Wednesday, 24 June 2026 |
শিরোনাম
Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার অঙ্গীকার State Minister for Foreign Affairs Urges Stronger Global Action to Protect Civilians, Uphold Humanitarian Law and Support Rohingya Repatriation বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন সমুন্নত রাখা ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামার মহররম মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত! Bangladesh Calls for Stronger Humanitarian Action and Women’s Leadership in Peacebuilding at UN Forum নিউইয়র্কে জাতিসংঘ ফোরামে মানবিক সহায়তা জোরদার ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় নারীর নেতৃত্ব বৃদ্ধির আহ্বান বাংলাদেশের
সব ক্যাটাগরি

নিউইয়র্কে তিনদিন ব্যাপি আন্তর্জাতিক বাংলা উৎসব ও বইমেলার ২৫ বছর পূর্তি উৎসব ছিল মহামিলন তীর্থ

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 156 বার

প্রকাশিত: May 23, 2016 | 9:22 PM

ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম, নিউইয়র্ক : নিউইয়র্কে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক বাংলা উৎসব ও বইমেলা। বাংলা ভাষা, সাহিত্য-সংস্কৃতির আকাশে উজ্বল ধ্রুবতারা হয়ে এবার জ্বলে উঠলো মুক্তধারা ফাউন্ডেশন আয়োজিত আন্তর্জাতিক বাংলা উৎসব ও বইমেলার রজত জয়ন্তী উৎসব। একুশ মানে মাথা নত না করা-যেমনি সত্যি তেমনি সত্যের এক নতুন মাত্রা যুক্ত হলো: বাঙালি মাথা নত করতে জানে না, তারা জানে লড়াই করে বাঁচতে এবং যেকোন মূল্যে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিকে উজ্জীবিত করতে বিশ্ব দরবারে। ‘একটি বাংলাদেশ তুমি জাগ্রত জনতার- সারা বিশ্বের বিস্ময় তুমি-আমার অহংকার’ সেই অহংকারের গর্বিত অংশীদার হয়ে দূর দূরান্ত থেকে এবারে বইমেলা ও বাংলা উৎসবে বাংলা ভাষাভাষী সর্বস্তরের মানুষ যোগদান করে এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন যে পর্যন্ত বাংলা ভাষা বিশ্বের দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ না করে সে সময় পর্যন্ত মুক্তধারাকে নিয়ে অব্যাহত সংগ্রাম এবং মুক্তচিন্তা ও বিকাশে ক্ষেত্র প্রসারিত করার ক্ষেত্রেও জ্ঞানচর্চা দুর্বার গতিতে চালিয়ে যাবে বাঙালী সমাজ। এবং একই সঙ্গে অপশক্তির বিরুদ্ধে শুভ শক্তির সংগ্রামী চেতনা অব্যাহত রেখে সত্য ও সুন্দরের বিকাশ ঘটানো আজকের দিনে অনিবার্য প্রয়োজন হয়ে পড়েছে বলে ব্যক্ত হয়েছে গত ২০,২১ ও ২২ মে জ্যাকসন হাইটসের পিএস ৬৯ মিলনায়তনে তিনদিনব্যাপী আন্তর্জাতিক বাংলা উৎসব ও বইমেলার তিনদিনব্যাপী অনুষ্ঠানের বিভিন্ন পর্বে।
মুক্তধারা ফাউন্ডেশন আয়োজিত নিউইয়র্কে বই মেলার রজত জয়ন্তী পালিত হলো। পালিত হলো আন্তর্জাতিক বাংলা উৎসবের। বাংলাদেশ, ভারত, লন্ডন, জার্মানি, কানাডাসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আগত কবি, সাহিত্যিক, লেখকদের অংশগ্রহণ এবং আড্ডাবাজিতে গত ২০, ২১ এবং ২২ মে জ্যাকসন হাইটসের পিএস ৬৯ স্কুলসহ পুরো জ্যাকসন হাইটস জমে উঠেছিলো। কাউকে বলতে হয়নি বই মেলার কথা। মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের বই মেলার জন্য নিউইয়র্কসহ উত্তর আমেরিকার বই পিপাসুরা সারা বছর অপেক্ষা করেন। যখনই বই মেলা অনুষ্ঠিত হয় তারা সদলবলে যোগ দেন। রঙিন শাড়িতে বই পেচিয়ে বাড়ি ফিরেন। সাথে বাড়তি আয়োজন থাকে লেখকদের অটোগ্রাফ নেয়ার। এখন তো কাউকে ছবি তোলার জন্য অনুরোধ করতে হয় না। নিজেই কাছেই ফোন, ধমাধাম সেলফি, সাথে সাথেই ফেইস বুকে। অংশগ্রহণ, আনন্দ এবং শেয়ার সবই যেন একই সাথে। তিন দিনব্যাপী এই বই মেলা এবং বাংলা উৎসব শুধু বই মেলার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিলো না। বাংলা ভাষা, বাংলা বই, বাংলা সংস্কৃতিকসহ পুরো বাংলাদেশই যেন ওঠে এসেছে। মেলায় বাংলা ভাষার, বাংলা সংস্কৃতি এবং বিশ্ববাঙালির জয়গান হয়েছে ঠিক তেমনিভাবে পুরো বাংলাদেশ উঠে এসেছে। বাংলাদেশের সাহিত্যের একাল- সেকাল নিয়ে আলোচনা হয়েছে, বাংলাদেশের গণতন্ত্র নিয়ে আলোচনা হয়েছে, বাংলাদেশের মৌলবাদ, উগ্রজঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাস নিয়ে আলোচনা হয়েছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রসঙ্গ এসেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ দেয়া হয়েছে। আবার তার কঠোর সমালোচনাও করা হয়েছে। বিভিন্ন সেমিনারে গণতন্ত্রের কথা বলা হয়েছে। উন্নয়নের পূর্ব শর্ত হিসাবে গণতন্ত্রের কথা হয়েছে, শক্তিশালী বিরোধী দলের কথা বলা হয়েছে। নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কারের কথা বলা হয়েছে, চাপাতি দিয়ে মানুষ হত্যা, সংখ্যালঘুদের দেশ থেকে বিতাড়ন, মুক্তমনা ব্লাগার হত্যা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশ পরিচালনার কথা বলা হয়েছে। বই মেলায় বই নিয়ে আলোচনার চেয়ে রাজনীতি হয়েছে বেশি। সব কিছুতেই যেন রাজনীতি টেনে আনা। সেলিনা হোসনের কথা অনুযায়ী সময় যদি লেখকদের ধরে রাখতে হয়, রাজনীতিও লেখার উপজীব্য হয়ে যায়। বই মেলায় সম্মাননা জানানো হয়েছে কথা সাহিত্যিক সেলিনা হোসেনকে। প্রথমবারের মত ঘোষিত চ্যানেল আই ও মুক্তধারা সাহিত্য পুরস্কার পেয়েছেন কবি নির্মলেন্দু গুণ। সম্মাননা জানানো হয়েছে সহযোদ্ধা ডা. ডেভিড নেলিনকে। তিন দিনের ঠাসা অনুষ্ঠান দেয়া হয়েছে। কিন্তু সময়ের অভাবে দেখা গেছে কোন আলোচনাই উপসংহারে পৌঁছাতে পারেনি। সময় মত শেষ করার জন্য বার বার তাগাদা দেয়া হয়েছে। প্রধান অতিথি এবং বিশেষ অতিথি ছাড়াও একজন কয়েকটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। যেমন স্বরচিত কবিতা পাঠ, কবিতা আবৃত্তি, বই নিয়ে আলোচনা, নতুন লেখক- সবই যেন এক। ভিন্নতা চিন্তা করা যেতে পারে।
শোভাযাত্রা ছিল চোখে পড়ার মতো। এবারের বই মেলা ও বাংলা উৎসবে মানুষের উপস্থিতি ছিলো চোখে পড়ার মত। তৃতীয় দিনে পড়ন্ত বিকেলে যেন মেলায় মানুষের ঢল নেমেছিলো। মেলায় যেন হাঁটাই যাচ্ছিলো না, কি মূল মঞ্চে, কী ছোট মঞ্চে, কী মেলায়। সেইদিক থেকে আয়োজকরা তৃপ্তির ঢেকুর তুলতেই পারেন। ধন্যবাদ পেতেই পারেন আহবায়ক হাসান ফেরদৌস।
ফিতা কেটে ও ২৫টি বেলুন উড়িয়ে বই মেলা এবং আন্তর্জাতিক বাংলা উৎসবের উদ্বোধন করে প্রধান অতিথি উপন্যাসিক সেলিনা হোসেন। বই মেলা এবং বাংলা উৎসবের ২৫ বছর পূর্তিতে ২৫টি মঙ্গল প্রদীপ জ্বালিয়ে বই মেলার শুভ সূচনা করা হয়। ২৫ টি মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করেন প্রধান সেলিনা হোসেন, বিশিষ্ট লেখক ও কথা সাহিত্যিক আনিসুল হক, দৈনিক ইত্তেফাকের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক তাসমিমা হোসেন, বিশিষ্ট নাট্যাভিনেতা রামেন্দু মজুমদার, লেখক রঞ্জন বন্দোপাধ্যায়. ড. নূরন নবী, লেখক অর্বিন ঘোষ, বিশিষ্ট ছড়াকার লুৎফর রহমান রিটন, একুশে পদক প্রাপ্ত নাট্যকার জামাল উদ্দিন হোসেন, সময় প্রকাশনির প্রধান নির্বাহী ফরিদ আহমেদ, কলকাতা থেকে প্রকাশিত দৈনিক আজকালের সভাপতি সত্যম রায় চৌধুরী, অধ্যক্ষ আব্দুস সেলিম, লেখক মোহিত কামাল, ভয়েস অব আমেরিকার বাংলা বিভাগের প্রধান রোকেয়া হায়দার, কবি গুলতেনিক খান, আমীরুল ইসলাম, লেখক ফেরদৌস সাজেদীন, কবি ইকবাল হাসান, কিশোর ভারতী সম্পাদক ও পত্র ভারতীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ত্রিদিব কুমার চ্যাটার্জি, বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশনা সমিতির সভাপতি আলমগীর শিকদার লোটন, মোঃ মনিরুল হক, তাহমিনা জামান, মোস্তফা চৌধুরী, মাহফুজুল বারী, সৈয়দ আল ফারুক ও বিশিষ্ট রবীন্দ্র সঙ্গীত শিল্পী কমলিনী মুখপাধ্যায়। যে ২৫ জন লেখক, কবি এবং উপন্যাসিক ২৫টি মঙ্গল প্রদীপ জ্বালিয়ে বই মেলার উদ্বোধন করেন তাদের ২৫টি উত্তরীয় পরিয়ে দেয়া হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে কথা সাহিত্যিক সেলিনা হোসেন বলেন, বই মেলা আমাদের গৌরবের। এই সম্মিলিত মেলা আমাদের ঐক্যবদ্ধ করে, অনুপ্রাণিত করে, সামনে এগিয়ে যাবার প্রেরণা জোগায়। এই বই মেলা গত ২৫ বছর ধরে এই নিউইয়র্কে হচ্ছে। জাতির জনক শেখ মুুজিবুর রহমানের ডাকে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছিলাম। সেই স্বাধীনতা লাভের কারণেই আজকে নিউইয়র্কের বই মেলায় যোগ দিতে পেরেছি। তিনি বলেন, বই মেলা এবং বাঙালির সংস্কৃতিই হচ্ছে আমাদের শক্তির আসল জায়গা। বাঙালির জয় হোক, বাংলা ভাষার জয় হোক, বাংলা সংস্কৃতির জয় হোক, সর্বপরি বাংলাদেশের জয় হোক। বাংলা ভাষা এবং বাংলা সংস্কৃতির জয়ধ্বনি সারা বিশ্বময় ছড়িয়ে পড়–ক।
রঞ্জন বন্দোপাধ্যায় বলেন, এই সুন্দর একটি আয়োজনের জন্য বিশ্বজিত সাহা এবং মুক্তধারাকে ধন্যবাদ। তিনি বলেন, আজ থেকে এক সপ্তাহ আগেও আমি জানতাম না, আমাকে আসতে হবে। বিশ্বজিত সাহা ফোন করে অনুরোধ করলেন এবং আমার প্রকাশ ত্রিদিব কুমার চ্যাটার্জির কারণেই এখানে আসা। তিনি বলেন, আমি বাংলাদেশে যাই। বাংলা ভাষার চর্চা বাংলাদেশে যেভাবে হচ্ছে আমি তা দেখে গর্ববোধ করি। আজকে এখানে এসে আমি আনন্দিত এবং আমার অহংকার হচ্ছে বাংলাদেশে বাঙালিরা এটা করছে। বিদেশে বাংলা ভাষার বীজ রোপিত হচ্ছে। বিশ্বে বাংলা ভাষার ব্যাপ্তি হবে এই ধরনের আন্দোলন অব্যাহত থাকলে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের কারণেই রবীন্দ্র নাথ রবীন্দ্র নাথ হয়েছেন। তিনি ১০ বছর পদ্মার পাড়ে নির্বাসনে না থাকলে রবীন্দ্র নাথ হতেন না।
রোকেয়া হায়দার বলেন, দেখতে দেখতে ২৫ বছর চলে গেল। আমার এক সময়ের সহকর্মী বিশিষ্ট লেখিকা দিলারা হামেশ আমাকে বলতেন, যাবেন নাকি নিউইয়র্কের বই মেলায়। আমি বললাম যেখানে বাংলা ভাষার জয়গান হবে, বাংলাদেশের জয়গান হবে, বাংলা সংস্কৃতির জয়গান হবে সেখানে আমি কি না গিয়ে পারি।
তাসমিমা হোসেন বলেন, আজকের এই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ, কলকাতা এবং নিউইয়র্কসহ অন্যান্য দেশে বসবাসকারী বাংলা ভাষার কবি, লেখক এবং সাহিত্যিকরা এসেছেন। এটা আমার কাছে আনন্দের। আমি ভেবেছিলাম নিউইয়র্কে শীত কাঁপবো কিন্তু এখন দেখছি সম্মিলিত উচ্ছ্বাসে রক্তের শিহরণ।
রামেন্দু মজুমদার বলেন, বড় কাজ একজনই শুরু করে। বাংলাদেশে বই মেলা শুরু করেছিলেন বাংলাদেশের মুক্তধারার চিত্তরঞ্জন সাহা আর নিউইয়র্কে শুরু করেছেন আমেরিকার মুক্তধারার বিশ্বজিত সাহা। তিনি আরো বলেন, বই মেলা হচ্ছে বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসব। আমাদের দেশে দ্রারিদ্য আছে কিন্তু আমাদের ভাষা এবং সংস্কৃতিক হচ্ছে ঐতিহ্যের। এই ঐতিহ্য নিয়ে আমরা গর্ববোধ করতে পারি।
অর্ভিন ঘোষ বলেন, সারা বছর আমরা এই বই মেলার অপেক্ষায় থাকি।
নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কন্স্যুলেটের কন্সাল জেনারেল শামীম আহসান বলেন, বই মেলা হচ্ছে আমাদের ঐতিহ্যের মেলা। আমাদের অনেক ঐতিহ্য আছে। সেই সব ঐহিত্য নিয়ে আমরা গর্ববোধ করতে পারি।
ইকবাল হাসান বই মেলা ও বাংলা উৎসবের সাফল্য কামনা করেন।
আলমগীর শিকদার লোটন বলেন, বাংলাদেশ থেকেই আমরা শুনতাম নিউইয়র্কের বই মেলার কথা। এবার এসে দেখলাম। বিশ্বজিত সাহা ও মুক্তধারা ফাউন্ডেশন বাংলা ভাষা চর্চা ও বিস্তারে যে ভূমিকা পালন করছে তা সত্যিই অবিস্মরণীয়।
গুলতেনিক খান বলেন, আমার কাছে খুব ভাল লাগছে। প্রবাসে যেন এই ধারা অব্যাহত থাকে।
তাসমিম হোসেন বলেন, বই মেলা এবং শোভা যাত্রা হচ্ছে বাঙালির ঐক্যের প্রতীক। আমার কাছে ভাল লাগছে এই প্রবাসেও বাংলা বাংলাদেশীরা বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির জয়ধ্বনী করছে।
অধ্যক্ষ আব্দুস সেলিম বলেন, এই ধরনের সুন্দর ও দৃষ্টিনন্দন আয়োজন দেখে আমি অভিভূত। এত সুন্দর আয়োজন এর আগে আমি আর দেখিনি, এই আয়োজনে আসতে পেরে আমি নিজেকে ধন্য মনে করছি। আমি মনে করি এই ধরনের আয়োজন বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির জন্য ভাল কিছু বয়ে আনবে।
আনিসুল হক বলেন, আমাকে নিউইয়র্কের বই মেলায় দাওয়াত দিতে হয় না, আমি নিজের উদ্যোগেই চলে আসি। মুক্তধারা ফাউন্ডেশন আমাকে দাওয়াত দেয়নি, ডাকলে ভিজিট দিতে হয়। আমি ডাক্তার নই, আমি প্রাণের টানে চলে এসেছি।
লুৎফর রহমান রিটন বলেন, বই মেলা আমার জীবনের সাথে জড়িত। যেখানেই বই মেলা হয় সেখানেই আমি চলে যাই। আমার আগ্রহের কেন্দ্র হচ্ছে একুশের বই মেলা, তার সম্প্রসারণ হচ্ছে নিউইয়র্ক বই মেলা।
নিক গোলাটা নিউইয়র্কের মেয়র ব্লাজিও শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, নিউইয়র্ক সিটি বাংলাদেশী কম্যুনিটির সংখ্যা বাড়ছে এবং তারা নিউইয়র্ক সিটির উন্নয়নে সততার সাথে কাজ করে যাচ্ছে। যে কারণে সিটি মেয়র বাংলাদেশীদের সাথে রয়েছে। তিনি সিটি মেয়রের পক্ষ থেকে বই মেলা এবং আন্তর্জাতিক বাংলা উৎসব উপলক্ষে একটি সাইটেশন মেলার আহবায়ক হাসান ফেরদৌসের কাছে হস্তান্তর করেন। যাতে ২০মে-কে আন্তর্জাতিক বাংলা উৎসব ও বইমেলা ডে হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
এবারের বই মেলার আহবায়ক হাসান ফেরদৌসের পরিচালনায় এবারে বই মেলা এবং বাংলা উৎসবে একাত্তরের সহ মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের আকৃত্রিম বন্ধু আলবেনি মেডিক্যাল কলেজের প্রফেসর এমেরিটাস ড. ডেভিড লেলিনকে তার অবদানের জন্য বিশেষ সম্মাননা জানানো হয়। তাকে সম্মাননা জানান এবং উত্তরণী পরিয়ে দেন দৈনিক ইত্তেফাকের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও অনন্যার সম্পাদক তাসমিমা হোসেন ও বিশিষ্ট নাট্যাভিনেতা রামেন্দু মজুমদার।
ড. ডেভিড লেলিন সালাম দিয়ে বাংলায় তার বক্তব্য শুরু করেন। তিনি শুরুতেই কৃতজ্ঞতা জানান বাংলাদেশীদের একদিন পর্যন্ত তাদের স্মরণ রাখার জন্য। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, কিভাবে বাল্টিমোরে যুদ্ধজাহাজ না যাওয়ার জন্য তারা আন্দোলন করেছিলেন, কীভাবে হোয়াইট হাউজের সামনে বিক্ষোভ করেছিলেন। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট নিক্সসন পাকিস্তানে পক্ষ অবলম্বন করেছিলেন, তার প্রতিবাদ করেছি এবং আমাদের সাথে ছিলো তৎকালীর সিনেটর কেনেডিসহ আরো বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা। আমাদের পুরোপুরি সাহার্য করেছিলো নিউইয়র্ক টাইমস ও ওয়াশিংটন পোস্ট। তাকে সম্মান জানানো জন্য তিনি সকল বাংলাদেশীদের ধন্যবাদ জানান। উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক খ্যাতিধন্য এই মার্কিন চিকিৎসক ও বিজ্ঞানী একাত্তরে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় ওয়াশিংটনে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে বাংলাদেশ ইনফরমেশন সেন্টার প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। সে বছর জুলাই মাসে মেরিল্যান্ডের বালটিমোরে পাকিস্তানী অস্ত্রবাহী জাহাজ পদ্মা বন্দরে প্রবেশ করার বিরুদ্ধে যারা বিক্ষোভে অংশ নেন, ড. নেইলিন তাদের অন্যতম ছিলেন। ১৯৬৮ সালে ঢাকার কলেরা হাসপাতালে কর্মরত অবস্থায়, তরুণ চিকিৎসক নেইলিন কলেরার প্রতিষেধক হিসাবে অরাল রিহাইড্রেশন থেরাপি আবিষ্কার করেন।
তাসমিমা হোসেন যুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে এবং বাংলাদেশের অসহায় মানুষকে সাহার্য করার জন্য ড. ডেভিড লেলিনকে ধন্যবাদ।
আহবায়ক হাসান ফেরদৌস মেলায় অংশগ্রহণ করার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, বই মেলা নিয়ে ষড়যন্ত্র কম হয়নি। কিন্তু যারা বই মেলার সাথে নিঃশর্তভাবে ছিলেন তারাই এটাকে সফল করেছেন এবং আজকের এই পর্যায়ে আপনারাই নিয়ে এসেছেন।
’যদি তোর গান শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলরে’ উদ্বোধনী সঙ্গীত পরিবেশন করেন শফি চৌধুরী, দিঠি হাসনাত, সাবরিনা রহমান, তাসনিম আহমেদ, গুঞ্জরী সাহা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান জাগরণে চন্দ্রা ব্যানার্জির পরিচালনায় ছিলো অনিন্দ্য সুন্দর ও চোখ ধাঁধানো নৃত্যাঞ্জলি। অংশগ্রহণ করেন
নতুন প্রজন্মের অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি করেন নুহা কাওসার, লিওনা মুহিত, সারেঙ্গী রোহান মিশ্র, গানে প্রিয়া সাহা এবং নৃত্যে দেবলীনা চন্দ। নবীন শিল্পদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন গুলতেকিন খান।
মুক্তধারা ২৫ বছর : ফিরে অনুষ্ঠানে কথা সাহিত্যক আনিসুল হক বলেন, এই বিজন দেশে মুক্তধারা গত ২৫ বছর ধরে বাংলা ভাষা এবং বাংলা সংস্কৃতির জন্য কাজ করছে। এটা একেবারেই সহজ বিষয় নয়, এটা বিশাল ব্যাপার। এটাকে আমাদের মূল্যায়ণ করতে হবে। এই বই মেলা একটা বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। তাই আমি এই বই মেলাকে পছন্দ করি। তিনি বলেন, লাল সবুজ আমাদের প্রতীক, বইও আমাদে প্রতীক।
ড. নূরুন নবীও বই মেলার সাথে তার সম্পৃক্তা এবং বই মেলার আয়োজকদের কষ্টের কথা তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করে সাংবাদিক নিনি ওয়াহিদ। অনুষ্ঠানে হাসান ফেরদৌস মুক্তধারা বিশ্বজিত সাহাকে মঞ্চে আহবান করলেন আনিসুল হক ও ড. নূরুন নবী তাকে সম্মানসূচক উত্তরীয় পরিয়ে দেন। উত্তরে বিশ্বজিত সাহা বলেন, এটা প্রবাসী বাঙালি এবং বাংলা মিডিয়া এবং লেখালেখির মানুষগুলোর নিঃশর্ত ভালবাসার ফসল।
প্রথম দিনের শেষ পরিবেশনায় ছিলেন বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী ফেরদৌস আরা। তাঁকে মঞ্চে আহবান করে বিশিষ্ট রিয়েলএস্টেট ইনভেস্টর মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন। তিনি শিল্পীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। শিল্পী তার সঙ্গীত পরিবেশনের পূর্বে বলেন, আপনারা দেশকে সবচেয়ে বেশি ভালভাসেন। আপনাদের ভালবাসার বহিপ্রকাশ আমরা দেখতে পাই। আমরা যারা দেশে থাকি তারাও দেশকে ভালবাসি কিন্তু আমাদের ভালবাসার বহিপ্রকাশ দেখাতে পারি না। তিনি প্রায় একঘন্টা ধরে তার জনপ্রিয় গানগুলো পরিবেশন করেন। মানুষও প্রাণভারে তার সঙ্গীত উপভোগ করেন।
বই মেলার ও আন্তর্জাতিক বাংলা উৎসবের উদ্বোধনের পূর্বে অনুষ্ঠিত হয় শোভাযাত্রা। এই শোভাযাত্রাটি জ্যাকসন হাইটসের ডাইভার সিটি প্লাজা থেকে শুরু হয়ে ৬৯ স্কুলের অডিটোরিামে এসে শেষ হয়। শোভা যাত্রার বক্তব্য রাখেন কথা সাহিত্যিক সেলিনা হোসেন, তাসমিম হোসেন, গুলতেকিন খান, নিউইয়র্ক মেয়র বিল ডি ব্লাজিওর প্রতিনিধি নিক গোলাটা, কমলিনী মুখার্জি, জামাল উদ্দিন হোসেন, নাজমুন নেসা পেয়ারি, অধ্যক্ষ আব্দুস সেলিম, আনিসুল হক, লুৎফর রহমান রিটন, ড. নূরন নবী, গাজী মাজহারুল ইসলাম, ইকবাল হাসান, সালমা বানী, জেবিবিএ’র সাধারণ সম্পাদক তারেক হাসান খান, সউদ চৌধুরী প্রমূখ। শোভাযাত্রার অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি করেন হাফিজ ইয়াক্তি। শোভা যাত্রায় প্রবাসী বাংলাদেশীরা বাংলার ঐতিহ্য সাজ ও মুখ, মুখোশ ও ঢোল নিয়ে অংশগ্রহণ করেন। শোভাযাত্রাটি যখন জ্যাকসন হাইটসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে তখন দুই পাশে দাঁড়িয়ে মানুষ অভিনন্দন জানায় অন্যদিকে বিদেশীরা উৎসক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবারের শোভাযাত্রাটি ছিলো সন্দুর এবং বর্ণাঢ্য। অন্যদিকে শোভা যাত্রায় বাংলা ভাষা ও বাংলা সংস্কৃতির জয়গানের কথা বলা হয়, দলীয় জয়গানের অশুভ শক্তি নিবৃত্ত হয়েছে।
দ্বিতীয় দিন
দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠান শুরু প্রবাসে জন্ম নেয়া এবং বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের শিশু- কিশোরদের মধ্যে বয়স ও বিষয়ভিত্তিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে। প্রতিযোগিতার ব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বে ছিলেন নাসরিন চৌধুরী, মোশাররফ হোসেন, জেবু চৌধুরী, সুলেখা পাল, পারভীন সুলতানা, আল্পনা গুহ, কুলসুম পপি ও রাহাত কাজী। প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়া শিশু- কিশোরদের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করেন কংগ্রেসম্যান জোসেফ ক্রাউলি। তিনি বলেন, বাংলা সংস্কৃতি হচ্ছে পৃথিবীর শক্তিশালী সংস্কৃতিগুলোর মধ্যে অন্যতম। প্রবাসে জন্ম নেয়া এবং বেড়া ওঠা নতুন প্রজন্মকে শেকড়ের সাথে সম্পৃক্ত রাখলে হলে এই সংস্কৃতির মাধ্যমেই সম্ভব। যেটা করে গ্রীকরা।
ফাহিম রেজা নূরের সঞ্চালনায় কবি রফিক আজাদ মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় লেখক, পাঠক এবং প্রকাশক ঃ মুখোমুখি। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসাবে ছিলেন সেলিনা হোসেন, আনিসুল হক, মনিরুল হক, ফরিদ আহমেদ, তাসমিম হোসেন, টিউলিপ চৌধুরী, নাজমুন নেসা পেয়ারি ও জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপচার্য্য আনোয়ার হোসেন।
সেলিনা হোসেন বলেন, আমি কখনো সমঝোতা করে লেখা ছাপাবো না। আমি পাঠকের জন্য লেখি, লেখায় পাঠক, সমাজ ও দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা থাকে।
আনিসুল হক বলেন, আমাদের দেশে ইদানিং দেখা যায়, অনেক প্রকাশই লেখকের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে বই প্রকাশ করেন। আবার অধিকাংশ প্রকাশনা সংস্থায়ই সম্পাদক থাকেন না এবং সম্পাদনা করা হয় না।
মনিরুল হক বলেন, রাষ্ট্র এবং ধর্মের বিরুদ্ধে আমরা কোন লেখা বা বই প্রকাশ করি না। বই প্রকাশ করা আমাদের নেশা এবং পেশা। এর সাথে আমাদের টিকে থাকা এবং বেঁচে থাকার ব্যাপার আছে। আর আমরা লেখা ছাপি না, বাছাই করে লেখা এবং বই প্রকাশ করি।
ফরিদ আহমেদ বলেন, প্রকাশকদের বিরুদ্ধে হাজারো অভিযোগ, কোন অভিযোগের ভিত্তি নেই, কিছু কিছু অভিযোগের ভিত্তি আছে। তিনি বলেন, আমরা দেখেশুনে এবং মান সম্মত লেখা ও বই প্রকাশ করি। আমরা মুক্তিযুদ্ধের উপর ৮ হাজার পৃষ্ঠার বিশাল বই প্রকাশ করেছি কোন সরকারি অনুদান ছাড়াই। তিনি বলেন, এটা সত্যি যে আমরা প্রকাশকরা আস্থার জায়গা এখনো তৈরি করতে পারিনি।
আদনান সৈয়দের সঞ্চালনায় এ বছরের নতুন বই নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন সেলিনা হোসেন, আনিসুল হক, রামেন্দু মজুমদার। নতুন লেখাদের মধ্যে উপস্থিত থেকে নিজ বই সম্পর্কে বলেন, কবি তমিজ উদ্দিন লোদী, সাংবাদিক আহমেদ মুসা, কবি ফকির ইলিয়াস, জসীম মল্লিক, কবি শামস আল মমীন, কাজী জহিরুল ইসলাম, শফিউল আলম, ওবায়দুল্লাহ মামুন, রওশন হাসান, জুলি রহমান, আশরাফ আহমেদ, মনিজা রহমান, ডা. কৌশিক সেন, সাজ্জাদ বিপ্লব, আহমেদ সবুর, আলম সিদ্দিকী, রিমি রুম্মান।
সেলিনা হোসেন বলেন, আপনারা যারা প্রবাস থেকে লিখছেন আপনাদের মননে, চিন্তায় এবং চেতনায় বাংলাদেশ রয়েছে। আপনাদের লেখায় তাই ফুটে উঠেছে। তিনি বলেন, আপনারা দেশ এবং ভাষাকে মননে রেখে ইংরেজিতে লেখক, তাহলে অনেক ভাল হবে, বাংলা সাহিত্যও বিদেশীদের কাছে পৌঁছাবে, বিশ্ব পরিমন্ডলে উঁচু আসনে স্থান করে নেবে, বোকার প্রাইজও পেতে পারেন।
রামেন্দু মজুমদার বলেন, আমি লেখালেখি করি কিন্তু লেখক হিসাবে নিজেকে দাবি করি না। তিনি বলেন, প্রবাসেও আমাদের লেখক গোষ্ঠি তৈরি হয়েছে, তাদের মধ্যে কেউ কেউ অর্থ খরচ করে বই বের করে, আবার কোন কোন প্রকাশকও তাকিয়ে থাকেন। তিনি বলেন, ভাল লেখা হলে প্রকাশকরাও ছাপবে। আজকে যাদের লেখা সম্পর্কে জানলাম তাতে মনে হয়েছে আপনাদের লেখায় আমাদের বাংলা সাহিত্য সমৃদ্ধ হবে।
অনিসুল হক বলেন, তার মা বইটি দিল্লি থেকে ইংরেজি ও স্প্যানিস ভাষায় বিভিন্ন দেশ থেকে প্রকাশিত হয়েছে। তিনি তার বই’র মোডক উন্মোচন করার জন্য অনুরোধ করে সেলিনা হোসেন ও রামেন্দু মজুমদারকে। তিনি বলেন, আজকে এই অনুষ্ঠানে অনেক লেখক পেলাম, আমার ভাল লাগলো।
বিশিষ্ট ছড়াকার মঞ্জুর কাদেরের পরিচালনায় স্বরচিত কবিতা পাঠের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন এ বি এম সালেহ উদ্দিন, আনোয়ার সেলিম, চারু হক, ফারহানা পলি, খালেদ শরফুদ্দিন, কবিতা হোসেন, লাকি সেরনিয়াবত, লালন নূর, সালমা বাণী, মামুন জামিল, মনিজা রহমান, নাসির উল্যাহ মোহাম্মদ, নূপুর কান্তি দাস, নূরুল ইসলাম পাশা, ওমর শামস, কাজী জহিরুল ইসলাম, রওশন হাসান, রিপা নূর, সাজেদ কামাল, সাজ্জাদ বিপ্লব, শাহ আলম দুলাল, শামস চৌধুরী, শরিফুল আলম, স্বপ্ন কুমার, সোনিয়া কাদের, সৈয়দ আহমেদ জুয়েদ, তমিজ উদ্দিন লোদী, ভায়লা সেলিনা লিজা প্রমুখ।
তানভীর রাব্বানীর উপস্থাপনায় যারা লেখক হতে চান ঃ সম্পাদক ও প্রকাশকদের পরামর্শ অনুষ্ঠানে ত্রিদিব কুমার চ্যাটার্জি বলেন, আমি লেখক ছিলাম না, আমি ছিলাম বিজ্ঞানী। আমার বাবার কারণেই আমি এই পেশায়। তিনি বলেন, লেখক হতে হলে ভাল পাঠক হতে হবে। আমাদের পাঠ অভ্যাস কমে যাচ্ছে। আমরা এখন চিঠি লিখি না, ফেইস বুকসহ অন্যান্য সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করি। তিনি বলেন, আমরা কলকাতার বিশ্ব ভারতী থেকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বই প্রকাশ করেছিলাম। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, নতুন প্রজন্ম বই পড়া বাদ দিয়ে টিভির দিকে ঝুঁকছে কেন? প্রচুর লিখছেন কিন্তু লেখা পড়ছেন না। কারণ টা কী? নতুন প্রজন্ম কি চায় তার সাথে যোগসুত্র তৈরি করে লিখতে হবে। লেখদের জন্য কী কোন ওয়ার্কশপ আছে? তাদের কী পরামর্শ দেয়ার জায়গা আছে? তাদের লেখায় হাত দেয়ার ক্ষমতা কী প্রকাশকদের রয়েছে? তারপরেও আমেরিকা, ব্রিটেনে জন্ম নেয়া নতুন প্রজন্মের অনেক বাঙালি লিখছেন এবং পুরস্কারও পাচ্ছেন।
তাসমিমা হোসেন বলেন, ভাল কিছু করতে হলে পড়তে হবে, পড়ার কোন বিকল্প নেই। ইদানিং এমন পরিস্থিতি হয়েছেন যে বাবা- মারাও তাদের সন্তানদের পাঠ্য বই ছাড়া অন্য বই পড়তে বলেন না। আজকাল সব কিছুই যেন যান্ত্রিক হয়ে গেছে। প্রেমও এখন ফেইস বুকের মাধ্যমে করে। আমাদের সময় চিঠি লিখে তা ঢিল দিয়ে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হতো।
ফরিদ আহমেদ বলেন, প্রকাশক মানে ব্যর্থ লেখক। আমরা বাঙালিরা পরামর্শ দিতে পারি ভাল। কিন্তু পরামর্শ দিতে আসিনি। আমি যেটা বলতে চাই, লিখতে হলে পড়তে হবে। ১০০টি বই পড়ে ১ টি বই লিখতে হবে। কিন্তু অবস্থা হয়েছে এমন ১টি বই পড়েই ১০টি বই লিখতে চায়। তিনি বলেন, বাংলা ভাষা সাহিত্য রচনা করা সহজ নয়। তারপরেও নতুন প্রজন্মের অনেকেই গবেষণাধর্মী বই লিখছে।
সউদ চৌধুরীর পরিচালনায় আলাপচারিতা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে প্রবাসে জন্ম নেয়া নতুন প্রজন্মের দুই প্রতিনিধি। একজন নিউজার্সির কাউন্সিলম্যান অন্যজন হচ্ছে চ্যানেল ১১ এর সাংবাদিক। আমেরিকায় বাংলার মুখ অনুষ্ঠানে সাংবাদিক নারমিন চৌধুরী বলেন, ছোট বেলায় বাবা- মার সাথে আমরা বাংলাদেশী অনুষ্ঠানে আসতাম। আমি বাংলা বলতে পারি। এই ধরনের অনুষ্ঠান নতুন প্রজন্মের জন্য ভাল। তিনি বলেন, আমার বাবা একজন ফার্মাসিস্ট ছিলেন, তিনি চাইতেন আমি ডাক্তার বা ফার্সাসিস্ট হই কিন্তু আমি হলাম সাংবাদিক। আমি জানতাম আমি সাংবাদিক হবো। কিন্তু কোন দিন বাবাকে বলিনি। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা কষ্টের পেশা। তারপরেও আমি এই পেশায় বেঁচে নেয়ার কারণ হলো এই পেশায় আমি বাংলাদেশী রোড মডেল খুঁজে পাই না। আমি আগামী প্রজন্মের রোল মডেল হতে চাই। তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে ইসলাম বিরোধী প্রপাগান্ডা চলছে। কোন কিছুতে দ্বিমত করতে হলে আমি করি কিন্তু সম্মিলিত যে শক্তির প্রয়োজন তা আমি পাই না। অন্য এক প্রশ্নের জবাবে নারমিন বলেন, বাংলাদেশে তার রোল মডেল হচ্ছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। কাউন্সিলওম্যান তাহসিনা আহমেদও বললেন, তার রোল মডেল ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তাহমিনা বলেন, ছোট বেলায় তিনিও তার অভিভাকদের সাথে বাংলাদেশী বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যেতেন। এখনো মাঝে মধ্যে যান। তিনি বলেন, আমি রাজনীতিবিদ হতে চাই না, আমি আমার এলাকার মানুষের সেবা করতে চাই, বিপদে তাদের পাশে দাঁড়াতে চাই।
নতুন প্রজন্মের বই নিয়ে আলোচনা করেন অধ্যাপক আব্দুস সেলিম এবং অনুষ্ঠানটি সঞ্চলনায় ছিলেন বাঙালির সম্পাদক কৌশিক আহমেদ। কৌশিক আহমেদ বলেন, এই অনুষ্ঠান আমি ছয় বছর থরে করে আসছি কিন্তু এবারের মত অবস্থা হয়নি। নির্ধারিত সময়ের চেয়ে অনুষ্ঠান আগে শুরু করায় সমস্যা হয়েছে।
বাংলার লোক ঐতিহ্য ঃ আলাপচারিতা ও গানের অনুষ্ঠানটি মাতিয়ে রাখেন শিল্পী তাজুল ইমাম। তিনি লোকসঙ্গীতের বিভিন্ন ভার্সন তুলে ধরেন এবং গেয়ে শুনান। অসাধরণ এই অনুষ্ঠানটি যখন জমে উঠছিলো ঠিক তখনই সময়ের কাটা হস্তক্ষেপে যবনিকাপাত ঘটে। অনুষ্ঠানটি পরিচালনায় ছিলেন আনিসুল হক এবং আলোচক ছিলেন রামেন্দু মজুমদার। আনিসুল হক বলেন, যা লিখছি এবং করছি তার মধ্যে লোক সংস্কৃতির শেকড় জড়িয়ে আছে। রবীন্দ্র নাথেরও লোক সঙ্গীত রয়েছে। যে কারণে রবীন্দ্র নাথ সর্বকালের, সর্বাধুনিক ও সর্বস্থানের লোক।
রামেন্দু মজুমদার বলেন, লোক সঙ্গীত বাদ দিয়ে সঙ্গীতের এবং দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। লোক সঙ্গীত মানুষকে বিদ্যুতের মত কাছে টানে। যে কারণ নতুন প্রজন্মও লোক সঙ্গীতের দিকে ধাবিত হচ্ছে।
দলীয় অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করে রঞ্জনী। রঞ্জনীর পরেই লেখক ফেরদৌস সাজেদীনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয় কেন লিখি অনুষ্ঠানটি। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন লুৎফর রহমান রিটন, মোহিত কামাল, সৈয়দ আল ফারুক, রিফাত কামাল সাইদ।
লুৎফর রহমান রিটন বলেন, আমি ঘোড়ার ডিম লেখি। আমার লেখায় কী হয়? রাজনৈতিক দুর্বিত্তায়ণ কী বন্ধ হয়? আমি কি রাজনীতিবিদদের মত সম্পদ লুন্ঠন করতে পারি? আমি কি সন্ত্রাস করতে পারি, আমি কি ধর্ষণ করতে পারি? আমি কি খুন করতে পারি? আমি কে জোর করে ভোট আদায় করতে পারি? আমি তো গড় ফাদার হতে পারি না? আমি কি সংখ্যালঘুদের দেশত্যাগ বন্ধ করতে পারি? আমি কি প্রধান শিক্ষককে কানধরে উঠবস করাতে পারি? তাহলে কী লিখি? ঘোড়ার ডিম লিখি? আমি ভীতু। প্রতিবাদও করতে পারি না, সামনাসামনি গালিও দিতে পারি না- তাই লেখার মাধ্যমে প্রতিবাদ করি। প্রতিবাদ এবং ধিক্কার জানাতেই আমি লেখি।
ইকবাল হাসান বলেন, আসলে লেখালেখিতে সমাজ পরিবর্তন হয় না। বর্তমানে আমরা ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মধ্যদিয়ে যাচ্ছি। মৌলবাদের থাবা চলছে, মুক্তমনা লেখকদের হত্যা করা হচ্ছে, সরকারও বিচার করতে পারছে না। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে আইয়ামে জাহিলিয়াতের যুগ চলছে। তিনি বলেন, আমার বাড়ি বরিশালে। নদী ও প্রকৃতির লীলাভূমি। সেই প্রকৃতি দেখেই আমি লেখা শুরু করি। অন্যদিকে মনের কষ্ট দূর করতে আমি লেখি।
ফারুক আল ফারুক বলেন সৃজনশীলতাকে প্রকাশ করতে আমি লিখি। আমি ফুটবলার, ক্রিকেটার বা পাইলট হতে পারিনি, তাই লেখক হয়েছি।
মোহিত কামাল বলেন, রিটন বলেছেন ঘোড়ার ডিম লিখছেন। আসলে তিনি তেজী ঘোড়া সৃষ্টি করছেন, যে সব ঘোড়া আগামী দিনে এ সব অনাচার দূর করবে। তিনি আরো বলেন, রফিকুল ইসলাম দাদা ভাই’র কারণেই আমার লেখা। আমি প্রতিদিন সকাল বেলা লিখতে বসি। না লিখলে মনে হয় কিছু একটা মিস করেছি। তিনি বলেন, এখনতো প্রকাশদের তাড়াতেই লিখি।
আহবায়ক হাসান ফেরদৌসের পরিচালনায় লেখকের দায়িত্বরোধ নিয়ে দীর্ঘ প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কথা সাহিত্যিক সেলিনা হোসেন। সেতার ও তবলার সমন্বয়ে যন্ত্রানুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন ডেউজি প্যারাড়ি ও পিনাকপাণি গোস্বামী।
রানু ফেরদৌসের সঞ্চালনায় নারী লেখক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে তাসমিম হোসেন ও গুলতেনিক খান। আলোচনায় তারা লেখক জীবনের গল্প তুলে ধরেন। গুলতেকিন বলেছিলেন, তার দাদার কারণেই তার লেখালেখিতে আসা। তাসমিম হোসেন জানালের তার ইচ্ছার কথা।
নীরা কাদরির পরিকল্পনায় কবি শহীদ কাদরির কবিতা নিয়ে অনুষ্ঠান ‘কবিতাই আরাধ্য আমার’ অনুষ্ঠানে কবি শহীদ কাদরির কবিতা আবৃত্তি করেন ক্রিস্টিনা রোজারিও, ক্লারা রোজারিও, মিজানুর রহমান বিপ্লব, আবীর আলমগীর, এজাজ আলম ও হোসেন শাহরিয়ার তৈমুর। চমৎকার আবৃত্তির পাশাপাশি কবির শহীদ কাদরির বর্ণনা ছিলো অভূতপূর্ব। কবি শহীদ কাদরী প্রথম এধরণের কোন অনুষ্ঠান করলেন সকলের জন্য উন্মুক্ত স্থানে।
গানের ভেলায় সঙ্গীত পরিবেশন করেন প্রবাসের জনপ্রিয় শিল্পী শাহ মাহবুব।
দীপন (ফয়সাল আরেফিন দীপন) কক্ষে ছিলো লুৎফর রহমান রিটনের পরিচালনায় ছড়ার যাদু পাঠ। অংশগ্রহণ করেন আমিরুল ইসলাম, সৈয়দ আল ফারুক, মনজুর কাদের ও শাহ আলম দুলাল।
বই মেলা ঃ ঢাকায়, কলকাতা, নিউইয়র্ক ও বার্লিনে- কথোপকোথন অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ফরিদ আহমেদ। আলোচনায় ছিলেন নাজমুন নেসা পিয়ারী, মোঃ মনিরুল ইসলাম, আহমেদ মাহমুদুল হক, জহিরুল আবেদীন জুয়েল।
আমাদের রবীন্দ্র নাথ নিয়ে আলোচনা করেন রঞ্জন বন্দোপাধ্যায় ও কমলিনী মুখোপাধ্যায়। তারা রবীন্দ্র নাথের সঙ্গীত জীবন ও বাংলাদেশ প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনা করেন। জি এইচ আরজুর সঞ্চালনায় জেনোসাইন ১৯৭১ নিয়ে আলোচনা করেন ড. প্রদীপ রঞ্জন কর, সেলিনা হোসেন, ওবায়দুল্লাহ মামুন ও তাজুল মোহাম্মদ।
দ্বিতীয় দিনের সফল সমাপ্তি টানেন শিল্পী কমলিনী তার অনিন্দ্য সুন্দর রবীন্দ্র সঙ্গীত পরিবেশনার মাধ্যমে।
তৃতীয় দিন
তৃতীয় দিনের বই মেলার শুরু হয় বই মেলায় আসা কবি ও লেখকদের প্রাতরাশ ও আডডায়। এই আড্ডায় ছিলো মজার গল্প, অন্যের চরিত্র হননের ভালগার গল্প।
নতুন প্রজন্মের শিশু কিশোরদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন সেলিনা হোসেন, রামেন্দু মজুমদার, গুলতেকিন খান ও আহবায়ক হাসান ফেরদৌস।
সেলিনা হোসেন বলেন, এই উদ্যোগটি চমৎকার। এদের মধ্যেই আমাদের ভাষা এবং সংস্কৃতি বেঁচে থাকবে। সেই সাথে লেখক তৈরি হবে।
রামেন্দু মজুমদার বলেন, এই আয়োজনের সবচেয়ে বড় দিক হচ্ছে এখানে জন্ম নেয়া শিশু- কিশোরদের মধ্যে দীর্ঘ্য ২৫ বছর ধওে এই প্রতিযোগিতা চালু রাখা। তিনি অভিভাবকদের বাসায় বাংলা ব্যবহার এবং বাংলা গান শুনানোর আহবান জানান।
গুলতেকিন খান বলেন, আমি ছোট্ট ছোট্ট শিশুদের চিত্রকর্ম, গান এবং নাচ দেখে অভিভূত, মুগ্ধ। এই ধরনের অনুষ্ঠানের জন্য তিনি আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান।
কবি তমিজ উদ্দিন সঞ্চালনায় স্বরচিত কবিতা পাঠের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন আমিরুল ইসলাম, আলম সিদ্দিকী, আতিক কাজী, আতিকুর রহমান সালু, বাদিউজ্জামান নাসিম, কবি ফকির ইলিয়াস, হুমায়ুন কবির, জুলি রহমান, খান শওকত, খিজির হায়াত, খন্দকার জাহাঙ্গীর, কৌশিক সেন, লিয়াকত আলী, লুবনা কায়জার, লুতফা সাহানা, মোহিত কামাল, মাকসুদা আহমেদ, ইকবাল হাসান, সৈয়দ আল ফারুক, মনজুর কাদের, মিনহাজ আহমেদ সাম্মু, মিশুক সেলিম, এ কে এম আনাম, পপি শাহিনা, শাহীন ইবনে দিলওয়ার, শামস আল মমীন, স্বপন চক্রবর্তী, সৈয়দ মামুনুর রশিদ, তাহমিনা জামান প্রমুখ।
ইভান চৌধুরীর পরিচালনায় কবিতা আবৃত্তিতে অংশগ্রহণ করেন গোপন সাহা, ফারুক আজম, আনোয়ার হোসেন লাভলু ও জি এইচ আরজু।
ডানা ইসলামের উপস্থাপনায় নজরুলের গানের ওয়ার্কশপ নিয়ে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন বিশিষ্ট নজরুল বিশেষজ্ঞ সুজিত মোস্তফা। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, আমি যখন গান শুরু করি তখন আমার মা বলতেন কলকাতার ভাল গান শোন। কিন্তু মার কথা খুব একটা শুনতে চাইনি। কিন্তু গানগুলো যখন আমি শোনা শুরু করলাম তখন আমি নিজেকে আবিষ্কার করার চেষ্টা করলাম। তিনি বলেন, সবার আগে আমাদের মননকে তৈরি করতে হবে। মনন তৈরি করলেই আমরা একটি সুস্থ জাতি পাবো। তিনি বলেন, চক্রবাকের মাধ্যমে তিনি সারা বাংলাদেশে নজরুল সঙ্গীত তৈরির চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, নজরুল ৫১ ধরনের সুরে গান করেছেন এবং ১৫ হাজার নতুন শব্দ দিয়েছেন। রবীন্দ্র নাথ দিয়েছেন ২৫ হাজার শব্দ। তিনি বলেন, নজরুল হচ্ছেন আধুনিক বাংলা গানের জনক। তিনি আরো বলেন, অর্থের কাছে ভাল শিল্প এবং শিল্পী মরে যাচ্ছে। তিনি উদাহরণ হিসাবে বলেন, প্রথম ক্লোজআপ ওয়ানে আমিও বিচারক ছিলাম। আমরা বিচারকরা মিলে যে নাম চূড়ান্ত করেছিলাম তাদের সেরা ৪০-এও রাখা হয়নি। এই হচ্ছে বাস্তব অবস্থা। আমার এক ছাত্রকে বলা হচ্ছে নজরুল বাদ দিয়ে আধুনিক গান করার জন্য। এই হচ্ছে অবস্থা। ভালবাসা থেকে শিল্পী তৈরি হচ্ছে কম। সুজিত মোস্তফার পাশে ছিলেন নৃত্য শিল্পী মুনমুন আহমেদ।
নতুন বই নিয়ে জসীম মল্লিকের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন রঞ্জন বন্দোপাধ্যায়। অংশগ্রহণ করেন ঘটি বাহিনীর লেখক ড. প্রার্থ ব্যানার্জি, জীবন এতো ছোট কেন’র লেখক ডা. সিনহা আবুল মনসুর, মাহফুজুল বারী, মুস্তফা চৌধুরী, মিলি সুলতানা, শফিউল আলম, রোকেয়া জামান, খান শওকত, শামীম আল আমিন।
বই মেলার সবচেয়ে আকর্ষীণ ইভেন্ট ছিলো চ্যানেল আই/ মুক্তধারা বই মেলা ২০১৬ সাহিত্য পুরস্কা। এই পুরস্কার ঘোষণার পূর্বে হাসান ফেরদৌস বললেন, ভোটের মাধ্যমে কবির নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে। মেলা কমিটির ১১ জন সদস্য এই ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। জানা গেছে, প্রতিদ্বন্দ্বী দুই কবির মধ্যে ভোটের প্রার্থক্য ছিল ১। আমিরুল ইসলাম ভোটের ফলাফল ঘোষণা করেন। তিনি জানান, এই পুরস্কার পেয়েছেন কবি নির্মেন্দু গুণ। তিনি এই মেলায় নেই। ঢাকায় একটি লাইফ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাকে এই সম্মাননা তুলে দেয়া হবে। এই পুরস্কারের মূল্যমান ছিলো ২ লাখ টাকা। এই সময় স্টেজে ওঠে বিশিষ্ট রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টর আনোয়ার হোসেন ঘোষণা দেন তিনি আরো ৩ লাভ টাকা দেবেন। পুরস্কারের অর্থ দাঁড়াবে ৫ লাখ টাকা। কবি নির্মেন্দু গুণ ফেইস বুকে লিখে স্বাধীনতা পুরস্কার পেলেন, আর নিউইয়র্কে গোপন ভোটের মাধ্যমে ‘চ্যানেল আই-মুক্তধারা সাহিত্য পুরস্কার’ পেলেন।
বই মেলায় বিশেষ সম্মাননা জানানো হয় কথা সাহিত্যিক সেলিনা হোসেনকে। হাসান ফেরদৌসের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে ফরিদ আহমেদ বলেন, সেলিনা হোসেন হচ্ছেন বাংলাদেশের সৃশীনশীল ও সত্যবাদী একজন লেখক। তিনি এমনই একজন লেখককে যাকে পা ধরে শ্রদ্ধা জানাতে ইচ্ছে করে।ৎ
রামেন্দু মজুমদার বলেন, সেলিনা হোসেন এবং আমি লক্ষীপুরের মানুষ। আমরা একই সাথে রাজপথে আন্দোলন করছি। তিনি বাংলাদেশের একজন অসাধারণ কথা সাহিত্যিক।
সেলিনা হোসেন বলেন, আমি অভিভূত, মুগ্ধ। আপনাদের এই ভালবাসায় আমি ঋণি হয়ে গেলাম। সেলিনা হোসেনকে উত্তরীয় পরিয়ে দেন লেখক সাংবাদিক মনজুর আহমেদ।
আবার আসিব ফিরে জীবনান্দ দাসের কবিতায় আবৃত্তি করে রামেন্দু মজুমদার। আর নৃত্যে ও পোশাকে বাংলাদেশ ও প্রকৃতিকে অতুলনীয় ভাবে তুলে ধরেন নতুন প্রজন্মের ভার্সেটাইল শিল্পী সেমন্তী ওয়াহিদ।
রবীন্দ্র নাথের গানে রাগের ব্যবহার পরিবেশনায় ছিলেন পারমিতা মুমু ও শ্রুতিকনা দাস।
নিনি ওয়াহেদের সঞ্চালনায় গণতন্ত্র ও উন্নয়ন শীর্ষক আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন রামেন্দু মজুমদার, মোহাম্মদ জিয়াউল হক, ড. নুরন নবী, ড. নজরুল ইসলাম ও সেলিম রেজা নূর, তাকসিম খান।
বক্তারা বলেন, উন্নয়নের পূর্বশর্তই হচ্ছে গণতন্ত্র। তবে কোন গণতন্ত্র? মালয়েশিয়ার গণতন্ত্র না কি সিঙ্গাপুরের গণতন্ত্র। এই দুটো দেশে উন্নয়ন হয়েছে কিন্তু কোন গণতন্ত্র নেই। কোন কোন বক্তা বলেন, আমরা নির্বাচনী ব্যবস্থার সংস্কার চাই, দলীয় সংস্কার চাই। সুষ্ঠু নির্বাচন চাই। ভাল সংসদ সদস্য চাই। সেই সাথে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ চাই। সন্ত্রাস ও মৌলবাদ মুক্ত বাংলাদেশ চাই। অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ চাই। কোন কোন বক্তা বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সঠিক পথেই এগুচ্ছে। তিনি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেছেন। কেউ কেউ বলেন, আমরা শক্তিশারী বিরোধী দল চাই। বিরোধী দল ছাড়া বাংলাদেশ ভয়ঙ্কর বাংলাদেশ হতে পারে। এটা কারো কাম্য হতে পারে না। আবার ক্ষমতার লোভে সব দলই যুদ্ধাপরাধীদের নিয়ে রাজনীতি করেছে। কেউ জোট করে আন্দোলন করেছে, কেউ তাদের গাড়িতে বাংলাদেশের পতাকা তুলে দিয়েছে।
পন্ডিত রাম কানাই দাসের উপর শ্রদ্ধা নিবেদন করে সঙ্গীত পরিবেশন করে সঙ্গীত পরিষদ।
টেলিভিশন কী বাংলা সংস্কৃতি বিকাশে প্রতিবন্ধক শীর্ষক আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন লুৎফর রহমান রিটন, রামেন্দু মজুমদার, আমীরুল ইসলাম ও অধ্যাপক আব্দুস সেলিম। জামাল উদ্দিন হোসেনের পরিচালনায় আলোচবৃন্দ বলেন, টেলিভিশন কখনো সংস্কৃতি বিকাশের প্রতিবন্ধকতা ছিলো নাম বরং সহায়ক। এ ছাড়া টিভিগুলো অন্যদেশের সাথে আমাদের দেশের হিংসা-বিদ্বেষ কমিয়ে এনেছে। আব্দুল সেলিম বলেন, এক সময় ব্রিটিশরা আমাদের সংস্কৃতি শিখাতো। তারা বলতো আমাদের গ্রামের লোকজনের গায়ে কাপ থাকে না, পায়ে জুতা থাকে না, আমরা নাকি আনকালচার্ড কিন্তু এটাই হচ্ছে আমাদের কালচার, আসল সংস্কৃতি।
আমিরুল ইসলাম বলেন, টিভি হচ্ছে আমাদের জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। ফরিদুর রেজা সাগর আমাদের বলতেন টিভি হচ্ছে বাতাস বিক্রির কারখানা। সুতরাং সিরিয়াস হয়ে লাভ নেই।
রামেন্দু মজুমদার বলেন, টিভি বাদ দিয়ে এখন জীবনের কথা বলা যায় না। প্রযুক্তিকে এখন সংস্কৃতি বিকাশে কাজে লাগানো হচ্ছে। বিটিভির স্লোগান হচ্ছে মাটি ও মানুষের কথা বলে। আসলে এটি সত্য নয়। এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা। বিটিভি সরকার যা চায় তাই বলে, জনগণ যা চায় তা বলে না। বিটিভির সংবাদ অনির্ভরযোগ্য। সরকার চায় না, মিডিয়া স্বায়ত্বশাসিত হোক। সরকারের ভয় মিডিয়া স্বাধীন হলে তাদের সমস্যা হবে।
জীবন চৌধুরীর পরিচালনায় গানের ভেলা অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করেন জুঁই সাহা, মোহাম্মদ দেলওয়ার, শিখা আহমেদ ও নাহিদ নাজিয়া।
কবি ইকবাল হাসান ও হাসান ফেরদৌসের পরিচালনায় মুখোমুখী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন সেলিনা হোসেন, আনিসুল হক, রঞ্জন বন্দোপাদ্যায়, গুলকেতিন খান ও লুৎফর রহমান রিটন।
সেলিনা হোসেন বলেন, লেখকদের সব সময়ই ধরে কাজ করতে হয়। তারা সবকালকেই ধরেই লেখার চেষ্টা করেন। অনেক সময় যা হয়ে ওঠে ইতিহাস। তিনি উধাহরণ টেনে বলেন, বাংলাদেশের সমস্যা হচ্ছে ধর্ম, রাষ্ট্র এবং প্রাকৃতিক দুযোর্গ।
রঞ্জন বন্দোপাধ্যায় বলেন, বাংলাদেশ ছাড়া রবীন্দ্র নাথ রবীন্দ্র নাথ হতেন না। তিনি যদি রাজত্ব, সংসার, সন্তান ছেড়ে ১০ বছর পদ্মার পাড়ে নির্বাসনে না যেতেন তাহলে তিনি রবীন্দ্র নাথ হতেন না। এ জন্য আমারা বাংলাদেশের কাছে কৃতজ্ঞ।
গুলকেতিন খান বলেন, ছোট বেলা থেকেই আমার কবিতার প্রতি ভালবাসা ছিলো। আমার দাদার কারণেই আমি লেখালেখিতে এসেছি। আমার লেখার প্রেরণা ছিলো আমার দাদা।
আনিসুল হক বলেন, বাংলাদেশ এক অভূতপূর্ব পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। প্রথম আলোতে আমরা যারা আছি, শুধু এইটুকু বলতে পারি পানি মধ্যে আমরা ঢুবে আছি,পানির উপরে শুধু শ্বাস নেয়ার জন্য নাকটুকু রয়েছে। আমাদের গণতন্ত্র এবং মানবাধিকারের জন্য কাজ করতে হবে। ক্রিকেটে আমরা বিস্ময়বালক মুস্তাফিজকে পেয়েছি, আমাদের মেয়েরা ফুটবলে ভারতকে ৪ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হচ্ছে, ক্রিকেট সেরা দলগুলোকে হারাচ্ছে, সুতরাং এ জাতি পরাস্ত হতে পারে না। তবে এইটুকু আমি বলতে পারি, আগামী ২০ বছরে বাংলাদেশ শ্রেষ্ঠ দেশে পরিণত হবে।
লুৎফর রহমান রিটন বলেন, আমি কমলাপুর রেল স্টেশনসহ সারা বাংলাদেশের যে অসহায়, অনাথ, বস্ত্রহীন, চিকিৎসাহীন, লেখাপড়াহীন, খাদ্যহীন শিশুদের জন্য ছাড়া লিখতাম। তারা এখনো আছে, এমনকি আমি যে তাদের জন্য ছড়া লিখি সেটাও তারা পড়তে পারে না। এভাবেতো একটি জাতি এগুতে পারি না। দেশ এগিয়ে নিতে হলে তাদের সাথে নিয়েই এগুতে হবে।
ফেরদৌস সাজেদীনের সঞ্চালনায় গ্রন্থ পরিচয়ে অংশগ্রহণ করেন মাহফুজুল বারী, মুস্তফা চৌধুরী, কৌশিক সেন, ড. নজরুল ইসলাম। অতিথি লেখক ছিলেন রঞ্জন বন্দোপাধ্যায় ও আব্দুস সেলিম।
কবি ফকির ইলিয়াসের প্রাণবন্তু সঞ্চালনায় লিটিল ম্যাগাজিন ঃ একটি মূল্যায়ণ শীর্ষক আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ড. হুমায়ুন কবীর, ত্রিদিব কুমার চট্টপাধ্যায়, সৈয়দ মামুনুর রশীদ, মাহবুব লীলেন, মোহিত কামাল, শামস আল মমীম ও তমিজউদ্দিন লোদী।
টাইম টিভির পরিচালক আবু তাহেরের পরিচালনায় খসরুজ্জামান চৌধুরী স্মরণে একটি শ্রদ্ধাঞ্জলী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন সেলিনা হোসেন, ড. নুরুন নবী, এ বি এম সালেহ উদ্দিন, বাবুল আলমগীর ও তাহমিনা জামান। অনুষ্ঠানে সেলিনা হোসেন খসরুজ্জামান চৌধুরী কীভাবে ক্যান্সারের সাথে যুদ্ধ করে তার ৫টি গল্প নিয়ে একটি ইংরেজি বই প্রকাশ করেছিলেন সেই কষ্টের কাহিনী তুলে ধরেন। তাহমিনা জামান তার স্মৃতিচারণ করেন।
আহবায়ক মেলাকে সফল করার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করেন কিন্তু তিন দিনের মিলন মেলা যবনিকাপাত ঘটনা বাংলাদেশের জনপ্রিয় শিল্পী সামিনা চৌধুরী তার জনপ্রিয় গানগুলো পরিবেশন করে। হলে প্রচন্ড গরমে দর্শকরা ঘামালেও প্রিয় শিল্পীর গানগুলো শুনেছেন মনযোগ দিয়ে। শিল্পীকে ক্রেস্ট প্রদান করে নাসরিন চৌধুরী এবং ফুল দিয়ে অভ্যর্থনা জানান রোজি। তিন দিনের বই মেলার শব্দ নিয়ন্ত্রণে ছিলেন তানভীর শাহীন। শিল্পীদের বিভিন্ন যন্ত্রাংশে সহযোগিতা ছিলেন কীবোর্ডে মাসুদ, অক্টোপ্যাডে রীদ, তবলায় পিনাকপানি গোস্বামী, মন্দিরায় শহীদ উদ্দিন, গীটারে মির্জা মনু, ঢোলে শফিক মিয়া। তিনদিনের পুরো অনুষ্ঠানটি ব্যবস্থাপনায় ছিলেন নিনি ওয়াহেদ। আহ্বায়ক ছিলেন হাসান ফেরদৌস। অনুষ্ঠান সমন্বয়কারী ছিলেন সেমন্তী ওয়াহেদ। সহযোগিতায় ছিলেন সাবিনা হাই উর্বি ও আশরাফুল হাবিব চৌধুরী।
২৫তম বইমেলায় রেকর্ড
সংখ্যক ২২টি বইয়ের স্টল
বইমেলার ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে বাংলাদেশ থেকে যেসব প্রকাশক যোগ দিয়েছেন, বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির সভাপতি ও আকাশ পাবলিশার্স আলমগীর সিকদার লোটন, আহমেদ মাহমুদুল হক, মাওলা ব্রাদার্স, ফরিদ আহমেদ, সময় প্রকাশন, মেসবাহ উদ্দীন, অঙ্কুর ও চারদিক প্রকাশনা, মোঃ মনিরুল হক, অনন্যা, জহিরুল আবেদীন জুয়েল, ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশ, আবুল বাশার ফিরোজ, ধ্রুবপদ প্রকাশন, স্টুডেন্ট ওয়েজে-এর মাশফিক উল্লাহ তন্ময়, নালন্দার রেদওয়ানুর রহমান জুয়েল, ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশের জহীরুল আবেদীন জুয়েল, স¤্রাজ্ঞী প্রকাশনার সুলতানা রিজিয়া, ধ্রুবপদ-এর আবুল বাশার ফিরোজ শেখ, অনিন্দ্রপ্রকাশ এর আফজাল হোসেন, চন্দ্রাবতী পাবলিশার্স এর পক্ষে আহমেদ মুসা বইমেলায় যোগ দেন। পশ্চিমবঙ্গ থেকে যোগ দিয়েছেন কলকাতা বইমেলার সাধারণ সম্পাদক ও পত্রভারতীর স্বত্বাধিকারী ত্রিদিব কুমার চট্টপাধ্যায় ও সম্পর্ক পাবলিশাস এর সুনন্দন রায় চৌধুরী। আমেরিকা থেকে যারা বইমেলায় স্টল করেন তাদের মধ্যে ছিল মুক্তধারা-নিউইয়র্ক, ইভানজ্যুলিক্যাল বেঙ্গলী চার্চ, ঘুংঘুর, প্রীতম প্রকাশ, স্বপ্নশিকারী, শ্রীচিন্ময় সেন্টার, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও আমেরিকার মূলধারার একটি প্রকাশনা সংস্থা। মোট ২৪টি বইয়ের পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা ২৫তম বইমেলায় অংশগ্রহণ করে। এছাড়া কলকাতা থেকে ১টি তিয়ারা বুটিক এবং বাংলাদেশ থেকে একটি আব্বাস বুটিক এবং আমেরিকার সাইদা বুটিক ও সোমা বুটিক নিয়ে মোট ৪টি শাড়ী কাপড়ের স্টল হয়। বাংলাদেশের প্রাণ আরএফএল, নিউইয়র্কের ওয়েলকেয়ার, মেয়র অফিস, কম্পিউটার প্রতিষ্ঠান টেকনোসফট এবং একটি আট-এর প্রদর্শনীসহ মোট মেলায় ৩২টি স্টল স্থান পায়।
পঁচিশ বছর পূর্তির অনুষ্ঠানে যারা স্পন্সর করেছেন তারা হলো চ্যানেল আই, প্রাণ আরএফএল, রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টর আনোয়ার হোসেন, জাগো নিউজ টুয়েন্টি ফোর ডটকম। অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান-এ সহযোগিতা করেন মোহাম্মদ রাশেদ। শিল্পী সামিনা চৌধুরীর অনুষ্ঠানটি সহযোগিতা করেন লিগ্যাল এসিস্ট্যান্ট নাসরিন আহমেদ। জ্যাকসন হাইটসর মেরিট কাবাব, ইত্যাদি, এবং জ্যামাইকার সাগর রেস্টুরেন্ট, এবং ঢাকা ফুড অতিথিদের আপ্যায়নে খাবার সরবরাহ করেছে।
শিশু-কিশোরদের বিভিন্ন
প্রতিযোগিতার ফলাফল
বাংলা লিখন প্রতিযোগিতা
বাংলা প্রতিযোগিতা ক বিভাগ (৫ থেকে ৮ বছর) প্রথম পুরস্কার প্রতিযোগিতা স্মরণীকা চক্রবর্তী, দ্বিতীয় পুরস্কার পেয়েছে যৌথভাবে জুনায়রা সাবাহ রাওদা ও শৈলী মন্ডল। তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছে মুন ভাই। খ বিভাগে (৯ থেকে ১২ বছর) প্রথম পুরস্কার লিওনা মুহিত, দ্বিতীয় পুরস্কার পেয়েছে নাহরীন ইসলাম ও তৃতীয় হয়েছে শিহান জুহায়ের। বিচারক ছিলেন: মঞ্জুর কাদের ও এবিএম সালেহউদ্দিন।
ছড়া গান প্রতিযোগিতা
ক বিভাগে (৫ থেকে ৮ বছর) ছড়া গান প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করে প্রমিত আচার্য্য, দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে মুন জাবিন হাই। তৃতীয় স্থান অর্জন করে স্মরণীকা চক্রবর্তী। খ বিভাগে (৯ থেকে ১২ বছর) প্রথম বিভাগ অর্জন করে হাফসা শাহরুন, দ্বিতীয় নাবিলা হামিদ ও তৃতীয় স্থান অর্জন করে লিওনা মুহিত। গ (১৩ থেকে ১৬ বছর) বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করে প্রার্থনা নাথ, দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে তাসফিয়া রুবায়েরত ও তৃতীয় স্থান অর্জন করে জেরিন মাইসা। এ প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন: জাবেদ ইকবাল ও তানভীর শাহীন।
আবৃত্তি প্রতিযোগিতা
ক বিভাগে (৫ থেকে ৮ বছর) প্রথম স্থান অর্জন করে জনম সাহা। দ্বিতীয় স্থান প্রমিত মহান আচার্য্য ও তৃতীয় স্থান অর্জন করে স্মরণীকা চক্রবর্তী। খ বিভাগে (৯ থেকে ১২ বছর) প্রথম স্থান অর্জন করে জনম সাহা, দ্বিতীয় লিওনা মুহিত ও তৃতীয় স্থান অর্জন করে নাবিলা হামিদ। গ বিভাগে (১৩ থেকে ১৬ বছর) প্রথম স্থান অর্জন করে তাসফিয়া রুবাইয়াৎ, দ্বিতীয় জেরিনা মাইসা ও তৃতীয় স্থান অর্জন করে নূহা কাউসার। এ প্রতিযোগিতায় বিচারকদ্বয় হলেন মিজানুর রহমান বিপ্লব ও ক্লারা রোজারিও।
চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা
ক বিভাগে (৫ থেকে ৮ বছর) চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করে প্রমিত মোহন আচার্য্য, দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে শুভশ্রী সাহা ও তৃতীয় স্থান অর্জন করে মুন জাবিন হাই। খ বিভাগে (৯ থেকে ১২ বছর) নাইম আজান, দ্বিতীয় রুশমিকা নাবিহা ও তৃতীয় স্থান অর্জন করে সিহান জুহায়ের। গ বিভাগে (১৩ থেকে ১৬ বছর) প্রথম স্থান অর্জন করে সঙ্গীতা চক্রবর্তী, দ্বিতীয় অমৃতা রায় ও তৃতীয় স্থান অর্জন করে তাসনিয়া মুসকান। এ প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন আকতার আহমেদ রাশা ও আজিজুর রহমান তারিফ।
সঙ্গীত প্রতিযোগিতা
ক বিভাগে (৫ থেকে ৮ বছর) রবীন্দ্র-নজরুল সঙ্গীত প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করে স্মরনীকা চক্রবর্তী, দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে মুন জেবিন হাই ও তৃতীয় স্থান অর্জন করে আদিয়া আফরিন। খ বিভাগে (৯ থেকে ১২ বছর) আধুনিক-ফোক প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করে লিওনা মুহিত। দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে দেবিপ্রিয়া পোদ্দার ও তৃতীয় স্থান অর্জন করে লিওনা মুহিত। গ গ্রুপে শাস্ত্রীয় সঙ্গীত প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করে জেরিন মাইশা ও দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে অমৃতা রায়। বিচারক ছিলেন শহীদ উদ্দীন ও সেমন্তী ওয়াহেদ।
নিউইয়র্কে বইমেলার ২৫ বছর উপলক্ষ্যে আদনান সৈয়দের সম্পাদনায় একটি আকর্ষণীয় স্মারক গ্রন্থ প্রকাশ করা হয়। গ্রন্থটি প্রকাশ করেছে নিউইয়র্ক মুক্তধারা ফাউন্ডেশন।

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Situs Streaming JAV