নিউইয়র্কে জ্যামাইকায় ছুরিকাঘাতে আরেক বাংলাদেশী খুন
নিউইয়র্ক : নিউইয়র্কে দুর্র্র্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল আরেক বাংলাদেশীর। ৬০ বছর বয়েসী বাংলাদেশী নাজমা খানমকে উপর্যূপরি ছুরিকাঘাতে খুনের এ নিষ্ঠুর ঘটনা ঘঠে ৩১ আগস্ট বুধবার স্থানীয় সময় রাত সোয়া ৯টায় নিউইয়র্ক সিটির কুইন্সে জ্যামাইকা হিল্্স এলাকায়। নিজ বাসার দু’ব্লকের মধ্যে ১৬০-১২ নরম্যাল রোডে নাজমা খানমকে হত্যা করা হয়। কর্মস্থল থেকে বাসায় ফেরার সময় নাজমা খানম আক্রান্ত হন। শতগজ পেছনেই হাঁটছিলেন তার স্বামী। পুুলিশ জানায়, ‘আমাকে মেরে ফেললো, বাঁচাও-বাঁচাও’ নাজমা খানমের এমন আর্ত চিৎকারে স্বামী দৌড়ে কাছে আসার আগেই দুর্বৃত্ত কেটে পড়ে। তার স্বামী ভেবেছিলেন যে, তার স্ত্রী হয়তো ছিনতাইকারির কবলে পড়েছেন। কিন্তু কাছে এসে দেখতে পান যে, বুক থেকে রক্ত গড়াচ্ছে। সাথে সাথে ফোন করেন পুলিশকে। দ্রুত এ্যাম্বুলেন্সসহ পুলিশ এসে নাজমা খানকে নিকটস্থ জ্যামাইকা হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নেয়ার পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার বুকে ছুরিকাঘাত করা হয় বলে চিকিৎসকরা উল্লেখ করেন। এনআরবি নিউজ
নিউইয়র্ক মুসলিম পুলিশ অফিসার এসোসিয়েশনের সদস্য মোহাম্মদ কবিরের খালা নাজমা খানমের ঘাতকের সন্ধানে পুলিশ মাঠে নেমেছে বলে সর্বশেষ প্রাপ্ত সংবাদে জানা গেছে। নাজমা খানম ৩ সন্তানের মা। তার এক সন্তান নিউইয়র্কে এবং অপর দু’জন থাকেন বাংলাদেশে। গত ১৩ আগস্ট এই এলাকার কাছাকাছি দূরত্বে ওজনপার্কে গুলি করে হত্যা করা হয় বাংলাদেশী ইমাম মাওলানা আলাউদ্দিন আকঞ্জি (৫৫) এবং তার সাথী তারা মিয়া (৬৪)কে। ঐ হত্যাকান্ডের মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে অস্কার মরেল (৩৫) নামক এক হিসপ্যানিককে।
নাজমা খানমের আরেক ভাগ্নে মোহাম্মদ রহমান দাবি করেন, ‘তার খালাকেও ধর্মীয় বিদ্বেষমূলকভাবে হত্যা করা হয়েছে। এটিও হেইট ক্রাইম।’ ‘কারণ তিনি মুসলিম পোশাকে হাঁটছিলেন। এছাড়া, তার কাছে থেকে কিছুই নেয়নি দুর্বৃত্তটি।’ তদন্ত কর্মকর্তারা অবশ্য তা স্বীকার করেননি। তারা বলেছেন, ‘এক্ষুণি হেইট ক্রাইম’ হিসেবে অভিহিত করার মত কিছুই উদঘাটিত হয়নি।’
উল্লেখ্য, এখন পর্যন্ত ইমামসহ দুই বাংলাদেশীকে হত্যার ঘটনাকেও ‘হেইট ক্রাইম’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। এ নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশীসহ মুসলিম আমেরিকানরা ক্ষুব্ধ। তারা প্রবাসীদের নিরাপত্তায় যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানাচ্ছেন।
অকুস্থলে এবং তার আশপাশের সিসিটিভিসহ সবকিছু পরীক্ষার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার ভোর রাতে জানা গেছে। নাজমা খানমের নৃশংস হত্যাকান্ডের সংবাদ মূলধারার সবকটি টিভি এবং জাতীয় দৈনিকে ফলাও করে প্রচারিত হচ্ছে। ইমাম হত্যাকান্ডের ১৭ দিনের ব্যবধানে অকারণে আরেক বাংলাদেশীকে হত্যার ঘটনায় প্রবাসীরা ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছেন। কুইন্সের জ্যামাইকা এবং ওজনপার্ক এলাকায় লক্ষাধিক বাংলাদেশী বাস করছেন। সকলেই বাংলাদেশী পোশাকে চলাফেরা করেন। জাতিগতভাবে বাঙালিরা বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও নিজেদের অবস্থানের সুস্পষ্ট প্রকাশ ঘটাচ্ছেন। ‘এতদসত্বেও চোরাগুপ্তা হামলার শিকার হওয়ায় কেউই এখন নিরাপদ বোধ করছেন না’-মন্তব্য কম্যুনিটি এ্যাক্টিভিস্ট আকবর হোসেনের। এই এলাকায় ১৫ বছর যাবত বসবাস করছেন আকবর। তিনি বলেন, ‘ভেবেছিলাম, এটি আমাদের নিরাপদ আবাস। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ের কিছু ঘটনায় একেবারেই অপরিচিত লাগছে এলাকাটি। ’নিউইয়র্ক পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বসাধারণের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে, ঘাতকের গ্রেফতারে সহায়তার জন্যে। কেউ কিছু জানলে তা যেন ১-৮০০-৫৭৭-৮৪৭৭ নম্বরে ফোন করে জানান, সে আহবানও জানানো হয়েছে।
নিহত বাংলাদেশী শরীয়তপুর সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী শিক্ষিকা
শরীয়তপুর সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী শিক্ষিকা নাজমা বেগম আমেরিকার নিউইয়র্ক জামাইকা শহরে সন্ত্রাসীদের ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন। আমেরিকার স্থানীয় সময় বুধবার রাত পৌনে ৯টায় এ ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছেন নিহতের ভাই এনায়েত হোসেন খান ডালু।
পরে পুলিশ ও শামছুল আলম তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত নাজমার বেগমের বাড়ি শরীয়তপুর সদর উপজেলার আটিপাড়া গ্রামে। তার বাবার নাম শাহাদাৎ হোসেন খান। ১৯৭২ সালে শরীয়তপুর সরকারী কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের সাবেক প্রভাষক শামসুল আলম খানের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর তারা শরীয়তপুর জেলা শহরে সদর হাসপাতাল সংলগ্ন বাড়িতে প্রায় দুই যুগ বসবাস করেছেন। নাজমার ২ ছেলে ও ১ মেয়ে রয়েছে। বড় ছেলে নাজমুল আলম খান লিটু ও এক মাত্র মেয়ে ইসমিতা আলম তৃনা খানম ঢাকায় বসবাস করছেন। ছোট ছেলে শুভকে বিয়ের করাতে আগামী ডিসেম্বর মাসে স্বামীসহ দেশে ফেরার কথা ছিল নাজমা বেগমের।
নাজমার দেবর এসকান্দার আজম খান জানিয়েছেন, তারা কেউ বাড়িতে থাকেন না। ২২/২৩ বছর শিক্ষকতা জীবন শেষে তাদের ছোট ছেলেকে সাথে নিয়ে গত ৮ বছর ধরে আমেরিকায় বসবাস করছে। তাদের সম্পর্ক খুবই ভালো ছিল।
নিহত নাজমা বেগমের বড় ভাইয়ের স্ত্রী জিয়াসমিন আক্তার কান্না জরিত কন্ঠে বলেন, নাজমা আমার ননদ। সারা জীবন আমরা আপন বোনের মতো চলেছি। গত কাল রাতে ফোনে আমার সাথে কথা হয়েছিল। মাঝে মধ্যেই ফোন করে অসুস্থ্য মায়ের খবর নিতেন। দুই মাস পরে ছোট ছেলে শুভকে বিয়ে করাতে সবাই মিলে দেশে ফিরার কথা ছিল তাদের।
নিহতের ভাই এনায়েত হোসেন খান ডালু বলেন, আমরা ফোনের মাধ্যমে জানতে পারি সন্ত্রাসীদের ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করে। এর পর স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে নাজমা বেগম মারা যান।
শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক মোঃ মাহমুদুল হোসাইন খাঁন বলেন, নাজমা বেগমের নিহত হওয়ার বিষয়টি আমরা আপনাদের মতোই শুনেছি। তবে দাপ্তরিক ভাবে আমাদের কাছে এখনো কোনো চিঠি আসেনি। তার মৃতদেহ দেশে নিয়ে আসতে পরিবারকে সহযোগিতা সবধরনের সহযোগিতা করবো। নয়া দিগন্ত
- যুক্তরাষ্ট্রের ডিভি লটারি ফের স্থগিত, নিম্ন আদালতের আদেশে আপিল আদালতের বাধা
- যুক্তরাষ্ট্রে ডেলাইট সেভিং টাইমের অবসান, ১ নভেম্বর ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পেছাবে
- নিউইয়র্কে ন্যাশনাল ইমিগ্র্যান্টস ডে উদ্যাপন; বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি, সাত বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মাননা প্রদান
- জাতিসংঘে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সাফল্য; এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ল আরও ৩ বছর
- নিউ জার্সিতে উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত
- নিউইয়র্কের জেএমসির সম্প্রসারণ প্রকল্প রমজানের আগেই সম্পন্নের প্রত্যাশা, ফান্ডরেইজিংয়ে প্রায় ১০ লাখ ডলার সংগ্রহ, বাকি প্রয়োজন আরও ২০ লাখ
- New York Attorney General James Secures More Than $480,000 and Debt Relief for New York Homeowners
- এই জীবন চিরস্থায়ী নয়, একদিন মরে যাবো