নিউইয়র্কে বাংলাদেশীদের সার্বজনীন সংগঠন হতে পারলো না বাংলাদেশ সোসাইটি : মাহফুজুর রহমান
নিউইয়র্ক : বাংলাদেশ সোসাইটি নিউইয়র্কে সাধারন প্রবাসীদের কাছে এখন আর তেমন আগ্রহ সৃষ্টিকারী সংগঠন না, সোসাইটির আদলে দেশের প্রতিটি জেলা এমনকি উপজেলার নামে গড়ে উঠেছে অসংখ্য সংগঠন। এসব সংগঠনই বরং প্রবাসীদের বিশেষ করে এলাকাবাসীদের কাছে বেশী গুুরুত্ব পাচ্ছে। কারন তাদের বিপদে আপদে এবং নানা প্রয়োজনে এসব আঞ্চলিক সংগঠগুলো সবার আগে তাদের পাশে এসে দাঁড়াচ্ছে। এক সময়ে অর্থাৎ আজ থেকে ৪১ বছর আগে ছোট্ট পরিসরের কমিউনিটির জন্য গড়ে উঠা এবং সে সময়ের আলোকে গৃহিত গঠনতন্ত্র নিয়ে এখনও চলছে বাংলাদেশ সোসাইটি। চলার পথে ক‘বছর আগে নামের শেষ অংশ থেকে নিউইয়র্ক শব্দটি বাদ দিয়ে একে আরো বৃহত্তর সংগঠন হিসাবে ভাবার স্বপ্ন দেখা হলেও কার্যত তা এখন ক্ষীণ ¯্রােতধারার মতই বিরাজ করছে। আর চারিদিকের বিরাজমান আঞ্চলিকতার জয়জয়কারের ঢেউ এসে সোসাইটির গায়েও লেগেছে। নামে বাংলাদেশ সোসাইটি হলেও এর সদস্যপদের তালিাকায় পাওয়া যায় ঘুরে ফিরে কয়েকটি জেলার প্রাধান্য। এবং এর বাইরে অনেক জেলাবাসী প্রবাসী রয়েছেন নিউইয়র্কে তারা এর সদস্য হন কিনা কেউ জানেন না। সদস্যপদ যেমন কিছু জেলাকেন্দ্রিক তেমনি এর কার্যকরী পরিষদের চেহারাও ঐ সংকুচিত জেলাগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। তাই বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ সভাপতি পদটি ঘুরে ফিরে এক সময় যেমন বৃহত্তর কুমিল্লার ভাগে ছিলো, পরে তা মুন্সিগঞ্জ-বিক্রমপুরে চলে যায় এবং সবশেষে সিলেটের ভাগে আসে। আসলে এই তিনটি জেলার মানুষের আগ্রহ বলেন আর সোসাইটিকে করায়ত্ব করার বাসনাই বলেন তা দেখে মনে হয় বাংলাদেশ সোসাইটি হচ্ছে ‘কুমিল্লা-মুন্সিগঞ্জ-বিক্রমপর- সিলেট’ সোসাইটি।
চার দশক আগের গঠনতন্ত্র দিয়ে চলতে থাকা সোসাইটি কার্যক্রমের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হচ্ছে নির্বাচন এবং নির্বাচনে জিতে আসার জন্য দুই-তিন লাখ ডলার এবং প্রয়োজনে কখনও কখনও হাফ মিলিয়ন ডলার খরচ করতেও কসুর করেন না একে যারা নিয়ন্ত্রন করতে চান। আর এর নিয়ন্ত্রণকারী গ্রুপগুলোই কখনোই চায় না এর বিস্তৃতি ঘটুক- সোসাইটি সত্যিকার অর্থে হয়ে উঠুক আমেরিকায় বাংলাদেশীদের সর্ববৃহৎ সংগঠনে। সেই সদিচ্ছা থাকলে সোসাইটির সাধারন সদস্যপদ উন্মুক্ত থাকতো নিউইয়র্কে বসবাসকারী এবং গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আশে পাশের আরো কয়েকটি স্টেটের প্রতিটি বাংলাদেশীর জন্য। ফ্রি সদস্যপদ এবং ভোটাধিকারের জন্য ন্যূনতম ৫ ডলার ফি নির্ধারন করে সোসাইটিকে শুধু গণমুখি না কল্যাণমুখি সংগঠনে পরিণত করা যেতো এবং সেই সাথে নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসন থেকে শুরু করে স্টেট এবং ফেডারেল পর্যায়ে বাংলাদেশীদের কণ্ঠস্বর হতে পারতো চারদশকের ঐতিহ্য ধারণকারী সংগঠনটি।
কিন্তু তেমন কোন যুগান্তকারী পরিবর্তন আনার কোন সদিচ্ছা আগের কোন কমিটির যেমন ছিলো না তেমনি বর্তমান কমিটিরও নেই। এবং সেই গতানুগতিক ধারায় আবারও সোসাইটির নির্বাচন দোড়গোড়ায় এসে পড়েছে এবং পুরোনো এবং অতি সম্প্রতি পুরোনো বলয়ের মধ্যে কমিটি দখল করার লড়াই শুরু হয়ে গেছে। এবং আসছে সেপ্টেম্বর-নভেম্বর শেষে আবারও একটি নতুন কমিটি গঠিত হবে এবং সোসাইটি তার অন্তঃসার শূন্য যাত্রা অব্যহত রেখে কিছু মানুষের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের প্রধান বা অপ্রধান অতিথির পদ অলঙ্কৃত করার প্রয়াসে ব্যবহৃত হতে থাকবে।
কিন্তু এমন ধারায় চলতে থাকলে একদিন হয়েতো সোসাইটি তার শুধু অখন্ড থাকার অহঙ্কারকে নিয়ে তৃপ্তির ঢেকুর তুলতে থাকবে এবং কেউ না কেউ এগিয়ে আসবেন বৃহত্তর কোন সংগঠন গড়ার পরিকল্পনা নিয়ে, যার পতাকা তলে সংগঠিত হবেন নিউইয়র্কের সব বাংলাদেশী এবং সেটাই হয়তো হবে প্রকৃতপক্ষে আমেরিকায় ‘বাংলাদেশীদের সবচেয় বড় সংগঠন’ যা হবার সব সম্ভাবনা থাকার পরও কিছু মানুষের অদ্ভূত কিম্বা বিকৃত আচরণের জন্য ‘বাংলাদশ সোসাইটি’র পক্ষে তা হয়ে উঠা সম্ভব হচ্ছে না চারদশক পেরিয়েও। মাহফুজুর রহমান, প্রধান সম্পাদক, সাপ্তাহিক বর্ণমালা, নিউইয়র্ক
- নিউইয়র্কে ন্যাশনাল ইমিগ্র্যান্টস ডে উদ্যাপন; বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি, সাত বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মাননা প্রদান
- জাতিসংঘে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সাফল্য; এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ল আরও ৩ বছর
- নিউ জার্সিতে উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত
- নিউইয়র্কের জেএমসির সম্প্রসারণ প্রকল্প রমজানের আগেই সম্পন্নের প্রত্যাশা, ফান্ডরেইজিংয়ে প্রায় ১০ লাখ ডলার সংগ্রহ, বাকি প্রয়োজন আরও ২০ লাখ
- New York Attorney General James Secures More Than $480,000 and Debt Relief for New York Homeowners
- এই জীবন চিরস্থায়ী নয়, একদিন মরে যাবো
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে; ১৭ ডিসেম্বর উভয় পক্ষকে তথ্য-উপাত্ত জমার নির্দেশ
- নিউইয়র্কে নৃত্যশিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠক তাহসিন ফেরদৌসের অকালমৃত্যু, বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া