Friday, 19 June 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ ফোরামে মানবিক সহায়তা জোরদার ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় নারীর নেতৃত্ব বৃদ্ধির আহ্বান বাংলাদেশের বাংলাদেশের সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ স্মরণে নিউইয়র্কে বৃহত্তর বরিশালবাসীর দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা নিউইয়র্কে চিটাগাং অ্যাসোসিয়েশন অফ আমেরিকা’র সংবাদ সম্মেলন: সংগঠনের বিরুদ্ধে চলমান মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোন নির্বাচন নয় যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশীদের মূলধারার ব‍্যবসা-বাণিজ্য রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. তিতুমীরের নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সেমিট্রির কবরে মরদেহ সমাহিত করা যাবে ১ জুলাই থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের জন‍্যে বাংলাদেশ এখন সবচেয়ে কার্যকর ও উপযোগী দেশ: প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতি ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. তিতুমীর নিউ জার্সির আটলান্টিক সিটিতে মেয়র মার্টি স্মল সিনিয়র স্কলারশিপ প্রোগ্রাম, আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৫ জুন নিউইয়র্কে মুনার ঈদ পুনর্মিলনী নিউইয়র্কে বাংলাদেশী ডক্টর ফোরাম অব নর্থ আমেরিকা’র উদ্যোগে ডা. ডোনার ও ডা. হারুন সংবর্ধিত নিউইয়র্ক স্টেট ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারী নির্বাচনে এসেম্বলিম্যান প্রার্থী জাকির চৌধুরীর ‘কমিউনিটি র‌্যালি’
সব ক্যাটাগরি

নিউইয়র্কে জুমুআর খুতবায় মুসলমানদের সংযত থাকার আহ্বান

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 13 বার

প্রকাশিত: March 15, 2019 | 9:40 PM

ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম ডেস্ক, নিউইয়র্ক : নিউজিল্যান্ডর খ্রীষ্টচার্চে অবস্থিত ফিলিস্তিনী মুসলিম কম্যিউনিটির মসজিদ আল-নূরে গত শুক্রবার ১৫ই মার্চ জুমুআর নামাজে এক শ্বেতাংগ সন্ত্রাসী কর্তৃক ৩৯ জন মুসল্লীকে গুলি করে শাহীদ ও তদোর্ধাধিককে আহত করার এ যাবত পর্যন্ত সর্ববৃহৎ সন্ত্রাসী ঘটনার নিন্দা জ্ঞাপন, শাহাদত প্রাপ্তদের ও তাদের পরিবারের জন্য দোয়া শেষে জ্যাকসনহাইটস মোহাম্মদী সেন্টারের ইমাম কাজী কায়্যূম মুসলমানদিগকে ধৈর্যের সাথে শান্ত থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এতদিন যারা মুসলমানদেরকে ঢালাও ভাবে সন্ত্রাসী বলে আসছিলেন, তারা আজ স্বচক্ষে দেখতে পেলেন যে, সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী এখন আর কোন মুসলমান নয়, বরং সে একজন শ্বেতাংগ অমুসলমান। তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে হোয়াইট হাউসের স্টেটমেন্টে এই জঘন্য ঘটনাটিকে একটি সন্ত্রাসী ঘটনা বলে উল্লেখ ও নিন্দা জানানোর জন্য আমেরিকান মুসলমানদের পক্ষ থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ জানান।
সন্ত্রাসবাদ বিরোধী সচেতন কেন্দ্রের পরিচালক ইমাম কাজী কায়্যূম বলেন, ৯/১১ এর ঘটনায় আমাদের উপর যে কালিমা লেপন হয়েছিল, নিউজিল্যান্ড এর ঘটনা সে কালিমাকে মাত করে দিয়েছে। তিনি বলেন, ধর্য্যধারণ করেই প্রজ্ঞার সহিত আমাদের যেকোন আসন্ন এমন সব বিপদের মোকাবিলা করতে হবে।তিনি বলেন, এই সময়ে আমরা বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের দুটো কাজ করতে হবে।
১) কোন ফেতনার মতবাদী ইসলাম যেমন, তালিবান, ব্রাদারহুড, ও মওদুদীর জামায়াতে ইসলামী ও এদের দেশী ও পশ্চিমা অংগ সমগঠনগুলো যেমন শিবির/মুনা ইত্যাদি মিষ্টিবডির প্রলেপিত নতুন ইসলামকে যেন আমরা আমাদের মসজিদগুলোতে স্থান না দেই। মনে রাখতে হবে, আমাদের ইসলাম হলো, নবী মোহাম্মদের (সা) বিদায় হজ্জে দেয়া ৬৩২ খ্রীষ্টাব্দের সেই শান্তিময় ইসলাম যা, আমাদের অনুস্মরণ করতে হবে।
২) সন্ত্রাসীটির চোখে মুখে বিষণ্ণতার ছাঁপ দেখে প্রতীয়মান হয় যে,
ইসলামী জিহাদের নামে ৯/১১’র মত জঘন্য ঘটনা ঘটানোর অনেক আগে থেকেই মুসলমানরা ইউরোপের লন্ডন সহ যতটি দেশে এবং আমেরিকায় জীবন-জীবিকা বা স্থায়ী ভাবে বসবাসের জন্য পাড়ি জমিয়েছে, প্রথমে স্বভাবতই সেখানে তারা মসজিদ বানিয়েছেন। যা নবীজী মক্কা থেকে মদীনায় হিজরত করে যাবার পরক্ষণেই করেছিলেন।
কিন্তু ইউরোপে মুসলমানদের মসজিদ বানানোর নিয়মটা ছিল নবী মোহাম্মদের (সা:) মদীনায় মসজিদ বানানো কিংবা বিশ্বব্যাপী সাহাবা ও আউলিয়াদের মসজিদ বানানোর চেয়ে ব্যতিক্রম। যার প্রতিফলন অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের বিশেষ করে খৃষ্টান ধর্মাবলম্বীদের কাছে ইহা এক নিরব বিদ্বেষী প্রভাবের জন্ম দিতে পারে বলে অনুমান করা হয়। নিউজিল্যান্ডের মুসলিম বিদ্বেষী ঘটনাটি ইদানিং কালের সবচেয়ে বড় উদাহরণ।
নবীজী মদীনায় মসজিদ বানাতে অন্যন্য ধর্মাবলম্বীদের কোন জায়গা বা উপাসনালয় হোক বা পতিত কিংবা অনাবাদি জমিই হোক না কেন, তা কিনে নিয়ে সেখানে কোন মসজিদ বানাননি।সাহাবাদের সহযোগিতায় কোন ধর্মীয় উপাসনালয়ের জন্য বরাদ্ধকৃত নয়, এমন পৃথক জায়গা কিনে আজকের মহান মসজিদে নববীটি বানিয়েছিলেন।
নবী মোহাম্মদের (সা:) এমন প্রভাব পড়েছিল তাঁর খলীফাদের উপরও।
এখানে হজরত ওমরের (রা) বিচক্ষণ চিন্তাধারাটি প্রণিধান যোগ্য।
জেরুজালেম জয়ের পর ইহুদীরা বাইতুল মাকদিসে তাদের উপাসনালয়ে তাঁকে নামাজ পড়তে অনুমতি দিলে তিনি সেখানে এজন্য নামাজ আদায় করেননি, যদি ইহুদীরা পরক্ষণে এই দাবী করে বলে যে, ওমর ও তাঁর সাথীরা আমাদের সিনেগাগটিও দখলে নিয়ে গেলো। তিনি তাদের উপাসনালয়ে নামাজ না পড়ে সতীর্থদের নিয়ে পৃথক একটি জায়গায় নামাজ আদায় করেন। যে মসজিদটি আজকের বাইতুল মাকদিস মসজিদের পাশে সে সাক্ষী বহন করে রয়েছে।
হজরত ওমরের সময় ইরাক দখলের পর সেখানে নিয়োগকৃত গভর্ণর মদীনায় এসে কার্য বিবরণী দেবার সময় অত্যন্ত গর্ব করে বললেন: আমীরুল মোমিনীন, সেখানে আমাদের মসজিদটি এক গরীব খৃষ্টান সম্প্রদায়ের একটি গীর্জা আমরা কিনে নিয়ে করেছি। গভর্ণরের এমন কথা শোনার পর তিনি লাফ দিয়ে অত্যন্ত রাগান্বিত হয়ে বললেন, কেনো? নবী মোহাম্মদের (সা:) ইসলামে এমনটি নেই। তোমার আর কোনই কারগুজারী এই মূহুর্তে আমি শুনতে চাইনা। আগে সেখানে যাও এবং তাদের গীর্জাটি তাদের কাছে ফেরত দাও। শুধু তাই নয়, বাইতুল মাল থেকে অর্থ খরছ করে আগের চেয়ে সুন্দর করে তাদের গীর্জাটি নির্মাণ করে দাও এবং তাদের কাছে দু:খ প্রকাশ করো। যে পয়সাটি তাদেরকে দেয়া হয়েছে, সেটিও ফেরত দিলে তুমি নিবে না। গভর্ণর হজরত ওমরের দূরদর্শিতা চিন্তা করার আগেই বলে ফেললেন, গীর্জাটি ছিল পরিত্যক্ত। স্বেচ্ছায়ই তারা বিক্রি করেছে এবং অনেক টাকা পয়শা খরছ করে আমরা এটিকে খুব সুন্দর করে একটি মসজিদ বানিয়েছি। সেখানে নামাজ হচ্ছে, ইসলামের কাজ হচ্ছে, নতুন প্রজন্মদের জন্য ইসলামী শিক্ষার মাদরাসাও হয়েছে।
গভর্ণরের এমন কথার উত্তরে আগে থেকেই উত্তপ্ত ওমর চিৎকার দিয়ে বললেন, কোন কথা আমি শুনতে চাইনা। এক্ষণি যাও, আমি যাই বলি, তাই করো।
ইসলামের দৃষ্টিতে মসজিদ বানানোর এমন দৃষ্টান্তটি আজকের ইউরোপ আমেরিকার মুসলমানগণ ভুলে গেছেন। সেজন্য এখন থেকে কোথাও কোন মসজিদ বানানোর প্রয়োজন দেখা দিলে আমরা যেনো আর কোন গীর্জা, সিনেগাগ, মন্দির কিংবা টেম্পল কিনে মসজিদ না বানাই। হয়তো বা ব্যবসায়িক দিক থেকে এমনটিতে কোন আপত্তি নেই, কিন্তু মুসলমান প্রতিবেশীর যে অমুসলমান ধর্মাবলম্ভীটি বা তার বাপ-দাদারা ঐ ধর্মালয়ে যেতো, সে হয়তো ধর্ম চর্চা করছেনা, কিন্তু কে জানে, তার মনের মধ্যে কোন ক্ষোভের বহ্ণিপ্রকাশের জেদ ধরে নিউজিল্যান্ডের খ্রীষ্টচার্চের আল-নূর মসজিদের মত কোন অনারাঙ্খিত ঘটনা ঘটিয়ে যে দেবেনা, তার কোন গ্যারান্টি নেই। তাই সেদিকে আমাদের দৃষ্টি নিক্ষেপ খুব জরুরী বলে মনে করি।

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Situs Streaming JAV