পাক হায়েনাদের বিচার দাবিতে জাতিসংঘ মহাসচিবকে স্মারকলিপি, বাংলাদেশের ১৯ বিরঙ্গনার স্বাক্ষর
ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম ডেস্ক, নিউইয়র্ক : একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের দু’লক্ষাধিক নারীর সম্ভ্রম কেড়ে নেয়ার জন্যে দায়ী পাকিস্তানী সৈন্যদের বিচার এবং বাঙালিদের নির্বিচারে হত্যা, নির্যাতন, সহায়-সম্পদে অগ্নিসংযোগ করার জন্যে পাকিস্তানকে প্রকাশ্যে দু:খ প্রকাশ এবং ক্ষমা প্রার্থনার দাবিতে জাতিসংঘ মহাসচিব বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করা হলো। ১৯ বিরঙ্গণার স্বাক্ষর সম্বলিত এই স্মারকলিপি ২২ এপ্রিল সোমবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরে হস্তান্তর করেন মুক্তিযোদ্ধা দম্পতি আমিনা বেগম মিনা এবং আজিজুল হক বকুল। স্মারকলিপিতে স্বাক্ষরকারির সকলেই সিরাজগঞ্জের অধিবাসী। সিরাজগঞ্জ থেকেই নিউইয়র্কে নিজ খরচে এসেছেন এই মুক্তিযোদ্ধা দম্পতি।
স্মারকলিপিতে বিরঙ্গনাদের সুন্দরভাবে দিনাতিপাতের জন্যে প্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণের আবেদনও করা হয়েছে। উল্লেখ করা হয়েছে, দেশমাতৃকার মুক্তির জন্যে নিজের সর্বস্ব খুইয়েছেন যে নারীরা তারা খেয়ে, না খেয়ে সমাজে অপাঙক্তেয় হিসেবে বসবাস করছেন। অথচ তারাও বীর মুক্তিযোদ্ধা। যে সময়ে এহেন জঘন্য অপকর্ম সংগঠিত হয়েছে, তখোনও এ বিশ্ব সভ্য ছিল। এখনো সভ্য সমাজেই বাস করছি। এখন যদি শিশু হত্যা ও নারী ধর্ষষের বিচার হয়, সেদিনের ধর্ষণের বিচার হবে না কেন? আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতেই পাকিস্তানী হায়েনাদের বিচার করতে হবে। তাহলেই বিরঙ্গনারা শান্তি পাবেন।
স্মারকলিপির কপি দেয়া হয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাকেও।
স্মারকলিপিতে স্বাক্ষরকারি বিরঙ্গনারা হলেন আছিয়া বেগম, খোদেজা বেগম, কমলা বেওয়া, আয়মনা বেগম, আয়েশা বেগম, করিমন বেগম, জয়গুন বেগম, নূরজাহান বেগম, বানু খাতুন, রাহেলা বেওয়া, সামিনা খাতুন, সুরাইয়া খাতুন, হামিদা খাতুন, হাসিনা বেগম, মাহেলা বেগম, হাজেরা খাতুন, রহিমা বেওয়া প্রমুখ।

স্মারকলিপি প্রদানের পরই আমিনা বেগম মিনা এবং আজিজুল হক বকুল জ্যাকসন হাইটসে যুক্তরাষ্ট্র সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের কর্মকর্তাগণের সাথে সাক্ষাত করেন। সে সময় মুক্তিযোদ্ধা আমিনা বেগম মিনা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ‘জাতিরজনকের কন্যা শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাংলাদেশ ফিরেছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়। সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় অধিষ্ঠিত হয়েছি মুক্তিযোদ্ধারা। প্রয়োজনের তুলনায় খুবই নগন্য হলেও মাসিক ১০ হাজার টাকা করে ভাতা পাচ্ছি। বছরে কয়েকটি বোনাসও দেয়া হচ্ছে মুক্তিযোদ্ধাদের। বিরঙ্গনাদেরকেও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। যা ক’বছর আগেও ছিল অকল্পনীয়। মুক্তিযোদ্ধা মিনা অবশ্য দু:খের সাথে উল্লেখ করেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার আমলেই মুক্তিযোদ্ধা সন্তানের কোটা বাতিল করা হয়েছে। এটি মেনে নিতে পারছি না। আশা করছি বঙ্গবন্ধুর কন্যা এটি পুনবিবেচনা করবেন।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে ছিলেন সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা রাশেদ আহমেদ, সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আবুল বাশার চুন্নু, নির্বাহী সদস্য মুক্তিযোদ্ধা লাবলু আনসার এবং মুক্তিযোদ্ধা সানাউল্লাহ। মুক্তিযোদ্ধা মিনার ধারণা, জাতিসংঘ এক সময় বাধ্য হবে পাক হায়েনাদের বিচার করতে। সে পর্যন্ত আমরা সোচ্চার থাকবো। সিরাজগঞ্জের এই মুক্তিযোদ্ধা মিনা কর্তৃক বাংলাদেশের ১০০ বিরঙ্গনা নারী মুক্তিযোদ্ধার পরিচিতি সম্বলিত ‘মুক্তিযুদ্ধের কালো অধ্যায়/ঠিকানা’৭১’ গ্রন্থটি প্রদান করেন যুক্তরাষ্ট্র সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামকে। এনআরবি নিউজ
- নিউইয়র্কে চিটাগাং অ্যাসোসিয়েশন অফ আমেরিকা’র সংবাদ সম্মেলন: সংগঠনের বিরুদ্ধে চলমান মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোন নির্বাচন নয়
- যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশীদের মূলধারার ব্যবসা-বাণিজ্য রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. তিতুমীরের
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সেমিট্রির কবরে মরদেহ সমাহিত করা যাবে ১ জুলাই থেকে
- যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের জন্যে বাংলাদেশ এখন সবচেয়ে কার্যকর ও উপযোগী দেশ: প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতি ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. তিতুমীর
- নিউ জার্সির আটলান্টিক সিটিতে মেয়র মার্টি স্মল সিনিয়র স্কলারশিপ প্রোগ্রাম, আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৫ জুন
- নিউইয়র্কে মুনার ঈদ পুনর্মিলনী
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশী ডক্টর ফোরাম অব নর্থ আমেরিকা’র উদ্যোগে ডা. ডোনার ও ডা. হারুন সংবর্ধিত
- নিউইয়র্ক স্টেট ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারী নির্বাচনে এসেম্বলিম্যান প্রার্থী জাকির চৌধুরীর ‘কমিউনিটি র্যালি’