বাংলাদেশী দর্শক শ্রোতারাই যেন আমার গান বেশি ভালবাসেন : ভার্জিনিয়ায় সঙ্গীত সন্ধ্যায় ভারতীয় শিল্পী শ্রীকান্ত
ভার্জিনিয়া: অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ভারতীয় শিল্পী শ্রীকান্ত আচার্য্যের একক সঙ্গীত সন্ধ্যা। ৯ অক্টোবর রবিবার ভার্জিনিয়ার ষ্প্রীংফিল্ড শহরের লী হাই স্কুল অডিটরিয়ামে হল ভর্তী দর্শকদের মুর্হমুর্হ করতালির মধ্য দিয়ে শিল্পী শ্রীকান্ত আচার্য্য প্রায় দুই ঘন্টা সঙ্গীত পরিবেশন করেন। বৃহত্তর ওয়াশিংটনের সাংস্কৃতিক সংগঠন রংতুলির আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় এই শিল্পী শ্রীকান্ত আচার্য্যের একক গঙ্গীত সন্ধ্যা। শিল্পী শ্রীকান্ত আচার্য্যের বাংলাদেশের দর্শকদের কাছে ব্যাপক ভাবে পরিচিত। তার ভাষায় বাংলাদেশী দর্শক শ্রোতারাই যেন আমার গান বেশি ভালবাসেন। তাই বারে বারে আমি ওদের ডাকে ওদের মাঝেই ছুটে আসি।
অনুষ্ঠানে শ্রীকান্ত আচার্য্য একটু আমার সঙ্গে দেখা করতে চাই, শ্রাবণের মেঘ ঝুলে আছে বিষন্ন বিকেল বেলা, আমরা নূতন প্রাণের চর হা হা, হায় হেমন্তলক্ষ্মী, তোমার নয়ন কেন ঢাকা, পথে চলে যেতে যেতে কোথা কোন্খানে, অনেক কথা বলেছিলেম কবে তোমার কানে কানে, এই লভিনু সঙ্গ তব সুন্দর হে সুন্দর, যে ছিল আমার স্বপনচারিণী, এত সুর আর এত গান,জানলা খোলা, এমন দিনে তারে বলা যায়, বাধা দিলে বাঁধবে লড়াই, মরতে হবে, কেন দূরে থাক ইত্যাদি গান মুর্হমুর্হ করতালীর মধ্যে দিয়ে পরিবেশন করেন। পুরাতন বাংলাগান, রবীন্দ্র সঙ্গীত, আধুনিক বাংলা সবখানেই তিনি তার গানের মাধ্যমে তুলে ধরে দর্শকদের মন জয় করেন।
অনুষ্ঠান শেষে শিল্পী শ্রীকান্ত আচার্য্য তার গান এবং সঙ্গীত জীবন সম্পর্কে বলেন, আমি কখনও পরিকল্পনা করে কিছু করি না। এই মুহূর্ত পর্যন্ত যেমন চলছে আমিও তেমনি চলছি। একটা সময় আমি চাকরি করতাম। সেটা করতে গিয়ে এমন একটা জায়গায় গিয়ে পৌঁছেছিলাম যেখানে গান থেকে দূরে সরে যাচ্ছিলাম। চাকরির ধরনটাই ওই রকম ছিল। কলকাতার ছেলে হলেও আমাকে শহরের বাইরে থাকতে হত। প্রচুর ট্যুর করতে হত আমাকে। আমি পরে হিসেব কষে দেখেছি প্রতি মাসে বাইশ কিলোমিটার ট্রাভেল করতে হত।
তিন বলেন, এই করতে গিয়ে আমার একটা সময় মনে হল যে কাজটি করতে আমি সবচাইতে ভালোবাসি সেটি হচ্ছে গান। তা আমার করা হয়ে উঠত না। এটা যখন ভাবনায় এল তখন হঠাৎ করেই আমি একদিন চাকরিটা ছেড়ে দিলাম। এটার মধ্যে কোনো বাহাদুরি ছিল না কিন্তু। বোকারা যেমন দুঃসাহস দেখায় আমিও সে রকম করলাম। আমার চাকরি ছেড়ে দেওয়ার পর কয়েক মাসের মধ্যে পরপর এমন কতগুলো ঘটনা ঘটল, যা ঘটবে বলে আমি কোনোদিন প্রত্যাশা করিনি। ক্যাসেট কোম্পানি সাগরিকা আমাকে একসঙ্গে দুটি অ্যালবাম করার প্রস্তাব দিল। এই ঘটনাটি ছিল সবচাইতে অপ্রত্যাশিত। আমিও প্রস্তাবটি লুফে নিলাম। তৈরি হল ‘মনের জানালা’ এবং ‘হে বন্ধু হে প্রিয়’। ক্যাসেট দুটি যখন রেকর্ডিং হচ্ছে সে সময় খবরটা কেউ জানত না, শুধু আমার স্ত্রী ও মা ছাড়া।
তিনি আরো বলেন, আমাদের পরিবার বরাবরই মামার বাড়ি ঘেঁষা। তারা ছিলেন বিক্রমপুরের। তারা ছিলেন আমাদের সামনে রোল মডেল। সকলেই লেখাপড়া জানা। ও বাড়ির সকলেই নানা জায়গায় বড় বড় চাকরি করতেন। তারা যদি বিষয়টি আঁচও করতে পারতেন, আমার হয়তো গান করা হত না। যাই হোক অ্যালবাম প্রকাশের পরে প্রচুর জনপ্রিয়তা পেল। সেটা পুজোর মৌসুম ছিল। আমি ভাবলাম মৌসুম ফুরালে হইচই থেমে যাবে। কিন্তু তারপরেও ক্যাসেট বিক্রি হল দেদাড়। আমার আনন্দ হতে লাগল। আবার টেনশনও হল।
শিল্পী শ্রীকান্ত আচার্য্যে বলেন, ১৯৯৬ সালের কথা। তখনই আমি ভাবিনি যে গানবাজনাই পেশা হবে। ভেবেছিলাম ব্যবসা করব। পুঁজি আমার ছিল না এক পয়সাও। তবুও সাহস করে বন্ধুদের সঙ্গে পরিকল্পনা করেছি গার্মেন্টসের ব্যবসার। সেটা কেন করেছিলাম এখন বলতে পারব না। বিষয়টা এখন চিন্তা করলেই হাসি পায়। যাই হোক, আমার অ্যালবাম দুটির জনপ্রিয়তা ক্রমেই বাড়তে থাকে। লোকেও চিনতে শুরু করল। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ডাক আসতে থাকল। আমি দেখলাম আমাকে ফুল টাইমের জন্য গান করতে হবে। আমি তাই করলাম। এখনও চলছে। আজ এখনও আপনাদের জন্য গান গাইতেই ভার্জিনিয়ায় আসা। আমার ভাগ্যে এটাই ছিল। তাই হয়েছে।
বাংলাদেশী শ্রোতাদের সম্পর্কে শ্রীকান্ত আচার্য্য বলেন, আমি যদিও কলকাতার মানুষ। কিন্তু বাংলাদেশী দর্শক শ্রোতারাই যেন আমারা গান দিয়ে আমার সাথে রিলেট করতে পারে। তারা আমার গানগুলো বেশ উপলব্ধী করতে পারে। বুঝতে পারে। এজন্য বাংলাদেশ আর বাংলাদেশী শ্রোতাদের প্রতি আমার একটি বড় টান রয়েছে। ওরা যেন আমাকে বুঝতে পারে সত্যিকারের শ্রীকান্ত আচার্য্যকে বুঝতে পারে। তাই বারবার আমি বাংলাদেশে যাই। বাংলাদেশী দর্শকদের কাছে ছুটে আসি।
আয়োজক সংগঠনের শান্তাণু বড়–য়া শিল্পী শ্রীকান্ত আচার্য্যের একক সঙ্গীত সন্ধ্যা ব্যাপারে ওয়াশিংটন বাংলাকে বলেন, বাংলাদেশ এবং ভারতীয় শিল্পীদের নিয়ে রংতুলি অনুষ্ঠান করে। এতে দুই দেশের মধ্যে শিল্পীদের মধ্যে এমনকি দর্শক শ্রোতাদের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি হয় এবং এটাই আমাদের আয়োজনের উদ্দেশ্য। এই উৎসব আয়োজনে সবার আরও সহযোগিতা চান তিনি।
- নিউইয়র্কে বহির্বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম করবস্থান স্কচটাউন বাংলাদেশ সেমিট্রির যাত্রা শুরু
- নিউইয়র্কে মুন্সিগঞ্জ-বিক্রমপুর অ্যাসোসিয়েশনের বর্ণিল অভিষেক
- Bangladesh Calls for Stronger Support for LDCs Ahead of Doha Midterm Review
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য আরও আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ
- Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN
- এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ
- Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda
- নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ