বাংলাদেশের ব্যাপারে মার্কিন সিনেটের ক্ষমতা
শওগাত আলী সাগর : একটা সময় ছিল যখন বিশ্ব ব্যাংকের কোনো কাগজের সূত্র ধরে রিপোর্ট করতে পারা অর্থনৈতিক সাংবাদিকতার আভিজাত্য হিসেবে বিবেচনা করা হত। ঢাকার অর্থনৈতিক রিপোর্টারদের হাতেগোনা কয়েকজন, বলা যায় দু-তিন জনই ক’দিন পর পর বিশ্ব ব্যাংকের দলিল ধরে রিপোর্ট করতেন। আর সেই রিপোর্ট নিয়ে অন্যান্য পত্রিকায় চিফ রিপোর্টার বা বার্তা সম্পাদকরা নিজেদের রিপোর্টারদের তুলোধুনো করতেন।
এখন অবশ্য সে দিন আর নেই। বিশ্ব ব্যাংকের দলিল-দস্তাবেজ পেতেও যেমন সাতঘাটের পানি ঘোলা করতে হয় না, মিডিয়াগুলোও এখন আর বিশ্ব ব্যাংকের সবকিছুকেই গুরুত্বপূর্ণ খবর মনে করে না।
তবে হালে পশ্চিমা দেশগুলোর নানা পর্যায়ের প্রতিনিধিদের বক্তৃতা-বিবৃতি, পার্লামেন্টের আলোচনা-বিতর্ক অধিকাংশ মিডিয়ার কাছেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশের রাজনীতি, নির্বাচন নিয়ে কোথায় কী আলোচনা হল, বিতর্ক হল সেটার জন্য বড় আয়তনের স্পেস দিতেও মিডিয়াগুলো কার্পণ্য করে না। আর রাতের টকশোগুলোতে কোন দেশের কোন কমিটিতে কয় মাসের ব্যবধানে কয় দফা শুনানি হল সে কথা বলতে বলতে অনেক সময় খোদ আলোচকের চেহারায়ও আতংকের ছাপ দেখা যায়।
পশ্চিমাদের এই ধরনের আলোচনা বা বিতর্কের যে গুরুত্ব নেই, তা কিন্তু নয়। বিশেষ করে ৫ জানুয়ারির প্রধান বিরোধী দলবিহীন নির্বাচনের পর উন্নয়ন সহযোগী ছাড়াও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বাংলাদেশ নিয়ে কী ভাবছে সেটা জানার জন্যই পশ্চিমাদের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার দিকে আমাদের নজর রাখা দরকার। সমস্যা হচ্ছে, অধিকাংশ সময়েই পশ্চিমাদের বক্তৃতা-বিবৃতির খণ্ডিতাংশ আমাদের মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়। যে রিপোর্টার রিপোর্টটি করছেন কিংবা যে মিডিয়ায় খবরটি প্রকাশিত হচ্ছে, তার বা তাদের মতাদর্শগত অবস্থানের প্রতিফলন ঘটাতে গিয়ে প্রায়শই আসল বক্তব্য হারিয়ে যায়।
১১ ফেব্রুয়ারি আরেক দফা শুনানি করেছে মার্কিন সিনেট কমিটি, কিন্তু শুনানির অর্থটা কী
মার্কিন সিনেট কমিটি আবার ‘শুনানি’ শব্দটি ব্যবহার করায় মিডিয়ার আগ্রহও যেন তীব্র হয়ে ওঠে। শুনানি শব্দটাকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয় যেন পশ্চিমা কোনো আদালতের কাঠগড়ায় বাংলাদেশকে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হচ্ছে!
মার্কিন সিনেটের বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক কমিটিতে এই শুনানিটা হয়েছে ঘন ঘন। এর আগে এই কমিটি একটি শুনানি করে সর্বসম্মত একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছিল সিনেটে। সিনেটে সেই প্রস্তাব গৃহীতও হয়েছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে ওই প্রস্তাবে।
১১ ফেব্রুয়ারি আরেক দফা শুনানি করেছে এই কমিটি। কিন্তু শুনানির অর্থটা কী? আমরা সচরাচর শুনানি বলতে আদালতের চেহারা সামনে দেখতে পাই, এটাও কি সে রকম কিছু?
এই কৌতূহল থেকেই যোগাযোগ করা হয় ওয়াশিংটনে বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক সিনেট কমিটির সচিবালয়ে। কমিটির মুখপাত্র অ্যাডাম শ্যারনের সঙ্গে টেলিফোনে যে সংলাপ হয়েছে সেটি এখানে উল্লেখ করছি।
বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক মার্কিন সিনেট কমিটির মুখপাত্র অ্যাডাম শ্যারনের সঙ্গে টেলিফোন সংলাপ:
প্রশ্ন: বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক সিনেট কমিটি আগামীকাল বাংলাদেশ নিয়ে শুনানি করছে। শুনানি বলতে তোমরা কী বুঝাতে চাও?
অ্যাডাম: আসলে কমিটির সদস্যরা তাদের মতামত দেবেন, কারও কোনো প্রশ্ন থাকলে প্রশ্ন করবেন, তার উত্তর নিয়ে আলোচনা হবে।
প্রশ্ন: হিয়ারিং বা শুনানি শব্দটা আসলে আদালতের ভাষা। সাধারণত বিচারের সঙ্গে যুক্ত।
অ্যাডাম: হ্যাঁ, ঠিকই। কিন্তু সিনেটে কমিটি কোনো আদালত নয়, কোনো বিচারও এখানে হচ্ছে না।
প্রশ্ন: তাহলে ‘হিয়ারিং’ শব্দটা তোমরা ব্যবহার করছ কেন?
অ্যাডাম: এটা আসলে একটা হিস্টোরিক্যাল টার্ম। সিনেটের কার্যক্রমের অংশ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরেই এটা ব্যবহৃত হচ্ছে।
প্রশ্ন: কিন্তু টার্মটা আদালত কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত….
অ্যাডাম: আমি আবারও কনফার্ম করছি, সিনেট কোনো কিছুর বিচার করে না, আলোচনা করে মাত্র।
প্রশ্ন: কিন্তু তোমরা যখন হিয়ারিং শব্দটা ব্যবহার কর, তখনি অটোমেটিক্যালি বিচার, আদালত, এই বিষয়গুলো সামনে চলে আসে। মার্কিন সিনেট সার্বভৌম কোনো দেশ সম্পর্কে এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার এখতিয়ার রাখে কি?
অ্যাডাম: আমি আবারও কনফার্ম করছি, সিনেট কমিটি বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করবে, যেমনটি করে থাকে অন্য দেশ বা ইস্যু নিয়ে। এখানে বিচার বা আদালত ইত্যাদির কোনো সম্পর্ক নেই।
প্রশ্ন: ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ‘ডিবেট’ শব্দটা ব্যবহার করে, তোমরা ‘হিয়ারিং’ শব্দটা ব্যবহার করছ। এর পেছনে কোনো কারণ আছে কি?
অ্যাডাম: আসলে এটা একটা হিস্টোরিক্যাল টার্ম।
প্রশ্ন: হিস্টোরিক্যাল টার্ম বলতে কী বুঝাতে চাও তোমরা?
অ্যাডাম: দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কাল অনলাইনে আলোচনাটা দেখ। তোমার ধারণা পরিষ্কার হয়ে যাবে।
প্রশ্ন: তোমাদের কিন্তু টার্মটা পরিবর্তনের চিন্তা করা উচিত। যেহেতু এটি ভুল বার্তা দেয়……
অ্যাডাম: লেট আস ওয়াচ টুমরো অ্যান্ড দ্যান গো ফ্রম দেয়ার।
অথচ ঢাকার মিডিয়ায় বা টকশোতে যখন বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এই শুনানি নিয়ে কথা বলেন, তাদের আলোচনা থেকে যে কারও মনে হতে পারে মার্কিন কোনো আদালতের ব্যাপার এটা। যেন শুনানির পরপরই পুরো বাংলাদেশকে না হোক সরকারকে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা হবে।
সেদিন ঢাকার একটি চ্যানেলে টকশোর আলোচনায় একজন সাবেক রাষ্ট্রদূতকেও বলতে শুনলাম, কংগ্রেসনাল কমিটি আসলে আদালতের মতোই ক্ষমতা রাখে; আদালত যেমন সাক্ষীর বক্তব্য নেয়, এই কমিটিতেও তেমনি সাক্ষ্য নেওয়া হয়। টকশোতে তিনি বিভিন্ন কংগ্রেসনাল কমিটির হিয়ারিং-এ নিজের উপস্থিতি এবং অভিজ্ঞতার আলোকেই এই মন্তব্য করছেন বলেও জানান। অথচ ওই কমিটির কর্মকর্তারা বলছেন, এটিও একটি টার্ম। কোনো নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে যিনি কথা বলতে কমিটির বৈঠকে আসেন তিনিই উইটনেস বা সাক্ষী।
আমার কাছে বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক সিনেট কমিটি আসলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির মতোই একটি ব্যাপার। বাংলাদেশের সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলোও নানা ইস্যু নিয়ে আলোচনা করে, সেখানে বিতর্ক হয়, তারা সরকারকে নানা বিষয়ে পরামর্শ দেয়, সুপারিশ পাঠায়।
ধরুন, মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে যদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়ক স্থায়ী কমিটি আলোচনার সিদ্ধান্ত নেয়, তারা পররাষ্ট্রমন্ত্রী, পররাষ্ট্র সচিব বা সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও বৈঠকে আমন্ত্রণ জানাবেন। তাদের কাছে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইবেন।
১১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত মার্কিন সিনেট কমিটির বৈঠকটিতেও তাই হয়েছে। বাংলাদেশের পোশাক খাতের হাল অবস্থা এবং শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনার জন্য ডাকা এই শুনানিতে মার্কিন সহকারি পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়াল, ডিপার্টমেন্ট অব লেবারের অ্যাসোসিয়েট ডেপুটি আন্ডার সেক্রেটারি এরিক বিয়েল ট্রেড অফিসের প্রতিনিধির কাছে বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন।
এক অর্থে এই আলোচনাকে শুনানি অবশ্য বলা যায়। কেননা বৈঠকে কমিটির সদস্য সিনেটররা সরকারের প্রতিনিধিদের কাছে নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ে পদক্ষেপ সম্পর্কে যখন শুনতে চায় সেটা শুনানি তো বটেই।
‘শুনানি’ একটা হিস্টোরিক্যাল টার্ম, সিনেটের কার্যক্রমের অংশ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরেই এটা ব্যবহৃত হচ্ছে
মার্কিন সিনেট কমিটিকে বাংলাদেশের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সঙ্গে তুলনাটা অনেকেরই না-পসন্দ হতে পারে। একজন সাবেক কূটনীতিক অবশ্য মার্কিন কংগ্রেসের ক্ষমতার উল্লেখ করে এই কমিটির মাহাত্ম্য বোঝানোর চেষ্টা করেছেন। দেশ হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যখন ক্ষমতাবান তখন তাদের সংসদীয় কমিটিরও অধিক ক্ষমতা থাকাই স্বাভাবিক। কাগজে-কলমে কিংবা কার্যপ্রণালী বিধির বর্ণনামতে, বাংলাদেশের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ক্ষমতাও তো একেবারে কম নয়। এটা তো সত্য যে মার্কিন সিনেট সদস্যদের কমিটি এই বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক সিনেট কমিটি!
দ্য কমিটি সিস্টেম ইন দ্য ইউএস কংগ্রেস-এর তথ্য অনুসারে, মার্কিন সিনেটের কাজের পরিধি এবং জটিলতা বিবেচনায় ২০টি স্থায়ী (স্ট্যান্ডিং) কমিটি এবং ৬৮টি সাব-কমিটির মধ্যে তার কাজ ভাগ-বাটোয়ারা করে দেওয়া হয়েছে। এই কমিটির আইনগত একটা অধিক্ষেত্র (লেজিসলেটিভ জুরিসডিকশন) আছে। আইন প্রণয়নকারী সংস্থাটির কার্যক্রম পরিচালনার অপরিহার্য অঙ্গ হিসেবে বিবেচিত হয় এই কমিটি।
এই কমিটি তার এখতিয়ারভূক্ত বিষয়ে বিশেষজ্ঞ জ্ঞান সংগ্রহ করে, সরকারের চলমান কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে এবং সিনেটের কাছে করণীয় সুপারিশ করে। প্রতি মেয়াদেই হাজার হাজার প্রস্তাবনা এই কমিটি এবং সাব-কমিটির কাছে পাঠানো হয়।
একটা বিষয় পরিষ্কার যে, মার্কিন যে কোনো স্ট্যান্ডিং কমিটিই যখন কোনো পদক্ষেপের পক্ষে অবস্থান নেয় সেটি আইনে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে সেটি করার জন্যও কমিটিকে নির্দিষ্ট কিছু পদক্ষেপের ভেতর দিয়ে যেতে হয়। কোনো স্ট্যান্ডিং কমিটি যখন কোনো বিষয় বিবেচনায় নেয় তখন প্রথমে তারা সংশিষ্ট সংস্থাগুলোর কাছ থেকে লিখিত মতামত নেয়। এরপর এই বিষয়ে অধিকতর তথ্য সংগ্রহ এবং পরিষ্কার ধারণা পাওয়ার জন্য কমিটির সদস্য নয় এমন বিশেষজ্ঞদের নিয়েও শুনানি করে। যারা বক্তব্য দিতে কমিটিতে আসেন তাদের উইটনেস বা সাক্ষী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
এই মতামতগুলো একত্রিত করে কয়েক দফায় আলোচনা ও পর্যালোচনা করে সুপারিশ হিসেবে সিনেটের কাছে পাঠানো হয়। সিনেটে উত্থাপিত হওয়ার পর পূর্ণ অধিবেশনে এ নিয়ে আলোচনার জন্য প্রস্তাব করা হয়। সদস্যরা চাইলে সেখানে নতুন করে বিতর্ক হতে পারে, আলোচনা হতে পারে অথবা সরাসরি গৃহীত হতে পারে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সিনেট কমিটির শুনানি থেকে বা কমিটি কি বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপের সুপারিশের চিন্তাভাবনা করছে?
১১ ফেব্রুয়ারির শুনানি থেকে এই বক্তব্যের একটা উত্তর পাওয়া যায়। সিনেট কমিটির চেয়ারম্যান মেনেনদেস সহকারি পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়ালের কাছে জানতে চেয়েছেন– এই যে আমরা উদ্বেগ প্রকাশ করছি, শক্ত বার্তা পাঠাচ্ছি, কিন্তু কিছুর প্রতি বাংলাদেশ সরকার সাড়া দিচ্ছে না; বাংলাদেশ সরকারকে আন্তর্জাতিক কমিউনিটির উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় সাড়া দিয়ে পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করতে যুক্তরাষ্ট্র সরকার কোনো পদক্ষেপ নিতে পারে কি?
নিশা দেশাই বিসওয়াল পরিষ্কারভাবেই বলেছেন, আমরা আমাদের প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে পারি, বাংলাদেশ সরকারকে আমরা তাগাদা দেওয়া অব্যাহত রাখতে পারি। কিন্তু বাংলাদেশের বর্তমান যে রাজনৈতিক সংকট সেটি বাংলাদেশের ভেতরেই সমাধান করতে হবে। অবশ্যই সেই সমাধানটি বাংলাদেশের লোকদেরই খুঁজে বের করতে হবে।
একটা বিষয় বিবেচনার দাবি রাখে, সিনেটররা রাজনীতিবিদ। তাদের ভোটারদের মধ্যে যথেষ্ট সংখ্যক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতরা আছেন। পশ্চিমা রাজনীতিবিদরা লবিস্টদের দ্বারাও প্রভাবিত হন। এই দুটোর যে কোনোটিই বাংলাদেশের ব্যাপারে কোনো সিনেটরকে অতিউৎসাহী করে তুলতে পারে। কিন্তু নিশা দেশাই বিসওয়াল যেহেতু সরকারের প্রতিনিধি, সেই কারণেই হয়তো-বা তার বক্তব্যে বাস্তব চিত্রটা বেশি ফুটে উঠেছে।
বাংলাদেশ নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য বা ইউরোপীয় ইউনিয়নের অবশ্যই আগ্রহ আছে। আগ্রহের কারণ বাংলাদেশে তাদের বিনিয়োগ, তাদের ব্যবসা। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে তাদের ব্যবসা বা বিনিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত হোক সেটা তারা চায় না।
আরও একটা বিষয়। পশ্চিমা প্রায় সবকটি দেশই তাদের তৈরি পোশাকের উল্লেখযোগ্য অংশ আমদানি করে বাংলাদেশ থেকে। বাংলাদেশের অস্থিরতা তাদের অভ্যন্তরীন কনজ্যুমার মার্কেটকেও অস্থির করে তুলে, যেটা তারা কোনোভাবেই চান না। যেমন আমরাও চাই না রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে আমাদের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হোক।
তাই বলে পশ্চিমা রাজনীতিবিদদের বাংলাদেশ নিয়ে আলোচনা, বিতর্ক কিংবা শুনানিকেই পরিত্রাণের পথ ভেবে তাদের ত্রাতা হিসেবে দেখার মানসিকতাটা বদলানো জরুরি।বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
শওগাত আলী সাগর: দৈনিক প্রথম আলো’র সাবেক বিজনেস এডিটর; টরন্টো থেকে প্রকাশিত নতুনদেশ ডটকম-এর প্রধান সম্পাদক।
- Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN
- এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ
- Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda
- নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ
- নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার অঙ্গীকার
- State Minister for Foreign Affairs Urges Stronger Global Action to Protect Civilians, Uphold Humanitarian Law and Support Rohingya Repatriation
- বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন সমুন্নত রাখা ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামার
- মহররম মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত!


