নিউইয়র্কে নৈশভোজ সভায় অধ্যাপক আজিজ : দেশের দলাদলি প্রবাসে নয়
সালাহউদ্দিন আহমেদ : (ইউএনএ) : নিউইয়র্ক থেকে : শত বছরের ঐতিহ্যবাহী ‘ফ্লাওয়ার অব দ্যা ইষ্ট খ্যাত’ সিলেট সরকারী মুরারী চাঁদ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের (এমসি কলেজ) সাবেক অধ্যক্ষ ও মেট্রোপলিটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুল আজিজ দেশের দলাদলি প্রবাসে না এনে সকল প্রবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থেকে দেশ ও জাতির কল্যাণকর কাজে আত্বনিয়োগ করার আহ্বান জানিয়েছেন। অপরদিকে এমসি কলেজের প্রাক্তন ছাত্ররা কলেজটিকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যলয় করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবী জানিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্র সফররত অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুল আজিজ-এর সম্মানে এমসি কলেজের প্রাক্তন ছাত্রদের পক্ষ থেকে ব্রঙ্কসে আয়োজিত এক নৈশভোজ সভায় উপরোক্ত দাবী জানানো হয়। গত ২৮ মে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় স্থানীয় নিরব রেষ্টুরেন্টে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতিসংঘের বাংলাদেশ মিশনে নিযুক্ত স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ কে আব্দুল মোমেন ও নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেটে নিযুক্ত কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম এবং সাবেক জাতীয় ক্রীড়াবীদ সাঈদুর রহমান ডন। সভায় সভাপতিত্ব করেন এমসি কলেজের প্রাক্তন ছাত্র, কমিউনিটি নেতা তোফায়েল চৌধুরী। 
সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন এমসি কলেজেন প্রাক্তন ছাত্র ও স্থানীয় বাংলাবাজার মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা আবুল কাশেম ইয়াহিয়া। সভায় এমসি কলেজের প্রাক্তন ছাত্রদের মধ্য থেকে সংক্ষিপ্ত স্মৃতিচারণ বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক খলিলুর রহমান, ফয়জুর রহমান ফটিক, শাহীন আজমল, আব্দুর রহীম বাদশা, আব্দুল কাইয়ুম ও সাবেক জিএস সাখাওয়াত আলী।
সভায় আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সাপ্তাহিক পরিচয় সম্পাদক নাজমুল আহসান, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের অন্যতম পরিচালক, সাংবাদিক/টিভি উপস্থপক মঞ্জুরুল ইসলাম, ব্রঙ্কস ইউনাইটেড বাংলাদেশ ক্লাবের সভাপতি কৃষিবীদ আব্দুস সবুর ও একুশে টিভির প্রতিনিধি সাখাওয়াত হোসেন সেলিম। সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন এবং সভাটি পরিচালনা করেন সাবেক ছাত্রনেতা গোলাম রব্বানী। 
অনুষ্ঠানে এমসি কলেজের প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীদের পক্ষ থেকে তাদের প্রিয় অধ্যাপক আব্দুল আজিজকে পৃথক পৃথকভাবে এক গুচ্ছ ফুল দিয়ে অভিনন্দিত করা হয়। এছাড়া বিশিষ্ট ব্যবসায়ী বিলাল চৌধুরী অধ্যাপক আজিজকে বিশেষ উপহার প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানে অধ্যাপক আব্দুল আজিজ নিজেকে এমসি কলেজের তিন প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, আমি এই কলেজের ছাত্র ছিলাম, পরবর্তীতে শিক্ষক ছিলাম এবং পরবর্তীতে কলেজটির অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেছি। তিনি বলেন, এমসি কলেজ শুধু সিলেট বা বাংলাদেশ নয়, কলেজটি সমগ্র পাকিস্তানের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তিনি বলেন, ১৪৪ একর জমির উপর কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হলেও সরকারী হিসেবে এর জায়গার পরিমান ১১২ একর। কলেজটির অনেক জমি বেহাত হয়ে গেছে। তিনি বলেন, এরশাদ সরকারের সময় কলেজটি বিশ্ববিদ্যালয় করার উদ্যোগ নেয়া হলেও তৎকালীন সামরিক সরকারের বিরোধীতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। তিনি দু:খ ও ক্ষোভের সাথে বলেন, কলেজটি আজ সার্বিকভাবে অবক্ষয়ের শিকার। এই অবস্থা থেকে কলেজটি রক্ষার জন্য সকল মহলের ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগ প্রয়োজন। 
মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি চারণ করে অধ্যাপক আজিজ বলেন, সেই সময় আমাদের ছাত্র তোফায়েল চৌধুরী (অনুষ্ঠানের সভাপতি) আমাদের খবর না দিতো তাহলে আমিসহ কলেজটির অনেক শিক্ষক হত্যার শিকার হতো। তাদের জন্য আমরা নতুন জীবন পেয়েছি।
এমসি কলেজের প্রাক্তন ছাত্র ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, শিক্ষা-দীক্ষায় সিলেট পিছিয়ে পড়ার খবরে আমরা মর্মাহত, ব্যথিত। যেকোন মূল্যে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে। তিনি বলেন, কোয়ালিটি সম্পন্ন শিক্ষার জন্য অধ্যাপক আজিজের মতো কোয়ালিটি সম্পন্ন শিক্ষক চাই।
কনসাল জেনারেল মনিরুল ইসলাম বলেন, শিক্ষকতা সুন্দর ও মহান পেশা। আধ্যাপক আজিজদের মতো শিক্ষক এই পেশার মর্যাদা বৃদ্ধি করেছেন। আমি সিলেটের সন্তান না হলেও কুমিল্লা বোর্ডের ছাত্র হিসেবে গর্ব অনুভব করছি এই জন্য যে অধ্যাপক আজিজ কুমিল্লা বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিরেন। ১৯৮০ সালে এই বোর্ড থেকে তিনি এসএসসিতে প্রথম স্থান অধিকার করেন বলে জানান।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বিশেষ করে এমসি কলেজের প্রাক্তন ছাত্ররা তাদের সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে এমসি কলেজ জীবনের স্মৃতি তুলে ধরেন এবং তাদের প্রিয় শিক্ষক/অধ্যক্ষ অধ্যাপক আজিজের কৃতির কথা তুলে ধরেন। বক্তারা বলেন, শুধু সিলেট নয়, বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী এবং পুরাতন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এমসি কলেজ অন্যতম। যুগ যুগ ধরে কলেজটি অবহেলিত। কলেজটি আজো বিশ্ববিদ্যালয় না হওয়ার জন্য তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বক্তারা বলেন, সরকারের অর্থমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী আমাদের সিলেটের। তারপরও কলেজটি অহেলিত। তারা অবিলম্বে কলেজটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবী জানান। 
অনুষ্ঠানে বক্তারা অধ্যাপক আজিজের দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের নানা কৃতির কথা তুলে ধরে বলেন, অধ্যাপক আজিজ একজন আদর্শ শিক্ষক। তিনি ছিলেন ছাত্রদের অভিভাবক, পিতৃতুল্য ‘মডেল শিক্ষক’। তার সকল মেধা, যোগ্যতা দেশ ও জাতির জন্য নিবেদিত। বক্তারা তাঁর সুস্বাস্থ্য দীর্ঘায়ু কামনা করেন।
চমৎকার আয়োজনে ব্যতিক্রমী এই অনুষ্ঠানে এমসি কলেজের প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীসহ কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিতিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিবর্গ ছিলেন ডা. শাহানারা বেগম, সাবেক জাতীয় ক্রীড়াবীদ শাহজালাল মমিন, কমিউনিটি নেতা রিয়াজ উদ্দিন কামরান, জুনেদ আহমেদ চৌধুরী, আনোয়ার হোসেন, বিশিষ্ট রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী জাকির খান, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের অন্যতম পরিচালক প্রিন্স রহমান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শাহাদৎ হোসেন, জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির সিনিয়র সহ সভাপতি ও বিশিস্ট ব্যবসায়ী বিলাল চৌধুরী, ফ্রেন্ডস সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক এএফ মিসবাহউজ্জামান, গোলাম আহমেদ মিঠু, পাশা, সাচ্চু প্রমুখ। অনুষ্ঠানটির প্রধান আয়োজক ছিলেন আব্দুর রহিম বাদশা ও গোলাম রব্বানী। 
উল্লেখ্য, অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুল আজিজ বর্তমানে সিলেটের মেট্রোপলিটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলরের (ভিসি) দায়িত্ব পালন করছেন। ৯৩৬ সালের ৩১ মার্চ সিলেটের ওসমানীনগরের কুরুনা গ্রামে জন্ম গ্রহণকারী অধ্যাপক আজিজ ১৯৫২ সালে মেট্রিকুলেশন পাশ করেন। এরপর ১৯৫৪ সালে কৃতিত্বের সাথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ অনার্স, ১৯৬৬ সালে লিসেস্টার ইউনিভার্সিটি, ইউকে থেকে অর্থনীতিতে মাস্টার্স ডিগ্রী অর্জন করেন। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, লন্ডন ইউনিভার্সিটি থেকে আরো ডিগ্রী প্রাপ্ত হন। ১৯৫৬ সালে সিলেটের মদনমোহন কলেজের অর্থনীতির শিক্ষক হিসেবে তাঁর কর্ম জীবন শুরু হয় (১৯৫৬-১৯৬০)। এরপর ১৯৬০-৬২ পাবনার এডওয়ার্ড কলেজ এবং পরবর্তীতে ইস্ট পাকিস্তান জুনিয়র এডুকেশনাল সার্ভিসে যোগ দিয়ে ১৯৬২ সালে রাজশাহী কলেজ ও ১৯৬২-৬৪ সালে ঢাকা কলেজে শিক্ষকতা করেন। ১৯৬৪ সালে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে এমসি কলেজে যোগ দেন এবং ১৯৭৭ সালে সহযোগী প্রফেসর এবং ১৯৮০ সালে প্রফেসরের স্বীকৃতি লাভ করেন। পরবর্তীতে নোয়াখালী কলেজে (১৯৮১-৮২), নরসিংদী কলেজে (১৯৮২-৮৪) এবং এমসি কলেজে (১৯৮৪-৮৭) অধ্যক্ষের দ্বায়িত্ব পালন করেন। তিনি রাজশাহী বোর্ডে (১৯৮৭-১৯৯০) এবং কুমিল্লা বোর্ডে (১৯৯০-৯৩) চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। এরপর সরকারী চাকুরী থেকে অবসর নেয়ার পর শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিষ্টার হিসেবে যোগ দেন এবং পরবর্তীতে একই বিশ্ববিদ্যালয়ে খন্ডকালীন শিক্ষকতা (১৯৯৮-৯৯), ট্রেজারার (১৯৯৯-২০০৩) এর দায়িত্ব পালন করার পর ২০০৯ সালে সিলেটের মেট্রোপলিটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার হিসেবে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি মেট্রোপলিটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি’র দায়িত্ব পালন করছেন। অর্থনীতি বিষয়ে তাঁর লেখা সাতটি গ্রন্থ ট্রেক্স বুক হিসেবে পাঠ্য। তিনি যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও ভারত, ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড সফর করেছেন
- Bangladesh Calls for Stronger UNDP Support on Climate Finance and Smooth LDC Graduation
- জলবায়ু অর্থায়ন ও এলডিসি উত্তরণে ইউএনডিপি’র অধিকতর সহায়তার আহ্বান বাংলাদেশের
- নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে কমার্শিয়াল পার্কিং প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ
- যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আবু সাইদ আহমদ কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-সভাপতি মনোনীত
- নিউইয়র্ক সিটির কমিউনিটি অ্যাকশন বোর্ড এর প্রতিনিধি নির্বাচিত আব্দুস শহীদ
- Low-Income, Rural Students Face Higher Dropout Risk Due to English Gaps and Cultural Shock, BUBT Study Finds
- বাংলাদেশ ল’ সোসাইটি ইউএসএ’র সভাপতি ওয়াহিদ ও সাধারণ সম্পাদক কামালকে অব্যাহতি; ব্যারিষ্টার আকমাম ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও শাবু ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে
- SUSPENDED ATTORNEY CHARGED WITH GRAND LARCENY FOR STEALING MORE THAN $1 MILLION FROM BORROWERS, DIME COMMUNITY BANK