নিউইয়র্কে লং আইল্যান্ড ইনিভার্সিটিতে কবিতা পড়লেন দুই বাঙালী কবি
নিউইয়র্ক : বাঙালী কবি-দম্পতি হাসানআল আব্দুল্লাহ ও নাজনীন সীমন ২৯ নভেম্বর মঙ্গলবার আমন্ত্রিত কবি হিসেবে কবিতা পড়লেন এল আই ইউ পোস্ট নামে খ্যাত লং আইল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পোয়েট্রি সেন্টারে। প্রচণ্ড বৃষ্টি উপেক্ষা করে অর্ধশতাধিক ছাত্র-ছাত্রী এই দুই বাঙালী কবির কবিতা শোনার জন্যে দুপুরে জড়ো হয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের টিলাস সেন্টারে। মুহুর্মুহু করতালির মাধ্যমে পোয়েট্রি সেন্টারের পরিচালক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিয়েটিভ রাইটিং প্রধান প্রফেসর জোন ডিগবে উভয়কেই পরিচয় করিয়ে দেন। তিনি বলেন, দুজনেই বাংলাদেশে জন্ম নিলেও দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন নিউইয়র্কে, যেখানে তাঁরা শিক্ষকতা পেশায় নিয়জিত। হাসানআল আব্দুল্লাহর নতুন ধারার স্বতন্ত্র সনেট, ও মহাকাশ নিয়ে রচিত তাঁর মহাকাব্যের কথা, এবং নাজনীন সীমনের সদ্য প্রকাশিত অনুবাদগ্রন্থ ‘হলোনেস অন দ্যা হরাইজন’-এর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এদের কবিতা ব্যাপ্তির দিক দিয়ে বিচিত্র বিষয়কে স্পর্শ করেছে এবং ইতিমধ্যেই এঁরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যথেষ্ট পরিচিতি লাভ করেছেন। প্রথমে কবিতা পড়েন শব্দগুচ্ছ সম্পাদক কবি হাসানআল আব্দুল্লাহ। তিনি তাঁর প্রকাশিতব্য দ্বিভাষিক গ্রন্থ ‘স্বতন্ত্র সনেট : এ বাইলিঙ্গুয়াল এডিশন’ থেকে বেশ কয়েকটি সনেট পড়েন। এ পর্যায়ে তিনি পেট্রার্ক ও শেক্সপীয়ারের সনেট থেকে তাঁর রচিত সনেট কিভাবে আলাদা তারও বর্ণনা দেন। তিনি তাঁর অন্য দুটি দ্বিভাষিক গ্রন্থ ‘আন্ডার দ্যা থিন লেয়ারস অব লাইট’ ও ‘ব্রেথ অব বেঙ্গল’ থেকেও বেশ কিছু কবিতা পড়েন। মূল বাংলায়ও তিনি একটি কবিতা পড়ে শোনান। তিনি ‘শব্দগুচ্ছ’ অনুবাদ সংখ্যা থেকে নিজের অনুবাদে ড. হুমায়ুন আজাদের কবিতা ‘আমি খুব ছোট্ট কিছুর জন্যে’ পড়ে শোনান। ২০০৪ সালে ঢাকায় ড. আজাদকে আক্রমণ, বার্মুনগ্রাদে চিকিৎসা ও পরে জার্মানিতে হত্যা ইত্যাদি ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, “এই মহান কবি কিন্তু ছোট্ট কিছুর জন্যে মারা যাননি! মারা গেছেন মৌলবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে করতে।” ইংরেজী অনুবাদে একে একে অনেকগুলো কবিতা পড়েন কবি-গল্পকার ও জন এডামস হাইস্কুলের ইংরেজী বিভাগের শিক্ষক নাজনীন সীমন। মূল বাংলায় ছাড়াও সরাসরি ইংরেজীতে লেখা বেশ কয়েকটি কবিতাও পড়েন তিনি। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ৩০ লক্ষ শহীদের কথা উল্লেখ করে বলেন, “আমি বাঙালী এটা আমার জন্যে গর্বের! পৃথিবীর যেখানেই যাই না কেনো বাংলাদেশের পতাকা দেখলে বুক ভরে ওঠে।” বিশ্বের দেশে দেশে হত্যা নিপীড়ন ও নির্যাতনেরও নিন্দা করেন তিনি। পাঠ শেষে প্রফেসর ডিগবে দুই কবিকে পাশাপাশি দাঁড় করিয়ে তাঁদের কবিতার শব্দচয়ন, বিষয়বস্তু ও বিস্তৃতি নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বললেন, “তবে এঁরা দু’জনই কিন্তু নারীবাদি।” তিনি কবিদের হাতে পোয়েট্রি সেন্টারের পক্ষ থেকে সম্মানী তুলে দেন। সবশেষে ‘শব্দগুচ্ছ’ পত্রিকার বেশ কিছু সৌজন্য কপি ছাত্রছাত্রীদের মাঝে বিলি করা হয়। উল্লেখ্য ইতিপূর্বে ২০১৩ সালেও লং আইল্যান্ড ইউনিভার্সিটি এই দুই কবিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলো।
- নিউইয়র্কে বহির্বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম করবস্থান স্কচটাউন বাংলাদেশ সেমিট্রির যাত্রা শুরু
- নিউইয়র্কে মুন্সিগঞ্জ-বিক্রমপুর অ্যাসোসিয়েশনের বর্ণিল অভিষেক
- Bangladesh Calls for Stronger Support for LDCs Ahead of Doha Midterm Review
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য আরও আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ
- Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN
- এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ
- Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda
- নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ