পুরুষদের জগতে নারীদের পদার্পণ

নারী ও বিয়ার, বিষয়টি যেন মোটেও খাপ খায় না। অন্তত এই বদ্ধমূল ধারণাটাই গেড়ে আছে মানুষের মাথায়। মেয়েদের সঙ্গে বিয়ারও যে খুব মানিয়ে যায়, তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত জার্মানির ডেটমল্ড শহরের বিয়ার প্রস্তুতকারক ফ্রিডেরিকে শট্রাটে। বোন সিলভিয়ার সঙ্গে একটি সফল ব্রুয়ারি চালাচ্ছেন তিনি। ফ্রিডেরিকে বলেন, আমি নিজে বিষয়টি নিয়ে কোনোদিন মাথা ঘামাইনি। আমি মেয়ে হয়ে জন্মেছি। আর বিয়ার প্রস্তুত করা, এটা আমার জন্য বিশাল এক ব্যাপার, দারুণ এক কাজ। আমি আমাদের ব্রুয়ারি আর বিয়ার পছন্দ করি। এখানেই তো আমি বড় হয়েছি। ফ্রিডেরিকে শট্রাটের পরিবার বংশপরম্পরায় বিয়ার প্রস্তুত করছে। পঞ্চম প্রজন্মে এসেও এই ধারা বজায় রেখেছেন ফ্রিডেরিকে। ঐতিহ্যবাহী ও ছোট পরিসরের ব্যবসা। ৩০ জনের মতো কর্মী, বিজ্ঞাপন নেই। বিশেষ করে এ এলাকার লোক-জনই আসেন তার কাছে। পুরনো আমলের বিশাল এক তামার কেটলি থেকে ঢালা হয় বিয়ার। তবে কিছুদিন থেকে গোটা জার্মানির বিয়ারপ্রেমীরাই তার কাছে বিয়ারের অর্ডার দিচ্ছেন। ৬ হাজার সদস্য নিয়ে গড়ে উঠেছে বিয়ার চেখে দেখার এক ক্লাব। এই ক্লাব ফ্রিডেরিকের ‘টুসনেল্ডা’ বিয়ারকে বছরের সেরা বিয়ার হিসেবে নির্বাচিত করেছে। তিনি বলেন, এমন মর্যাদা আমাদের মতো একটি মাঝারি প্রতিষ্ঠানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ টেলিভিশনে বিয়ারের এত ছড়াছড়ি, এত ধরনের বিজ্ঞাপন। এই প্রতিযোগিতার বাজারে টিকে থাকা মোটেও সহজ নয়। বাজারের এই চাপ তো ক্রমেই বড় হচ্ছে। ব্যক্তিগত রুচিমাফিক বিয়ার, মেয়েদের হাতে বানানো বহু পুরনো এক ঐতিহ্যকে ধরে আছেন ফ্রিডেরিকে শট্রাটে। কেননা মধ্যযুগে বিয়ার ছিল শুধু মেয়েদেরই হাতে। শিল্পায়নের সঙ্গে সঙ্গে বিয়ার সর্বসাধারণের পানীয়তে পরিণত হয়। আর পুরুষরা এটা দখল করে ফেলেন। আজ আবার হাতে তৈরি নিজস্ব রুচিমাফিক বিয়ারের চাহিদা বাড়ছে। আর ঠিক এই রকম মনের মাধুরী মেশানো বিয়ারই এসটার ইসাকের দোকান ‘বিয়ারলান্ড’-এ পাওয়া যায়। বিশ্বের নানা দেশ থেকে আসে তিনশ’ ধরনের বিয়ার। আট বছর আগে দোভাষীর কাজটায় ইস্তফা দেন এসটার আর বিয়ার-প্রীতিকে পেশায় পরিণত করেন। এখন তো তাকে ‘বিয়ারের রানী’ বলা হয়। কারণ তিনি জানেন, কার কোন বিয়ার ভালো লাগবে। এসটার বলেন, মেয়েরা উপভোগ করেন বলেই এখানে বিয়ার কিনতে আসেন। আর পুরুষরা বিয়ার কিনতে আসেন নিছক তেষ্টা মেটাতে। তাই ‘বার্লিস অ্যাঞ্জেলস’ আসরটিতে পুরুষদের প্রবেশ নিষেধ। মেয়েদের নিয়েই গড়ে উঠেছে এই বিয়ার-শিল্পের আসরটি, যেখানে শুধু মেয়েরাই আসেন, বিয়ার পান করেন, গল্পগুজব করেন। বিশ্বব্যাপী এই প্রতিষ্ঠানটির ৫ হাজার সদস্য রয়েছে। এসটার ইসাক মাস ছয়েক আগে এই প্রতিষ্ঠানের প্রথম জার্মান শাখাটি খোলেন। ‘বার্লিস অ্যাঞ্জেলস’ বিয়ারের এই আড্ডাটি দু’বছর ধরে জমে উঠেছে। এই আসরে দিনে দিনে আগ্রহী মেয়েদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। যারা বিয়ারের বিষয়ে পাণ্ডিত্যটা শুধু পুরুষদের ওপরই ছেড়ে দিতে চান না। এসটার বলেন, আমরা পুরুষদের বিরুদ্ধে কিছু করছি না। আমরা শুধু পুরুষদের বলতে চাই—শুনুন, এই যে আমরা এখানে মেয়েরা, তোমাদের বিয়ারও খেতে ভালো লাগবে, যদি তোমরা মেয়েদের একটু জিজ্ঞেস করতে; তাদের মতামতটা জানতে চাইতে। কারণ সম্ভাব্য ভোক্তাদের পঞ্চাশ শতাংশই হলাম আমরা, মেয়েরা। কিন্তু আমাদের নিয়ে তো দেখছি কারও তেমন মাথাব্যথা নেই। ঠিক এটাই বদলাতে চান মেয়েরা। ভালো স্বাদের বিয়ারের জন্য পথ দেখিয়ে দিতে চান তারাই। সূত্র : ডিডব্লিউ/আমার দেশ
সর্বশেষ সংবাদ
- নিউইয়র্কে চিটাগাং অ্যাসোসিয়েশন অফ আমেরিকা’র সংবাদ সম্মেলন: সংগঠনের বিরুদ্ধে চলমান মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোন নির্বাচন নয়
- যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশীদের মূলধারার ব্যবসা-বাণিজ্য রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. তিতুমীরের
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সেমিট্রির কবরে মরদেহ সমাহিত করা যাবে ১ জুলাই থেকে
- যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের জন্যে বাংলাদেশ এখন সবচেয়ে কার্যকর ও উপযোগী দেশ: প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতি ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. তিতুমীর
- নিউ জার্সির আটলান্টিক সিটিতে মেয়র মার্টি স্মল সিনিয়র স্কলারশিপ প্রোগ্রাম, আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৫ জুন
- নিউইয়র্কে মুনার ঈদ পুনর্মিলনী
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশী ডক্টর ফোরাম অব নর্থ আমেরিকা’র উদ্যোগে ডা. ডোনার ও ডা. হারুন সংবর্ধিত
- নিউইয়র্ক স্টেট ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারী নির্বাচনে এসেম্বলিম্যান প্রার্থী জাকির চৌধুরীর ‘কমিউনিটি র্যালি’