পূর্বপুরুষের দেশ কেনিয়ায় পৌঁছেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা
পূর্বপুরুষের দেশ কেনিয়ায় পৌঁছেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। কেনিয়ার জন্য এ সফর সাধারণ কিছু নয়। কারণ, ওবামা কেনিয়ার জনগণের কাছে ঘরেরই একজন। এ ছাড়া, প্রথমবারের মতো কোন ক্ষমতাসীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট সফর করছেন দেশটিতে। তাই গর্বে ভাসছে গোটা কেনিয়া। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর শিরোনাম, ‘ওবামা ম্যানিয়া’য় আক্রান্ত কেনিয়া! ২০০৬ সালে মার্কিন সিনেটর হিসেবে একবার কেনিয়া সফর করেছিলেন ওবামা। তবে প্র্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথমবারের
মতো তিনি দেশটির সফরে রয়েছেন। তার সফরকে ঘিরে নিরাপত্তা চাদরে মোড়ানো হয়েছে পুরো দেশ। যাতে করে আল কায়েদা সংশ্লিষ্ট আল-শাবাব জঙ্গিরা কোন ধরনের সমস্যা তৈরি করতে না পারে। রাজধানী নাইরোবিতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। দেশটির পুরো পুলিশ বাহিনীর প্রায় এক-চতুর্থাংশ বা ১০ হাজার পুলিশ সদস্যকে মোতায়েন করা হয়েছে রাজধানীতে। ওবামার ব্যক্তিগত বিমান এয়ারফোর্স ওয়ান অবতরণের সময় বন্ধ করে দেয়া হয়েছে অন্যান্য ফ্লাইটের উড্ডয়ন ও অবতরণ। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বহু নিরাপত্তা কর্মকর্তা ইতিমধ্যেই অবস্থান করছেন দেশটিতে। বহু কেনিয়ান তার এ সফরকে দেখছেন, ওবামার ‘ঘরে ফেরা’ হিসেবে। তার পিতার জন্মভূমি এই কেনিয়া। তাই এ দেশ নিয়ে গভীর আবেগ সহকারে বিভিন্ন সময় লিখেছেন ওবামা। এবার হয়তো সেসব আবেগের স্থানগুলো আবিষ্কার করতে সময় পাবেন না তিনি। তবুও উচ্ছ্বাসের কমতি নেই কেনিয়ার অনেক মানুষের মাঝে। এসব জানিয়েছে বার্তাসংস্থা এপি, এএফপি এবং বিবিসি।
রাজধানী নাইরোবির একটি ক্যাফের ভোক্তা সম্পর্ক ব্যবস্থাপক বেলি গুগি বলেন, অনেকে বিষয়টিকে ব্যক্তিগতভাবে নিচ্ছে। তার মতে, ওবামার সফর অনেকটা ‘ভাইয়ের ঘরে ফেরা’র মতো। বেলি গুগির ক্যাফেতে বানানো হয়েছে রঙবেরঙের কেক। সেখানে লেখা, ‘ওয়েলকাম হোম স্যার’। ক্যাফের প্রবেশপথে ওবামার বড় কার্ডবোর্ড শোভা পাচ্ছে। ক্যাফের ওপর তলার একটি কক্ষের টেবিলে এপির প্রতিবেদককে নিয়ে গেলেন গুগি। তার দাবি, এখানে ওবামা বহু বছর আগে বসেছিলেন। তখন অবশ্য ওবামাকে বলতে গেলে কেউই চিনতো না। সেসময় এই ক্যাফে ছিল গ্রিন কর্নার নামের একটি রেস্তোরাঁ। ওবামার ছবি চিত্রিত টি-শার্ট ও দেয়াল-অঙ্কনে ছেয়ে গেছে শহরের সড়ক ও ফুটপাত। সফর উপলক্ষে বিভিন্ন পণ্যের বিশেষ সংস্করণ বাজারে ছেড়েছে কোম্পানিগুলো, যেখানে অবশ্যকীয়ভাবে শোভা পাচ্ছে ওবামা পরিবারের ছবি। বাস থেকে কেক – সর্বত্র ওবামা!
কেনিয়া সফরের পর ইথিওপিয়া সফর করবেন তিনি। কেনিয়ায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক উদ্যোগ সম্পর্কিত একটি সম্মেলনে ভাষণ দেবেন। এ ছাড়া কেনিয়ান প্রেসিডেন্ট উহুরু কেনিয়াত্তার সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে তার। কেনিয়াত্তা বলেছেন, বৈঠকে নিরাপত্তা ও বাণিজ্য সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ প্রাধান্য পাবে। তবে এএফপি জানিয়েছে, মানবাধিকার, গণতন্ত্র ও বিনিয়োগও আলোচনায় স্থান পাবে। সমকামিতা নিয়ে আলোচনা হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে নেতিবাচক উত্তর দিয়েছিলেন কেনিয়াত্তা। তবে ওবামা বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ধর্ম, জাতি, বর্ণ, যৌনতার ভিত্তিতে কারও বৈষম্যের শিকার হওয়াটা তার পছন্দ নয়। তাই বৈঠকের কার্যসূচিতে এসব আবশ্যকীয় ভাবে থাকবে।
প্রসঙ্গত, সোমালিয়া-ভিত্তিক ইসলামী জঙ্গি গোষ্ঠী আল শাবাবের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও কেনিয়া মিত্র। কেনিয়ায় বেশ কয়েকটি ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে আল শাবাব। এর মধ্যে এপ্রিলে গারিসায় বিপুল পরিমাণ শিক্ষার্থীকে হত্যা ও ২০১৩ সালে নাইরোবির ওয়েস্টগেট মলে হামলার ঘটনা উল্লেখযোগ্য। প্রতিক্রিয়ায় আল-শাবাব জঙ্গিদের দমনে সোমালিয়ায় সৈন্য পাঠিয়েছে কেনিয়া। সোমালিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রও চরমপন্থিদের বিরুদ্ধে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তবে কেনিয়া ও ইথিওপিয়ার মানবাধিকার রেকর্ড সামনে এনে অনেকে ওবামার এ সফরের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কেনিয়ার ডেপুটি প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটোর বিরুদ্ধে ২০০৭ সালের নির্বাচনের পর সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে মামলা রয়েছে। তবে প্রেসিডেন্ট কেনিয়াত্তার বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ প্রত্যাহার করা হয়েছে। অতীতে অভ্যন্তরীণ সংস্কারের জন্য কেনিয়ার ওপর চাপ দিয়েছিল ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের অধ্যাপক জেনস ডেভিড ওহলিন বলেন, উভয় দেশের সাধারণ নিরাপত্তা স্বার্থের কারণে সম্পর্কের উন্নতি হয় ব্যাপকভাবে। তার ধারণা, উভয় মিত্র দেশের মধ্যে আরও সামরিক সহযোগিতা ঘটবে।
কেনিয়ান শিল্পী এভান্স ইয়েগোনের মতে, ওবামার সফর হলো গর্বের উৎস। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তিনি আমেরিকান প্রেসিডেন্টের দুইটি ছবি এঁকেছেন। এর মধ্যে একটিতে ওবামা গলাবন্ধ ও মখমলের কোট পরে আছেন। এ ধরনের পোশাক বিগত শতাব্দির মানুষরা পরতেন। বিশেষ করে, আব্রাহাম লিংকন ও জর্জ ওয়াশিংটনের মতো পূর্বসূরীরা। অপর ছবিটি কিছুটা রঙচঙে। সেখানে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হবার উপায় নেই যে, ছবির বিষয় হলেন ওবামা। ইয়েগোন দ্বিতীয় ছবিটি নিয়ে বলেন, চেহারাটি বেশ পরিচিত। কিন্তু আপনি বুঝতে পারবেন না। তিনি বলেন, তিনি দর্শকদের ভাবাতে চান। তারা যাতে ভাবে, ‘কে এই লোক?’!
কেনিয়া এয়ারওয়েজের ম্যাগাজিনের এ মাসের সংস্করণে হাস্যোজ্জ্বল ওবামার একটি ছবি প্রচ্ছদে স্থান পেয়েছে। নাইরোবির প্রধান বিমানবন্দর থেকে শুরু হওয়া সড়কে যুক্তরাষ্ট্র ও কেনিয়ার পতাকা শোভা পাচ্ছে। আগস্টে নাইরোবির একটি বিলবোর্ডে একটি কৌতুক অনুষ্ঠানের বিজ্ঞাপন ছিল। যার শিরোনাম ছিল, দ্য ওবামা হোমকামিং! সেখানে কৌতুকাভিনেতা এরিক ওমন্ডির পরনে থাকা সুট ও টাইয়ে ছিল কেনিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা। অনেক কেনিয়ান আবার নিজেদের মোবাইল ফোনের রিংটোন হিসেবে ওবামার একটি বক্তৃতার অংশবিশেষ ব্যবহার শুরু করেছেন।
ওবামা পরিবারের কর্ত্রী সারাহ ওবামা জানালেন, প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তার সঙ্গে দেখা না করলেও, তার খারাপ লাগবে না। যদিও ২০০৬ সালে ওবামা পরিবারের মূল কেগেলো গ্রাম সফর করেছিলেন বারাক ওবামা। গত বছর সারাহ ওবামার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে দেখাও করেছেন প্রেসিডেন্ট ওবামা। এ ছাড়া নিজের আত্মজীবনী ‘ড্রিমস ফ্রম মাই ফাদার’-এ সারাহ ওবামাকে বৃদ্ধা দাদী (গ্রানি) হিসেবে সম্বোধন করেছেন তিনি। বারাক ওবামার বাবাকে সহায়তাকারী তার এক দাদার দ্বিতীয় স্ত্রী সারাহ। তিনি বলেন, বারাক কেনিয়ায় আসবে তার দায়িত্ব পালনের জন্য। সে এখানে সন্তানতুল্য। সে যদি আমাকে দেখতে না আসে, আমি রেগে যেতে পারি না।মানবজমিন
- Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN
- এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ
- Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda
- নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ
- নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার অঙ্গীকার
- State Minister for Foreign Affairs Urges Stronger Global Action to Protect Civilians, Uphold Humanitarian Law and Support Rohingya Repatriation
- বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন সমুন্নত রাখা ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামার
- মহররম মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত!