Tuesday, 20 October 2026 |
শিরোনাম
New York Attorney General James Secures Reimbursements for T-Mobile Customers Whose Rates Were Unjustly Raised নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে কুনু-ফিরোজ পরিষদের সাত দফা ইশতেহার ঘোষণা; কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠা, সাশ্রয়ী ফিউনারেল সেবা, বিমানের সরাসরি ফ্লাইট ও আর্থিক স্বচ্ছতায় অঙ্গীকার ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থন: জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত আইরিন খান নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বিতর্ক, গুরুত্ব পেল স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি New York Attorney General James Warns New Yorkers About AI-Generated Election Misinformation Ahead of November Elections Bangladesh calls for global treaty to protect victims of crimes against humanity নিউইয়র্কে জাতিসংঘে মুহাম্মদ নওশাদ জমির এমপি: মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রতিরোধে শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সনদ প্রণয়নের আহ্বান সোশ্যাল মিডিয়ার তথ্য গোপন করলে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাখ্যান, আবেদনপত্রে চাওয়া তথ্য সঠিক ও সম্পূর্ণভাবে দেওয়ার নির্দেশনা মার্কিন দূতাবাসের ভার্জিনিয়ায় অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক হারুন চৌধুরীকে দেখতে গেলেন বাংলাদেশি কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ New York Attorney General James Issues Voter Guidance to Inform New Yorkers of Their Rights Ahead of November Election
সব ক্যাটাগরি

বাংলাদেশে টাকার বিপরীতে দুর্বল হচ্ছে ডলার : রফতানি ও রেমিট্যান্সে নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 143 বার

প্রকাশিত: March 24, 2013 | 12:15 PM

হারুন-অর-রশিদ :

টাকার বিপরীতে মার্কিন ডলারসহ বিভিন্ন বিদেশি মুদ্রার মান ক্রমশ দুর্বল হচ্ছে। ডলারের বিপরীতে টাকার মান শক্তিশালী হওয়ার এ প্রবণতা অব্যহত থাকলে রফতানি আয় ও রেমিট্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একদিকে শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি, হলমার্কস ও বিসমিল্লাহ গ্রুপসহ বিভিন্ন কোম্পানির ঋণ জালিয়াতিসহ নানা কেলেঙ্কারি এবং রাজনৈতিক চরম অস্থিরতার কারণে অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ অনেক কমে যাওয়ায় অর্থনীতিতে চরম ধসের আশঙ্কা করা হচ্ছে। অন্যদিকে মূলত রফতানি আয় এবং রেমিট্যান্সের উপরই কোনোভাবে দাঁড়িয়ে আছে বর্তমানকার অর্থনীতি। এ সময়ে বিদেশি মুদ্রার অবমূল্যায়ন হলে রফতানি আয় এবং রেমিট্যান্স কমে গিয়ে সার্বিক অর্থনীতি চরম বেকায়দায় পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আমার দেশ, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে টাকার মূল্যমান ডলারের বিপরীতে শূন্য দশমিক ১৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে এ সময়ে ডলারের দাম কমেছে ২০ পয়সা। আর গত এক বছরের ব্যবধানে ডলারের বিপরীতে টাকার মান বেড়েছে ৫ টাকা ৯০ পয়সা অর্থাত্ প্রায় ৭ শতাংশ। গত বুধবার আন্তঃব্যাংকিং চ্যানেলে প্রতি ডলারের বিপরীতে সর্বনিম্ন বিনিময় হার ছিল ৭৮ টাকা ৪০ পয়সা। গত বছরের ২৯ জানুয়ারি আন্তঃব্যাংকে মুদ্রাবাজারে মার্কিন ডলার দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৮৪ টাকা ৪৮ পয়সায় লেনদেন হয়। এরপর থেকে ডলারের দর পতন শুরু হয়। সেই ধারা এখনও অব্যাহত রয়েছে। এদিকে কার্ব মার্কেটেও (খোলাবাজার) ডলারের বিপরীতে টাকা শক্তিশালী হচ্ছে। খোলাবাজারে বর্তমানে প্রতি ডলার ৮০ থেকে ৮০ টাকা ৫০ পয়সায় লেনদেন হচ্ছে। অথচ গত বছর জানুয়ারিতে ৮৮ টাকায় বিক্রি হয়েছে এই ডলার। অন্যদিকে, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের একক মুদ্রা ইউরোর বিপরীতেও টাকা শক্তিশালী হচ্ছে। এছাড়া ব্রিটিশ পাউন্ড, অস্ট্রেলিয়ান ডলার, জাপানি ইয়েন, কানাডিয়ান ডলার, সুইস ফ্রাঁ, সৌদি রিয়াল, ইউএই দিরহাম, কুয়েতি দিনার, সুইডিশ ক্রোনা ও মালয়েশিয়ান রিঙ্গিতের বিপরীতে টাকার অবস্থান শক্তিশালী হওয়ার প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেক্স রিজার্ভ অ্যান্ড ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের মহাব্যবস্থাপক কাজী ছাইদুর রহমান বলেন, রেমিট্যান্স, বিদেশি সহায়তা ও রফতানি আয় বাড়ার কারণে বাজারে মার্কিন ডলারের চাহিদার তুলনায় যোগান বৃদ্ধি পেয়েছে ফলে টাকা শক্তিশালী হচ্ছে। টাকার বিপরীতে ডলারের এই দরপতন আমদানির জন্য স্বস্তিদায়ক হলেও রফতানির ক্ষেত্রে তার উল্টো। আমদানি করে যেসব পণ্যের চাহিদা পূরণ করা হয়, তার দাম কিছুটা কমতে পারে। অন্যদিকে বাংলাদেশে থেকে যারা পণ্য আমদানি করেন তাদের খরচ বেড়ে যাবে, তাদের পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাবে। তাই দাম বাড়লে অধিকাংশ পণ্যের চাহিদা কমে যেতে পারে। ফলে ব্যাপক হারে রফতানি আয় কমে যাবে। তাছাড়া টাকার মান অবমূল্যায়িত হওয়ার কারণে যে হারে রেমিট্যান্স এসেছে, এখন আবার টাকা মূল্যায়িত হওয়া শুরু করলে সেই ধারায় ভাটা পড়বে। তবে টাকা মূল্যায়িত হওয়াটাকে স্বস্তিদায়ক বলেই মনে করছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক মুস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, ডলার বা বিদেশি অন্যান্য মুদ্রার বিপরীতে টাকার মান শক্তিশালী হলে আমদানির ক্ষেত্রে সুবিধাই হবে। আগের তুলনায় আমদানি খরচ কিছুটা কমবে। তাছাড়া গত দেড় বছরে টাকা যেভাবে অবমূল্যায়িত হয়েছে, তাতে এখন যতটুকু মূল্যায়িত হচ্ছে তাতে রফতানিতে খুব একটা প্রভাব ফেলবে না। বেসরকারি আরেক গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইন্সটিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, বর্তমানে যে মূল্যমান রয়েছে ৭৮/৭৯ টাকা সেটাই সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য ভালো। তবে এই পতন অব্যাহত থাকলে রফতানির প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হতে পারে। রিজার্ভ বেশি আছে বলে অভ্যন্তরীণ বাজারে প্রভাব না পড়লেও বিদেশে রফতানি বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের দাম বেড়ে যেতে পারে বলে জানান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অর্থনীতির অধ্যাপক খন্দকার মুস্তাহিদুর রহমান। তিনি বলেন, টাকার মান বাড়ার কারণে রফতানির পণ্যের দাম বেড়ে যাবে, ফলে রফতানি আয় কমতে পারে। তাছাড়া আগে যে হারে রেমিট্যান্স এসেছে তাতেও ভাটা পড়বে। তবে আমাদের যেহেতু রিজার্ভ অনেক বেশি রয়েছে, সেক্ষেত্রে দেশের সার্বিক অর্থনীতিতে এখনই নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। উল্লেখ্য, বর্তমানে রিজার্ভের পরিমাণ ১ হাজার ৩৬০ কোটি ডলার এবং গত বছরে ১ হাজার ৪০০ কোটি ডলারেরও বেশি রেমিট্যান্স এসেছে।
বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ