নিজ দেশকে উপস্থাপনের সুখ
বিদেশ ঘুরতে আসব বহুবার ভেবেছি। কিন্তু কয়েক বছরের জন্য থাকতে হবে তা কোনোদিন কল্পনাও করিনি। সে যাহোক, সমিক চাকরিসূত্রে আমেরিকা এসেছে আর আমি এসেছি সহধর্মিণী হিসেবে।
আমাকে যে ভিসা দিয়েছে তাতে চাকরি করার অনুমতি নেই। মানুষ খুব তাড়াতাড়ি খুঁজে বের করে বোরিং সময় কাটানোর উপায়। আমিও আমার বাসার কাছে সন্ধান পেলাম গ্রেইপভাইন পাবলিক লাইব্রেরির।
আমি বইয়ের পোকা কোনোকালেই ছিলাম না। আর পাঠ্য বইয়ের বাইরে যে ইংরেজি বই খুব একটা পড়েছি তাও না। মনে হতো, এত ভালো ভালো বাংলা বই থাকতে আমার কী দরকার বাপু ভিন্ন ভাষার বই পড়ার?
তবু আমি এখানকার লাইব্রেরিতে গেলাম এবং ঢুকে ধাক্কা খেলাম। অসম্ভব সুন্দর! এক পাশে বাচ্চাদের সেকশন। নীল চোখের বাচ্চারা বই টেনেটুনে বের করছে। চোখাচোখি হলেই হেসে দিচ্ছে। এরপর ডিভিডি আর সিডির সেকশন। থরে থরে সাজানো। তারপর মূল লাইব্রেরি। সেখানে অঢেল বই।
আমি গ্রেইপভাইনের আশেপাশে কী কী কর্মকান্ড আছে তারও খোঁজ নিলাম। তখন জানলাম আমাদের বাসার কাছেই ইন্টারন্যাশনাল ফ্রেন্ডশিপ অ্যাট গ্রেইপভাইন আছে। এটা অনেকটা ফ্রেন্ডশিপ সেন্টারের মতো।
সেখানে আমি একা যেতে লজ্জা পেলাম। এক সপ্তাহের মধ্যে কাকতালীয় ভাবে প্রতিবেশি ম্যারি লুইস পন্ডের সঙ্গে পরিচয় হলো। তিনি আমাকে নিয়ে গেলেন একদিন। ওখানে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, মেক্সিকোসহ মোট ১৯টি দেশ আছে। আমাকে নিয়ে ২০টি দেশ হলো।
আমি একমাত্র বাংলাদেশি! আমার মনে হলো আমার ওপরই দেশের সম্মান! মনে হলো এমনভাবে সবার সঙ্গে মিশতে হবে, যাতে সবাই ভাবে বাংলাদেশ মানে এমন একটা অসাধারণ দেশ, এর মানুষগুলো এত ভালো।
অনেকগুলো দল আছে। যেমন পত্রিকা পড়া, সিটিজেনশিপ, উচ্চারণ শেখা, গল্পের বই পড়া প্রভৃতি। যে যার পছন্দমতো একটা দলে ঢুকে যায়। ক্লাস শেষে হালকা নাস্তা খেয়ে গান গেয়ে ক্র্যাফট ক্লাস। নইলে কুকিং ক্লাস অথবা বাইবেল পাঠে চলে যায় সবাই। তিন ঘণ্টা সময় কিন্তু খুব মজা হয়। এখানে নানা ধরনের দিবস পালন করা হয়। স্বাভাবিকভাবেই আমেরিকান সব দিবস। টেক্সাস ডে, থ্যাংকস গিভিং ডে, ক্রিসমাস ইত্যাদি।
একদিন পালন করা হলো ইন্টারন্যাশনাল ডে। সবাই যার যার দেশ তুলে ধরবে। আমি মনে মনে বলি, হায় হায় কী বলে! আসার সময় তো দেশ থেকে দেশিয় কিছুই আনতে পারিনি। চারটা সুটকেসে দরকারি জিনিস আনব না অন্য জিনিস আনব!
বাংলাদেশের টেবিলটি সাজানোর জন্য কাঠের গয়না, নানুর তৈরি নকশিকাঁথা, বিয়ের ছবি, বাটিকের ওড়না, দেশিয় খাবার নিলাম। রাত জেগে একটা পোস্টারও তৈরি করলাম। নেট থেকে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের ছবি নামিয়ে, টাকা পয়সা লাগিয়ে থ্রিডি ধরনের পোস্টার বানিয়েছিলাম।
নির্দিষ্ট দিন গিয়ে দেখি সব দেশের টেবিল কী জমজমাট করে সাজানো। সবারই দুই-তিনটা টেবিল লেগেছে। জাপানি সবাই কিমোনো পরে এসেছে। টেবিল ভর্তি জিনিস। আমি দুইটা প্রায় খালি টেবিল নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি।
তবে সেদিন একটা জিনিস খুব ভালোভাবে উপলব্ধি করলাম, নিজের দেশকে উপস্থাপন করায় কী যে সুখ! সবারই একবার হলেও প্রবাসে আসা উচিত। তাহলে দেশ কী, দেশপ্রেম কাকে বলে, আত্মীয় ছাড়া জীবন কেমন, বুঝতে পারবে।
কিন্তু প্রবাসে এসে যদি থেকেই যায় তাহলে তার চেয়ে অভাগা বোধহয় আর কেউ নেই। আমি দেখেছি সে সব মানুষ থেকে গিয়েছেন, শেষ বয়সে একূল-ওকূল দুকূলেরই শান্তি হারিয়ে কেমন জানি দিশেহারা ভাব নিয়ে কথা বলেন!প্রথম আলো
অপলা হায়দার
টেক্সাস, যুক্তরাষ্ট্র
- Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN
- এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ
- Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda
- নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ
- নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার অঙ্গীকার
- State Minister for Foreign Affairs Urges Stronger Global Action to Protect Civilians, Uphold Humanitarian Law and Support Rohingya Repatriation
- বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন সমুন্নত রাখা ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামার
- মহররম মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত!