নিউইয়র্কে “দায়িত্বশীল নাগরিক-সমৃদ্ধ দেশ” স্লোগানে ইউএসএ সেন্টার ফর এনআরবি’র আন্তর্জাতিক সেমিনার অনুষ্ঠিত (ভিডিও)
https://www.facebook.com/USANewsNY/videos/307608823462817/
https://www.youtube.com/watch?v=yVrAIBBVqaA&t=7s
ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম : নিউইয়র্কে “দায়িত্বশীল নাগরিক-সমৃদ্ধ দেশ” স্লোগানে ইউএসএ সেন্টার ফর এনআরবি’র আন্তর্জাতিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় সময় গত ১৩ জুন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কে কুইন্সের হোটেল হলিডে ইনে ওয়ার্ল্ড কনফারেন্স সিরিজ ২০১৯ অনুষ্ঠিত হয়।

সেন্টার ফর এনআরবি’র চেয়ারপারসন এমএস শেকিল চৌধুরীর সভাপতিত্বে সেমিনারে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল সাদিয়া ফয়েজুননেসা, ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের মিনিস্টার (ইকোনোমিক) শাহাব উদ্দিন পাটোয়ারী, এনআইডি উইং-এর মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম এনডিসি পিএসসি, খান’স টিউটোরিয়ালের চেয়ারপারসন নাঈমা খান, বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সভাপতি নার্গিস আহমেদ, সাংবাদিক ফজলুর রহমান প্রমুখ।
মোসরেকা আফরোজে খাঁননের পরিচালনায় এ সেমিনারে প্রবাসীদের সমস্যা ও সম্ভাবনার প্রস্তাব তুলে ধরেন মূলধারার রাজনীতিক এ্যাটর্নী মঈন চেীধূরী, বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ এসোসিয়েশন ‘বাপা’র সেক্রেটারি সার্জেন্ট হুমায়ূন কবির, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মুকিত চৌধুরী, কমিউনিটি নেতা আবদুস সহিদ, সাংবাদিক আবু তাহের, সমাজকর্মী প্রফেসর হুসেন আরা, সাংবাদিক জয়নাল আবেদীন, কমিউনিটি এক্টিভিস্ট ইফজাল চৌধুরী প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে নিউইয়র্ক প্রবাসী কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষবিদ, শিল্পী, সংস্কৃতিকর্মী, সমাজসেবক ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াতের পর সেমিনারের শুরুতে বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট মো. আব্দুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও কমনওয়েলথ কুইনের সেমিনার উপলক্ষে দেয়া বাণী পাঠ করে শোনানো হয়।

সেমিনারে সেন্টার ফর এনআরবি’র চেয়ারপারসন এমএস শেকিল চৌধুরী বলেন, দেশ ও প্রবাসের ব্যবসায়ীদের মধ্যে বন্ধুত্ব ও পেশাদার সম্পর্ক স্থাপন করাই এ সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য। বাংলাদেশে শিল্প বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে গত কয়েক বছর ধরে বিশ্বব্যাপী বিশেষ সেমিনার আয়োজন করছে এনআরবি। তিনি বলেন, দেশের ব্যবসায়ী, শিল্পপতিসহ বিশিষ্ঠজনেরা এতে অংশ নিচ্ছেন। ইউএসএ সম্মেলনটি এনআরবির ‘বিশ্ব সম্মেলন সিরিজ-২০১৯’ এর একটি অংশ।
বাংলাদেশের শিল্পক্ষেত্রের নানা অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরেন সেকিল চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ এক সম্প্রীতির দেশ। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে এখন দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হচ্ছে। ২০৩০ সালে বিশ্বের ৩০তম বৃহৎ অর্থনৈতিক দেশে পরিণত হবে। বাংলাদেশের বৈদেশিক আয়ের ৬৭ শতাংশই এখন আসছে এনআরবির অর্থর মাধ্যমে।
তিনি প্রবাসে বসবাসরত সকল বাংলাদেশিকে বৈধ পথে রেমিটেন্স প্রেরণ সহ দেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে বলেন, আপনার দেশে বিনিয়োগ করুন। বর্তমান সরকার প্রবাসীদের বিনিয়োগে উৎসাহ প্রদান করছে। প্রবাসী বিনিয়োগ সৃষ্টিতে ব্যাপক কাজ করছে। তিনি আরো বলেন, সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে নিরাপদ, সুষ্ঠূ ও নিয়মতান্ত্রিক অভিবাসন ব্যবস্থা তৈরি করা। যা প্রবাসী বাংলাদেশি অভিবাসীদের কল্যাণ ও অধিকার রক্ষা করবে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের সার্বিক কল্যাণে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। প্রবাসীদের কল্যাণে সর্ব প্রকার সাহায্য সহযোগিতার জন্য সরকার প্রস্তুত রয়েছে। তিনি বলেন, গত বছর প্রবাসীরা দেশে ৪২৯ বিলিয়ন ডলার পাঠিয়ে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে বিশেষ অবদান রেখেছেন। যার পরিমাণ সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত উন্নয়ন সহায়তার তিনগুণেরও বেশি। বেসরকারিভাবে অর্থনৈতিক স্থিতি অর্জনের পথে এই রেমিটেন্সের ভূমিকা অপরিসীম। তিনি প্রবাসীদের জন্য দেশে বিনিয়োগ-বান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা এবং তাদের পাঠানো রেমিটেন্সের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। রেমিটেন্সের নিরাপত্তা বিধান, অভিবাসীদের অধিকার সংরক্ষণ, বৈষম্য দূরীকরণ, সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং উন্নয়নের মূলধারায় অভিবাসী কমিউনিটিকে সম্পৃক্ত করতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, বহু সম্ভাবনার দেশ বাংলাদেশ শিগগিরই দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রভাবশালী দেশে পরিণত হতে যাচ্ছে। প্রবাসীদের দেশে সংগঠিত হবার জন্য উৎসাহ প্রদান করে তিনি আরো বলেন, প্রবাসী আয়ের প্রবাহের প্রভাব দেশের অর্থনীতির ব্যাষ্টিক ও সামষ্টিক উভয় ক্ষেত্রেই বৈচিত্রময়। ব্যষ্টিক অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে, প্রবাসী আয় প্রবাহ সরাসরি আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে পারিবারিক বাজেট প্রতিবন্ধকতা হ্রাস করছে। এই প্রবাসী আয় দ্বারা অভিবাসী পরিবার অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভোগ ব্যয় পূরুণ করছে। প্রবাসী আয় বৃদ্ধি এবং তার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। কারণ এসডিজি লক্ষ্যসমূহ অর্জনের পাশাপাশি ভিশন ২০২১ ও ২০৪১ বাস্তবায়নে এবং দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে ধারাবাহিক প্রবাসী আয় অর্জনের কোনো বিকল্প নেই।
কনসাল জেনারেল সাদিয়া ফয়জুন্নেসা প্রবাসী বাংলাদেশীদের বিশেষ করে নতুন প্রজন্মকে দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাথে সম্পৃক্ত রাখা এবং বাংলাদেশ সম্পর্কে বিদেশীদের ক্রমবর্ধমান আগ্রহের বিষয়টি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সব রকমের সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। কনসাল জেনারেল আরো বলেন, বাংলাদেশী-আমেরিকান নাগরিকদের কল্যাণের জন্য একযোগে কাজ করার লক্ষ্যে সরকারের পক্ষ সব ধরনের চলমান সহায়তা অব্যাহত থাকবে।
এন আইডি ডিজি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাইদুল ইসলাম দেশে এনআইডি কিভাবে বিতরণ হচ্ছে, স্মার্টকার্ড কিভাবে কাস্টমাইজ হচ্ছে, আগামীতে কী করা হবে সেসব তুলে ধরেন। এ ছাড়া ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, বিদেশগমনসহ ইত্যাদি সেবা প্রাপ্তিতে স্মার্টকার্ডের সুবিধার বর্ণনা দেন তিনি।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম বলেন, স্মার্টকার্ড দিয়ে বিদেশ ভ্রমণের সুবিধা বাস্তবায়ন করবে সরকার। শুরুতে শুধু দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোয় চালু করার বিষয়টি পরিকল্পনায় ছিল। কিন্তু এখন সিদ্ধান্ত হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার বাইরেও সারা বিশ্বের অন্যান্য দেশে এ সুবিধা চালু করার।
তিনি আরও বলেন, আমরা দেখছি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কীভাবে স্মার্ট কার্ডের মধ্যে সংরক্ষিত সার্ভারের তথ্য ব্যবহার করে মানুষকে চিহ্নিত করা যায়, সেই কাজ এগিয়ে চলছে। যেহেতু বিভিন্ন দেশের সঙ্গে লিংক করার বিষয় রয়েছে, সেই বিষয়টি নিয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে, তারা কীভাবে এটি ব্যবহার করবে। একটি নতুন বিষয় শুরু করতে অনেক চ্যালেঞ্জ আসে। প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনের কাজ শুরু হওয়ার পর এই বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করবে সরকার।
পতিনি জানান, ইসি প্রবর্তিত স্মার্টকার্ডে পাঁচটি স্তরে ২৫টি সিকিউরিটি ফিচার আছে। এ ছাড়াও এ কার্ডের মধ্যে সংরক্ষিত আছে নাগরিকের সম্পূর্ণ বায়োডাটা। এর বাইরে কার্ডের ভেতরে একটি অংশে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ, জাতীয় সংগীত, বাংলাদেশের মানচিত্র, শাপলা ফুল, আলট্রাভায়োলেট রে, চোখের আইরিশ, বায়োমেট্রিক, ফিঙ্গার প্রিন্টসহ আরও কয়েকটি ফিচার রয়েছে। এছাড়া একজন মানুষের ৩১টি ডাটা আছে। এই ডাটাগুলো বিশেষ মেশিনে কার্ড পাঞ্চ করলেই দেখা যায়।
দীর্ঘমেয়াদি টেকসই কার্যক্রম ও রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও সম্মান বিবেচনায় বাংলাদেশ গত বছরের ২৭ আগস্ট থেকে দেশীয় প্রযুক্তি, নিজস্ব জনবলের মাধ্যমে স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র উৎপাদন করছে নির্বাচন কমিশনের এনআইডি উইং।
মিনিস্টার (ইকোনোমিক) শাহাব উদ্দিন পাটোয়ারী, প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, প্রবাসীদের অসাধারণ ক্ষমতা রয়েছে। দেশকে এগিয়ে নিতে তাদের অবদান অপরিসীম। বিশ্বে বাংলাদেশিরা সম্মানের জায়গা করে নিয়েছেন। বাংলাদেশের বিনিয়োগবান্ধব নীতির ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেছে। বিনিয়োগকারীদের সুবিধার জন্য প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে ১০০টি স্পেশাল ইকোনোমিক জোন গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন। এগুলোর বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে চলছে।
প্যানেল বক্তারা সরকারের বিনিয়োগ বান্ধব বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন। সরকার প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য নিয়ে এসেছে নিরাপদ বিনিয়োগের সুযোগ। তারা নিরাপদ বিনিয়োগের সুযোগ নিতে বাংলাদেশিদের প্রতি আহ্বান জানান। তারা বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। রেমিটেন্স যোদ্ধাদের অব্যাহত প্রচেষ্টায় দেশ এগিয়ে যাচ্ছে।
সেমিনারে বাংলাদেশি-আমেরিকানরা বলেন, তারা দেশে বিনিয়োগ করতে চান। কিন্তু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, নিরাপত্তাহীনতা এবং অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতাই তাদের বিনিয়োগে বড় বাধা। প্রশাসন, আমলা, পুলিশ সহ যারা কী-পয়েন্টে আছেন তাদের দুর্নীতিমুক্ত এবং বিনিয়োগবান্ধব হতে হবে। তাহলেই প্রত্যাশিত বিনিয়োগ এবং উন্নতি সাধন সম্ভব হবে।
- নিউইয়র্কে চিটাগাং অ্যাসোসিয়েশন অফ আমেরিকা’র সংবাদ সম্মেলন: সংগঠনের বিরুদ্ধে চলমান মামলার নিষ্পত্তি নি হওয়া পর্যন্ত কোন নির্বাচন নয়
- যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশীদের মূলধারার ব্যবসা-বাণিজ্য রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. তিতুমীরের
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সেমিট্রির কবরে মরদেহ সমাহিত করা যাবে ১ জুলাই থেকে
- যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের জন্যে বাংলাদেশ এখন সবচেয়ে কার্যকর ও উপযোগী দেশ: প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতি ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. তিতুমীর
- নিউ জার্সির আটলান্টিক সিটিতে মেয়র মার্টি স্মল সিনিয়র স্কলারশিপ প্রোগ্রাম, আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৫ জুন
- নিউইয়র্কে মুনার ঈদ পুনর্মিলনী
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশী ডক্টর ফোরাম অব নর্থ আমেরিকা’র উদ্যোগে ডা. ডোনার ও ডা. হারুন সংবর্ধিত
- নিউইয়র্ক স্টেট ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারী নির্বাচনে এসেম্বলিম্যান প্রার্থী জাকির চৌধুরীর ‘কমিউনিটি র্যালি’