নিউইয়র্কে সংবাদ সম্মেলনে রাজনীতির নামে পেট্রোল বোমা হামলাকারীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহবান
নিউইয়র্ক: ‘আমরা সুদূর পরবাসে নিরাপদ থাকলেও পেট্রোল বোমার আঘাতে ক্ষত-বিক্ষত স্বজনদের আর্ত-চিৎকারে আমরা ব্যথিত, আমরা শোকাহত এবং আমরা প্রচন্ডভাবে ক্ষুব্ধ’-এমন উচ্চারণের মধ্য দিয়ে নিউইয়র্কের বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার একদল প্রবাসী ১৬ কোটি মানুষের প্রাণ ভিক্ষা চাইলেন সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে। একইসাথে তারা রাজনীতির নামে পেট্রোল বোমা হামলাকারীদের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে রুখে দাঁড়ানোর উদাত্ত আহবান জানালেন। খবর এনআরবি।
প্রবাসীরা বললেন, ‘আমরা জনগণের জানমালের নিরাপত্তা, শান্তি, স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার রক্ষায় সরকারকে তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করার আহবান জানাচ্ছি।’ ‘পুড়ছে মানুষ, জ্বলছে দেশ-রুখে দাঁড়াও বাংলাদেশ’ শীর্ষক ব্যানারের সামনে ১৪ ফেব্রুয়ারি শনিবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসে পালকি পার্টি সেন্টারে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলন থেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত প্রবাসীরা সাম্প্রতিক বাংলাদেশের ভয়ংকর পরিস্থিতির আলোকপাত করে আরো বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমাদের জোর দাবি কালবিলম্ব না করে মানুষ পুড়িয়ে মারা বন্ধ করুন। গণহত্যা বন্ধ করুন। আমরা বিশ্বাস করি, স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রকামী কোন মানুষ এবং দল এই রকম মানবতাবিরোধী কাজে অবতীর্ণ হতে পারে না।’
সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্য উপস্থাপনকালে সাংবাদিক শরীফ শাহাবুদ্দিন বলেন, ‘দীর্ঘ সামরিক শাসনের আড়ালে এবং প্রশ্রয়ে দিনে দিনে সংগঠিত ও বেড়ে উঠা ধর্মান্ধ সাম্প্রতিক শক্তি একাত্তরের পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধেই চূড়ান্ত যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। রাজনৈতিক কর্মসূচির আড়ালে জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের সংগঠিত করে তারা মরনপণ যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছে। আর তাদের সন্ত্রাস ও পেট্রোল বোমার বলি হয়ে সারাদেশের জেলা-উপজেলার হাসপাতালগুলোতে মৃত্যুযন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে শতশত নিরীহ নিরপরাধ মানুষ। দেশ মাতৃকার এই মহাদুর্যোগের সময় কোন বিবেকবান ও দেশপ্রেমিক মানুষ বসে থাকতে পারে না। বিবেকের তাড়নায় এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে আমরা সুদূর এ প্রবাস থেকেই সরকারের কাছে আকুল আবেদন রাখছি, রাজনীতির নামে সন্ত্রাসে লিপ্তদের কঠোর হস্তে দমন করুন।’
সাংবাদিক ও সমাজকর্মী মুজাহিদ আনসারীর স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শুরু এ সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন প্রবীন সাংবাদিক সৈয়দ মুহম্মদ উল্লাহ, চলচ্চিত্রকার কবীর আনোয়ার, মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা খান মিরাজ, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের আহবায়ক মিথুন আহমেদ, যুক্তরাষ্ট্র উদীচীর নেতা সুব্রত বিশ্বাস, সমাজকর্মী ও সাংবাদিক নাসিমুন্নাহার নিনি, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের নেত্রী লুৎফুন্নাহার লতা, কম্যুনিটি এ্যাক্টিভিস্ট ও ব্যবসায়ী সরাফ সরকার, আলী আহসান কিবরিয়া অনু প্রমুখ। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, নিরীহ মানুষ হত্যার জন্যে যারা রেললাইন ওপড়ে ফেলছে, চলন্ত বাস ও ট্রাকে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করছে, তারা কখনোই গণতান্ত্রিক রাজনীতির কর্মী হতে পারে না, ওরা সন্ত্রাসী। তাই ওদেরকে সেভাবেই হ্যান্ডেল করতে হবে। তবে সন্ত্রাসী নির্মূলের নামে যাতে একজন নিরীহ মানুষও হয়রানির শিকার না হয় কিংবা ক্রসফায়ারে না যায়-সেদিকেও বিশেষ যতœবান হতে হবে সরকারকে।
সংবাদ সম্মেলন থেকে পেট্রোল বোমা হামলা এবং নাশকতাকারী হিসেবে জামাত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করার দাবিও জানানো হয়।
- Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN
- এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ
- Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda
- নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ
- নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার অঙ্গীকার
- State Minister for Foreign Affairs Urges Stronger Global Action to Protect Civilians, Uphold Humanitarian Law and Support Rohingya Repatriation
- বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন সমুন্নত রাখা ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামার
- মহররম মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত!
