Saturday, 27 June 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে বহির্বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম করবস্থান স্কচটাউন বাংলাদেশ সেমিট্রির যাত্রা শুরু নিউইয়র্কে মুন্সিগঞ্জ-বিক্রমপুর অ্যাসোসিয়েশনের বর্ণিল অভিষেক Bangladesh Calls for Stronger Support for LDCs Ahead of Doha Midterm Review নিউইয়র্কে জাতিসংঘে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য আরও আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার অঙ্গীকার State Minister for Foreign Affairs Urges Stronger Global Action to Protect Civilians, Uphold Humanitarian Law and Support Rohingya Repatriation
সব ক্যাটাগরি

নিউইয়র্কে বাংলাদেশি কূটনীতিক শাহেদুল ইসলামকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় ঢাকার ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 9 বার

প্রকাশিত: June 14, 2017 | 12:12 AM

ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম ডেস্ক রিপোর্ট : গৃহকর্মী নির্যাতন এবং প্রাপ্য মজুরি থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগে নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ মিশনের ডেপুটি কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ শাহেদুল ইসলামকে আটকের ঘটনায় ক্ষুব্ধ ঢাকা। বাংলাদেশে থাকা ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত  জোয়েল রিফম্যানকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডেকে ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। গতকাল ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব মাহবুব-উজ-জামান চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সের সঙ্গে কথা বলেন এবং ঢাকার অসন্তোষ প্রকাশ করেন। দূতাবাসের রাজনৈতিক বিভাগের প্রধান অ্যান্দ্রিয়া রদ্রিগেজও এ সময় রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ছিলেন। রাতে মন্ত্রণালয়ের আমেরিকাস অনুবিভাগের মহাপরিচালক মানবজমিনকে বলেন, আমরা চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে ডেকে ছিলাম। ১৩ মাস আগে নিখোঁজ হওয়া একজন গৃহকর্মীর অভিযোগে ডেপুটি কনসাল জেনারেলকে এভাবে হেনস্থা করার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছি আমরা। স্থানীয় সময় সোমবার সকালে জামাইকা এলাকার বাসা থেকে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগপ্রাপ্ত ‘কূটনীতিক’ শাহেদুল ইসলামকে আটক করে নিউ ইয়র্ক পুলিশ। পরে তাকে কুইন্স সুপ্রিম কোর্টে হাজির করা হয়। আদালত তাৎক্ষণিক অভিযুক্ত কর্মকর্তার কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দেয়ার আদেশ দেন। পরে অবশ্য ৫০ হাজার ডলারের বন্ড অথবা নগদ ২৫ হাজার ডলারে তার জামিন ধার্য করেন আদালত। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় (এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত) তার মুক্তির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি। মঙ্গলবার সকালে বাংলাদেশে খবরটি চাউর হলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া হয়। মন্ত্রী, সচিব দেশের বাইরে থাকায় ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব তার দপ্তরে চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে ডেকে পাঠান। বিকালে ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে বৈঠক করতে সেগুনবাগিচায় যান চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স জোয়েল রিফম্যান। আধ ঘণ্টা স্থায়ী সচিব-রাষ্ট্রদূত বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের আমেরিকাস অনুবিভাগের মহাপরিচালক ছাড়াও কনস্যুলার বিভাগের মহাপরিচালক তারিকুল ইসলাম এবং মন্ত্রীর দপ্তরের পরিচালক শাহ আসিফ রহমানও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে বেরিয়ে যাওয়ার মুহূর্তে মানবজমিনসহ অন্য এক কূটনৈতিক রিপোর্টারকে মার্কিন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স বলেন, পুরো বিষয়টি মার্কিন আদালত এবং পুলিশ বিভাগের। যেহেতু বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ইতিবাচক সম্পর্ক বিদ্যমান, তাই আমরা বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ সরকারকে অবহিত করেছি। তার কাছে প্রশ্ন ছিল প্রায় এক বছর আগে পলাতক একজন গৃহকর্মী যার বিষয়ে মার্কিন কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছিল বাংলাদেশ, তার অভিযোগে একজন কূটনীতিককে গ্রেপ্তার কতটা যুক্তিসঙ্গত? জবাবে দূতাবাসের রাজনৈতিক বিভাগের প্রধান বলেন, এ নিয়ে মার্কিন জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের কাছে জানতে হবে। ওই বৈঠক বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের অন্য এক কর্মকর্তা বলেন, একজন পলাতক ব্যক্তির কথায় একজন কূটনীতিককে কেন আটক করা হয়েছে, সেটি জানার জন্য আমরা যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতকে  ডেকে কারণ জানতে  চেয়েছি। তিনি বলেন, গোটা ব্যাপারটি আমাদের কাছে পরিষ্কার নয় এবং তাদের কাছে অনেকগুলো প্রশ্নের উত্তর জানতে  চেয়েছি আমরা। কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি রিচার্ড ব্রাউনকে উদ্ধৃত করে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ বিষয়ে জানিয়েছে, ডেপুটি কনসাল জেনারেল শাহেদুলের কূটনৈতিক দায়মুক্তির সীমিত সুযোগ রয়েছে। ব্রাউন এক বিবৃতিতে বলেন, কুইন্স সুপ্রিম কোর্টে শাহেদুলকে হাজির করা হলে বিচারক ডানিয়েল লুইসের সামনে তার পাসপোর্ট জমা দেয়ার নির্দেশ দেন। পরে জামিনের জন্য ৫০ হাজার ডলারের বন্ড বা ২৫ হাজার ডলার নগদ অর্থ ধার্য করেন। আর অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে ১৫ বছর জেল দেয়া হতে পারে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে রয়টার্সের ওই রিপোর্টে বলা হয়- গৃহের কাজে সহায়তার জন্য মো. আমিন নামের এক ব্যক্তিকে ২০১২ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে নিউ ইয়র্কে নেন শাহেদুল। যুক্তরাষ্ট্রে নেয়ার পরই আমিনের পাসপোর্ট কেড়ে নেন নিয়োগকর্তা। আমিনকে দিয়ে দিনে ১৮ ঘণ্টা কাজ করান তিনি। কিন্তু তাকে কোনো মজুরি দেয়া হতো না। বরং কথায় কথায় হুমকি দেয়া হতো। তিনি মারধরেরও শিকার হয়েছেন। তাকে হাত দিয়ে অথবা জুতার মতো কাঠ দিয়ে প্রহার করা হতো। ২০১৬ সালে শাহেদুলের বাসা থেকে আমিন পালিয়ে যান। অন্য এক রিপোর্টে বলা হয়- ৪৫ বছর বয়সী ‘কূটনীতিক’ মোহাম্মদ শাহেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে  সোমবার গ্র্যান্ড জুরির সামনে অপহরণ, নির্যাতন, শ্রমিক পাচার ও অন্যান্য অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। তাকে আগামী ২৮শে জুন আবার আদালতে হাজির হতে বলা হয়েছে। এদিকে ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের এক মুখপাত্র রয়টার্সকে বলেন, অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে ডেপুটি কনসাল জেনারেল শাহেদুলের বিরুদ্ধে আমিন অভিযোগ এনেছেন বলে তারা মনে করছেন। আমিনের অভিযোগ ভিত্তিহীন। তিনি আরো বলেন, আমিনের  দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ডের কারণে তার সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে দেশে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন শাহেদুল ইসলাম। দূতাবাসের ওই মুখপাত্র আশা করেন আদালত বিচক্ষণতার সঙ্গে রায় দেবেন। শাহেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে রয়টার্সের রিপোর্টে আরো বলা হয়, আমিনের যে আয় তা শুধু এসেছে বিভিন্ন পার্টির অতিথিদের উপহার  থেকে। তাই তিনি বাংলাদেশে পরিবারের কাছে খুব সামান্য অর্থই পাঠাতে পেরেছেন। অনেকবার আমিন চাকরি ছেড়ে  দেয়ার কথা বলেছেন। এ সময় তাকে প্রহার করেছেন শাহেদুল ইসলাম। হুমকি দিয়েছেন বাংলাদেশে তার মাকে ও ছোট  ছেলের ক্ষতি করার। নিউ ইয়র্কে নিযুক্ত কনসাল জেনারেল শামীম আহসান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তবে আচমকা এ আটকের বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন তিনি। জানান, যার অভিযোগের ভিত্তিতে ডেপুটি কনসাল আটক হয়েছেন সেই অভিযোগকারী গৃহকর্মী রুহুল আমিন ২০১৬ সালের ১৭ই মে তার বাসা থেকে পালিয়ে যায়। ঘটনার পরদিনই বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে (নোট ভারবাল) জানানো হয়। কিন্তু এটি খুবই আশ্চর্যের বিষয় যে গৃহকর্মী নিখোঁজের প্রায় ১৩ মাস পর এখন নিয়োগ কর্তার বিরুদ্ধে এক গাদা অভিযোগ আনা হলো। এতে ওই গৃহকর্মীর অন্য উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলে সন্দেহ করে কনসাল জেনারেল। উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের শেষের দিকে নিউ ইয়র্কে ভারতীয় ডেপুটি কনসাল  জেনারেল দেবযানি  খোবড়াগাড়কে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে ভিসা জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়। বলা হয়,  জোর করে তিনি গৃহকর্মীকে আটকে রেখেছেন বাসায়। তাদেরকে দিয়ে সপ্তাহে ১০০ ঘণ্টা কাজ করান প্রতি ঘণ্টায় এক ডলার হিসেবে। এ অভিযোগে  খোবড়াগাড়কে গ্রেপ্তার করা হয়। এতে ভারতে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বড় ধরনের কূটনৈতিক উত্তেজনা দেখা  দেয়। উল্লেখ্য, ডেপুটি কনসাল শাহেদুল ইসলাম ২০১১ সালে নিউ ইয়র্ক মিশনে কর্মরত আছেন। তিনি ঠাকুগাঁওয়ের বাসিন্দা। স্থানীয় সাবেক সংসদ সদস্য খাদেমুল ইসলাম তার পিতা। অভিযোগকারী আমিনও একই এলাকার বাসিন্দা। মানবজমিন

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Situs Streaming JAV