Thursday, 25 June 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে বহির্বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম করবস্থান স্কচটাউন বাংলাদেশ সেমিট্রির যাত্রা শুরু নিউইয়র্কে মুন্সিগঞ্জ-বিক্রমপুর অ্যাসোসিয়েশনের বর্ণিল অভিষেক Bangladesh Calls for Stronger Support for LDCs Ahead of Doha Midterm Review নিউইয়র্কে জাতিসংঘে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য আরও আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার অঙ্গীকার State Minister for Foreign Affairs Urges Stronger Global Action to Protect Civilians, Uphold Humanitarian Law and Support Rohingya Repatriation
সব ক্যাটাগরি

প্রেসিডেন্ট ওবামা যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নিয়েছেন, মেনে নিলো ট্রাম্প শিবির

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 47 বার

প্রকাশিত: September 16, 2016 | 10:27 AM

বহু বছর ধরে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার জন্ম যুক্তরাষ্ট্রে হওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে আসছেন ডনাল্ড ট্রাম্প। রাজনীতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে আসার আরও আগে থেকেই এমনটাই ছিল রিপাবলিকান দলের এ প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীর অবস্থান। তবে বহু জল ঘোলা শেষে সিদ্ধান্ত পাল্টেছেন তিনি। তার প্রচারশিবির থেকে এক বিবৃতিতে স্বীকার করে নেয়া হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ওবামা কেনিয়ায় নন, যুক্তরাষ্ট্রেই জন্মগ্রহণ করেছেন। এ খবর দিয়েছে বিবিসি।
খবরে বলা হয়, হাওয়াই-এ জন্ম নেয়া ওবামার নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলার জন্য আমেরিকায় গোটা একটি আন্দোলনই দাঁড়িয়ে গিয়েছিল। ‘বার্থার’ নামে ওই আন্দোলনের সম্মুখসারির একজন নেতা ছিলেন ট্রা¤প। তবে এখন তিনি সব কিছুর জন্য দায়ী করছেন নিজের ডেমোক্রেটিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিলারি ক্লিনটনকে। তার দাবি, ২০০৮ সালে ডেমোক্রেটিক দলের মনোনয়ন প্রাপ্তির লড়াইয়ে বারাক ওবামার বিরুদ্ধে এমন কুৎসা রটিয়েছেন হিলারি। তবে বিবিসি জানায়, বার্থার আন্দোলনের সঙ্গে ওবামার প্রথম মেয়াদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারির কোন যোগসূত্র থাকার প্রমাণ নেই। ট্রা¤প শিবিরের এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় হিলারি এক টুইট বার্তায় লিখেন, ‘প্রেসিডেন্ট ওবামার উত্তরসূরি এমন লোক হতে পারেন না, যিনি বর্ণবাদী বার্থার আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।’
বিবিসি’র উত্তর আমেরিকা প্রতিবেদক অ্যান্থনি জার্খার বলেন, ট্রা¤েপর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা জ্যাসন মিলারের লেখা ওই বিবৃতিতে নিজেদের ভুল-ত্রুটি স্বীকারের ধারেকাছেও যায়নি ট্রা¤প শিবির। বরং, বিবৃতিতে জ্যাসন মিলার ওবামার জন্ম সংক্রান্ত সব বিতর্কের জন্য দায় চাপিয়েছেন হিলারি ক্লিনটন ও তার ২০০৮-এর নির্বাচনী শিবিরের ওপর। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ২০০৮ সালের ৩ বছর পর এ ইস্যুটি পুনরায় জাগিয়ে তুলে ট্রা¤প মার্কিন জনগণ ও প্রেসিডেন্ট ওবামার ‘বিশাল উপকার’ করেছেন। সম্প্রতি ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ওবামা যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নিয়েছেন এমন বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানান ট্রা¤প। তিনি বরং ওই প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকার করেন। এরপরই ট্রা¤প শিবির থেকে এমন বিবৃতি দেয়া হলো।

এ বিতর্কের সূত্রপাত কখন?
বিবিসির খবরে বলা হয়, ওবামা আসলে কেনিয়ায় জন্মগ্রহণ করেছেন তাই প্রেসিডেন্ট হওয়ার অযোগ্য Ñ এমন দাবি আসলে ষড়যন্ত্র তত্ব। অবশ্য এটি সত্য, ওবামার পিতা ও পূর্বপুরুষ কেনিয়ার বাসিন্দা। কিন্তু তার মা ছিলেন আমেরিকান এবং ওবামা যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেয়ায় জন্মসূত্রে একজন আমেরিকান নাগরিক। মার্কিন বিভিন্ন সংবাদপত্রের খবর বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০০৮ সালে ডেমোক্রেটিক দলের মনোনয়ন পেতে ওবামা ও হিলারির প্রতিদ্বন্দ্বীতার সময় এ ইস্যুটি প্রথম উঠে আসে। তখন হিলারির কয়েকজন কট্টর সমর্থক এ কথাটি প্রচার করতে শুরু করেন। কারণ, ততদিনে এটি ¯পষ্ট হয়ে উঠছিল যে প্রাইমারি নির্বাচনে হিলারির জয়ের কোন সম্ভাবনা নেই। তবে এমন কোন প্রমাণ নেই যে, হিলারি নিজে বা তার তৎকালীন নির্বাচনী শিবির এ প্রচারণার সঙ্গে জড়িত ছিল। পরে ওবামা ডেমোক্রেটিক দলের মনোনয়ন নিশ্চিত করলে, রিপাবলিকান দলের চুড়ান্ত প্রার্থী জন ম্যাককেইনের কিছু সমর্থক এ ইস্যুটি আবার সামনে নিয়ে আসেন। কারণ, তখন দেখা যাচ্ছিল জনমত জরিপে ওবামার চেয়ে পিছিয়ে যাচ্ছেন ম্যাককেইন।

বিতর্কে ট্রা¤েপর প্রবেশ ও ভূমিকা
তবে ওবামার নাগরিকত্ব ও জন্মস্থান নিয়ে এ বিতর্কে বিলিয়নিয়ার ব্যবসায়ী ডনাল্ড ট্রা¤প ঢুকে পড়েন ২০১১ সালে। তখন দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট পদে লড়ছেন ওবামা। ২০১১ সালের এপ্রিলে নিজের জন্মসনদ দেখাতে ওবামার প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন ট্রা¤প। তার এ দাবির প্রতি সমর্থন দেন বেশ কয়েকজন রিপাবলিকান নেতা। এদের মধ্যে ছিলেন ওবামার প্রথম মেয়াদের নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী জন ম্যাককেইনের রানিংমেট (ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী) ও আলাস্কার সাবেক গভর্নর সারাহ পলিন। কয়েক সপ্তাহ পর, সত্যি সত্যি ওবামা তার জন্মসনদ প্রকাশ করেন, যাতে দেখা যায় মার্কিন অঙ্গরাজ্যে হাওয়াই-এ তার জন্ম। ওই বছর হোয়াইট হাউজ সংবাদদাতাদের বার্ষিক ডিনারে ওবামা এ অভিযোগ নিয়ে কৌতুক করেন। এমনকি মজা করেন ডনাল্ড ট্রা¤পকে নিয়েও।
২০১২ সালে নির্বাচনী প্রচারাভিযানে রিপাবলিকান প্রার্থী মিট রমনি ওবামার জন্মসনদ নিয়ে মজা করেন। জবাবে প্রতিবাদ জানায় ওবামা শিবির। ওই সময় ট্রা¤প টুইট করেন, ‘একটি অত্যন্ত বিশ্বাসযোগ্য সূত্র আমার অফিসে ফোন দিয়ে আমাকে বলেছে যে, বারাক ওবামার জন্মসনদ আসলে ভুয়া’।

এতদিন পর কেন পিছু হটছেন ট্রা¤প?
এখন পর্যন্ত ডনাল্ড ট্রা¤প নিজে স্বীকার করেননি যে, বারাক ওবামা যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম নিয়েছেন। তবে তার প্রচার শিবির থেকে সংবাদবিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি যেহেতু বলা হয়েছে, সুতরাং তার জ্ঞাতসারেই সব হয়েছে। কিন্তু যিনি একসময় বার্থার আন্দোলনের প্রথমসারির নেতা ছিলেন, তিনি কেন এতদিন পর অবস্থান পাল্টালেন? বিবিসির প্রতিবেদক জানিয়েছেন, আমেরিকার কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের মধ্যে ট্রা¤প ভীষণ অজনপ্রিয়। এর অন্যতম কারণ হিসেবে তার উপদেষ্টারা কৃষ্ণাঙ্গ ওবামার জন্ম নিয়ে ট্রা¤েপর অমন অবস্থানকে চিহ্নিত করেছেন। সম্প্রতি কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের মন জয় করতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন ট্রা¤প। প্রায়ই কৃষ্ণাঙ্গ চার্চে যাচ্ছেন তিনি, তাদের নিয়ে কথা বলছেন। এই মন জয়ের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই হয়তো অবস্থান পাল্টেছেন তিনি।মানবজমিন

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Situs Streaming JAV