Wednesday, 24 June 2026 |
শিরোনাম
Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার অঙ্গীকার State Minister for Foreign Affairs Urges Stronger Global Action to Protect Civilians, Uphold Humanitarian Law and Support Rohingya Repatriation বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন সমুন্নত রাখা ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামার মহররম মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত! Bangladesh Calls for Stronger Humanitarian Action and Women’s Leadership in Peacebuilding at UN Forum নিউইয়র্কে জাতিসংঘ ফোরামে মানবিক সহায়তা জোরদার ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় নারীর নেতৃত্ব বৃদ্ধির আহ্বান বাংলাদেশের
সব ক্যাটাগরি

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ মিশনে আন্তর্জাতিক আবহে মহান একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপিত

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 172 বার

প্রকাশিত: February 21, 2016 | 2:29 AM

ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম, নিউইয়র্ক : নিউইয়র্কে জাতিসংঘ মিশনে আন্তর্জাতিক আবহে মহান একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপিত হয়। জাতিসংঘের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও স্থানীয় বাঙালি কম্যুনিটির সক্রিয় অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে বিন¤্র শ্রদ্ধায় দিবসটি উদযাপন করা হয়। স্থানীয় সময় একুশের প্রথম প্রহর রাত ১২টা ১মিনিটে মিশনে স্থাপিত শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান হয়।
স্থানীয় সময় ২০ ফেব্রুয়ারী বিকেলে মিশনের বঙ্গবন্ধু অডিটরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সকলে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রী চিন্ময় বোধি গ্রুপের থিম সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনের সূচনা করা হয়।
বিদেশী অতিথিবৃন্দ স্থায়ী মিশনে স্থাপিত শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারী জেনারেল ও মাল্টিলিংগুয়ালিজম এর সমন্বয়ক ক্যাথরিন পোলার্ড, আন্ডার সেক্রেটারী জেনারেল ও ডিপার্টমেন্ট অব পাবলিক ইনফরমেশনের প্রধান ক্রিস্টিনা গায়াচ এবং পোলান্ড, মালদ্বীপ, সিয়েরা লিয়ন, শ্রীলঙ্কা ও হাঙ্গেরীর স্থায়ী প্রতিনিধি। বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও জাতিসংঘের কর্মকর্তাবৃন্দ সাড়িবদ্ধভাবে একে একে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন আলোচনা পর্বের সূত্রপাত করেন। তিনি বিদেশী অতিথিদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, ভাষা আন্দোলনের পথ বেয়েই স্বাধীনতা সংগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীন বাংলাদেশ অর্জিত হয়। তিনি বলেন, বাংলা ভাষাকে আন্তর্জাতিক রুপ দেয়ার লক্ষ্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ দেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বের কারণেই ইউনেস্কো ১৯৯৯ সালে মহান ভাষা শহীদ দিবসকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। তারপর থেকে প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী এ দিবসটি পালিত হচ্ছে।
বিদেশী অতিথিবৃন্দ তাঁদের বক্তৃতায় বাংলা ভাষার অধিকার রক্ষায় বাঙালি জাতির আত্মত্যাগকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। তাঁরা বলেন, মাল্টিলিংগুয়ালিজমের ধারণাকে আরও এগিয়ে নেয়ার লক্ষ্যে বাঙালি জাতির এ আত্মত্যাগ বিশ্বজুড়ে মূল চেতনা হিসেবে কাজ করছে। প্রত্যেক বক্তাই নিজ নিজ মাতৃভাষা রক্ষার সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরেন। তারা বাংলাকে একটি সমৃদ্ধ ভাষা হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
ইউনেস্কোর পরিচালক মেরি পাউলে রুডিল দিবসটি উপলক্ষ্যে ইউনেস্কোর মহাপরিচালক ইরিনা বোকোভার দেয়া বাণী পাঠ করে শোনান। এরপর বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা তাদের মাতৃভাষায় কবিতা আবৃত্তি, প্রবন্ধ পাঠ ও সঙ্গীত পরিবেশন করেন।
পোলান্ডের স্থায়ী প্রতিনিধি তাঁর মায়ের লেখা পলিশ ভাষায় “বাংলাদেশের নগরায়ন” শীর্ষক গ্রন্থ থেকে পাঠ করে শোনান। শ্রীলঙ্কার শিল্পীরা সিংহলী ভাষায় সঙ্গীত পরিবেশন করেন।
বিদেশী অতিথিদের অংশগ্রহণে এ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে এক বিশেষ মাত্রা যোগ করেন শ্রী চিন্ময় বোধি গ্রুপ। এই গ্রুপের পনের জন বিদেশী শিল্পী বাঙালি সাজে সেজে বাংলায় তিনটি প্রার্থনা ও দেশাত্মবোধক সঙ্গীত পরিবেশন করে উপস্থিত সকলকে মুগ্ধ করেন। এই গ্রুপের নেতৃত্বে সমবেতভাবে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশিত হয়।
এই গ্রুপের সদস্যবৃন্দের বাংলা, স্লোভাকিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র, ইংরেজী, স্পেনিশ, হিন্দী, গুজরাটী, ক্যাটলান, ওহাইয়ো, ফরাসী, রুশ, ইতালিয়ান, জার্মানসহ ১৩টি ভাষায় ঐক্য ও শান্তির বাণী পাঠ করার মধ্য দিয়ে বিদেশীদের অংশগ্রহণে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষ হয়।
পরে স্থায়ী মিশনের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে স্থানীয় বাঙালি কম্যুনিটির উপস্থিতিতে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান সহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দ বক্তৃতা করেন। বক্তাগণ বিভিন্ন আঙ্গিকে মহান ভাষা আন্দোলনের তাৎপর্য তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সকল ক্ষেত্রে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ বিশ্বে এখন উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে। এই অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখতে প্রধানমন্ত্রীর হাতকে আরও শক্তিশালী করার জন্য তাঁরা প্রবাসী নাগরিকদের প্রতি আহবান জানান। যাতে সরকারের রুপকল্প অনুযায়ী ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত হতে পারে।
একুশের প্রথম প্রহর রাত ১২টা ১মিনিটে মিশনে স্থাপিত শহীদ মিনারে স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেনের নেতৃত্বে মিশনের কর্মকর্তা কর্মচারীবৃন্দ ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তারপর কনস্যুলেট জেনারেল অফিস, সোনালী এক্সচেঞ্জ, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ, যুক্তরাষ্ট্র মহিলা আওয়ামী লীগ, যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিক লীগ, ছাত্রলীগসহ সহযোগী সংগঠনগুলো, নিউইয়র্কস্থ বিভিন্ন জেলা সমিতি ও সংগঠনের নেতৃবৃন্দ শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Situs Streaming JAV