নিউইয়র্কে উদীচীর প্রাণকাড়া বৈশাখী মেলা, মঙ্গল শোভাযাত্রা
নিউইয়র্ক: লোকে বলে উদীচীর বৈশাখী মেলা প্রবাসে বটমূলের অনুষ্ঠান। আসলে তারই প্রতিচ্ছবি ছিল উদীচীর বৈশাখী মেলা। সকাল সাড়ে এগারো ছিল মঙ্গল শোভাযাত্র। ঠিক ঢাকার চারুকলার আদতে। বিরাট একটি বাঘের প্রতিকৃতি। সাথে নানা জীবজন্তুর মুখোশ। বক সহ নানা পাখির চবি ও প্লেকার্ডে শোভিত নানা শ্লোগান। মিছিলের শুরু নিউইয়র্কে ৩৪ এভিনিউ স্কুলের কোনা থেকে। অত্যন্ত সুশৃঙ্খল সারিবদ্ধ মিছিল। মিছিলের সারিতে চারজন করে লাইন। সব সামনে ছিল ছয়টি ছোট্ট মেয়ের গলায় শুভ নববর্ষের ছয়টি শোভিত একটি লাইন। তারপর এসো হে বৈশাখ ও মঙ্গল শোভাযাত্র নামাঙ্কিত বেনার। তাতে ছিল বাংলাদেশের গ্রাম বাংলা, আউল-বাউল ও বাঙালি নৃত্যের সুশোভিত মনোরম দৃর্শাবলী। এর পর পর ছিল শিশুদের লাইন সবাই বৈশাখী পোশাকে সজ্জিত। তারপর লাল শাড়ী পরিহিত ৭/৮ জনের এক গ্রুপ নৃত্য শিল্পী। এরপর জীবন বিশ^াসের পরিচালনায় উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর গানের স্কোয়াড। তারপরে পর্যায়ক্রমে মহিলা ও পুরুষদের চারজন করে লাইন। শোভাযাত্রায় ছিলেন উদীচীর শুভানুধ্যায়ী প্রবাসের গণ্যমান্য সম্মানিত ব্যক্তিবর্গ। সাংবাদিক ও টিভির আলোকচিত্র শিল্পীরা। ছিল ঢাকের বাদক। ছিল পহেলা বৈশাখ নববর্ষকে আবাহন ও উদীচীর মঙ্গল কামনা করে মুহুমূহু শ্লোগান। ঢাকের শব্দ আর শ্লোগানে পহেলা বৈশাখের আমেজকে আরো গভীর থেকে গভীরতর করে তুলছিল। সামনে দিক নির্দেশনা দিয়ে চলছিল একটি পুলিশের গাড়ী। পেছনে শান্ত, ধীর, শৃঙ্খলাবদ্ধ শোভাযাত্রা। দর্শকবৃন্দ সবাই অভিভূত। এমন সুন্দর ও সুশৃঙ্খল মিছিল অথবা মঙ্গল শোভাযাত্রা নিউইয়র্ক আগে কখনো দেখেনি। পুলিশ কর্মকর্তারও অনুরূপ প্রশংসা। মিছিল যখন এগুচ্ছিল আশ পাশে জনগণ হাততালি দিয়ে অভিনন্দন জানাচ্ছিল। ছবি তুলছিল।
৩৪ এভিনিউ থেকে ৭৩ স্টীট হয়ে শোভাযাত্রাটি ভাবগম্ভীর পরিবেশে এগিয়ে ৩৭ এভিনিউতে পৌছে। সেখানে উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী পহেলা বৈশাখের গান পরিবেশন করে। আবার ৩৭ এভিনিউ হয়ে ৭৪ স্ট্রীটে ফিরে আসার পথে মোড় নেয়। সেই মোড়ে একই ভাবে আবার স্ট্রীটের ওপরে দাঁড়িয়ে গান পরিবেশন করা হয়। তারপর আবার ধীর অথব স্বাভাবিক গতিতে শোভাযাত্রা এগিয়ে যায় মূল অনুষ্ঠানের গন্তব্যস্থল উদীচী স্কুলে। স্কুলে প্রবেশের আগে উদীচীর সাধারণ সম্পাদক জীবন বিশ^াস সবার উদ্দেশ্যে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন। জীবন বিশ^াস সকলকে শুভনববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে দেশে মৌলবাদের সাথে সরকারের আপস সখ্যতার তীব্র নিন্দা জানান। তিনি বলেন সরকার ভোটের রাজনীতির নেশায় স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চরিত্র বিসর্জন দিয়ে বাঙালি কৃষ্টি-সংস্কৃতিকে সঙ্কোচিত করে মৌলবাদের সাথে আপস করছে। জনগণকে সরকারের এই অপরিনামদর্শী পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আমাদেরকে প্রতিবাদী হতে হবে।
ঠিক সাড়ে বারোটায় উদ্বোধন করা হয় পিঠা অনুষ্ঠান। তারপর ঠিক দেড়টায় শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। উদ্বোধন করেন উদীচীর সভাপতি ড. মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ ও জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিিিনধ ড. মোমেন। পাশে উপস্থিত ছিলেন কনসাল জেনারেল জনাব শামীম আহসান। তারা উভয়ে উদীচী এবং উপস্থিত সকলকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের শুরুতে জীবন বিশ^াসের পরিচালনায় এসো হে বৈশাখ ও উদীচী সংগঠনের নিজস্ব গান সহ ৪টি গান পরিবেশিত হয়। এতে স্কুলের সকল ছাত্রছাত্রী ও উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী সমবেত ছিল। তারপর পর্যায়ক্রমে ছিল স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের গান, তলবার লহর, নৃত্য, শহীদ উদ্দীনের কৌতুক, বড়দের সম্মিলিত গান। ছিল ছাত্রছাত্রীদের বাঙালি কৃষ্টি-সংস্কৃতির আলোকে যেমন খুশী সাজো-এর পরিবেশনা। সবশেষে দর্শক শ্রোতাদের বিমুগ্ধ করেছে ছাত্র-ছাত্রী-শিক্ষক-শিক্ষিকা ও অভিভাবকদের মিলিত বিভিন্ন সাজে একটি কৌতুকপূর্ণ নৃত্য। তারপর জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের পরিসমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
৪ ঘটিকার পরিবেশিত হয় প্রতিবারের ন্যায় উদীচী পরিবারের ঘরে তৈরি ইলিশ, ভর্তা সহ বিভিন্ন ধরনের সুস্বাদু খাবার। অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ভাবে প্রায় সাড়ে ছয় শত লোক লাইন ধরে দাঁড়িয়ে খাবার পরিবেশন করা হয়। ছিল নার কোন অনুযোগ ও অভিযোগ। শোভাযাত্রা থেকে শুরু করে অনুষ্ঠান এবং খাবার পরিবেশনে শৃঙ্খলায় সকলে বিমুগ্ধ হয়ে উদীচীর ভূয়শী প্রশংসা করেছেন। অনুষ্ঠান উপলক্ষে ছিল শাড়ী ও অলংকারাধীর নানান পশরা। ছিল বাঙালি পানের দোকান। হল এবং প্রবেশ পথ ও ওয়েটিং এরিয়ায় সাজানো ছিল নানা লেখায় শোভিত শ্লোগান ও পোস্টার। মঞ্চ ও শোভাযাত্রার বাঘ, মুখোশ ও বটগাছ তৈরি করেন শিল্পী টিপু আলম। মঞ্চ সজ্জায় ছিলেন জেবু চৌধুরী ও তুষার রায়। সহযোগিতায় ছিলেন আলীম উদ্দীন, মোহিত আচার্য সুলেখা রায়। খাবার ও অন্যান্য দায়িত্বে ছিলেন সমীর মন্ডল, অশোক রায়, মোঃ আলম নিউমুন, শফি চৌধুরী হারুন, মোঃ হারুন ও আরো অনেকে। অনুষ্ঠান পরিচালনায় ছিলেন ফারুক ফয়সল, সাবিনা হাই উর্বি ও জীবন বিশ্বাস। সাউন্ডে –মঞ্জু। আপ্পায়ন ও নিরাপত্তায় মোঃ এ কে সরকার। সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন সুব্রত বিশ^াস।
গান, নৃত্য, তবলা সহ বিভিন্ন অংশে অংশগ্রহনকারী শিল্পীরা হলেন-সাবিনা হাই উর্বি, সুদৃতা পাল সুলেখা, জয়ন্তী ভট্টাচার্য্য, অনামিকা মজুমদার, রাবেয়া আখতার, নাজনীন সুলতানা, সাহানা আক্তার, নুপুর, সুক্তি বিশ^াস, মিতা দেবনাথ, সংগীতা চবক্রবতী, অমৃতা রায় মিষ্টি, দিব্য রায়, উদিতা তন্বী, তৃষা মন্ডল, স্মারনিকা চক্রাবর্তী, নাভিয়ানা চৌধুরী, সায়বা উদ্দিন, লামিয়া তালকদার রাত্রি, বাধন কর্মকার, প্রিয়াঙ্কা সরকার, এনি দাস, অন্পূর্ণা দত্ত, নিশাত হাসান নাদিয়া হাসান রাবেয় বাসরী, দিপ্ত রায়, ইশতিয়াক সামিন, রামিসা, অর্জুন মল্লিক, অনিক মন্ডল, অনির্বাণ রায়, প্রমিত মহান আচার্য, লামিয়া তালুকদার রাত্রি, অনুপম চৌধুরী, নিশাত হাসান, সিতাব উদ্দীন, অচিন্ত্য রায়, দুর্জয় রায় সৃজয় রায়, নামিরা মালেক, নবনীতা চান্দা, নাশাত হোসাইন, মোঃ আদনান মাহির কাসাব, বৈভব রায়, অশোক ধর, দেবস্মিতা দেবনাথ, ফারহান মাহিন অর্ণব, প্রতীক মোদক, নুজাইমা ইশরাত সারা, রাজদীপ বণিক, রাজু হোসাইন, ফারহান খান, সিন্থিয়া আইরিণ রিয়া, তাফান্নুম বিনতে করিম নূহা, নাজমুন্নাহার কাকলী এবং মিতা দেবনাথ।
- নিউইয়র্কে বহির্বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম করবস্থান স্কচটাউন বাংলাদেশ সেমিট্রির যাত্রা শুরু
- নিউইয়র্কে মুন্সিগঞ্জ-বিক্রমপুর অ্যাসোসিয়েশনের বর্ণিল অভিষেক
- Bangladesh Calls for Stronger Support for LDCs Ahead of Doha Midterm Review
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য আরও আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ
- Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN
- এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ
- Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda
- নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ