Tuesday, 23 June 2026 |
শিরোনাম
Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার অঙ্গীকার State Minister for Foreign Affairs Urges Stronger Global Action to Protect Civilians, Uphold Humanitarian Law and Support Rohingya Repatriation বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন সমুন্নত রাখা ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামার মহররম মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত! Bangladesh Calls for Stronger Humanitarian Action and Women’s Leadership in Peacebuilding at UN Forum নিউইয়র্কে জাতিসংঘ ফোরামে মানবিক সহায়তা জোরদার ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় নারীর নেতৃত্ব বৃদ্ধির আহ্বান বাংলাদেশের
সব ক্যাটাগরি

নিউইয়র্ক আবৃত্তি উৎসব, প্রবাসের আবৃত্তিকারদের মিলনমেলা

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 191 বার

প্রকাশিত: May 17, 2018 | 6:32 PM

ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম ডেস্ক, নিউইয়র্ক : অনুষ্ঠান প্রায় শুরু, হঠাৎ লাইট বন্ধ, অন্ধকারে হলভর্তি দর্শক বুঝতে পারলনা ব্যাপারটা কি হলো, চারদিক থেকে ধ্বনি উচ্চারিত হতে থাকে, আস্তে আস্তে আলো জ্বলতে থাকে, দেখতে পাই আবৃত্তিকাররা মঞ্চের দিকে সম্মিলিত হতে থাকে, তারা উচ্চারিত করতে থাকে আবৃত্তি উৎসবের শ্লোগান ‘বিবেকের বন্ধ দরজায়/শব্দের হাতুড়িকে আজ হানো/বোধের বিশ্বাসে, ভাবনাকে মজবুত করে/ ভাবো,আরো বেশী করে ভাবো।’ এভাবেই শুরু হয় ‘নিউইয়র্ক আবৃত্তি উৎসব ২০১৮’ এর আয়োজনটি।এই প্রারম্ভিকা শ্লোগান সম্মেলকটি পরিকল্পনা ও পরিচালনায় ছিলেন মিথুন আহমেদ।হলভর্তি দর্শদের সামনে গত ১৩ মে রোববার নিউইয়র্ক সিটির উডসাইডস্থ কুইন্স প্যালেসে প্রথমবারের মত অনুষ্ঠিত হয়ে গেল প্রবাসের আবৃত্তিকারদের এই মিলনমেলার উৎসব। নিউইয়র্ক আবৃত্তি উৎসবের সদস্য সচিব গোপন সাহা মঞ্চে আসতে আহবান জানান, উৎসব পর্ষদের আহবায়ক আবীর আলমগীর, উপদেষ্টা মিথুন আহমেদ, উপদেষ্টা মাহতাব সোহেল এবং বিশিষ্ট নাট্য ব্যক্তিত্ব, আবৃত্তিকার ড.সালেক খানকে।

উৎসব আহবায়ক আবীর আলমগীর শুরুতেই তার স্বাগত বক্তব্যে নিউইর্য়কে আবৃত্তি উৎসবের জন্য একটি স্থায়ী পর্ষদ ‍“নিউ ইয়র্ক রিসাইটেশন ফেস্টিভাল কমিটির” চেয়ারম্যান হিসেবে সম্ভাষণ করে এই উৎসবের সৃজন ও উদ্দীপনার মুখ্য প্রাণ শিল্পজন আবৃত্তিকার মিথুন আহমেদের নাম ঘোষণা করেন।তিনি বলেন,এই প্রবাসে দুইযুগের ও বেশী সময় ধরে আবৃত্তিচর্চার ক্ষেত্রে অভিভাবক হিসেবে মিথুন আহমেদকে সবসময় পেয়েছি।আমরা যারা এই আবৃত্তি চর্চার সাথে যুক্ত আছি,আবৃত্তির জন্য কোন অনুষ্ঠান,কোন প্লাটফর্ম আমরাই মনে হয় নিজেদের জন্য তৈরী করতে পারিনি এতো বছরে।সেকারনেই আমরা শুধুমাত্র আবৃত্তিশিল্পীরা আবৃত্তি করব,আবৃত্তি শুনব,আবৃত্তি শোনাব,এই বাসনাটি মনের মধ্যে রেখে আমরা দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করছিলাম একটি উৎসবের মধ্যদিয়ে সবাই একত্রিত হয়ে মনের ইচ্ছেটাকে আমরা যেন স্থাপন করতে পারি।বিভিন্ন পর্যায়ের আবৃত্তিশিল্পীরা উৎসবের পরিকল্পনার খুটিনাটি বিষয়গুলো আমরা আমাদের অভিভাবক মিথুন আহমেদের সঙ্গে বিষদ আলোচনা করি,যার ফসল আজকের এই উৎসব”। তিনি আরো জানান উৎসব শেষের সাথে সাথে আহবায়ক ও সদস্য সচিব পদ এবং উৎসব পর্ষদ বিলুপ্ত হয়ে যাবে।এই উৎসবের আহবায়ক আবীর আলমগীর উপদেষ্টা পরিষদে অর্ন্তভূক্ত হবেন প্রতি দুই বছর পরপর উৎসব হবে,আগামী আবৃত্তি উৎসব হবে ২০২০ সালে,এই ঘোষনাও তিনি দেন।

উৎসব পর্ষদের উপদেষ্টা মিথুন আহমেদ বলেন “আবৃত্তি একসময়ে খুব ভালোবেসে করতাম, এখনো আবৃত্তি করতে চাই, আর সেটা খুব ভালোভাবেই করতে চাই। আমি মনেকরি এই উৎসবের মাধ্যেমে দুটি কাজ হলো আবৃত্তিকাররা তাদের চর্চাকে আরো ভালো করার ব্যাপারে সচেষ্ট হবেন,আর নিজেদের মর্যাদাবোধ নিয়ে অন্যান্য অনুষ্ঠানে আবৃত্তি করতে যাবেন” তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন আবৃ্ত্তি নিয়ে নতুন নতুন কাজ হবে,সঠিক কাজ হবে।যারা আবৃ্ত্তি করবেন শুধু কন্ঠের কারনে নয়,বোধ চিন্তা এবং আদর্শিক জায়গায় থেকে আবৃত্তি করবেন, অন্যান্য শিল্পমাধ্যমের মত আবৃত্তি নয়,আবৃত্তি আসলে চেতনার জায়গা থেকে উৎপত্তি হয়েছে।এই বিষয়টি বিবেচনায় রাখার জন্য আবৃত্তিকারদের অনুরোধ জানান।

এরপর আরেক উপদেষ্টা মাহতাব সোহেল বলেন “এই শহরে আমার অবস্থান বেশী দিনের না,এইখানে যেসব আবৃত্তিকাররা আছেন আগ্রহ প্রবল যার কারনে অনেকগুলো কাজ হয়ে এসেছে, হচ্ছে, হবে। আজকের এই্ অয়োজনের মধ্যদিয়ে আবৃত্তির এক নতুন দিগন্তে উম্মোচন হলো”।

বাঙালীর কৃষ্টির যে ধারাবাহিক ঐতিহ্য রয়েছে কোন কিছুর সূচনায়,কোন কিছুর উদ্বোধনে,কোন কিছু শুরু করতে গেলে আমরা যে প্রকৃতিগত বা সাংস্কৃতিক ধারায় কোনো কিছুকে সামনে রাখি,সেই পরম্পরায় আমরা দেখেছি কোনো উৎসব করতে গেলে,পাবন করতে গেলে আমরা মঙ্গল প্রদীপ সামনে রাখি,এই উৎসবেও তার ব্যতিক্রম হয়নি সবাই খালি পায়ে মঙ্গল প্রদীপের সামনে,চারপাশে গোলাপের পাপড়ি ছড়ানো ছিটানো,অনুষ্ঠানের উদ্বোধক বিশিষ্ট নাট্য ব্যক্তিত্ব,আবৃত্তিকার ড.সালেক খান মঙ্গল প্রদীপ জ্বালিয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।মুহুর্তেই প্রদীপের সাদা সুতায় লাল আভা ছড়িয়ে পড়ে।পুরো হলের সেট ডিজাইন,লাইট, লাল কাপড়ের ব্যবহার আর প্রদীপের আলোয় মনে হলো রক্তিম সূর্যের আলোর আভায় শুভময়তা ছড়িয়ে পড়েছে চারদিকে।

আয়োজনের উদ্বোধক ড.সালেক খান বলেন “আপনারা যারা আবৃত্তির সঙ্গে জড়িত তাদের প্রতি রইলো শুভেচ্ছা,আবৃত্তি যেনো আবৃতি হয়ে না যায়,উচ্চারণের ক্ষেত্রে শুদ্ধ উচ্চারণটাই যেনো করি,ভয়টা যেনো থাকে। যেদিন ভয়টা শেষ হয়ে যাবে সেদিন আপনার পাঠও শেষ হয়ে পাবে। যে কোনো পরিবেশনের ক্ষেত্রে দুটো দল থাকে, একদল খেলে, পরিবেশন করে, তারা পরিবেশক। আর একদল থাকে দর্শকশ্রোতা, আপনাদের মতো, তারা শোনে, দেখে, শ্রবণ করে,খেলাটা জমে উঠে।আজকে যারা খেলবেন, তারা আবৃত্তিকার,আবৃত্তিশিল্পী,কন্ঠশিল্পী,তাদের প্রতিপাদ্য বিষয় কবিতা,যার আরেক নাম সাহিত্য,যার আরেক নাম রসশাম্ত্র।এই দুইদলই যা আস্বাদন করবেন তা রস,এই প্রেক্ষাগৃহে যা গুন্জরিত হবে তাও রস।এই রসের সন্ধানে যারা অবিরাম বিচরণ করেন মননে এবং পার্থিবে তারা বিদগ্ধ।এই বিদগ্ধজনের সভা শুভহোক,শুভহোক কন্ঠশিল্পের এই আয়োজন,শুভ উদ্বোধন।”

এই উৎসব উৎসর্গ করা হয়েছে কবি ও ভাষা সংগ্রামী বেলাল চৌধুরী এবং আবৃত্তিকার ও মুক্তিযোদ্ধা কাজী আরিফ-কে। কবি ও ভাষা সংগ্রামী বেলাল চৌধুরী জীবনচরিত পাঠ করেন মিজানুর রহমান বিপ্লব,এবং আবৃত্তিকার ও মুক্তিযোদ্ধা কাজী আরিফের জীবনচিত্র পাঠ করেন ড. বিলকিস রহমান দোলা।

আয়োজনের উপদেষ্ঠা মিথুন আহমেদ ও মাহতাব সোহেল এবং উদ্বোধক সালেক খানকে উৎসব স্মারক উত্তরীয় পরিয়ে দেন সাংবাদিক ও একসময়কার খ্যাতিশীর্ষ বেতার ভাষ্যকার কৌশিক আহমেদ। অনুষ্ঠানের অন্যতম পৃষ্ঠোপোষক রাহাত আল মুক্তাদির উদ্বোধক বিশিষ্ট নাট্য ব্যক্তিত্ব, আবৃত্তিকার সালেক খানকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান, তাকে সহযোগিতা করে অধরা, মাইশা ও দ্যুতি। আবৃত্তি পর্ষদ ও উৎসব লোগো উম্মোচন করেন উদ্বোধক ড. সালেক খান। উৎসবের স্লোগান আমন্ত্রণলিপি ও ঘোষণাপত্র রচনা এবং আবৃত্তি পর্ষদ ও উৎসবের লোগো ডিজাইন করেছেন মিথুন আহমেদ।

উদ্বোধনী বৃন্দ আবৃত্তি পরিবেশনার মাধ্যমেই শুরু হয় আবৃত্তি পর্বের, উদ্বোধনী বৃন্দ আবৃত্তি পরিচালনা করেন শান্তা শ্রাবনী,এরপর শুরু হয় একক আবৃত্তি পর্বের, পালাক্রমে আবৃত্তি করেন শরফুজ্জামান মুকুল, সংঘমিত্রা ভট্টাচার্য্য,জয়া চ্যাটাজী,লুবনা কাইজার, ফারুক আজম ,ফারুক ফয়সল,এজাজ আলম ,মোল্লা বাহাউদ্দিন পিয়াল,মেহের কবীর,হীরা চৌধুরী,রীপা নুর,আনোয়ারুল হক লাভলু,রাহাত আল মুক্তাদির,নাসিমা আক্তার,তন্ময় মজুমদার, হোসেন শাহরিয়ার তৈমুর, দুররে মাকনুন নবনী,শ্যামোলিপী শ্যামা,শুক্লা রায়,তাহ্‌রিনা পারভীর প্রীতি, নজরুল কবীর, ড. বিলকিস রহমান দোলা,মুমু আনসারী,শিরিন বকুল, শান্তা শ্রাবনী,আশরাফুল হাবিব চৌধুরী মিহির,পারভীন সুলতানা,সেমন্তী ওয়াহেদ, মিজানুর রহমান বিপ্লব,গোপন সাহা,আবীর আলমগীর,আহকাম উল্লাহ্ ও মিথুন আহমেদ।নতুন প্রজন্মের মধ্যে আবৃত্তি করেছে লিওনা মুহিত,নাহরীণ ইসলাম,নুহা কাওসার,মুন জেবিন হাই, গুঞ্জরি সাহা, জারিন মাইশা,আবিবা ইমাম দ্যুতি।

নিটোল সমন্নিত এই সুন্দর আয়োজনে নিউইর্য়ক সহ অন্যান্য ষ্টেটে বসবাসরত প্রতিথযশা আবৃত্তিকাররা তাদের পছন্দের কবিতা নির্বাচন করেছেন। তাদের কবিতার মাধ্যমে উঠে এসেছে চিঠিপত্র, ছড়া, সমাজ-বোধ, প্রেম ও প্রকৃতি, পুজা, নারী, মা,স্বদেশ ও মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা, বিদ্রোহ, দেশাত্ববোধ ও রাজনীতির মতো বিষয়। গতানুগতিকের প্রথা ভেঙ্গে সকল আবৃত্তিকারদের পরিবেশনার মান ছিলো উচ্চতর, সবাই সবার সেরা পরিবেশনা দেবার ব্যাপারে খুবই সজাগ ছিলেন।অনুষ্ঠান আয়োজন করতে গিয়ে যে কয়েকজন কে খুব বেশী পরিশ্রম করতে দেখা গেছে,তাদের মধ্যে আশরাফুল হাবিব চৌধুরী মিহির, সেমন্তী ওয়াহেদ, মিজানুর রহমান বিপ্লব, আবীর আলমগীর ও মিথুন আহমেদ।ভেবেছিলাম তারা তাদের পরিবেশনা ঠিক মতো করতে পারবে তো,যেহেতেু প্রায় প্রথম থেকেই দেখছিলাম তাদের কর্মকান্ড। কিন্ত অবাক করার বিষয়,তারা তাদের পরিবেশনার সাথে কার্পণ্য করেনি,তাদের অসাধারণ আবৃ্ত্তির পরিবেশনায় পুরা আয়োজনকে আরো বেশী সমৃদ্ধ করে। কানায় কানায় পরিপূর্ণ, পিনপতন নীরবতায় প্রায় সকল আবৃত্তিশিল্পীর আবৃত্তি উপভোগ করেছেন আগত দর্শকশ্রোতারা।

সকল আবৃত্তিকারই কম বেশী শব্দ আর আলোর ব্যবহার করেছেন,কিন্তু সেমন্তী ওয়াহেদের একটি পরিবেশনা ছিলো নারীকে নিয়ে, সেই পরিবেশনাটা একটা আলাদামাত্রা যোগ করেছে এই আয়োজনে। তার গ্রন্থনার যে নির্বাচন সেটা বাইলিঙ্গুয়াল পরিবেশনা ছিলো,সেখানে একটি ছায়ানৃত্য ছিলো,তাতে লাল আলো ব্যবহার করা হয়েছে তাতে দেখানো হয়েছে এ্কজন নারীর যে বেঁচে উঠেছে সেটা আবার এই বছরের উৎসবের যে শ্লোগানটা ছিলো, তার একটা পূর্ণতা পেয়েছে।

এ্যলিনিয়েশন থিয়েটার উপযোগী এম্টি স্পেস থিওরির কনসেপ্টে এক গভীরতর ব্যাপ্তির শিল্পকর্ম ভিত্তিক এই ব্যয়বহুল মহাকাব্যিক মঞ্চের পরিকল্পনা ও নির্মাণ করেন মিথুন আহমেদ। নিউইয়র্কে মতো জায়গায় কোনা আয়োজনে এইধরনের মঞ্চ নির্মান মনে হয় এই প্রথম এবং এই মঞ্চই অনুষ্ঠানকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়।মঞ্চ ব্যবস্থাপনায় ছিলেন মিজানুর রহমান বিপ্লব,এবং তার সঙ্গে সহযোগীতায় ছিলেন এজাজ আলম, হোসেন শাহরিয়ার তৈমুর,তন্ময় মজুমদার,আশরাফুল হাবিব চৌধুরী মিহির ও আনোয়ারুল হক লাভলু।মিলনায়তন সজ্জায় মো: এরফানুল হক বাবু, বিশেষ সহযোগী ওবায়েদুল্লাহ মামুন।

সমাপনী বৃন্দ আবৃত্তি পরিশেনার মধ্য দিয়ে শেষ হয় আবৃত্তি পর্বের, সমাপনী বৃন্দ আবৃত্তিও পরিচালনা করেন শান্তা শ্রাবনী। এরপর আহবায়ক ও সদস্য সচিব উপস্থিত দর্শদেরকে ‘নিউইয়র্ক আবৃত্তি উৎসব ২০১৮’ এর কমিটির সদস্যদেরকে পরিচয় করিয়ে দেন ও সকলকে ধন্যবাদ দেন। আয়োজন সমাপনের পূর্বে নিউ ইয়র্ক আবৃত্তি উৎসব ২০১৮ এর ঘোষণাপত্রে বলা হয় “আবৃত্তি শিল্পের ইতিহাস এক দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস।দীর্ঘ ঐতিহ্যের এবং দীর্ঘ চর্চার সাংগঠনিক আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আজকে এই আবৃত্তিকলা জনমুখী শিল্প হিসেবে শক্তিশালী গণসম্পৃক্ততার মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে।আবৃত্তি সংগঠিতভাবে চেতনা ও আদর্শকে প্রকাশ করবার একটি শিল্পমাধ্যম।আবৃত্তিশিল্প তার স্বমহিমায় আজ বিকশিত।আজকের এই উৎসব প্রাঙ্গনে, আজকের এই সমাগমে, আজকের এই উপস্হিতিতে আমরা সেই তিন দশক পূর্বের চেতনার ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা সমন্বিত হয়ে প্রবাসের এই প্রেক্ষাপটে নিউইয়র্ক আবৃত্তি উৎসব ২০১৮’র মঞ্চে দাঁড়িয়ে- সেই একই অঙ্গীকার ব্যক্ত করছি।,শিল্পের চর্চায় শুদ্ধতার বিকাশে চেতনার অঙ্গীকার প্রকাশে সকলের সম্মিলিত অংশগ্রহনকে শিল্প অভিযাত্রায় একমাত্র পথ।,আাবৃত্তিশিল্পীরা মনেপ্রাণে ধারন করে বাঙ্গালির হাজার বছরের অসাম্প্রদায়িক চেতনা, গৌরবের ভাষা আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় মহান মুক্তিযুদ্ধের বীরত্ব ও গৌরবগাঁথা যা অবিরতভাবেই প্রকাশিত হবে আমাদের সকল শুদ্ধ চর্চা এবং পরিবেশনায়।,যে প্রত্যাশা, যে ভাবনা নিয়ে বহি:বিশ্বে এই প্রথম আবৃত্তি উৎসবের মহামিলনে একত্র হয়েছিলাম সেই মহান উচ্চারিত সত্য আমাদের শিল্পী জীবনের প্রতিটি চর্চার ক্ষেত্রে আমরা যেনো ধারন করি, এবং আমাদের ব্রত যেনো বলিয়ান থাকুক এই দীপ্ত শপথে ‘বিবেকের বন্ধ দরজায় / শব্দের হাতুড়িকে আজ হানো/ বোধের বিশ্বাসে,ভাবনাকে মজবুত করে/ভাবো,আরো বেশী করে ভাবো।’ ”। জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনার মাধ্যমে নিউইয়র্ক আবৃত্তি উৎসব ২০১৮- সমাপ্ত হয়।

প্রায় পাঁচ ঘন্টাব্যাপী এই অনুষ্ঠানটির সমন্বয়কারী ছিলেন সেমন্তী ওয়াহেদ,আর তাকে সহযোগীতা করেন এজাজ আলম ,মেহের কবীর, হোসেন শাহরিয়ার তৈমুর ও মোল্লা বাহাউদ্দিন পিয়াল।অনুষ্ঠান ঘোষনায় ছিলেন আশরাফুল হাবিব চৌধুরী মিহির, দুররে মাকনুন নবনী ও হোসেন শাহরিয়ার তৈমুর।

নিউইয়র্ক আবৃত্তি উৎসব ২০১৮ এর প্রচারে দায়িত্বে ছিলেন আশরাফুল হাবিব চৌধুরী মিহির।স্বরণিকা সম্পাদনা ও অলংকরণ এর দায়িত্বে ছিলেন নজরুল কবীর আর সহযোগীতায় ছিলেন ড. বিলকিস রহমান দোলা ও মেহের কবীর।স্বরণিকার প্রচ্ছদ পেইন্টিং করেছেন তাজুল ইমাম,গ্রাফিক্সে ছিলেন জাহেদ শরিফ,উৎসব নকশা করেন টিপু আলম ।

আয়োজনে তবলায় জনম সাহা এবং ছায়ানৃত্যে ছিলেন সুষনা চৌধূরী।আর যাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হলো,তারা হলেন রায়হান জামান,শিবলী নোমানী,নাসিমা বানু চাঁপা,কান্তা আলমগীর,সুতপা মন্ডল,বিশ্বজিত সেনগুপ্ত,নূসরাত এলিন,শিরিন ইসলাম,শহীদ উদ্দিন,লালন নূর।উৎসবে আরো যারা নিবন্ধন করেছেন,জি. এইচ. আরজু,ইভান চৌধুরী,তিতাস মাহমুদ,সেলিম ইব্রাহীম।

অনুষ্ঠান চলে সন্ধ্যে ছয়টা থেকে রাত এগারটা পর্যন্ত। আবৃত্তি উৎসবের আয়োজন নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে শুরু হলেও শেষ সময় পর্যন্ত অনুষ্ঠান হল ছিলো কানায় কানায় পরিপূর্ণ।ভবিষ্যতে আয়োজকরা আবৃত্তির মতো অনুষ্ঠান করতে গেলে সময়ের ব্যাপারটা খেয়াল রাখবেন আশা করি।

নিউইয়র্কে এই প্রথম একটি সফল আবৃত্তি উৎসব হলো,যা আবৃত্তিশ্রোতা তৈরী করার জন্য এটি একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ। এইরকম আয়োজন যেনো আরো বেশী বেশী করে হয়,যাতে করে আবৃত্তিশ্রোতা তৈরী হবে এবং আবৃত্তিশিল্প চর্চাটা অব্যাহত থাকবে এই বিদেশের মাটিতে।

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Situs Streaming JAV