নিউইয়র্কে মুক্তিযোদ্ধা শিরিন বানু মিতিল স্মরণ সভা
নিউইয়র্ক : নিউইয়র্কে ‘বিজয়ের পতাকা তোমাকেই মনে রাখে, মুক্তিযোদ্ধা শিরিন বানু মিতিল স্মরণ ও পরিচিতি’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। জ্যাকসন হাইটসের বাংলাদেশ প্লাজায় পাবনা এডওয়ার্ড কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীবৃন্দ সোমবার সন্ধ্যায় এ স্মরণ সভার আয়োজন করা হয়। সভায় শিরিন বানু মিতিলের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন সাপ্তাহিক ঠিকানার প্রধান সম্পাদক মুহা. ফজলুর রহমান। প্রধান আলোচক ছিলেন নিউইয়র্ক সফরত পাবনা পৌরসভার সাবেক মেয়র এবং পাবনা জেলার মুক্তিযোদ্ধের কথার লেখক মুক্তিযোদ্ধা মো. জহুরুল ইসলাম বিশু। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন শহীদ বুদ্ধিজীবী সিরাজুদ্দীন হোসেনের সন্তান এবং ঘাদানিক নিউইয়র্ক চ্যাপ্টাসের প্রধান ফাহিম রেজানূর। সভা সঞ্চালনা করেন প্রগতিশীল আন্দোলনের নেতা গোপাল স্যানাল। শিরিন বানু মিতিলের স্মরণপত্র পাঠ করেন স্বীকৃতি বড়ুয়া।
বক্তারা বলেন, ১৯৭১ সালে ২৫ মার্চ কালরাতে পাক হানাদারদের আক্রমণ শুরু হলে ২৭ মার্চ পাবনা পুলিশ লাইনে প্রতিরোধ যুদ্ধে সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেয়। সেই যুদ্ধে শিরিন বানু মিতিল বীর কন্যা প্রীতিলতাকে অনুসরণ করে পুরুষ বেশে অংশ নেন। পরদিন পাবনা টেলিফোন এক্সচেঞ্জে ৩৬ জন পাক সেনার সঙ্গে জনতার তুমুল যুদ্ধ হয়, যাতে তিনিই ছিলেন একমাত্র নারী যোদ্ধা। এই যুদ্ধে ৩৬ জন পাকসেনা নিহত এবং ২ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হয়।
স্মরণ সভার প্রধান আলোচক মুক্তিযোদ্ধা মো. জহুরুল ইসলাম বিশু বলেন, ৭১ সালের ৯ এপ্রিল নগর বাড়িতে যুদ্ধের সময় পাবনার পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটে স্থাপিত মুক্তিযুদ্ধের কন্ট্রোলরুমর পুরো দায়িত্বে ছিলেন তিনি।
এরপর ভারতের স্টেটসম্যান পত্রিকায় তার ছবিসহ পুরুষ সেজে যুদ্ধ করার খবর প্রকাশিত হলে সেই বেশে আর যুদ্ধ করা তার পক্ষে সম্ভব হয়নি। কিন্তু তাতে তিনি দমেননি, পাবনা শহর পাকিস্তানি সেনারা দখলে নিলে ২০ এপ্রিল তিনি সীমানা পেরিয়ে ভারতে যান। সেখানে বাংলাদেশ সরকার পরিচালিত নারীদের একমাত্র প্রশিক্ষণ শিবির ‘গোবরা ক্যাম্পে’ যোগ দেন। পরে মেজর জলিলের নেতৃত্বে পরিচালিত ৯ নাম্বার সেক্টরে যোগ দেন।
মুক্তিযোদ্ধা ও নারী নেত্রী শিরিন বানু মিতিল গত ২০ জুলাই মৃত্যুবরণ করেন। মুক্তিযুদ্ধ যখন শুরু হয়, সেই ১৯৭১ সালে পাবনা জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সভানেত্রী ছিলেন শিরিন বানু মিতিল। তারমা সেলিনা বানু বামপন্থী আন্দোলনের প্রথম সারির নেত্রী ছিলেন। নানার বাড়ি ছিল এককালে বামপন্থীদের শক্ত ঘাঁটি। এমনই রাজনৈতিক পরিবারে বেড়ে উঠেছিলেন মিতিল। ১৯৫০ সালের ২ সেপ্টেম্বর পাবনায় খোন্দকার শাহজাহান মোহাম্মদ ও মা সেলিনা বানু দম্পতির ঘরে জন্ম নেন শিরিন বানু।
মা পাবনা জেলার ন্যাপ সভানেত্রী এবং ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট সরকারের এমপি ছিলেন; বাবাও ছাত্রজীবন থেকে শুরু করে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে যুক্ত। রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম নেয়ায় ছোটবেলা থেকেই রাজনীতি সচেতন। শিরিন স্কুল জীবনেই ছাত্র ইউনিয়নে যোগ দেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি পাবনা এডওয়ার্ড কলেজের বাংলা বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। ১৯৭০-১৯৭৩ সাল পর্যন্ত পাবনা জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সভানেত্রী এবং কিছু সময়ের জন্য পাবনা জেলা মহিলা পরিষদের যুগ্ম সম্পাদিকাও ছিলেন।
দেশ স্বাধীন হলে ১৯৭৩ সালে তৎকালীন সোভিয়েত রাশিয়ায় পড়তে যান। সেখানকার পিপলস ফ্রেন্ডশিপ ইউনিভার্সিটি অব রাশিয়ায় নৃবিজ্ঞান বিষয়ে পড়া শেষে ১৯৮০ সালে দেশে ফেরেন তিনি শিরিন বানু মিতিল। এরমধ্যে ১৯৭৪ সালে মাসুদুর রহমানের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। শিরিন বানু বেসরকারি সংস্থা পিআরআইপি ট্রাস্টের ‘জেন্ডার অ্যান্ড গভর্নেন্স’ বিষয়ে পরামর্শক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি চাইল্ড অ্যান্ড মাদার কেয়ার (সিএমসি) নামে একটি সেবা কেন্দ্রের সঙ্গেও বিশেষজ্ঞ হিসেবে যুক্ত ছিলেন।
২০০৫ সালে ভারতীয় অর্থনীতিবিদ ও সমাজ বিজ্ঞানী কমলা ভাসিনের নেতৃত্বে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত সহস্র সংগ্রামী নারীর যে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল, তাতে বাংলাদেশের ১৬ জনের মধ্যে শিরিন বানুও ছিলেন।
- নিউইয়র্কে বহির্বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম করবস্থান স্কচটাউন বাংলাদেশ সেমিট্রির যাত্রা শুরু
- নিউইয়র্কে মুন্সিগঞ্জ-বিক্রমপুর অ্যাসোসিয়েশনের বর্ণিল অভিষেক
- Bangladesh Calls for Stronger Support for LDCs Ahead of Doha Midterm Review
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য আরও আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ
- Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN
- এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ
- Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda
- নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ