Thursday, 22 October 2026 |
শিরোনাম
ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট ইউএসএর সাধারণ সম্পাদক ড. সাদিয়া আফরিন এরা চরমোনাই পীরের যুক্তরাষ্ট্র সফর উপলক্ষে নিউইয়র্কে দোয়া মাহফিল, কুরআন-সুন্নাহর আলোকে বয়ান New York Attorney General James Secures Reimbursements for T-Mobile Customers Whose Rates Were Unjustly Raised নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে কুনু-ফিরোজ পরিষদের সাত দফা ইশতেহার ঘোষণা; কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠা, সাশ্রয়ী ফিউনারেল সেবা, বিমানের সরাসরি ফ্লাইট ও আর্থিক স্বচ্ছতায় অঙ্গীকার ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থন: জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত আইরিন খান নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বিতর্ক, গুরুত্ব পেল স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি New York Attorney General James Warns New Yorkers About AI-Generated Election Misinformation Ahead of November Elections Bangladesh calls for global treaty to protect victims of crimes against humanity নিউইয়র্কে জাতিসংঘে মুহাম্মদ নওশাদ জমির এমপি: মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রতিরোধে শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সনদ প্রণয়নের আহ্বান সোশ্যাল মিডিয়ার তথ্য গোপন করলে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাখ্যান, আবেদনপত্রে চাওয়া তথ্য সঠিক ও সম্পূর্ণভাবে দেওয়ার নির্দেশনা মার্কিন দূতাবাসের
সব ক্যাটাগরি

নিউইয়র্ক প্রবাসী বাংলাদেশিদের নির্ঘুম রাত

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 97 বার

প্রকাশিত: August 28, 2011 | 4:43 PM

শহীদুল ইসলাম: হারিকেন আইরিনের আঘাতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলের নর্থ ক্যারোলিনা, ফ্লোরিডা, ভার্জিনিয়া, নিউজার্সি ও নিউইয়র্কের জনজীবন। ভূতুড়ে নগরীতে পরিণত হয়েছে বিশ্বের রাজধানীখ্যাত নিউইয়র্ক। যুক্তরাষ্ট্রে ৫ লক্ষাধিক বাংলাদেশীর মধ্যে ৩ লাখেরও বেশি বসবাস করেন এই নিউইয়র্কে। হারিকেন আইরিনের কারণে রবিবার নির্ঘূম রাত কেটেছে তাদের। বাংলাদেশে তাদের স্বজনেরাও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। নর্থ ক্যারোলিনা, ফ্লোরিডা, ভার্জিনিয়ায় আঘাত হানার পর রবিবার ভোর রাত ৪টা থেকে প্রায় ৭০  থেকে ৯০ মাইল বেগে হারিকেন আইরিন নিউইয়র্কে আঘাত হানতে শুরু করে। সকাল ৯টা পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড়টি উপকূল রেখা ধরে আরো উত্তরে অগ্রসর হচ্ছিল।

বিশ্ব বাণিজ্যের প্রধান কেন্দ্র ম্যানহাটানের অনেক রাস্তা প্লাবিত হয়েছে। মধ্য আটলান্টিক অঞ্চলে প্রায় এক মিলিয়ন বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুত্ সংযোগ রবিবার ভোররাত থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়েছে। আগামী ৫ দিন এসব এলাকায় বিদ্যুত্ বিচ্ছিন্ন থাকতে পারে। রাজধানী ওয়াশিংটনসহ পূর্ব উপকূলের সাতটি রাজ্যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। স্থানীয় সময় রবিবার সকালে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নর্থ ক্যারোলিনা, ফ্লোরিডা ও ভার্জিনিয়ায় ৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তবে আগাম সতর্কতা ও ব্যাপক প্রস্তুতির কারণে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

গতিপথ পরিবর্তন করে ভোর চারটায় আইরিন নিউইয়র্কের চারদিক থেকে আঘাত করে। আবহাওয়াবিদরা আশঙ্কা করছেন, রবিবার বেলা ১২টা পর্যন্ত আইরিনের প্রভাব থাকবে। এর ফলে ৮ থেকে ১০ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হতে পারে। আইরিনের আঘাত মোবেলায় গত দুদিন ধরেই নিউইয়র্ক শহর প্রস্তুতি নিচ্ছিল। আগের দিন শনিবার নিউইয়র্কের পাতাল রেল ব্যবস্থা বন্ধ করে দেয়া হয়। উপকূলীয় ও প্লাবন আশঙ্কিত নিচু এলাকা থেকে ৩ লাখ ৭০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেয়া হয়। শনিবার রাতে ব্রুকলিনের ইমার্জেন্সি অফিস ম্যানেমেন্ট সেন্টারে উপস্থিত হয়ে নিউইয়র্কের মেয়র মাইকেল ব্লুমবার্গ আইরিন মোকাবেলায় প্রশাসনের প্রস্তুতির কথা এবং নগরবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। প্রাকৃতিক দুযোগে নিউইয়র্কবাসীকে নিরাপদে সরে যাওয়ার পরামর্শ এবারই প্রথম।

আইরিনের প্রভাব নিউইয়র্কের বাংলাদেশীদের জীবনযাত্রায়ও প্রভাব ফেলেছে ব্যাপক। শনিবার সন্ধ্যায় কুইন্সের বাংলাদেশীদের প্রাণকেন্দ্র জ্যাকসন হাইটস পরিণত হয় ভূতুরে এলাকায়। ঈদের আগের শেষ সপ্তাহের ছুটিতে ব্যাপক বিক্রির প্রত্যাশায় পসরা সাজিয়ে অপেক্ষা করছিলেন বাংলাদেশী ব্যবসায়ীরা। কিন্তু শনি ও রবিবার আইরিন তাদের সেই আশা ঝড়ো হাওয়ায় উড়িয়ে দিয়েছে। সবচেয়ে বেকায়দায় পড়েছেন বাংলাদেশী ক্যাবিরা। ইয়োলো ক্যাবিরা শনিবার থেকে অলস বসে আছেন। ইয়োলো ক্যাবি মোহাম্মদ হাসান জানান, নিউইয়র্কে প্রায় ১২ হাজার বাংলাদেশী ক্যাবি টাক্সি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু দুদিন তারা ঘরে বসে আছেন। ঈদের আগে দেশে পরিবারকে কিভাবে টাকা পাঠাবেন তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ থাকায় অনেক ছোটখাটো কাজে নিয়োজিতরা ঘরে বসে দিন কাটাচ্ছেন। ঈদের আগে এবং মাসের শেষে এমন পরিস্থিতিতে পড়ে বেকায়দা অবস্থায় রয়েছেন তারা। ট্রেন-বাস বন্ধ হয়ে যাওয়া সন্ধ্যায় অনেকেই পায়ে হেঁটে বাড়ি ফিরেছেন। অজানা আশঙ্কায় আমেরিকানদের মত বাংলাদেশীরাও শনিবার ছুটে গেছেন দোকানপাটে মোমবাতি, টর্চ ব্যাটারি কিনতে। জরুরি অবস্থায় করণীয় অনুসরণ করে দু’তিন দিনের খাবারও কিনে রেখেছেন অনেকেই।

আইরিনের প্রভাবে সৃষ্ট প্রবল ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টির কারণে নিউইয়র্েকর অনেক এলাকা আঁধারে ঢেকে যায়। বিদ্যুত্ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন প্রায় এক লাখ গ্রাহক। উপকূলীয় ও নিম্নাঞ্চলের মানুষেরা আশ্রয় নিয়েছেন শহরের বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে। ম্যানহাটান,ব্রুকলিন ও কুইন্সের ৯১টি আশ্রয় কেন্দ্রে ৭০ হাজার লোকের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এদিকে ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার জানিয়েছে, স্থলভাগের উপর দিয়ে চলে আসায় আইরিনের ধ্বংস ক্ষমতা দ্বিতীয় ক্যাটাগরি থেকে প্রথম ক্যাটাগরিতে নেমে এসেছে। তারপরও ঝড়ের কেন্দ্রে ঘণ্টায় ৯০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বইছে।

এর আগে শনিবার প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেন, ঘূর্ণিঝড় আইরিনের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ‘নজিরবিহীন’ হতে পারে। অবকাশ সংক্ষিপ্ত করে শনিবার ওয়াশিংটনে ফিরে সিনিয়র অফিসিয়ালদের সাথে পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করেন তিনি। অর্থনৈতিক মন্দাক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রকে এবছর প্রকৃতির সঙ্গেও সমানতালে পাল্লা দিতে হচ্ছে। বন্যা, টর্ণেডো আর তাপদাহে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এরই মধ্যে ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। আইরিনের আঘতে এর পরিমাণ আরো কয়েকশ’ বিলিয়ন ডলারে গিয়ে পৌঁছবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।ইত্তেফাক

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ