Tuesday, 27 October 2026 |
শিরোনাম
New York Attorney General James Announces Election Protection Hotline Ahead of November General Election ASAAL’s 19th Annual Convention Draws Nearly 500, Calls for Stronger Civic Engagement and Workers’ Rights নিউইয়র্কে ট্রাফিক এজেন্ট ইউনিয়নের সভায় দুই বাংলাদেশি নেতাকে ঘিরে সংঘর্ষ, আসন্ন নির্বাচন ঘিরে নেতৃত্বের বিরোধ প্রকাশ্যে দেহের মেহরাবে অনন্তের দীপ নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন স্থগিতের প্রতিবাদে ব্রঙ্কসে ‘সেলিম-আলী’ পরিষদের সমাবেশ; মামলার কারণে আর্থিক ক্ষতি ও ভোটাধিকার ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ নিউইয়র্কে আ্যসালের ১৯তম বার্ষিক কনভেনশন অনুষ্ঠিত; শ্রমিক অধিকার, নাগরিক ক্ষমতায়ন ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতের অঙ্গীকার নিউইয়র্কে আদালতের নিষেধাজ্ঞায় স্থগিত বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন; ওসমান চৌধুরীর সদস্যপদ প্রত্যাখ্যান নিয়ে মামলা, ৫ নভেম্বর পরবর্তী শুনানি; সংবাদ সম্মেলনে আইনি পরিস্থিতি তুলে ধরল নির্বাচন কমিশন হানি ট্র্যাপে হত্যার অভিযোগ, সাগরের মামলা পিবিআইতে দেওয়ার দাবি পরিবারের; প্রধান আসামির জামিনে উদ্বেগ, দ্রুত গ্রেপ্তার ও সুষ্ঠু তদন্তের আহ্বান ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট ইউএসএর সাধারণ সম্পাদক ড. সাদিয়া আফরিন এরা চরমোনাই পীরের যুক্তরাষ্ট্র সফর উপলক্ষে নিউইয়র্কে দোয়া মাহফিল, কুরআন-সুন্নাহর আলোকে বয়ান
সব ক্যাটাগরি

বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র মতামত দেবে না: মজিনা

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 100 বার

প্রকাশিত: August 31, 2013 | 2:33 PM

 

কূটনৈতিক রিপোর্টার: রাজনৈতিক ভাল-মন্দের বিষয় অভ্যন্তরীণ এবং তা বাংলাদেশই নির্ধারণ করতে সক্ষম হবে বলে মনে করেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজিনা। গতকাল রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক ও বঙ্গোপসাগরীয় নিরাপত্তা’- শীর্ষক  সেমিনারে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন। মার্কিন দূত বলেন, রাজনৈতিক সংলাপে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা রাখার জন্য অনেকেই বলছেন। আমি এ রকম মনে করি না। আমি মনে করি বাংলাদেশ একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র। কোন সিদ্ধান্ত তাদের ভাল হবে   , সেটা তারাই নির্ধারণ করবেন। যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে কোন মতামত দেবে না। মার্কিন দূতাবাসের সহায়তায় সেন্টার ফর ইস্ট এশিয়া ফাউন্ডেশন (সিয়াফ) ওই সেমিনারের আয়োজন করে। সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবীরের সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. আতাউর রহমান। স্বাগত বক্তৃতা করেন সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক নাসিম মাহমুদ। আলোচনায় অংশ নেন প্রবীণ সাংবাদিক সাদেক খান, সাবেক মন্ত্রী ড. ওসমান ফারুক, বাংলাদেশ  কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার এডমিরাল কাজী সারোয়ার হোসেন এবং নিরাপত্তা বিশ্লেষক ব্রিগেডিয়ার   জেনারেল (অব.) শাহেদুল আনাম খান। সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ড্যান মজিনা যুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ট্রান্স প্যাসিফিক পার্টনারশিপ (টিপিপি)-তে বাংলাদেশকে যোগ দেয়ার আমন্ত্রণ জানান। বলেন, আমি আশা করি বাংলাদেশসহ এ অঞ্চলের দেশগুলো টিপিপিতে যোগ দেবে। এতে বাংলাদেশের রপ্তানি বিপুল পরিমাণে বৃদ্ধি পাবে বলেও আশা করেন রাষ্ট্রদূত। বলেন, টিপিপিতে যোগ দিলে বাংলাদেশ বিশ্বের এক নম্বর পোশাক শ্রমিক রপ্তানির দেশ হতে পারে। ওষুধ, জুতা, সিরামিক, চামড়া ও পাটজাত পণ্যসহ অন্যান্য পণ্য রপ্তানিতে বাংলাদেশ বিশ্বে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। আর সমুদ্রপথের মাধ্যমেই বাংলাদেশ এ সুবিধা গ্রহণ করতে পারে। এর মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। বাংলাদেশ সরকার, ব্যবসায়ী মহল ও সুশীল সমাজ টিপিপি’তে যোগ দেয়ার এসব সুবিধার বিষয় অনুধাবন করতে পারবে বলে মনে করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি আশা করেন, রপ্তানি ও ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়িয়ে বাংলাদেশ মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হতে পারে। নাগরিকদের জীবনমানেরও উন্নতি করতে পারে। তবে রাষ্ট্রদূত তার আলোচনায় টিপিপিতে যুক্ত হওয়ার প্রস্তুতির বিষয়টিও উল্লেখ করেন। বলেন, কাজটি সহজ নয়। এতে অন্তর্ভুক্ত হতে হলে দেশের শ্রমিকদের অধিকার  ও নিরাপত্তার বিষয়গুলো গুরুত্ব দিতে হবে। সমুদ্র নিরাপত্তার বিষয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নৌযান দ্য কোস্টগার্ড কাটার জারভিস বাংলাদেশের হাতে আসছে। সমুদ্র নিরাপত্তা ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণে জাহাজটি কাজে লাগবে। এটি পরিচালনার জন্য বাংলাদেশী কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি ধর্মনিরপেক্ষ, সহিষ্ণু ও উদার গণতান্ত্রিক দেশ। এ অঞ্চলে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং জাতিসংঘের শান্তি মিশনে বাংলাদেশী সদস্যদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা উল্লেখ করেন রাষ্ট্রদূত। খাদ্য নিরাপত্তা, বাণিজ্য সম্পর্ক, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার পরিস্থিতির জন্য বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ২০৫০ সালে ৫২০ কোটি মানুষের বসবাস হবে। এটি বিশ্বের দ্রুত বিকাশমান অর্থনীতির অঞ্চল। যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ বাণিজ্য ও নিরাপত্তার বিষয়টি এ অঞ্চলকে ঘিরেই। কয়েক বছরের মধ্যে এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ বহু গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। রাষ্ট্রদূত বলেন, সমুদ্র সীমা জয় বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ সমুদ্রসীমায় সন্ত্রাসী তৎপরতা, চোরাচালান, জলদস্যুতা বন্ধ হোক- এটাই প্রত্যাশা তার। বাংলাদেশের সমুদ্রসীমার নিরাপত্তা রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের দৃঢ় অংশীদারিত্বের বিষয়টি আগামী নভেম্বরে জাহাজ আসার মাধ্যমে প্রকাশ পাবে এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, বাংলাদেশকে দেয়া জাহাজটিতে আধুনিক প্রযুক্তি রয়েছে। এর ফলে নিরাপত্তা রক্ষায় বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়বে। ড্যান মজিনা বলেন, দুই দেশের মধ্যে এখন সবচেয়ে শক্তিশালী, গভীর সম্পর্ক বিরাজ করছে। যদিও কিছু বিষয়ে মতভিন্নতা রয়েছে। গ্রামীণ ব্যাংকের কার্যকারিতা ও অখণ্ডতায় আঘাত করা এবং মানবাধিকার সংস্থায় আঘাতের মতো বিষয় এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ধীরে ধীরে এসব বিষয়ে মতভেদ দূর হবে বলে আমি বিশ্বাস করি। এক প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রেসিডেন্ট ওবামা স্পষ্ট উচ্চারণ করেছেন এ সমস্যার সমাধান মিয়ানমারেই নিহিত। আমরা প্রকাশ্যে ও ব্যক্তিগত আলোচনার সময় বারবার রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে কথা বলেছি। অপর এক প্রশ্নে তিনি বলেন, টিকফা খুবই সাধারণ বিষয়। বাংলাদেশকে তার স্বার্থের উপর নজর রেখে সব কিছু করা উচিত। এ চুক্তিটি বাংলাদেশ সই করবে আশা করে তিনি বলেন, যদি বাংলাদেশ মনে করে তাদের এ চুক্তির দরকার নেই তবে তারা চুক্তিটি না-ও সই করতে পারে। বঙ্গোপসাগরে প্রাকৃতিক ও খনিজ সম্পদের অনুসন্ধানে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতার বিষয়ে তিনি বলেন, মার্কিন প্রতিষ্ঠান কনোকোফিলিপস বর্তমানে দু’টি ব্লকে কাজ করছে। তারা সেখানে ভাল করেছে। আরও একটি ব্লকের জন্য দরপত্র দিয়েছে। আশা করা হচ্ছে বঙ্গোপসাগরে আরও গ্যাসের সন্ধান মিলবে। আমরা সামরিক প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বালাদেশকে সহায়তা করছি। সমুদ্রের সম্পদ আহরণেও বাংলাদেশকে সহায়তা করতে পারি। সেমিনারে ঢাকায় নিযুক্ত চীন ও স্পেনের রাষ্ট্রদূত-কূটনীতিক ছাড়াও দেশের কূটনীতিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি শিক্ষাবিদ, নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।মানবজমিন
বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ