বাংলাদেশী-আমেরিকান ড. সাইফুল খন্দকারের উদ্ভাবন ‘ফ্রিবী পে’-তথ্য প্রযুক্তি সেক্টরে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে
এনা : প্রযুক্তির সুবাদে এখন আর কেনাকাটায় দর কষাকষির জন্যে টাকার বান্ডেল কিংবা ক্রেডিট কার্ড পকেটে ভরে দোকানে যাবার প্রয়োজন নেই। কোন জিনিষে কত ডিসকাউন্ট পাবেন সেটি নিয়েও সেলসম্যানের সাথে বাক-বিতন্ডার দরকার হবে না। কোন স্টোরে কখন মূল্যহ্রাস ঘোষণা করা হচ্ছে এবং দ্রব্যের ডিসকাউন্ট প্রাপ্তির আগাম কূপন ডাকযোগে বাসায় আসার দরকার হবে না। সবকিছুই সম্পাদিত হবে মোবাইল ফোনে। মোবাইল ফোনকে মানিব্যাগ/ওয়ালেট হিসেবে ব্যবহারের সর্বাধুনিক একটি প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন বাংলাদেশী আমেরিকান কম্প্যুটার ইঞ্জিনিয়ার ড. সাইফুল খন্দকার। নতুন এ সফ্টওয়্যারের নাম হচ্ছে ফ্রিবী পে। আর এটি যুক্তরাষ্ট্রের তথ্য প্রযুক্তি সেক্টরে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

ফেসবুক, গুগলসহ বিখ্যাত সব কোম্পানীর পক্ষ থেকে সাইফুল খন্দকারের সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে ফ্রিবী পে ক্রয় অথবা পার্টনার হবার জন্য। যুক্তরাষ্ট্রের ১০ লক্ষাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্ক স্থাপনকারী �আরবিএস� চাচ্ছে এ প্রযুক্তির স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার হতে। ফেসবুকের একজন কো-ফাউন্ডার ফেসক্যাশ সল্যুশন নিয়ে কাজ করছেন। তিনিও ড. সাইফুল খন্দকারের সাথে লবিং করছেন এ প্রযুক্তির সহায়তা নিতে। কানাডা, প্যারিসসহ ইউরোপের কয়েকটি কোম্পানীও চেষ্টা করছে প্রচন্ড আগ্রহ ভরে। ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত ৩ দিনব্যাপী �দ্য ন্যাশনাল রিটেইল ফেডারেশন এক্সপো-২০১১� এর প্রথম দুদিনই জ্যাকব জেভিট কনভেনশন্টারে ড. সাইফুল খন্দকারের এ উদ্ভাবনী নিয়ে ব্যাপক কৌতুহল পরিলতি হয়। এ প্রদর্শনীতে ভারতের টাটাসহ যুক্তরাষ্ট্রের ৫ শতাধিক আইটি কোম্পানী অংশ নিচ্ছে। তারা সকলেই নিজ নিজ উদ্ধাবিত পণ্যের দোকান দিয়েছেন। ৬২ দেশের ৫০ সহস্রাধিক ক্রেতা-দর্শক প্রদর্শনীতে এসেছেন বলে আয়োজকরা জানান। মোটা অর্থের বিনিময়ে প্রতিটি কোম্পানীকে এ প্রদর্শনীতে অংশ নিতে হচ্ছে। উল্লেখ্য যে, ১৯১১ সাল থেকে আইটি সেক্টরের প্রদর্শনী হয়ে আসছে নিউইয়র্কে। ৩০ বছর আগের প্রদর্শনীতেও কল্পনা করা যায়নি যে ২০১১ সালের প্রদর্শনীতে বিশ্বের সকল অঞ্চলের ক্রেতা-উদ্ভাবকের বিরাট সমাগম ঘটবে। �কতদূর এসেছি, তোমরা কতদূর যেতে চাও� শ্লোগানে উজ্জীবিত এবারের এ প্রদর্শনীতে আটলান্টাভিত্তিক আইটি কোম্পানী �এমআইথ্রি�র কর্ণধার ড. সাইফুল খন্দকার এবং তার সহযোগী তথা পণ্য উদ্ভাবন ও উন্নয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট রড স্ট্র্যামবাহ, বিক্রয় ও ব্যবসায়িক উন্নয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট কন্সট্যান্স কোর্টনী, বিজনেস ম্যানেজার জিল রবার্টস এবং এমআইথ্রির পরিচালনা পরিষদের সদস্য এজাজ চৌধুরী ছিলেন অনেকের মধ্যমণি। এমআইথ্রি�র মাধ্যমে বিশাল এ প্রদর্শনীতে বাংলাদেশও গর্বে নেচে উঠেছিল। অনেক ক্রেতার সাথেই কথা বলার সময় ড. সাইফুল খন্দকার বাংলাদেশকে টেনে নিয়ে এসেছেন। উল্লেখ্য যে, এমআইথ্রি’র ‘ফ্রিবী পে’র স্টলের সন্নিকটেই ভারতীয় টাটা কোম্পানীর স্টল। সেখানেও ভীড় পরিলতি হয়, তবে ফ্রিবী পে’র মত নয়। নতুন এ উদ্ভাবন সম্পর্কে ড. সাইফুল খন্দকার প্রদর্শনী কেন্দ্রে বার্তা সংস্থা এনাকে বলেন, আইটি সেক্টরের গবেষকরা মনে করছেন ২০১৫ সালের মধ্যে বিশ্বের বড় বড় সিটির ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ৭০% বিক্রি সম্পাদিত হবে অনলাইনে মোবাইল টেলিফোনে। আর এ ক্ষেত্রে আমাদের উদ্ভাবিত �ফ্রিবী পে� হবে পাইওনিয়ার। তিনি বলেন, মোবাইল ফোনকে কেনাকাটার অবলম্বনে পরিণত করার সফ্টওয়্যার তৈরীর কাজে আরো কয়েকজন হাত দিয়েছেন। পরীামূলকভাবে কেউ কেউ করছেন। কিন্তু আমরা সরাসরি বাজারে চলে এসেছি সবার আগে। তাই আমাদের সফটওয়্যার সকলের দৃষ্টি কেড়েছে। তিনি বলেন, এটা বলার অপো রাখে না যে ক্রমান্বয়ে মোবাইল ফোনের উপর মানুষের নির্ভরতা বাড়ছে। অলাইনকে অনেক মানুষ বেঁচে থাকার অবলম্বনে পরিণত করেছেন। কেনাকাটার েেত্রও সে অবলম্বন খুব দ্রত বাড়বে বলে মনে করছি। নগদ অর্থ বহন করা অথবা ক্রেডিট কার্ড ওয়ালেট/মানিব্যাগে রাখা খুব নিরাপদ নয়। এছাড়া ক্রেডিট কার্ডে বিল পরিশোধের পর ডাকযোগে বিল আসবে বাসায়। পোস্টাল স্ট্যাম্প ব্যায়ের পাশাপাশি সময়ও দিতে হবে সে চেক লিখতে। কিন্তু �ফ্রিবী পে�-তে সে সব ঝামেলা নেই। সেলফোনই সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করবে। ক্রেডিট কার্ডের ব্যালেন্স সংরতি থাকবে ফোনের মেমরীতে। বিল পর্যালোচনা করবে মোবাইল ফোন নিজেই। সেল্যসম্যানকে বলতে হবে না কিছুই। সবকিছু মুহর্তে ঘটে যাবে পছন্দের জিনিষ হাতে নেয়ার পরই।
ড. সাইফুল খন্দকার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলোতে ইতিমধ্যেই অনলাইনে বিক্রি শুরু হয়েছে। অর্থাৎ তাদের সকল পণ্য ওয়েবসাইটে চলে গেছে। এভাবেই আমাদের উদ্ভাবিত সফটওয়্যারের দিকে মানুষের ঝোঁক বাড়বে। তিনি বলেন, মোবাইল ফোনের সবকিছু নিরাপদ থাকবে। এছাড়া আমরা একটি বক্স রাখবো যেখানে সকল পণ্যের বাজার দর পর্যবেণ করা যাবে। তালিকাভুক্ত গ্রাহকেরা ডিসকাউন্ট কূপণ পাবেন কিংবা উপহার কূপণ সংরণ করতে পারবেন মোবাইল সেটেই। সে কূপণ অথবা গিফট কার্ড বন্ধু-বান্ধবকেও প্রদান করতে পারবেন মোবাইল ফোনে। জীবনযাত্রাকে নিরাপদ ও সহজ করতে এমআইথ্রি� সল্যুশনের এ প্রযুক্তির বিস্তৃতির মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশীরাই শুধু নতুন পরিচয়ে অভিষিক্ত হবেন না, একইসাথে বাংলাদেশের নামও ভিন্নভাবে উপস্থাপিত হবে।
- New York Attorney General James Secures Reimbursements for T-Mobile Customers Whose Rates Were Unjustly Raised
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে কুনু-ফিরোজ পরিষদের সাত দফা ইশতেহার ঘোষণা; কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠা, সাশ্রয়ী ফিউনারেল সেবা, বিমানের সরাসরি ফ্লাইট ও আর্থিক স্বচ্ছতায় অঙ্গীকার
- ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থন: জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত আইরিন খান
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বিতর্ক, গুরুত্ব পেল স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি
- New York Attorney General James Warns New Yorkers About AI-Generated Election Misinformation Ahead of November Elections
- Bangladesh calls for global treaty to protect victims of crimes against humanity
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘে মুহাম্মদ নওশাদ জমির এমপি: মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রতিরোধে শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সনদ প্রণয়নের আহ্বান
- সোশ্যাল মিডিয়ার তথ্য গোপন করলে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাখ্যান, আবেদনপত্রে চাওয়া তথ্য সঠিক ও সম্পূর্ণভাবে দেওয়ার নির্দেশনা মার্কিন দূতাবাসের