Sunday, 21 June 2026 |
শিরোনাম
Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার অঙ্গীকার State Minister for Foreign Affairs Urges Stronger Global Action to Protect Civilians, Uphold Humanitarian Law and Support Rohingya Repatriation বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন সমুন্নত রাখা ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামার মহররম মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত! Bangladesh Calls for Stronger Humanitarian Action and Women’s Leadership in Peacebuilding at UN Forum নিউইয়র্কে জাতিসংঘ ফোরামে মানবিক সহায়তা জোরদার ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় নারীর নেতৃত্ব বৃদ্ধির আহ্বান বাংলাদেশের
সব ক্যাটাগরি

বাংলাদেশে গার্মেন্টে নিরাপত্তার উন্নতি সামান্যই -দ্য নিউইয়র্ক টাইমস

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 122 বার

প্রকাশিত: April 22, 2014 | 4:18 PM

বাংলাদেশে ২০০৫ সালে ধসে পড়ে স্পেক্ট্রাম সোয়েটার কারখানা। এতে নিহত হন ৬৪ জন। তারপর থেকে বাংলাদেশের গার্মেন্ট শিল্পে নিরাপত্তার মানের উন্নতি হয় নি বললেই চলে। এরপরে গত বছর রানা প্লাজা ধসে নিহত হন কমপক্ষে ১১২৯ জন। গার্মেন্ট শিল্পের ইতিহাসে এটি সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। তাজরীন ফ্যাশনসে অগ্নিকা-ে কমপক্ষে ১১২ শ্রমিক নিহত হওয়ার অল্প কয়েক মাসের মধ্যেই এ ঘটনা ঘটে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী পত্রিকা দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস এক
 প্রতিবেদনে এসব কথা বলেছে। ‘ব্যাটলিং ফর এ সেফার বাংলাদেশ’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদন যৌথভাবে লিখেছেন স্টিভেন গ্রিনহাউজ ও এলিজাবেথ এ. হারিস। এতে তারা আরও লিখেছেন, জনক্ষোভের মুখে পড়ে পশ্চিমা ক্রেতারা ও এ্যাপারেল ব্র্যান্ড যেসব কারখানায় তাদের পোশাক তৈরি করায় বাংলাদেশের সেসব কারখানার নিরাপত্তা উন্নত করার একটি বড় ধরনের পদক্ষেপ হাতে নেয়। এর মধ্যে রয়েছে, প্রতি মাসে কয়েক শ’ কারখানা দ্রুততার সঙ্গে পরিদর্শন। পাশাপাশি কোন কারখানায় নিরাপত্তা সমস্যা ধরা পড়লে তা সংশোধনে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়। সবার দৃষ্টি নিবদ্ধ হয়, যাতে এমন আর কোন ভবন ধস বা অগ্নিকা- না ঘটে। কিন্তু হাতে হাত রেখে এক সঙ্গে কাজ করার পরিবর্তে পশ্চিমা ব্র্যান্ডগুলো দু’টি বিপরীত মেরুতে বিভক্ত হয়ে পড়ে। অনেকে বলেন, এর ফলে সার্বিক উদ্যোগে ভাটা পড়ে। এ উদ্যোগে প্রশংসাও আসে। এক গ্রুপ দ্য বাংলাদেশ একর্ড ফর ফায়ার অ্যান্ড বিল্ডিং সেফটি। এ গ্রুপে আছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ব্র্যান্ড এইচঅ্যান্ডএম, কেয়ারফোর, ম্যাঙ্গো এবং যুক্তরাষ্ট্রের ১৪টি কোম্পানি সহ ১৫০টিরও বেশি সদস্য। অন্য গ্রুপের নাম- দ্য এলায়েন্স ফর বাংলাদেশ ওয়ার্কার সেফটি। এ গ্রুপে আছে ২৬টি কোম্পানি। এরা সবাই হয়তো যুক্তরাষ্ট্রের না হয় কানাডার। এর মধ্যে রয়েছে ওয়াল-মার্ট, গ্যাপ, টার্গেট ও কোহল। যুক্তরাষ্ট্রের প্রাধান্য আছে যে এলায়েন্সে তার কিছু সদস্য বলে যে, ইউরোপীয় প্রাধান্য আছে এমন একর্ডের চেয়ে বেশি কারখানা পরিদর্শন করেছে। একর্ডের কিছু সদস্য বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এলায়েন্স বা জোট যে পরিদর্শন করেছে তাতে কড়াকড়ি ছিল কম। একর্ড সদস্যরা বলছেন, তারা শ্রম ইউনিয়নকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করছেন। এসব শ্রম ইউনিয়নের বেশির ভাগ সদস্যই হলো শ্রমিক। ঠিক তখনই যুক্তরাষ্ট্রের জোট বলছে, পরিদর্শকরা যেসব কারখানা পরিদর্শনের সময় মারাত্মক ত্রুটি পান তা সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ ছিল। তখন যে সব শ্রমিককে লে-অফ দেয়া হয়েছে একর্ড তাদেরকে কোন বেতন দেয় নি। এ উত্তেজনায় আরও রসদ ঢালে যুক্তরাষ্ট্রের ১৫টি বিশ্ববিদ্যালয়। এর মধ্যে রয়েছে কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটি, ডিউক ইউনিভার্সিটি, জর্জটাউন ইউনিভার্সিটি ও নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটি। তারা ইউরোপীয় জোটকে তিরস্কার করে বলে যে, যেসব লাইসেন্সধারী ইউনিভার্সিটির লোগো তৈরি করে তাদের উচিত একর্ডের সঙ্গে যোগ দেয়া। তারা একর্ডকে বেশি উন্নততর কর্মসূচি হিসেবে মনে করেন। এ উত্তেজনা সত্ত্বেও বার্কলিতে অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার শ্রমিকদের অবস্থা তদারক বিষয়ে বিশেষজ্ঞ দারা ও’রোর্ক বাংলাদেশ নিয়ে এ উদ্যোগকে অপ্রত্যাশিত বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, একর্ড ও এলায়েন্স এ শিল্পের একদম গোড়ায় হাত দিয়েছে। তারা বিশ্বের মধ্যে গার্মেন্ট শিল্পে সবচেয়ে খারাপ অবস্থার উন্নয়নের চেষ্টা করছে। তারা যা করছে তা আসলেই এক কঠিন কাজ। নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটির স্টার্ন স্কুল অব বিজনেস সোমবার প্রকাশ করেছে একটি গবেষণা। তাতে দেখানো হয়েছে এ কাজটি কত কঠিন। এতে বলা হয়েছে, একর্ড ও এলায়েন্সের বড় সমস্যা হলো- তারা যখন বাংলাদেশের ৫ হাজারেরও বেশি তৈরী পোশাকের কারখানার মধ্যে ২০০০ পরিদর্শন করবে তখন বাকি ৩ হাজারেরও বেশি কারখানার অবস্থা থেকে যাচ্ছে খারাপ অবস্থায় এবং মধ্যস্বত্বভোগীরা গোপনে পশ্চিমা ব্র্যান্ডগুলোর অর্ডার পাঠাবে তাদের কাছে। এলায়েন্স বোর্ডের চেয়ারপারসন ক্যালিফোর্নিয়ার সাবেক জনপ্রতিনিধি ইলেন ও. তুশার বলেন, রানা প্লাজা ধস সব কিছু পাল্টে দিয়েছে এবং কোম্পানিগুলোকে পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করেছে। তা সত্ত্বেও বাংলাদেশে নিরাপত্তা সমস্যা সমাধান একটি ভারি বিষয়। তিনি আরও বলেন, দুর্নীতি ও অশান্ত রাজনীতির ইতিহাস আছে বাংলাদেশের। এমন একটি স্থান থেকে যেসব ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান সরে যাওয়ার পরিবর্তে কাজ চালিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটা আসলে প্রচলিত ব্যবসা নয়। বেশির ভাগ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান তাদের বেশির ভাগ সময় ঝুঁকির মধ্যে ব্যবসা পরিচালনা করে। তারা ঝুঁকি নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েই এ কাজ করছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো- এত দ্রুততার সঙ্গে সব কিছু পাল্টে দেবেন এমনটা কিভাবে আপনি করতে পারেন? 
অনিরাপদ বৈদ্যুতিক বাক্স, অবকাঠামোর উপযুক্ততা ও আগুন নিভানোর ব্যবস্থা পরিদর্শনের জন্য ১১০ জন প্রকৌশলীকে নিয়োগ করেছে একর্ড। এগুলো সব গার্মেন্টের জন্য অবশ্য পূরণীয় নতুন শর্ত। এ যাবৎ এলায়েন্স পরিদর্শন করেছে ৪০০ কারখানা। ইউরোপীয় একর্ড পরিদর্শন করেছে ৩০০ কারখানা। বাংলাদেশের ৬৩০টি কারখানা এই এলায়েন্সের সদস্য। আগামী ১০ই জুলাইয়ের মধ্যে এর প্রতিটি পরিদর্শন করার লক্ষ্য স্থির করেছে তারা। অন্যদিকে অক্টোবরের শেষ নাগাদ একর্ড পরিদর্শন করবে ১৫০০ গার্মেন্ট কারখানা। পরিদর্শকরা এরই মধ্যে মারাত্মক কিছু সমস্যা খুঁজে পেয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে, যেসব কলামের ওপর ভবনগুলো দাঁড়িয়ে আছে তাতে রয়েছে ফাটল। এমন ভবনেই অতিরিক্ত ভার চাপানো হয়েছে। কর্মক্ষেত্রের পাশেই রাখা হয়েছে দাহ্য কাপড়ের স্টোর। অগ্নিকা-ের হাত থেকে বাঁচার জন্য যে জরুরি সিঁড়ি নির্মিত হয়েছে তা ভবনের বাইরে না গিয়ে চলে গেছে আরেকটি ফ্লোরে। এসব সমস্যা সমাধানে অনেক অর্থের প্রয়োজন হবে। অগ্নিকা-ের হাত থেকে বাঁচার জন্য বহির্গমনের জন্য কয়েকটি দরজা বানাতে প্রয়োজন কয়েক হাজার ডলার থেকে আড়াই লাখ ডলার। একর্ডের প্রধান নিরাপত্তা পরিদর্শক ব্রাড লোয়েন বলেন, যেসব কারখানা পরিদর্শন করেছি তার সবগুলোতে সমস্যা পেয়েছি আমরা। শতকরা ৯০ ভাগ কারখানায় রয়েছে তালা দেয়ার উপযোগী গেট। যখন আমাদের প্রকৌশলীরা পরিদর্শনে গিয়েছেন সেখানে তখনও কোন কোন ক্ষেত্রে এসব গেট ছিল তালাবদ্ধ। একর্ডের পরিদর্শনের ফলে ধসে পড়ার আশঙ্কায় অস্থায়ী ভিত্তিতে বন্ধ করে দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে চারটি কারখানাকে। এ সময়ে একর্ড বাংলাদেশ সরকারের কমিটিকে অন্য চারটি কারখানা বন্ধ করে দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে। ওদিকে এলায়েন্সের পরিদর্শন নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন একর্ড সদস্যরা। তারা প্রশ্ন তুলছেন, যদি এলায়েন্স অধিক কারখানায় পরিদর্শন করে থাকে তাহলে কেন তারা মাত্র একটি কারখানা বন্ধ করেছে। মার্চে একর্ডের পরিদর্শনের পর বন্ধ করে দেয়া হয় সফটেক্স কারখানা। এ কারখানার আড়াই হাজারের বেশি শ্রমিককে কোন বেতন দেয় নি একর্ড। এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলায়েন্স সদস্যরা। এলায়েন্স বলেছে, তাদের পরিদর্শনের কারণে বাংলাদেশের যেসব শ্রমিক এমন পরিস্থিতিতে পড়েছেন তাদের অর্ধেক বেতন দেয়ার জন্য তাদের হাতে আছে ৫০ লাখ ডলার। সফটেক্স কারখানার প্রধান নির্বাহী রেজওয়ান সেলিম বলেছেন, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই তার কারখানা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তবে একর্ডের বাংলাদেশবিষয়ক নির্বাহী পরিচালক রব ওয়েস বলেছেন, তার গ্রুপ যখন কারখানা পরিদর্শনে যায় তখন কারখানার মালিকের পক্ষ থেকে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছিল।মানবজমিন 

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Situs Streaming JAV