Saturday, 20 June 2026 |
শিরোনাম
Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার অঙ্গীকার State Minister for Foreign Affairs Urges Stronger Global Action to Protect Civilians, Uphold Humanitarian Law and Support Rohingya Repatriation বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন সমুন্নত রাখা ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামার মহররম মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত! Bangladesh Calls for Stronger Humanitarian Action and Women’s Leadership in Peacebuilding at UN Forum নিউইয়র্কে জাতিসংঘ ফোরামে মানবিক সহায়তা জোরদার ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় নারীর নেতৃত্ব বৃদ্ধির আহ্বান বাংলাদেশের
সব ক্যাটাগরি

পড়াশোনার জন্য চাই আগ্রহ ও আত্মবিশ্বাস

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 97 বার

প্রকাশিত: February 24, 2014 | 11:09 PM

শিক্ষার সঙ্গে আগ্রহের একটা নিবিড় সমপর্ক রয়েছে। শিক্ষাকে কার্যকর করতে হলে শিক্ষণীয় বিষয়ের প্রতি শিক্ষার্থীর আগ্রহ থাকতে হবে। একজন শিক্ষার্থীর শিখতে না চাওয়ার ব্যাপারে দেখা গেছে আত্মবিশ্বাসের অভাব, বিষয়ের প্রতি উৎসাহের অভাব, ভীতি এবং নিয়ম-নিষ্ঠার অভাব। ইচ্ছা করলে খুব সহজেই এগুলো পাশ কাটিয়ে লেখাপড়ায় মনোযোগী হওয়া সম্ভব।
লেখাপড়াকে ভয় করলে লেখাপড়ায় ভালো করা যায় না। কোন শিক্ষার্থী যদি প্রথমেই ধরে নেয় যে এসব বিষয়ে পাস করা বা এর চেয়ে ভালো ফলাফল করা সম্ভব নয়, তাহলে সত্যিই এটা হবে না। এবার নিজেকে নিজেই প্রশ্ন করো, সহপাঠীরা যা পারবে তা তোমার না পারার কারণ কী থাকতে পারে। পড়াশোনার ক্ষেত্রে যতক্ষণ বোঝা যাচ্ছে না, ততক্ষণ কঠিন; বুঝতে পারলেই সহজ। 
বোঝার জন্য রয়েছে অনেক সময়। আগের ক্লাসের চেয়ে বর্তমান ক্লাসের পাঠ্যসূচি একটু কঠিন। এই সময়ের মধ্যে তোমার ধারণা বেড়েছে, বেড়েছে পড়াশোনার ক্ষমতাও। তাই পড়া নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আর্থিক অসচ্ছলতা, প্রতিকূল পরিবেশ থাকার পরও ড. আতিউর রহমান আজ বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হয়েছেন। তিনি যখন তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র নতুন শ্রেণীতে বই কেনার টাকা ছিল না। তার মন পড়ে থাকত বইয়ের পাতায়। সামনে বার্ষিক পরীক্ষা, অনুমতির বিনিময়ে ভর্ৎসনা। শুনতে হলো-সবাইকে দিয়ে লেখাপড়া হয় না। কিন্তু পরীক্ষা তো দিতে হবে। ভেতরে জেদ। সহপাঠীর সহযোগিতায় পরীক্ষা দিলেন। চতুর্থ শ্রেণীতে প্রথম স্থান। সংকট কাটেনি। তারাও থেমে থাকেননি। অষ্টম শ্রেণীতে ক্যাডেট কলেজ থেকে পদে পদে লড়াই করে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার মেধা তালিকায় স্থান করে নিয়েছিলেন। লেগে থাকা এক মস্ত বড় গুণ। যে বিষয়টা পড়তে সহজ, ভালো লাগে শুধু সে বিষয় নিয়ে পড়ে থাকলে অন্য বিষয়গুলোর ওপর অবিচার করা হবে। ওগুলোতে নম্বর কমে যেতে পারে। বর্তমান গ্রেডিং পদ্ধতিতে ফলাফল নিরূপণের কারণে সব বিষয়েই সমান গুরুত্ব দিতে হবে তোমাকে। প্রতিদিন কমপক্ষে পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা বাড়িতে লেখাপড়া করার বিষয়টি মাথায় রেখে সিলেবাস অনুসারে রুটিন করে নাও। যেখানে ছুটির দিন ছাড়াও বিকেলে, সপ্তাহের একটি সন্ধ্যা আলাদা করে রাখতে পার অন্য কিছু করার জন্য। কিন্তু রুটিন ভাঙা চলবে না। নিজের সদিচ্ছা ও বুদ্ধিমত্তা দিয়ে রুটিন ধরে রাখবে। ‘পড়ার সময় পড়া আর ছুটির সময় আনন্দ’-এই নীতিটা মেনে চলবে। সময়টা সঠিকভাবে কাজে লাগানোর এই পরিকল্পনা যদি আগে থেকেই তৈরি করে নাও তাহলে যে কোন কাজ সঠিকভাবে শেষ করতে পারবে।
লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য স্বপ্ন দেখাটা জরুরি। ধর তুমি ডাক্তার হতে চাও। কল্পনা কর, বিরাট এক হাসপাতালে কাজ করছ, দেশজোড়া খ্যাতি। রোগীরা দূর থেকে ভিড় জমিয়েছে। এটা তোমার মধ্যে লক্ষ্যে পৌঁছাতে অনুপ্রেরণা জোগাবে। লক্ষ্য পূরণের আকাঙ্ক্ষা বাড়বে। আর সেই সঙ্গে বাড়বে চেষ্টা। 
যেসব শিক্ষার্থী স্মৃতিশক্তি নিয়ে অল্পতেই হতাশ হয়ে যাও তারা পৃথিবীর বিখ্যাত মনীষীদের জীবনকথা পর্যালোচনা করে দেখতে পার। যেমন-বিশ শতকের শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী জার্মানির আইনস্টাইন। স্মৃতিশক্তি কমের কারণে যার পড়া শুরু করতেই নয় বছর লেগেছিল, প্রথম বার ভর্তি পরীক্ষায় ফেল করেন। এন্ট্রান্স পরীক্ষায়ও তিনি প্রথম বার ফেল করেন। পরে এন্ট্রান্স পাস করে স্মরণশক্তির স্বল্পতার কারণে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে রাজি হননি। অতঃপর চাকরির পরীক্ষা দিয়েও ব্যর্থ হন। কারণ ইন্টারভিউ বোর্ডের সামনে কোন প্রশ্নের উত্তর মনে আসে না, ভুলে যান। স্মৃতিশক্তি নিয়ে দারুণ দুশ্চিন্তায় পড়েন। অন্তর থেকে তাগিদ অনুভব করেন। মাত্র দুই বছরের সাধনায় অসাধারণ উন্নতি ঘটালেন। তারপর তাকে পেছনে তাকাতে হয়নি। ২০ বছরের মাথায় নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন, বিজ্ঞানী টমাস আলভা এডিসন স্মৃতিশক্তি-স্বল্পতার কারণে প্রথম দিকে স্কুলের খারাপ ছাত্র থেকে সাধনার বলে সেরা ছাত্র হন। এ রকম অসংখ্য মনীষীর জীবনী পড়ে উৎসাহ পেতে পার। আর্থার ডবিস্নউ কর্ন হাউস তার হাউ টু স্টাডি গ্রন্থে পাঠ মনে রাখার উদ্দেশ্যে নিচের সাতটি নিয়মের কথা উল্লেখ করেছেন- 
১। মনে রাখার বিষয় বা ধারণাটির মানে ঠিকমতো বুঝে নাও।
২। মনে রাখার বিষয়টি বারবার পড়, আওড়াও বা দেখ। 
৩। সক্রিয়ভাবে মনোযোগ দাও। প্রত্যেকবার পড়ার বা দেখার সময় বিষয়টি সম্বন্ধে আরেকবার চিন্তা করো। এ বিষয়ে নোট সংগ্রহ কর, নিজে নিজে কথা বলো বা শিক্ষক, সিনিয়র ছাত্রছাত্রী ও সহপাঠীদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করো। শুধু মন্ত্রের মতো শব্দের পুনরাবৃত্তি করলে মনে রাখা সহজ হয় না।
৪। স্থায়ীভাবে স্মরণে রাখতে হবে এ উদ্দেশ্য নিয়ে শেখ।
৫। পড়ার সময় মাঝে মাঝে থামো এবং কী শিখছ তা স্মরণ কর।
৬। মনে রাখার ব্যাপারে নিজ ক্ষমতার ওপর বিশ্বাস রাখ।
৭। পড়ার বিষয়বস্তুর মধ্যে পারস্পরিক যুক্তিসংগত সম্পর্ক না থাকলে নিজের ইচ্ছেমতো সমপর্ক স্থাপন কর।
কোন কিছু মুখস্থ বা স্মরণে রাখার জন্য পয়েন্টগুলোর আদ্যক্ষর দিয়ে বা কবিতাকারে বা নিজ উদ্ভাবিত অন্য কোন উপায়ে চেষ্টা করলে মনে রাখা সহজ হয়। যেমন তিনটি মৌলিক রং লাল, নীল, হলুদ কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই হয়তো শব্দ তিনটি মুখস্থ হয়ে গেল। পরের দিন যদি প্রশ্ন করা হয় মৌলিক রং কী কী? দেখা যাবে লাল, নীল, হলুদের সঙ্গে বেগুনি, হলুদ এসে ভিড় জমিয়েছে। কিন্তু শেখার সময় মনে মনে চিন্তকরি, লাল সূর্যের রং, নীল আকাশের রং, হলুদ সূর্যমুখীর রং তবে অনেক দিন পর হলেও সঠিক উত্তর সহজেই বেরিয়ে আসবে। লিখে লিখে শেখার চেষ্টা করতে পারাটাও গুরুত্বপূর্ণ। শেখা বিষয় থেকে প্রশ্ন তৈরি করে মনে মনে উত্তর আওড়াতে সময় ব্যয় করে খুবই ভালো ফলাফল করা যায়।
নিজের শক্তিকে উপেক্ষা করে মানুষ প্রকৃতপক্ষে নিজেকেই ঠকায়। নিজের মাঝে লুকিয়ে থাকা সম্ভাবনাকে নিজেকেই কাজে লাগাতে হবে।
* মোস্তাকিম রহমান/সংবাদ

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Situs Streaming JAV