নিউইয়র্কে ৬৭ তম জন্মদিন উপলক্ষে নাট্যকার সেলিম আল দীন স্মরণ অনুষ্ঠান
নিউইয়র্ক : নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটেস ৬৭ তম জন্মদিন উপলক্ষে নাট্যকার সেলিম আল দীন স্মরণ অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সেলিম আল দীনের অবদান বাংলা নাটকে অনস্বীকার্য। বাংলাদেশের তরুণ সমাজ যখন প্রাচ্য এবং ইউরোপের নাটকে মনোনিবেশ করেছিলেন তখনই সেলিম আল দীন বাংলা নাটককে জনপ্রিয় করার জন্য আলোকবর্তিকা হয়ে আবির্ভূত হয়েছিলেন।
নিউইয়র্ক থিয়েটার বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। থিয়েটারের অন্যতম সংগঠক শিবলী সাদিকের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট আবৃত্তিকার কাজী আরিফ। আলোচনায় আরও অংশ নেন সাপ্তাহিক ঠিকানার প্রধান সম্পাদক ফজলুর রহমান, নিউইয়র্ক থিয়েটারের প্রতিষ্ঠাতা মুজিব বিন হক, বাংলাদেশ সোসাইটির কালচারাল সেক্রেটারি মনিকা রায়, কমিউনিটি এক্টিভিস্ট গোপাল স্যনাল প্রমুখ।
নাট্যকার ও গবেষক সেলিম আল দীন-এর ৬৭তম জন্মদিন ছিল ১৮ আগস্ট। ১৯৪৯ সালের এই দিনে ফেনীর সোনাগাজী থানার সেনেরখিল গ্রামে তার জন্ম৷ সেলিম আল দীন ১৯৬৪ সালে ফেনীর সেনেরখিলের মঙ্গলকান্দি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন৷ ১৯৬৬ সালে ফেনী কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন৷ ১৯৬৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে ভর্তি হন৷দ্বিতীয় বর্ষে পড়ার সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে গিয়ে ভর্তি হন টাঙ্গাইলের করোটিয়ায় সাদত কলেজে৷ সেখান থেকে স্নাতক পাসের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন৷
১৯৯৫ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যে নাটক এর উপর গবেষণা করে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন সেলিম আল দীন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়েই নাটকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন সেলিম আল-দীন, যুক্ত হন ঢাকা থিয়েটারে। প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা শেষে যোগ দেন বিজ্ঞাপনী সংস্থা বিটপীতে। সেলিম আল দীন ১৯৭৪ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। দীর্ঘদিন বাংলা বিভাগে শিক্ষকতা করার পর ১৯৮৬ সালে তিনি নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগে যোগদান করেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন।
ঢাকা থিয়েটারের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য সেলিম আল দীন ১৯৮১-৮২ সালে নাট্য-নির্দেশক নাসিরউদ্দিন ইউসুফকে নিয়ে দেশব্যাপী গড়ে তোলেন ‘বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার’। আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবনাচরণকেন্দ্রিক এথনিক থিয়েটারেরও তিনি উদ্ভাবনকারী।এছাড়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের প্রতিষ্ঠা সেলিম আল-দ্বীনের হাত ধরেই।
সেলিম আল-দ্বীনের উল্লেখযোগ্য নাটকের মধ্যে রয়েছে জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন, বাসন, মুনতাসির, শকুন্তলা, নিমজ্জন, ধাবমান, স্বর্ণবোয়াল, পুত্র, বনপাংশুল ইত্যাদি। রেডিও-টেলিভিশনে প্রযোজিত নাটকের মধ্যে আছে বিপরীত তমসায়, ঘুম নেই, রক্তের আঙ্গুরলতা, অশ্রুত গান্ধার। একাত্তরের যীশু, ভাঙা প্রেম অশেষ বিশেষ, কাঁদো নদী কাঁদো’ ইত্যাদিও তার সৃষ্টি।
সেলিম আল-দীন তার সৃষ্টিকর্মের জন্য অনেক পুরষ্কার পেয়েছেন। এগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলা একাডেমী পুরস্কার, একুশে পদক, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, মুনীর চৌধুরী সম্মাননা, কথাসাহিত্য পুরস্কার ইত্যাদি।
বাংলা নাট্য জগতে অসামান্য অবদান রাখা সেলিম আল-দীন ২০০৮ সালের ১৪ জানুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন।
- নিউইয়র্কে বহির্বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম করবস্থান স্কচটাউন বাংলাদেশ সেমিট্রির যাত্রা শুরু
- নিউইয়র্কে মুন্সিগঞ্জ-বিক্রমপুর অ্যাসোসিয়েশনের বর্ণিল অভিষেক
- Bangladesh Calls for Stronger Support for LDCs Ahead of Doha Midterm Review
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য আরও আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ
- Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN
- এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ
- Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda
- নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ