা-এ কথা বলা বন্ধ করে সমস্যার গভীরে যেতে হবে। জঙ্গি কারা হচ্ছে, কেন হচ্ছে এবং এর প্রতিরোধে কী কী পদেেক্ষপ নেয়া দরকার, তা নিয়ে সকলকে এক কাতারে এসে দাঁড়াতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘টিভিগুলোতে টক শো’ হয়। এই টক শো’তে আমাদের কার্যত: কী লাভ হচ্ছে-তাও ভেবে দেখতে হবে।’
রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘সংস্কৃতির চর্চাই পারে জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ করতে। দেশে এখন সাংস্কৃতিক বন্ধ্যত্ব চলছে। এই বন্ধ্যাত্ব দূর করতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘আগে আমরা দেখেছি-স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা লেখাপড়ার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে, খেলাধূলায়, বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বা মেধাভিত্তিক কর্মকান্ডে নিয়োজিত থাকতে। এখন তা তেমন পরিলক্ষিত হয়না। এখন তাই নতুন প্রজন্ম বিপথগামী হবার সুযোগ পাচ্ছে। আমাদের তরুণ-কিশোরদের সম্পৃক্ত করতে হবে মেধাভিত্তিক কর্মকান্ডে। মুক্তচিন্তার চর্চা অব্যাহত রাখতে হবে। সেই পরিবেশ আমাদের ফিরিয়ে আনতে হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘৯০ সালের পর দেশে গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থা চালু হলেও অধিকাংশ কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-সংসদ নির্বাচন হয়নি। তরুণদের মধ্যে নেতৃত্ব সৃষ্টির চেষ্টা থমকে গেছে। মিডিয়াকে এ সব ব্যাপারে সক্রিয় হতে হবে। মিডিয়াই পারে আমাদের মধ্যে তেমন জাগরণ সৃষ্টি করতে।’ তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার জঙ্গি প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানে থাকলেও আমাদের সকলকে এ ব্যাপারে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।’ বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সহ-সভাপতি ওয়াসি চৌধুরী বলেন, ‘জঙ্গিবাদ দমনে আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। কে-কোন রাজনৈতিক দল করেন, সেটা ভুলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সন্ত্রাস ও জঙ্গিদের প্রতিরোধ করতে হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘অভিভাবকদের নিজ নিজ সন্তানের প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে। তাদের নজরদারি করতে হবে।’
কমিউনিটি নেতা হাসানুজ্জামান হাসান বলেন, ‘জঙ্গিবাদ দমন করতে হলে মিডিয়ার স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হরতে হবে। মানুষের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। যারা ক্ষমতায় যাবেন, তারা গণ মানুষের রায় নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন কিনা-সেটাও নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে এর সুযোগ নিয়ে জঙ্গিবাদও সৃষ্টি হতে পারে। এ সব কথা মিডিয়ায় ফলাও করে প্রচার করা জরুরি।’ কম্যুনিটি এ্যাক্টিভিস্ট ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার বলেন, ‘আমাদের সমাজে নানা অসঙ্গতি রয়েছে। আমাদের সত্য বলার সাহস কমে যাচ্ছে। সাদাকে সাদা আর কালোকে কালো বলার সাহসী লোক দরকার।’ অংশগ্রহণকারিদের হাসির ফোয়ারায় ভাসিয়ে নিতে কৌতুক পরিবেশন করেন বাংলাদেশের ডাক বিভাগের সাবেক মহাপরিচালক ও রম্য লেখক আতাউর রহমান। দ্বিতীয় পর্ব সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সামসুন্নাহার নিম্মি। এতে সঙ্গীত পরিবেশন করেন প্রবাসের জনপ্রিয় কন্ঠশিল্পী শাহ মাহবুব ও কৃষ্ণাতিথি খান।
- নিউইয়র্কে বহির্বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম করবস্থান স্কচটাউন বাংলাদেশ সেমিট্রির যাত্রা শুরু
- নিউইয়র্কে মুন্সিগঞ্জ-বিক্রমপুর অ্যাসোসিয়েশনের বর্ণিল অভিষেক
- Bangladesh Calls for Stronger Support for LDCs Ahead of Doha Midterm Review
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য আরও আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ
- Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN
- এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ
- Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda
- নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ