বন্ধ হলো বিশ্বব্যাপী যুক্তরাষ্ট্রের জিএসপি প্রোগ্রাম
কাউসার মুমিন : মার্কিন কংগ্রেস জিএসপি ট্রেড প্রোগ্রাম বিষয়ক আইন নবায়ন না করায় যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলোর পণ্যের বিশেষ অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধা ‘জেনারেলাইজ্ড সিস্টেম অফ প্রিফারেন্সেস’ বা জিএসপি গতকাল থেকে বন্ধ হয়ে গেছে। কংগ্রেস ইতিপূর্বে ২০১১ সালে জিএসপি ট্রেড প্রোগ্রাম বিষয়ক আইনটি নবায়ন করে যার আইনগত বৈধতার মেয়াদ বিগত ৩১শে জুলাই শেষ হয় এবং মেয়াদ উত্তীর্ণের আগেই কংগ্রেস আইনটি নবায়ন করতে ব্যর্থ হওয়ায় নিয়ম মোতাবেক ১লা আগস্ট মধ্যরাত থেকে বিশ্বব্যাপী সুপরিচিত যুক্তরাষ্ট্রের জিএসপি সুবিধা বন্ধ হয়ে গেছে। বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিতকরণের লক্ষ্যে বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার নীতিমালার আলোকে জিএসপি নামে পরিচিত এই বিশেষ বাণিজ্য কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র বিগত ৩৭ বছর ধরে দেশটির বাজারে পৃথিবীর ১২৭টি দেশের ৫ হাজারেরও বেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত রপ্তানি সুবিধা দিয়ে আসছিল। অবশ্য ওবামা প্রশাসন জিএসপি কর্মসূচি নবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় আইন পাস করতে কংগ্রেসকে অনুরোধ জানিয়েছেন। তবে কবে নাগাদ কংগ্রেস এ আইন পাস করবে সে বিষয়টি এখনও নিশ্চিত নয়। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী মাইকেল ফ্রোমেন গতকাল মিডিয়াকে বলেছেন, ‘১লা আগস্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ভোক্তা-ক্রেতাগণকে হাজার হাজার আমদানিকৃত পণ্যের বিপরীতে বাড়তি মূল্য পরিশোধ করতে হবে। এসব পণ্যের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানিগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালও রয়েছে।’ মাইকেল ফ্রোমেন আরও বলেন, জিএসপি’র মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য কর্মসূচি সমপ্রসারণ করতে ওবামা প্রশাসন কংগ্রেসকে জোরালো অনুরোধ জানিয়েছে।’ এ ছাড়া ‘জিএসপি কর্মসূচি যুক্তরাষ্ট্রের কম্পিটিটিভনেস বৃদ্ধি করে বাজারকে প্রতিযোগিতামূলক রাখে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পণ্যমূল্য ক্রেতা সামর্থ্যের মধ্যে রাখে এবং পাশাপাশি এর মাধ্যমে বিশ্বের দরিদ্রতম দেশগুলো লাভবান হয়’ বলেও মন্তব্য করেন বাণিজ্যমন্ত্রী মাইকেল ফ্রোমেন। শুধু তাই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের জিএসপি কর্মসূচি দেশটিতে নতুন নতুন কর্মসংস্থানেরও সুযোগ সৃষ্টি করে। এ বিষয়ে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জিএসপি কর্মসূচির আওতায় মার্কিন বাণিজ্য প্রতিষ্ঠানগুলো ২০১২ সালে প্রায় ১৯.৯ বিলিয়ন ডলার মূল্যের হাজার হাজার বিদেশী পণ্য আমদানি করেছে। এ সকল আমদানি পণ্যের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানির কাঁচামাল, উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি এবং এসব যন্ত্রপাতির বিভিন্ন খুচরা যন্ত্রাংশ। এ ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানিগুলো শুধু তাদের উৎপাদিত পণ্য যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজারেই সরবরাহ করে না, বিদেশেও রপ্তানি করে থাকে। এভাবে জিএসপি নামে সুপরিচিত এই বিশেষ বাণিজ্য কর্মসূচির মাধ্যমে আমদানিকৃত পণ্যের সুবাদে ডকশ্রমিক থেকে শুরু করে কৃষক, কারখানা শ্রমিক এমনকি খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোয় কর্মরত শ্রমিকদের জন্যও অতিরিক্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। ইউএস চেম্বার্স অফ কমার্সের ২০০৫ সালের পরিচালিত এক জরিপ মতে, জিএসপি খাতে আমদানিকৃত পণ্যের উপর আমেরিকার প্রায় ৮০ হাজারের বেশি লোকের কর্মসংস্থান নির্ভরশীল। উল্লেখ্য, মার্কিন বাণিজ্য আইন ‘ট্রেড অ্যাক্ট-১৯৭৪’ মোতাবেক ১৯৭৬ সালের ১লা জানুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাণিজ্য কর্মসূচি ‘জেনারেলাইজ্ড সিস্টেম অফ প্রিফারেন্সেস’ বা জিএসপি চালু হয়।
- নিউইয়র্কে চিটাগাং অ্যাসোসিয়েশন অফ আমেরিকা’র সংবাদ সম্মেলন: সংগঠনের বিরুদ্ধে চলমান মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোন নির্বাচন নয়
- যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশীদের মূলধারার ব্যবসা-বাণিজ্য রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. তিতুমীরের
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সেমিট্রির কবরে মরদেহ সমাহিত করা যাবে ১ জুলাই থেকে
- যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের জন্যে বাংলাদেশ এখন সবচেয়ে কার্যকর ও উপযোগী দেশ: প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতি ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. তিতুমীর
- নিউ জার্সির আটলান্টিক সিটিতে মেয়র মার্টি স্মল সিনিয়র স্কলারশিপ প্রোগ্রাম, আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৫ জুন
- নিউইয়র্কে মুনার ঈদ পুনর্মিলনী
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশী ডক্টর ফোরাম অব নর্থ আমেরিকা’র উদ্যোগে ডা. ডোনার ও ডা. হারুন সংবর্ধিত
- নিউইয়র্ক স্টেট ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারী নির্বাচনে এসেম্বলিম্যান প্রার্থী জাকির চৌধুরীর ‘কমিউনিটি র্যালি’