Tuesday, 27 October 2026 |
শিরোনাম
অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রে মানবাধিকারকে রাখতে হবে: জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান নিউইয়র্কে হিউম্যান সাপোর্টের বিনামূল্যে ফ্লু টিকাদান কর্মসূচি New York Attorney General James Announces Election Protection Hotline Ahead of November General Election ASAAL’s 19th Annual Convention Draws Nearly 500, Calls for Stronger Civic Engagement and Workers’ Rights নিউইয়র্কে ট্রাফিক এজেন্ট ইউনিয়নের সভায় দুই বাংলাদেশি নেতাকে ঘিরে সংঘর্ষ, আসন্ন নির্বাচন ঘিরে নেতৃত্বের বিরোধ প্রকাশ্যে দেহের মেহরাবে অনন্তের দীপ নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন স্থগিতের প্রতিবাদে ব্রঙ্কসে ‘সেলিম-আলী’ পরিষদের সমাবেশ; মামলার কারণে আর্থিক ক্ষতি ও ভোটাধিকার ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ নিউইয়র্কে আ্যসালের ১৯তম বার্ষিক কনভেনশন অনুষ্ঠিত; শ্রমিক অধিকার, নাগরিক ক্ষমতায়ন ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতের অঙ্গীকার নিউইয়র্কে আদালতের নিষেধাজ্ঞায় স্থগিত বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন; ওসমান চৌধুরীর সদস্যপদ প্রত্যাখ্যান নিয়ে মামলা, ৫ নভেম্বর পরবর্তী শুনানি; সংবাদ সম্মেলনে আইনি পরিস্থিতি তুলে ধরল নির্বাচন কমিশন হানি ট্র্যাপে হত্যার অভিযোগ, সাগরের মামলা পিবিআইতে দেওয়ার দাবি পরিবারের; প্রধান আসামির জামিনে উদ্বেগ, দ্রুত গ্রেপ্তার ও সুষ্ঠু তদন্তের আহ্বান
সব ক্যাটাগরি

পুত্রদ্বয় আব্দুল আলীমের গানে বাংলাদেশ কালচারাল সোসাইটির অনবদ্য আয়োজন

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 196 বার

প্রকাশিত: October 17, 2013 | 10:18 AM

নিউইয়র্ক: বাংলা লোক সঙ্গীতের স¤্রাট আব্দুল আলীম স্মরণে স্মৃতি চারণ এবং শিল্পীর দুই পুত্র জহির আলীম ও হায়দার আলীমকে নিয়ে এক অনবদ্য সঙ্গীত সন্ধ্যার আয়োজন করেছিলো বাংলাদেশ কালচারাল সোসাইটি ইউএসএ ইন্ক। গত ১১ অক্টোবর শুক্রবার সন্ধ্যায় ১৮৫৬ ওয়াটসন এভিনিউতে অবস্থিত সংগঠনের নিজস্ব কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সঙ্গীত সন্ধ্যা ও স্মৃতি চারণ চলে মধ্যরাত পর্যন্ত। শিল্পী আব্দুল আলীমের গাওয়া জনপ্রিয় গানগুলো থেকে বাছাই করা গানের মোহনীয় সুরের ইন্দ্রজালে দর্শক-শ্রেুাতাদের মোহাবিষ্ট করে রাখেন তাঁর সুযোগ্য পুত্র জহির আলীম অনুষ্ঠানের শেষাবধি পর্যন্ত।

10152013_002_ABDUL_ALIM

গানের ফাঁকে ফাঁকে চলে স্মৃতি চারণ।

উল্লেখ্য যে, জহির আলীম বর্তমানে বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের একজন তালিকাভুক্ত কন্ঠশিল্পী এবং দেশের একমাত্র সঙ্গীত প্রতিষ্ঠান সরকারি সঙ্গীত কলেজের লোক সঙ্গীত বিভাগের এসাসিয়েট প্রফেসর হিসেবে কর্মরত আছে। মূলত তিনি তাঁর বাবার গাওয়া গানগুলো গেয়েই দেশে বিদেশে বিপুল জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। এ পর্যন্ত পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যেমন- যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, চীন, উত্তর কোরিয়া, স্পেন, অস্ট্রেলিয়া ও ভারত সহ বিভিন্ন দেশে আমাদের লোক সঙ্গীতকে পৌঁছে দিয়েছেন। অনুষ্ঠানে তাঁকে তবলায় সহযোগিতা করেন তাঁরই ছোট ভাই হায়দার আলীম। যিনি ছোট বেলা থেকেই তবলা বাজান। বাবা আব্দুল আলীম এর সাথেও তিনি তবলা বাজিয়েছেন। তিনিও ভাই-বোনদের সাথে তবলা বাজান দেশে-বিদেশের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে। অনুষ্ঠানের বাড়তি আকর্ষণ ছিলো শিল্পী আব্দুল আলীমকে কাছে থেকে দেখা দু’জন ব্যক্তিত্বের স্মৃতি চারণ। বিশিষ্ট চলচ্চিত্র পরিচালক সৈয়দ কবীর আনোয়ার ও অপরজন সাপ্তাহিক এখন সময় পত্রিকার সম্পাদক কাজী সামছুল হক।

পরিচালক কবীর আনোয়ার বলেন- “১৯৬৫ সালের ২৫শে ডিসেম্বর বাংলাদেশ টেলিভিশন যখন যাত্রা শুরু করে। সেই দিন ফেরদৌসি রহমান, আব্দুল আলীম, মুনীর চৌধুরী, ফেরদৌসী মজুমদার (তখন মজুমদার ছিলোনা), হেনা কবীরসহ আমরা যারা টেলিভিশন ওপেনের সময় ছিলাম তখনকার স্মৃতি আমার এখনও মনে পড়ে, আলীম ভাই সাদা পাজামা, একটু ওফ হওয়াইট পাঞ্জাবী, একটা চাদর কাঁধে টেলিভিশনে আসতেন। আলীম ভাইয়ের সাথে টেলিভিশন ভবনের সামনে কত আগ্রহ এবং আন্তরিকতা নিয়ে কতদিন যে বেদীতে বসে গল্প করেছি তার স্মৃতি আজও আমার মনে ভাসে। অত্যন্ত ¯েœহ করতেন আমাকে। আমার ছবিতে তাঁর গান, তাঁর ছেলে মেয়েদের গান আমি আজও ব্যবহার করছি। আলীম ভাইয়ের পরিচয় এখানে যারা নতুন তাদের বোঝানো কঠিন। নতুন প্রজন্মের উদ্দেশ্যে শুধু এইটুকু বলি, আলীম ভাই যখন গান গাইতেন বাংলাদেশের মাঠের মানুষ, নদীর মানুষ, শ্রমজীবী মানুষ, নি¤œবিত্ত, মধ্যবিত্ত সব কান পেতে শুনতো। আলীম ভাইয়ের কন্ঠ, সুর ছিলো বাংলার আকাশে বাতাসে। এমন ভাবে আমাদেরকে আকর্ষণ করতো একটা সর্বগ্রাসী আকর্ষণ আমাদেরকে ধরে রাখতো, আমি সেই দিনগুলি ভুলতে পারি না। বলা যায় যে, নীনা হামিদ আর আব্দুল আলীম সারা বাংলাদেশকে তাদের সুর দিয়ে মাতিয়ে রেখেছিলেন। সেই সময়ে কোন একটি রেষ্টুরেন্টে, হাটে, মাঠে, ঘাটে জনপদে যদি গিয়ে বলেন এই আব্দুল আলীমের ছেলে জহির, এই আব্দুল আলীমের ছেলে হায়দার আমি চিন্তা করতে পারছিনা তখনকার দিনে কি হতো।

আমাদের গুণীজনদের সৃষ্টিকর্ম ও স্মৃতি ধরে রাখার ব্যাপারে রাষ্ট্রপক্ষের উদাসীনতার কথা বলতে গিয়ে কবীর আনোয়ার অত্যন্ত আক্ষেপের সাথে বলেন যে, ‘জহিরের ভগ্নিপতি মোহন, অবজারভারে কাজ করতো ও আমার খুব ভক্ত ছিলো নানা কারণে। আব্দুল আলীম ভাইয়ের মৃত্যুর সময় পিজি হাসপাতালে আমি কয়েকবার গিয়েছি, আলীম ভাইয়ের উপর একটি ডকুমেন্টারী করার জন্য মোহন আমাকে বললো, কবীর ভাই আপনি একটু উদ্যোগ নেন। সত্যিকার অর্থে কবি শামসুর রাহমান, আলীম ভাই, রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা এরা যখন বলে কবীর াপনি একটু হাত লাগান, কন বলে আমি জানি না, আমি প্রত্যেকের ব্যাপারে সরকারের যে ডিএফপি আছে একুশে টেলিভিশন যখন এলো আমি প্রস্তাবনা রাখলাম খুব দুঃখের বিষয় আলীম ভাই’র মাত্র তিনটি গান ছাড়া বাংলাদেশ টেলিভিশনে আর কিছুই নেই এবং তাও সেই টেপের গানের যে দুরবস্থা তা হয়তো আর মেরামত করা যাবে না। এ হলো আমাদের শ্রেষ্ট গুণিজনের জন্য আমাদের রাষ্ট্রিয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব। আরো মজার ব্যাপার আমি যখন এ ধরণের বরণ্য ব্যক্তিদের জন্য যাদের পরিচয়ে আমাদের পরিচয়, যাদেরকে নিয়ে আমরা বুক ফুলিয়ে দাঁড়াই, যাদের নিয়ে আমরা গর্ব করি, যাদের নিয়ে আমরা বিদেশে যাই, প্রতিনিধিত্ব যারা করেন তাদের জন্য যখন রাষ্ট্র বলে পঁয়ত্রিশ হাজার টাকার বেশি দিতে পারবো না, আকাশ থেকে পড়ি, এরা কি অনুভব করতে পারে, এরা কি বুঝতে পারে আব্দুল আলীম কে? এরা কি বুঝতে পারে শামসুর রাহমান কে? খুবই দুঃজনক আমি লজ্জায় ঘৃণায় ওদেরকেও বলি আমি এ কাজ করবো না।

কাজী শামসুল হক শিল্পী আব্দুল আলীমের সাথে তাঁর একটি মজার স§ৃতি বলেতে গিয়ে বলেন-‘তখনকার রেডিও পাকিস্তানে চাকুরী করার সুবাদে আমি শিল্পী আব্দুল আলীম ভাইয়ের খুব ঘনিষ্ট হওয়ার সুযোগ পেয়েছিলাম। আমি তখন অনেক ছোট ছিলাম, আবুলের কেন্টিন ছিলো রেডিওতে, সেখানে আলীম ভাই, কবি ফররুখ আহমেদ, কবি আজিজুর রহমান, তালিম হোসেন যারা সিনিয়ার ছিলেন এবং নিয়মিত কেন্টেনে আড্ডা দিতেন, তাদের একটা একাউন্ট ছিলো লম্বা খাতায়। আলিম ভাই যখন কেন্টেন থেকে চলে যেতেন তখন আমরা লম্বা একটা সালাম দিয়ে কেন্টিনে গিয়ে বসতাম। চা-টা যাই খেতাম বলতাম আলীম ভাইয়ের নামে লিখে রাখো।’

তিনি আরো বলেন,‘ঐ সময়ে ওনাদের যে খ্যাতি যে ব্যক্তিত্ব তখনই আমাদের কাছে কিংবদন্তী মনে হতো একটু পাশে বসতে পারলে বা একটু কথা শুনতে পারলে আমরা খুব ধন্য হতাম। এখনতো আমরা তাদেরকে ভুলে যাচ্ছি। আমি আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞ যে, আপনার জহির ও হায়দারকে ডেকে এনেছেন। এভাবেই আমরা যারা প্রবাসে আছি তাদের কাছে আব্দুল আলীম তথা আমাদের পুরনো স্মৃতি বেঁচে থাকবে। এরা কিন্তু আমাদের আইকন তাদেরকে আমাদের ভুলে গেলে চলবে না।

অনুষ্ঠানে আগত অতিথিদের মধ্যে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন প্রফেসর খলিলুর রহমান ও ফয়জুর রহমান ফটিক। প্রয়েসর খলিল বলেন, ‘লোকগীতি আমাদের শিকড়। বাংলাদেশ কালচারাল সোসাইটি শিকড়ের সন্ধ্যানে কাজ করছে। আজকের একটি নির্মল আনন্দময় সন্ধ্যা উপহার দেবার জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমি তাদের কাছে দাবী রাখবো তারা যেন এ ধারা অব্যাহত রাখে। এজন্য যত ধরণের সহযোগিতার প্রয়োজন আমি দিতে প্রস্তুত আছি।’

স্বাগত বক্তব্যে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নাসরীন আহমেদ বলেন, ‘বর্হিবিশ্বে যে আমারা যাকে নিয়ে অহংকার করতে পারি, যার গান আমাদেরকে রুট, আমাদের মা-মাটি-দেশে কাছাকাছি নিয়ে যায় তিনি শিল্পী আব্দুল আলীম। এই মহান গুণি শিল্পীর সুযোগ্য পুত্রদ্বয়কে আমাদের মাঝে পেয়ে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। তারা আমাদের ডাকে সাড়া দিয়ে দিয়েছেন এ জন্য তাদেরকে আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আর স্বল্প সময়ের আয়োজনে আজকের এই সঙ্গীত সন্ধ্যা সফল করতে আপনারা যারা এখানে উপস্থিত হয়েছেন তাঁদের প্রতি রইল কৃতজ্ঞতা। আপনাদের সাহায্য ও সহযোগিতায় আমরা এই প্রবাসে আমাদের ইতিহাস-ঐতিহ্যকে সমুন্নত রাখতে এবং নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে আমাদের সকল প্রচেষ্ঠা।’

শিল্পী জহির আলীম তাঁর দরাজ কন্ঠে একে একে গেয়ে শুনান আব্দুল আলীমের বিখ্যাত গান- ‘হলুদিয়া পাখি, সোনারই বরণ পাখিটি ছাড়িল কে’, ‘পরের জায়গা পরের জমিন ঘর বানাইয়া আমি রই,’ ‘দুল দুল দুলুনি, রাঙা মাথার চিরুনী, ‘চিরদিন পুষলাম এক অচিন পাখি, ‘দয়া করে এসো দয়াল, এসো এই অধিনের হৃদ মাজারে,‘মনে বড় আশা ছিলো যাবো মদিনা, ‘আল্লাহু আল্লাহু তুমি জাল্লে জালালুহু’, ‘থাকবো না আর এই আবেশে, চলরে মন আপন দেশে’, ‘দুয়ারে আইসাছে পালকি, নাইওরী গাও তোলোরে তোল মুখে আল্লা রসুন সবে বলো’, ‘সেপারে তোর বসত বাড়িরে, এ পারে তোর বাসা,’ ‘ওরে ও প্রাণ কোকিলা, কোন বনেতে লুকাইলা’, ‘এই যে দুনিয়া কিসেরও লাগিয়া’, ইত্যাদি গান।

তাছাড়া সংগঠনের নিজস্ব শিল্পীবৃন্দ সমবেত কন্ঠে একটি দেশাত্ববোধক সঙ্গীত পরিবেশন করেন এবং শিল্পী জিল্লুর রহমান ও নতুন প্রজন্মের শিল্পী তাসনিয়া মজিদ মূর্ছনা কয়েকটি গান পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- জুলি রহমান, মেহের চৌধুরী, রেবেকা হক, সুনাম উদ্দিন আহমদ, মোঃ আজির উদ্দিন, লুৎফা বেগম, ইকবাল আহমেদ, ফয়জুর রহমান ফটিক, মোঃ ইলিয়াস হোসেন, কামরুন খানম রিতা, আবিদুর রহিম, ছহুল আহমেদ প্রমূখ। পুরো অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সংগঠনের সহ-সভাপতি ইকবাল হোসেন ও হারুনা আক্তার রোজী। অনুষ্ঠানটি সফল ও স্বার্থক করতে সার্বিক সহযোগিতা করেন আভা’র সভাপতি মেহের চৌধুরী ও শিল্পী জিল্লুর রহমান।

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ