প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিউইয়র্কে
নিউইয়র্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতা হিসেবে ২৩ সেপ্টেম্বর বুধবার রাত ১০টায় নিউইয়র্কে এসেছেন। লন্ডন থেকে বৃটিশ এয়ারওয়েজ যোগে সফরসঙ্গি সহ জেএফকে এয়ারপোর্টে পৌঁছলে প্রধানমন্ত্রীকে ভিআইপি লাউঞ্জে স্বাগত জানান জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত ড. এ কে এ মোমেন এবং ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. জিয়াউদ্দিন। এয়ারপোর্ট থেকে জাতিসংঘের প্রটোকলে বিশেষ বাহনে ওয়াল্ডর্ফ এস্টোরিয়া পৌঁছলে হাস্যোজ্জল শেখ হাসিনাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান রাষ্ট্রদূত মোমেনের পতিœ সেলিনা মোমেন। এই হোটেলেই ১ অক্টোবর পর্যন্ত অবস্থান করবেন শেখ হাসিনা। হোটেলে প্রধানমন্ত্রীর পুত্র এবং তথ্য-প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজিব ওয়াজেদ জয়ও রয়েছেন। এনআরবি নিউজ
সফরসঙ্গি
‘গত বছরের চেয়ে অনেক সফরসঙ্গি এবার। মাত্র ৬০ জন। এরা সরকারী খরচে এসেছেন এবং হোটেলে অবস্থান করবেন। এরবাইরে আরো দেড় শতাধিক জন এসেছেন নিজ খরচে। তারা নিজের অর্থেই হোটেলে অবস্থান করবেন’-এ তথ্য এনআরবি নিউজকে জানান রাষ্ট্রদূত মোমেন। ‘অনেক মিডিয়ায় উল্লেখ করা হয়েছে যে বিশাল বহর নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্কে আসছেন, এটি ডাহা মিথ্যা’-উল্লেখ করেন রাষ্ট্রদূত মোমেন।
ঈদের শুভেচ্ছা
ঈদের দিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিশিষ্ট প্রবাসীদের সাথে শুভেচ্্ছা বিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। লাগোয়াডিয়া ম্যারিয়ট হোটেলে এ সংবর্ধনা সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে বলে এনআরবি নিউজকে জানান রাষ্ট্রদূত মোমেন। শুধুমাত্র আমন্ত্রিতরাই এ সুযোগ পাবেন বলেও উল্লেখ করেন রাষ্ট্রদূত মোমেন। সাংবাদিক, লেখক, সাহিত্যিক, ব্যবসায়ীরাও থাকবেন এ অনুষ্ঠানে।
মেজাজ প্রফুল্ল
জেএফকে এয়ারপোর্টে অবতরণের পর দুই রাষ্ট্রদূত কর্তৃক শেখ হাসিনাকে অভ্যর্থনা জানানোর সময় থেকে হোটেল কক্ষে প্রবেশের আগ পর্যন্ত শেখ হাসিনাকে বেশ প্রফুল্ল মনে হয়েছে। অভ্যর্থনা জানাতে আসা সকলের সাথেই হাসিভরা কন্ঠে কথা বলেছেন।
মোদির সাথে বৈঠক
নিউইয়র্ক সময় বৃহস্পতিবার অর্থাৎ ঈদের দিন দুপুরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মধ্যে দ্বি-পাক্ষিক একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। উভয় নেতাই অবস্থান করছেন ওয়াল্ডর্ফ এস্টোরিয়ায় এবং এই হোটেলেই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে।
পরস্পর বিরোধী শ্লোগান
এদিকে,পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, জেএফকে এয়ারপোর্টের ৭ নম্বর টার্মিনালটি প্রবাসীদের গগনবিদারি শ্লোগানে মুখরিত ছিল বেশ কয়েক ঘন্টা। শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানাতে জড়ো হওয়া দেড় সহ¯্রাধিক প্রবাসীর সকলেই জয়ধ্বনি দেন এবং কন্ঠে আওয়াজ তোলেন, ‘শেখ হাসিনার আগমন-শুভেচ্ছা স্বাগতম’।
যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ, নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগ, যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু প্রজন্ম লীগ, যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ, স্টেট আওয়ামী লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগ, ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানানোর শ্লোগানে গোটা এলাকা মুখরিত করে রাখেন সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১০টায় শেখ হাসিনা অবতরণের আগ পর্যন্ত। শ্লোগানে নেতৃত্ব দেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান, সেক্রেটারি সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক নিজাম চৌধুরী, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি কমান্ডার নূরনবী, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি জাকারিয়া চৌধুরী এবং সেক্রেটারি ইমদাদ চৌধুরী, যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের সভাপতি মিসবাহ আহমেদ এবং সেক্রেটারি ফরিদ আলম, যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু প্রজন্ম লীগের সভাপতি আব্দুল কাদের মিয়া, মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী মমতাজ শাহনাজ, আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সভানেত্রী মোর্শেদা জামান, পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের সেক্রেটারি আশরাফুজ্জামান, শ্রমিক লীগের কাজী আজিজুল হক খোকন প্রমুখ।
একইসাথে পুলিশের কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, জাসাস, নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য বিএনপি, সিটি বিএনপির শতশত নেতা-কর্মী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে নানা বিশেষণে শ্লোগান দেন।
তারা শেখ হাসিনাকে ‘অবৈধ প্রধানমন্ত্রী’ এবং ‘স্বৈরাচারী শাসক’ হিসেবে অভিহিত করেও শ্লোগান দেন। এসব শ্লোগানে নেতৃত্ব দেন আব্দুল লতিফ স¤্রাট, অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন, গিয়াস আহমেদ, আলহাজ্ব সোলায়মান ভ’ইয়া, এম এ বাতিন, আবু সাঈদ আহমেদ, পারভেজ সাজ্জাদ, মাওলানা অলিউল্লাহ মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, সাঈদুর রহমান সাঈদ, আতাউর রহমান আতা প্রমুখ।
গাড়ি পার্ক করা স্থানের সামনে পরস্পর বিরোধী এই কর্মসূচিতে তুমুল উত্তেজনা বিরাজ করলেও পুলিশের সার্বক্ষণিক উপস্থিতিতে কোন অপ্রীতিকর পরিস্থিতির উদ্ভব হয়নি।
উল্লেখ্য, শেখ হাসিনা নিউইয়র্কে অবস্থানকালে সকল কর্মসূচি স্থলের বাইরে বিএনপি বিক্ষোভ করার কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। ‘যেখানে হাসিনা-সেখানেই প্রতিরোধ’ শীর্ষক এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্যে নিউইয়র্কের বাইরের সিটি থেকেও বিএনপির লোকজন এসেছেন।
এদিকে, ‘যেখানে বিএনপি-সেখানেই প্রতিরোধ’ শীর্ষক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ এবং নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগ। জাতিসংঘের সামনে আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আরো বড় আকারের সমাবেশ ঘটিয়ে বিএনপি-জামাতের সব ধরনের অপতৎপরতা রুখে দেয়া হবে বলে জানান নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি নূরনবী কমান্ডার। যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু প্রজন্মলীগের সভাপতি আব্দুল কাদের মিয়া জানান, ‘বঙ্গবন্ধু কন্যা, দেশরতœ শেখ হাসিনার সকল কর্মসূচি নিরবিচ্ছিন্নভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে প্রজন্মলীগের কর্মীরা অতন্দ্র প্রহরীর ভ’মিকা পালন করবে।
- Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN
- এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ
- Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda
- নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ
- নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার অঙ্গীকার
- State Minister for Foreign Affairs Urges Stronger Global Action to Protect Civilians, Uphold Humanitarian Law and Support Rohingya Repatriation
- বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন সমুন্নত রাখা ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামার
- মহররম মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত!