বাংলাদেশের “স্বপ্ন পূরণের বাজেট” ২০১৬-১৭
“স্বপ্ন পূরণের বাজেট” শীর্ষক সংলাপের মূল প্রবন্ধ: স্বপ্ন পূরণের বাজেট ২০১৬-১৭
ড. এ.কে. আবদুল মোমেন
২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে বিশ্ব নেতৃত্ব- সর্বমোট ১৯৩টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানরা সম্মিলিত জাতিসংঘে এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেন এবং তা হচ্ছে, ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্ব থেকে দারিদ্য দূর করে এক সুখী-সমৃদ্ধশীল-শান্তিময় টেকসই পৃথিবী গড়ে তুলবেন, যেখানে কেউই উন্নয়নের মহাসড়ক থেকে ঝরে পড়বে না। বাংলাদেশের জন্য টেকসই উন্নয়নের ১৭টি লক্ষ্যমাত্রা এবং ১৬৯টি টার্গেট বিশেষভাবে জরুরি এ জন্য যে, দেশের যতগুলো অত্যাবশ্যকীয় বা ক্রিটিক্যাল সমস্যাগুলো যেমন দারিদ্র্য বিমোচন, জলবায়ুর করালগ্রাস থেকে মুক্তি, জ্বালানি ও খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, অবকাঠামোগত দুর্বলতা দূরীকরণ, শিল্পায়ন, যুগোপযোগী ও ইকো ফ্রেন্ডলী নগরায়ণ, অভিবাসীর স্বার্থ সংরক্ষণ, বহুজাতিক নদীনালার যথার্থ ব্যবহার, সমুদ্রের সম্পদ বা ব্লো ইকোনোমি, উন্নতমানের শিক্ষা ও প্রযুক্তির ব্যবহার, নারীর ক্ষমতায়ন, যুবক-যুবতীর যথাযথ সম্পৃক্তকরণ, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, সুস্বাস্থ্য ও সুশাসন অর্জন এবং সম্পদের যথার্থ ব্যবহার ইত্যাদি সবগুলো লক্ষ্যই জাতিসংঘের টেকসই লক্ষ্য- টার্গেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর অর্থ হচ্ছে জাতীয় সমস্যাগুলো সমাধানে আমাদের উন্নয়নের পার্টনার রাষ্ট্রগুলোও তা অর্জনে অঙ্গীকারাবদ্ধ। তা ছাড়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টেকসই উন্নয়নের সহায়ক দুটো স্বপ্ন ও চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন এবং এগুলো হচ্ছে ২০২১ সালের মধ্যে উচ্চ মধ্য-আয়ের দেশ হিসেবে গৌরব অর্জন এবং ২০৪১ সালের মধ্যে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ‘সোনার বাংলা’ প্রতিষ্ঠা Ñ বাংলাদেশ হবে একটি উন্নত-সমৃদ্ধ-স্থিতিশীল-শান্তিময় টেকসই অর্থনীতি।
এই স্বপ্ন পূরণের জন্য সর্বাগ্রে প্রয়োজন (১) উন্নত অবকাঠামো, (২) দ্বিতীয়তঃ উন্নত মানবসম্পদ Ñ শিক্ষা-দীক্ষা, কলা-কৌশল, জ্ঞান-বিজ্ঞান-সুস্বাস্থ্যসম্পন্ন উন্নত মানবসম্পদ যারা উন্নয়নের মহাসড়কের বহুবিধ কাজগুলো নিপুণভাবে দক্ষতার সঙ্গে সমাধা করতে পারবে এবং (৩) তৃতীয়তঃ উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার জন্য উপযুক্ত প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কাঠামো গঠন যার রূপরেখা হবে স্থানীয় পর্যায়ে ডিভলবিং অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ক্ষমতার প্রতিক্রমণ)। অবকাঠামো আবার দুপ্রকারের Ñ একটি হচ্ছে টেনজিবল বা দৃশ্যমান– যা ধরাছোঁয়া যায় এবং অন্যটি অদৃশ্যমান বা ইনটেনজিবল যা ধরাছোঁয়া যায় না। দৃশ্যমান অবকাঠামো হচ্ছে রাস্তা-ঘাট, সেতু, রেলওয়ে, নদীপথ, নৌ ও বিমান পোর্ট, হাইওয়ে নির্মাণ, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও কম্পিউটার ইত্যাদির উন্নয়ন ও ব্যবহার যা সরকার হাতে নিয়েছে। অদৃশ্যমান অবকাঠামো হচ্ছে প্রচলিত আইন-কানুনের, রীতিনীতির, কর্ম-পদ্ধতির, প্রসিডিওর ও প্রসেসগুলোর সরলীকরণ ও গ্রাহক-বান্ধব, ব্যবসা-বান্ধব করা এবং তা না হলে উন্নয়নের মহাসড়ক বারবার বাধাগ্রস্ত ও মন্থর হবে বা হোঁচট খাবে। আলোচ্য বাজেটে ২০২১, ২০৩০ এবং ২০৪১-এর ভিশন বা স্বপ্নগুলো বাস্তবায়নের জন্য যথার্থভাবে প্রথমতঃ অবকাঠামো এবং দ্বিতীয়তঃ শিক্ষা-স্বাস্থ্য ও মানবসম্পদ উন্নয়নের জন্য অধিকতর বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বস্তুত উন্নয়ন বাজেট যার পরিমাণ হচ্ছে ১,১৭,০২৭ কোটি টাকা তার মধ্যে ৮৫,৭৯৩ কোটি টাকা (৭৩.৩%) উপরোক্ত খাতগুলোতে বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬৩,৯৮১ কোটি টাকা (৫৪.৭%) রাস্তাঘাট-সেতু-ব্রীজ-জ্বালানি-বিদ্যুৎ ইত্যাদি বাবদ এবং বাকি ২১,৮১২ কোটি টাকা (১৮.৬%) শিক্ষা-স্বাস্থ্য-প্রযুক্তি ইত্যাদি বাবদ বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আরেকটি লক্ষ্য হচ্ছে সুষম বণ্টন ও সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ বিধান এবং এর জন্য মোট বাজেটের ১৯,৮৮০ কোটি টাকা বা ৫.৮ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া বাজেটের আরেকটি প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে বার্ষিক জিডিপি ৭.২% শতাংশের বেশি অর্জন তবে মুদ্রাস্ফীতি ৫.৮৭% এর মধ্যে থাকবে। মোটকথা ঈপ্সিত স্বপ্ন পূরণের জন্য যে যে ক্ষেত্রে অধিকতর বরাদ্দ দেওয়া উচিত সেসব ক্ষেত্রে তা প্রদান করায় এ বাজেটকে লক্ষ্য অর্জনের এবং স্বপ্ন পূরণের বাজেট বলা যেতে পারে এবং এ জন্যই এ বাজেট অত্যন্ত উত্তম এবং দিকনির্দেশনাময়।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে বাজেটের প্রস্তাবিত বরাদ্দ কি ‘সোনার বাংলা’ প্রতিষ্ঠার জন্য যথেষ্ট। নিশ্চয়ই নয়, তবে ‘সোনার বাংলা’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এ এক বলিষ্ঠ পদক্ষেপ। সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা বা বাজেট বাস্তবায়নের জন্য আরো একাধিক অত্যাবশ্যকীয় পথনির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে যার মধ্যে সুশাসন, দুর্নীতিমুক্ত সমাজব্যবস্থা, দক্ষ ও নিষ্ঠাবান কলা-কৌশলী ও সরকারি কর্মচারীবৃন্দ, উত্তম ও ট্রান্সফারেন্ট রীতিনীতি, কোয়ালিটি ব্যাংকিং ব্যবস্থা, ফাইন্যানসিয়াল মার্কেটের পরিপক্বতা, অবকাঠামোর পরিপক্বতা, কোয়ালিটি বা উত্তম ম্যানেজমেন্ট, শ্রমিক নিয়োগের ফ্লেকজিবিলিটি, দীর্ঘসূত্রতা ও আমলাতন্ত্রের লালফিতার দৌরাত্ম্য হ্রাস, ব্যবসার ট্রানজেকশন ব্যায়ভার লাঘব, আইনের উৎকর্ষতা এবং সর্বোপরি জনগণের সমর্থন ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, ইত্যাদি উল্লেখ্য। উপরোক্ত উপকরণ বা নির্দেশনাগুলো বাজেট আলোচনায় স্বাভাবিকভাবে আসবে তবে এগুলো বাজেটের অংশবিশেষ নয়।
অনেকের ধারণা এবারের বাজেট ‘উচ্চাভিলাষী’ এবং ‘অত্যন্ত বিশাল’। বাজেট উচ্চাভিলাষী বটে তবে বাস্তবায়নযোগ্য এবং একে বিশাল বলা যায় না এ জন্য যে, ৩,৪০,৬০৫ কোটি টাকার বাজেট দেশের জাতীয় জিডিপির মাত্র ১৭% শতাংশ। অনেক দেশের বার্ষিক বাজেট তাদের জিডিপির বিশ্লেষণে অনেক বড় হয়। উদাহরণ স্বরূপ, যুক্তরাজ্যের বাজেট তাদের জিডিপির ৪২% শতাংশ এবং আমরা যদি যুক্তরাজ্যকে অনুসরণ করি তাহলে এর আকার হওয়া উচিত ছিল ৮,৪১,৪৯৪ কোটি টাকা। তবে বর্তমান অবকাঠামো ও দক্ষতা বিবেচনায় সাড়ে ৮ লাখ কোটি টাকার বাজেট বাস্তবায়ন করা খুবই দুরূহ হবে। প্রস্তাবিত বাজেটে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে এবং এর মধ্যে প্রধান হচ্ছে (১) বাস্তবায়ন করা, (২) দ্বিতীয়তঃ রাজস্ব আদায়, (৩) তৃতীয়তঃ বিনিয়োগ বৃদ্ধি, (৪) চতুর্থতঃ কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, (৫) পঞ্চমতঃ ট্যাক্সের টাকার যথার্থ ব্যবহার, (৬) ষষ্ঠতঃ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, (৭) সপ্তমতঃ ঘাটতি পূরণ, ইত্যাদি। বাজেটের লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়নের জন্য প্রথমতঃ সম্পদের জোগান দিতে হবে। দ্বিতীয়তঃ আয়কর সংগ্রহ করতে হবে, তৃতীয়, ট্যাক্স দেওয়ার পরিধি ও করদাতার সংখ্যা অবশ্যই বৃদ্ধি প্রয়োজন। বর্তমানে ১৬ কোটি লোকের দেশে মাত্র ১২ লাখ লোক অর্থাৎ ০.৭৫ শতাংশ লোক সরাসরি আয়কর দেয় তা দেশের জন্য লজ্জাকর। বড় কথা হচ্ছে আয়কর আদায় করা এবং এর যথার্থ ব্যবহারও নিশ্চিত করা। সাম্প্রতিককালে সম্পদের যথার্থ ব্যবহার সময় সময় প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যাচ্ছে এবং এজন্যে এদিকে খেয়াল দিতে হবে। ঐকান্তিক ইচ্ছা থাকলে সম্পদ যেমন অর্জন সম্ভব, সম্পদের যথার্থ ব্যবহারও নিশ্চিত করা সম্ভব। সরকার যেহেতু সকল সরকারি কর্মচারীর বেতনভাতা দ্বিগুণ করেছেন সেজন্য তাদের কর্মক্ষমতা দ্বিগুণ না হলেও দেড়গুণ হওয়া অবশ্যই উচিত এবং তা যদি হয় তাহলে সম্পদ আহরণে বাজেটের লক্ষ্য ২,৪২,৭৫২ কোটি টাকা নয়, বরং ৩,৬৪,১২৮ কোটি টাকা সম্ভব হওয়া উচিত যা বাজেট ঘাটতি মিটিয়ে ১,২১,৩৭৬ কোটি টাকা উদ্বৃত্ত আয় হবে। এখানে বলে রাখা ভালো যে, অনুন্নয়নমূলক ব্যয় যা মোট বাজেটের প্রায় ৬৩.৩% শতাংশ (২,১৫,৭৪৪ টাকা) তার যথাযথ ব্যবহার শক্তহাতে নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন।
দেশে ধনী লোকের অভাব নেই এবং অনেকেই এখন কোটিপতি-লাখপতি। কথিত আছে যে, অনেক বাংলাদেশি নাগরিক মালেয়েশিয়া, দুবাই, কানাডা এবং যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে বাড়িঘর কিনছেন, ‘বেগম পাড়া’ তৈরি করেছেন, ছেলেমেয়েদের নিজ খরচে বিদেশে পড়াচ্ছেন, পানামায় টাকা খাটাচ্ছেন এবং অনেকেই ঘুষ-চুরি-হয়রানি-ডাকাতি ও ঋণখেলাপি করে সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন। সরকার সক্রিয় উদ্যোগ নিলে এদের চিহ্নিত করা কঠিন নয় এবং তাদের থেকে আয়কর আদায়ও অসম্ভব নয়। তাছাড়া সরকার উদ্যোগী হলে যারা কর ফাঁকি দিচ্ছেন তাদের শনাক্ত করাও সম্ভব। প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলো যদি শতকরা ২০ শতাংশ আয়কর অর্জন করতে সক্ষম হয় তাহলে ডিজিটালে অগ্রগামী বাংলাদেশে তা কেন শতকরা ১১ শতাংশের মধ্যে ঘুরপাক খাবে? এ অবস্থার উন্নয়নের জন্য সমূহ জোর দিতে হবে। বস্তুত যারা ঘাটতি পূরণ বা সম্পদ আহরণ সম্ভব নয় বলে নেতিবাচক অভিমত দিচ্ছেন তারা ‘সনাতনী অবস্থা বা বিজনেস-এজ-ইউজুয়েল’ (ইঁংরহবংং-ধং-ঁংঁধষ) অবস্থানে রয়েছেন- ২০১৬-১৭ বাজেটে এই সনাতনী অবস্থানের আমূল পরিবর্তন সম্ভব ও প্রয়োজন। এ জন্য সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলন যেমন প্রত্যাশিত, সরকারের বলিষ্ঠতা এবং ঐকান্তিকতাও জোরদার করা অতীব প্রয়োজন। মোদ্দাকথা হচ্ছে, রাজস্ব বোর্ডের দক্ষতা বাড়াতে হবে, করদাতাদের সংখ্যা বৃদ্ধি চাই, কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ সকল ব্যাংকের মধ্যে এবং সম্পদ আদায়কারীদের মধ্যে সমঝোতা ও সমন্বিত উদ্যোগ যেমন প্রয়োজন, কর ফাঁকি এবং আয়কর না দেওয়ার সব ফাঁকফোকর বন্ধ করে দিতে হবে। উল্লেখ্য, বর্তমানে বাজেটে রাজস্ব আয়ের পরিমাণ গেল বছরের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা থেকে মাত্র ১৫% শতাংশ বেশি। যেহেতু প্রতিবছর গড়ে ২৫ শতাংশ রাজস্ব আয় বাড়ছে, সুতরাং ১৫ শতাংশ টার্গেট সহজেই আদায় হওয়া উচিত।
এটা অবশ্যই স্বীকার করতে হবে যে, বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো যার ফলে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং ঈপ্সিত ৭.২% শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হবে। এ জন্য অবকাঠামো, গ্যাস, বিদ্যুৎ, স্পেশাল ইকোনোমিক জোন সৃষ্টি, উপযুক্ত প্রযুক্তির ব্যবহার যেমন নিশ্চিত করতে হবে তার সঙ্গে ব্যাংক ঋণ পাওয়ার জটিলতা এবং শিল্প স্থাপনের লালফিতার দৌরাত্ম্য কমাতে হবে যা সরকারের ওপর নির্ভর করে। বস্তুত জমি অধিগ্রহণে দুর্বলতা, দীর্ঘসূত্রতা ও দুর্নীতি, ব্যাংক ঋণ নিতে দুর্নীতি ও বিমাতাসুলভ আচরণ এবং শিল্প স্থাপনে ঘাটে-ঘাটে চাঁদাবাজি ও প্রতিবন্ধকতা, জ্বালানি-পানি ও বিদ্যুতের স্বল্পতা, রাজনৈতিক নেতিবাচক অবস্থান ও অস্থিরতা, ইত্যাদি বেসরকারি বিনিয়োগের প্রতিবন্ধক। তবে এগুলো দূর করা অসম্ভব নয়। সরকারের দৃঢ় চিত্ততা ও বলিষ্ঠ পদক্ষেপে তা দূরীভূত করা সম্ভব। তা করতে পারলে বিনিয়োগ বাড়বে, অধিকতর কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে। উল্লেখ্য, বহু লোক বিনিয়োগে উদ্যোগী, বহু প্রবাসী বিনিয়োগে উৎসাহী এবং বিনিয়োগবান্ধব মনমানসিকতা ও সেবাদান নিশ্চিত হলেই তা অর্জন অতিসহজ। এ ব্যাপারে অবশ্যই জোর দিতে হবে। ছোট-বড় প্রত্যেক বিনিয়োগকারীকে যেন ‘ওয়ান স্টপ’ সার্ভিস দেওয়া যায় তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তৃতীয় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে আমাদের বার্ষিক এডিপির বাস্তবায়ন হয় গড়ে ৭৫ শতাংশ মাত্র এবং তাও গুণগত মানদ-ের তুলনায় নি¤œমানের। এ জন্য প্রয়োজন সমন্বিত প্রচেষ্টা- মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অধীনে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন দপ্তর থাকবে যারা প্রতিমাসে এর বাস্তবায়ন নিরীক্ষা করে কাজগুলো ত্বরান্বিত করবে এবং গুণগত মানের প্রতি সজাগ থাকবে। বস্তুত ২০১৬-১৭ সালের প্রস্তাবিত বাজেট অত্যন্ত উন্নতমানের এবং বাস্তবায়নযোগ্য যাকে ‘অংঢ়রৎধঃরড়হধষ ুবঃ ধপযরবাবধনষব’ বলা যায়। তবে বাস্তবায়নের জন্যে প্রয়োজন একাধিক শক্তিশালী পদক্ষেপ। দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রপতি জেনারেল পার্ক ঘোষণা দেন যে, সব কর্মচারীর চাকরির স্থায়িত্ব, তাদের পদোন্নতি ও নিয়োগ, তাদের পারদর্শিতা ও অর্জন অর্থাৎ ওয়ার্কস পারফরম্যানসের ওপর নির্ভর করবে এবং পারফরম্যান্স আশানুরূপ না হলে চাকরি যাবে, জেল-জুলুমও হতে পারে। তার এই শক্ত অবস্থানের ফলে দক্ষিণ কোরিয়ার চেহারা বদলে যায়- তারা এখন উন্নয়নের বিস্ময়। আমাদের দেশে অনুরূপ ব্যবস্থা নিলে বাজেট যেমন বাস্তবায়ন সম্ভব, আমাদের ঈপ্সিত লক্ষ্যগুলোও অর্জন সম্ভব। একটি উদারহণ দিয়ে বক্তব্যটি শেষ করি। বর্তমানে জমি, বাড়ি, ফ্ল্যাট ইত্যাদি রেজিস্ট্রেশন বাবদ সব আদায়যোগ্য কর, ফি, দেয়, ইত্যাদি একমাত্র ‘সোনালী ব্যাংকের কয়েকটি নির্ধারিত শাখার’ মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয় এবং বার্ষিক ৭২০০ কোটি টাকা আদায় হয়। অর্থ মন্ত্রণালয় যদি সোনালী ব্যাংকের এই মনোপলি বা একচেটিয়া ব্যবস্থা বন্ধ করে সোনালী ব্যাংকসহ আরো অনেক ব্যাংককে এই আদায়যোগ্য কর বা ফি গ্রহণের জন্যে উন্মুক্ত করে দেন, তাহলে রেজিস্ট্রেশন বাবদ বার্ষিক আয় ৭২০০ কোটি টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে বিশেষজ্ঞদের মতে সর্বনি¤েœ ১০,৮০০ কোটি টাকা অর্থাৎ সর্বনি¤েœ পঞ্চাশ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। ডাবলও হতে পারে। তবে অর্থ মন্ত্রণালয় ১৯৭২ সালের এক আইন দেখিয়ে এখনো তা পরিবর্তন করতে গররাজি যদিও ভোক্তভোগীদের হয়রানি প্রতিদিন বাড়ছে এবং রেজিস্ট্রেশন করতে দুর্নীতি সর্বজনবিদিত। এখানে উল্লেখ্য যে, ১৯৭৬ সালের আগে ড্রাইভিং লাইসেন্সবাবদ বা অনুরূপ করবাবদ টাকা শুধুমাত্র বাংলাদেশ ব্যাংক গ্রহণ করতো, পরবর্তীতে তা উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় এবং তাতে রাজস্ব আয় যেমন বাড়ে, জনগণের হয়রানিও কমে। আরেকটি উদাহরণ, যখন একমাত্র ‘সিটিসেল’ মোবাইল ফোনের ব্যবসা করত তখন প্রতিটি মোবাইল ফোনের দাম ছিল সোয়া লাখ টাকার মতো। জননেত্রী শেখ হাসিনা যখন সিটিসেলের মনোপলি ভেঙ্গে গ্রামীণফোনসহ একাধিক সংস্থাকে এর দায়িত্ব দেন, মোবাইল ফোনের দাম ৭০০০ টাকায় নেমে আসে, এবং এর ব্যবহার ও রাজস্ব আয় কল্পনাতীতভাবে বাড়ে। মোদ্দাকথা, রাজস্ব আয়ের বহুবিধ সুযোগ রয়েছে এবং তা বৃদ্ধির জন্য সৃজনশীল ও বাস্তবধর্মী ব্যবস্থা নিতে হবে। তার
কোনো বিকল্প নেই। ধন্যবাদ।
(লেখক- চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ স্টাডি ট্রাস্ট, জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত)
- Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN
- এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ
- Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda
- নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ
- নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার অঙ্গীকার
- State Minister for Foreign Affairs Urges Stronger Global Action to Protect Civilians, Uphold Humanitarian Law and Support Rohingya Repatriation
- বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন সমুন্নত রাখা ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামার
- মহররম মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত!