Thursday, 25 June 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে বহির্বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম করবস্থান স্কচটাউন বাংলাদেশ সেমিট্রির যাত্রা শুরু নিউইয়র্কে মুন্সিগঞ্জ-বিক্রমপুর অ্যাসোসিয়েশনের বর্ণিল অভিষেক Bangladesh Calls for Stronger Support for LDCs Ahead of Doha Midterm Review নিউইয়র্কে জাতিসংঘে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য আরও আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার অঙ্গীকার State Minister for Foreign Affairs Urges Stronger Global Action to Protect Civilians, Uphold Humanitarian Law and Support Rohingya Repatriation
সব ক্যাটাগরি

বাংলাদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কক অত্যন্ত জোরালো : জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 138 বার

প্রকাশিত: September 22, 2016 | 8:19 PM

ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম, নিউইয়র্ক : জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে অত্যন্ত জোরালো বলে আখ্যায়িত করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী মধ্যবর্তী নির্বাচনের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে বলেছেন, এমন কি সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে যে মধ্যবর্তী নির্বাচন দিতে হবে। ’জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ বিষয়ে গণমাধ্যমকে জানানোর জন্য জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।ny_press_pm

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী এবারে তাঁর সাধারণ পরিষদের ‘৭১ তম অধিবেশনে অংশ গ্রহণকে সফল এবং ফলপ্রসু উল্লেখ করে এই অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে দেশের ভাবমূর্তিকে আরো উজ্জ্বল করেছে বলেও মন্তব্য করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সামগ্রিকভাবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭১তম অধিবেশনে আমরা বাংলাদেশের এজেন্ডাগুলো জোরালোভাবে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছি। বিভিন্ন ফোরামে আমাদের সক্রিয় এবং ফলপ্রসূ অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে বলে আমার বিশ্বাস।’পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন এ সময় উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলন পরিচালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম। অনুষ্ঠানে মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দসহ প্রধানমন্ত্রীর সফর সঙ্গীরাও উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচন ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আসন্ন কাউন্সিলের মধ্যে কোন সম্পর্ক নেই। তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন আওয়ামী লীগ একটি বড় রাজনৈতিক দল। তৃণমূল থেকে প্রতিটি ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা এবং জেলায় দলের কাউন্সিল সম্পন্ন হয়েছে। এখন কেন্দ্রীয় কাউন্সিল (দলের) অনুষ্ঠিত হবে এবং এই কাউন্সিলররা নেতৃত্বের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।’প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন সব সময় অনুষ্ঠিত হবে এবং তিনি মনে করেন এ নির্বাচনের সঙ্গে দলের কাউন্সিলের কোন সম্পর্ক নেই। তিনি আরো বলেন, ‘এটা আমাদের রুটিন কাজ এবং প্রতি ৩ বছরে দলীয় কাউন্সিল হয়।’

শেখ হাসিনা বলেন, জরুরি অবস্থায় এবং সামরিক শাসনামলে দলের কাউন্সিল হয়নি। তিনি বলেন, ‘কিন্তু অন্য সময় আমরা নিয়মিত দলীয় কাউন্সিল করার চেষ্টা করেছি এবং আমরা সেই প্রস্তুতই নিচ্ছে।’সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান সম্পর্কে বিএনপি ও কতিপয় অন্য দলের বিরোধিতা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, বিরোধীদলের প্রবণতা হচ্ছে প্রতিটি কাজের বিরোধিতা করা এবং এ ব্যাপারে ভয়ের কিছু নেই। তিনি আরো বলেন, ‘সংসদে বিরোধীদল যথাযথভাবে তাদের ভূমিকা পালন করছে। কিন্তু বিশেষ করে যারা সংসদে নেই এবং গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না, গত সাধারণ নির্বাচন বানচাল করতে যারা পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করেছে, ভোট কেন্দ্রে আগুন দিয়েছে এবং একজন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারকে হত্যা করেছে, বাস, ট্রেন, লঞ্চ ও ট্রাকে আগুন দিয়েছে, আপনি তাদের কাছ থেকে কোন কিছু আশা করতে পারেন না।

প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, গত নির্বাচন বানচালের জন্য বিএনপি-জামায়াত জোট এ ধরনের অপরাধ সংঘটিত করেছে। কিন্তু গত নির্বাচন বানচালে তারা তাদের প্রচেষ্টায় সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ‘তারা মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করেছে এবং যারা মানুষ পুড়িয়ে মারায় বিশ্বাসী তাদের কাছ থেকে আপনি ভালো কিছু আশা করতে পারেন না।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, কয়েকটি কারণে এ বছর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনটি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যার মধ্যে- প্রথমত, ইউরোপে চলমান শরণার্থী সংকট ও অভিভাসন সমস্যাসহ যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশগুলোর লাখ লাখ আশ্রয় প্রতাশীদের সমস্যা। দ্বিতীয়ত, মধ্যপ্রাচ্যে আইএস’সহ বিশ্বব্যাপী সহিংস জঙ্গী তৎপরতার উত্থান এবং পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলার প্রেক্ষিতে সৃষ্ট সমস্যার স্থায়ী সমাধানে জাতিসংঘের ভূমিকা। তৃতীয়ত, প্যারিস জলবায়ু সম্মেলনে ‘প্যারিস ক্লাইমেট ডিল’ অনুসমর্থনের বিষয়টি এবং চতুর্থত, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা সম্বলিত ‘২০৩০ এজেন্ডা ফর সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট’-এর চূড়ান্ত অনুমোদনসহ আরো কয়েকটি আন্তর্জাতিক চুক্তির অনুসমর্থনের বিষয়াবলী সংশ্লিষ্ট থাকা।

প্রধানমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে তাঁর সাধারণ অধিবেশনের সাইড লাইনে বিভিন্ন বৈঠক এবং বিশ্বনেতৃবৃন্দের সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়েও বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি সাধারণ অধিবেশনে তাঁর প্রদত্ত বক্তৃতা সম্পর্কে বলেন, ‘সাধারণ পরিষদের বিতর্ক অধিবেশনে আমি প্রতিবারের মত এবারেও মাতৃভাষা বাংলায় বক্তব্য রাখি।’শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমার বক্তব্যে সাম্প্রতিক সময়ে অভিভাসন সংকট, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ, জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব মোকাবেলাসহ বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থানকে জোরালোভাবে তুলে ধরি।’তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে আমার সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির পুনর্ব্যক্ত করি এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সন্ত্রাসীদের পরামর্শদাতা, মূল পরিকল্পনাকারি, মদদদাতা, পৃষ্ঠপোষক, অর্থ ও অস্ত্র সরবরাহকারী এবং প্রশিক্ষকদের খুঁজে বের করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানাই।’

প্রধানমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নের জন্য অর্থায়ন, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি হস্তান্তরসহ বিভিন্ন খাতে স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশসমূহকে আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিশ্রুত দেশগুলোর কাছে সহায়তার আহ্বান জানান। সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে অত্যন্ত জোরালো বলে আখ্যায়িত করেন প্রধানমন্ত্রী। কানাডায় পলাতক বঙ্গবন্ধুর খুনী নূর চৌধুরীকে দেশে ফিরিয়ে আনায় তাঁর সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে এবং নিউইয়র্কে নিজস্ব কনস্যুলেট ভবন নির্মাণে সরকারের উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে বলেও সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের জাবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান। সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নিজস্ব আত্মজীবনী লেখার বিষয়ে আপাতত কোন চিন্তা-ভাবনা নেই উল্লেখ করে তিনি নিজেকে জাতির পিতার কন্যা এবং ‘ফাদার্স ডটার’ হিসেবেই জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলার দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে চান এবং এটাকেই জীবনের অন্যতম লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বলেও উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনের পূর্ণ বিবরণ :
ঢাকা থেকে আগত এবং স্থানীয় সাংবাদিকবৃন্দ,
আসসালামু আলাইকুম।
আপনাদের সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা।
শ্রদ্ধা জানাচ্ছি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। স্মরণ করছি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের শহীদদের। শ্রদ্ধা জানাচ্ছি জাতীয় চার-নেতা এবং মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহীদ এবং ২-লাখ নির্যাতিতা মা-বোনকে। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি আমার সশ্রদ্ধ সালাম।
গত ১৯ থেকে ২১শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আমি জাতিসংঘ সদর দপ্তরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭১তম অধিবেশনের বিভিন্ন বৈঠকে আমি বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেই।
আমার সফরসঙ্গী হিসেবে মাননীয় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী, মাননীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রী, মাননীয় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী, মাননীয় শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী এবং মাননীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এই অধিবেশনে যোগ দেন।
কয়েকটি কারণে এ বছর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনটি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রথমত: বিশ্বজুড়ে, বিশেষ করে ইউরোপে চলমান শরণার্থী সঙ্কট ও অভিবাসন সমস্যা এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলো থেকে অন্যান্য দেশে লক্ষ লক্ষ আশ্রয় প্রত্যাশীদের সমস্যা সমাধানের বিষয়গুলো এবারের অধিবেশনে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়।
দ্বিতীয়তঃ মধ্যপ্রাচ্যে আইএস-সহ বিশ্বব্যাপী সহিংস জঙ্গি তৎপরতার উত্থান এবং পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলার প্রেক্ষাপটে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে জাতিসংঘের আওতায় আরও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়ে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের মধ্যে মতৈক্য পরিলক্ষিত হয়।
তৃতীয়তঃ এবারের অধিবেশনকালে গত বছরের শেষদিকে প্যারিসে অনুষ্ঠিত জলবায়ু সম্মেলনে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হওয়া ঐতিহাসিক Paris Climate Deal-টি বাংলাদেশসহ বেশ কিছু সদস্য রাষ্ট্র অনুসমর্থন করে।
চতুর্থতঃ একটি সমৃদ্ধ ও শান্তিময় বিশ্ব গড়ার লক্ষ্যে গত বছর জাতিসংঘের নেতেৃত্বে ঐতিহাসিক Paris Climate Dealছাড়াও বেশ কিছু যুগান্তকারী উদ্যোগ গৃহীত হয়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা সংবলিত 2030 Agenda for Sustainable Development-এর চূড়ান্ত অনুমোদন, উন্নয়নের জন্য বৈশ্বিক সহযোগিতা পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে Addis Ababa Action Agenda গ্রহণ, বিশ্বব্যাপী দুর্যোগ ঝুঁকি প্রশমনের জন্য Sendai Framework for Disaster Risk Reduction অনুমোদন এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার জন্য প্রথমবারের মত World Humanitarian Summit-এর আয়োজন।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের এবারের অধিবেশনে উল্লেখযোগ্য এই উদ্যোগসমূহের বাস্তবায়ন পরিস্থিতি ও প্রারম্ভিক অগ্রগতি বিষয়ে আলোচনা হয়।
১৯ সেপ্টেম্বর আমি “United Nations Summit on Refugees and Migrants”-র প্লেনারি সেশনে বক্তব্য রাখি। অভিবাসী ও শরণার্থী ইস্যুতে বংলাদেশের অগ্রাধিকারগুলো আমি তুলে ধরি। অভিবাসন বিষয়ক Global Compact-এ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রাগুলোর যথাযথ প্রতিফলন নিশ্চিত করার পাশাপাশি শরণার্থী, জলবায়ু উদ্বাস্তু ও অভিবাসীদের অধিকার সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানাই।
অভিবাসন ও উন্নয়ন সম্পর্কিত বৈশ্বিক ফোরাম (GFMD)-এর বর্তমান সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশ এই Compact-এর রূপরেখা প্রণয়নে সক্রিয়, দৃশ্যমান ও নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালন করে যাবে বলে আমি অঙ্গীকার ব্যক্ত করি।
একই সামিটের অংশ হিসেবে ১৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে আমি সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী মি. স্টেফান লভেন-এর সঙ্গে একটি গোলটেবিল বৈঠকে যৌথ-সভাপতিত্ব করি। বিশ্বব্যাপী সুষ্ঠু, নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিতকরণে Global Compact গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আমি আশাবাদ ব্যক্ত করি।
আপনারা জানেন, আমার ছেলে সজীব আহমেদ ওয়াজেদ জয় আমর তথ্য-প্রযুক্তি উপদেষ্টা হিসেবে বাংলাদেশে তথ্য-প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং বিকাশে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে।
তাঁর সহযোগিতা এবং উদ্ভাবনমূলক চিন্তা-ভাবনার ফলেই বাংলাদেশ এত দ্রুত তথ্য-প্রযুক্তি খাতে সাফল্য অর্জন করতে পেরেছে। আমাদের ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের কাজ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।
“ডিজিটাল বাংলাদেশ” বিনির্মাণে এবং “সুশাসনে তথ্য-প্রযুক্তি” খাতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ওয়ার্ল্ড অর্গানাইজেশন অব গভর্নেন্স অ্যান্ড কম্পিটিটিভনেস, প্লান ট্রিফিনিও, গ্লোবাল ফ্যাশন ফর ডেভেলপ্মেন্ট এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিউ হেভেন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব বিজনেস সম্মিলিতভাবে তাঁকে সম্মানজনক “আইসিটি ফর ডেভেলপ্মেন্ট” পুরস্কারে ভূষিত করে।
পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে আমিও উপস্থিত ছিলাম। মা হিসেবে এটা আমার জন্য অনেক গর্বের। আমি আশা করি জয় জাতির পিতার স্বপ্নের “সোনার বাংলাদেশ” গড়ে তোলা এবং “রূপকল্প ২০২১” ও “রূপকল্প ২০৪১” বাস্তবায়নে আরও জোরালো ভূমিকা পালন করবে।
UN-Women-এবার আমাকে “Planet 50-50 Champion” এবং Global Partnership Forum-আমাকে তাদের “Agent of Change Award” শীর্ষক পুরস্কারে ভূষিত করে। ২১ শে সেপ্টেম্বর আমি এ দুটি পুরস্কার গ্রহণ করি।
নারীর ক্ষমতায়ন এবং তাঁদের উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করে জাতিগঠনমূলক কাজে লাগোনোর ক্ষেত্রে নেতৃত্বদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ দু’টি পুরস্কার প্রদান করা হয়।
২০শে সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে বাংলাদেশের উদ্যোগে আয়োজিত “South-South and Triangular Cooperation in Scaling up Innovation in Public Service Delivery” শীর্ষক একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলাম। এসময় আমি আমার বক্তব্যে সরকারের “ডিজিটাল বাংলাদেশ” কর্মসূচি ও “এটুআই প্রকল্প”-এর আওতায় বাংলাদেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে দ্রুততম সময়ে বিভিন্ন সেবা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরি। একই সঙ্গে, পাবলিক সেক্টরের বিভিন্ন উদ্ভাবনসমূহ এবং সৃজনশীল উদ্যোগ বিনিমিয়ের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দক্ষিণের দেশগুলোর মধ্যে একটি “South-South Network of Public Organizations” প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করি।
২০ সেপ্টেম্বর নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী মিজ্ এরনা সোলবার্গ-এর আমন্ত্রণে আমি ‘Women’s Leadership and Gender Perspectives on Preventing and Countering Violent Extremism’-শীর্ষক বৈঠকে যোগ দেই। এ সময় আমি নারী শিক্ষাকে সহিংস জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদ বন্ধের শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করি।
একইদিন বিকেলে আমি মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমন্ত্রণে বিশ্বের আরও ৩১ জন রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের সঙ্গে “Leaders’ Summit on Refugees”-শীর্ষক বৈঠকে যোগ দেই। এসময় আমি আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধকালে ভারতে অবস্থান নেওয়া ১০ মিলিয়ন শরণার্থীর বিষয়টি উল্লেখ করি এবং চলমান শরণার্থী সমস্যার সমাধানে বিশ্বনেতাদের তাগিদ দেই। ’৭৫-পরবর্তী সময়ে নিজের শরণার্থী জীবনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বিশ্ব সম্প্রদায়কে শরণার্থীদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ করার আহ্বান জানাই।
এর পাশাপাশি আমি বাংলাদেশে অবস্থানরত মিয়ানমার শরণার্থী ও অনিবন্ধিত মিয়ানমার নাগরিক সম্পর্কিত সমস্যাটির একটি স্থায়ী ও গ্রহণযোগ্য সমাধানের আহ্বান জানাই।
২১ শে সেপ্টেম্বর আমি সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী মি. স্টেফান লভেন-এর আমন্ত্রণে সুইডেন সরকার, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ILO) এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থা (OECD)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত Global Deal-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দেই।
এই অনুষ্ঠানে আমি টেকসই শিল্পায়ন, শোভন ও যথোচিত কর্ম এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিষয়গুলো তুলে ধরি। ব্যবসাখাতের উন্নয়ন ও প্রসার এবং শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষায় উৎপাদনকারী, যোগানদার ও ভোক্তা শ্রেণির প্রত্যেককেই নিজ নিজ ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানাই।
একইদিন আমি জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত High-Level Panel on Water-এর একটি বিশেষ বৈঠকে প্যানেলের একজন মনোনীত সদস্য হিসেবে যোগ দেই। ২০৩০ উন্নয়ন এজেন্ডার পানি সম্পদ ও স্যানিটেশন সম্পর্কিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে আমি বেশ কিছু সুপারিশ তুলে ধরি। বিকেলে আমি এ বিষয়ে জাতিসংঘ কর্তৃক আয়োজিত একটি সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেই।
একইদিন অস্ট্রেলিয়া সরকার, UN-Women, Bill and Melinda Gates Foundation এবং জাতিসংঘ ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত “Making Every Woman and Girl Count”-শীর্ষক সভায় আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে যোগ দেই।
এসময় জেন্ডার সমতা ও নারীর ক্ষমতায়নকে আমার রাজনৈতিক দর্শন ও উন্নয়ন ভাবনার অন্যতম মূল বিষয় হিসেবে উল্লেখ করি।
সন্ধ্যায় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্ক অধিবেশনে বক্তব্য রাখি। প্রতিবারের মত এবারও আমি মাতৃভাষা বাংলায় বক্তব্য দেই।
আমার বক্তব্যে সাম্প্রতিক সময়ের অভিবাসন সঙ্কট, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ, জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব মোকাবিলাসহ বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান জোরালেভাবে তুলে ধরি।
সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস জঙ্গিবাদের প্রতি আমার সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করি এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সন্ত্রাসীদের পরামর্শদাতা, মূল পরিকল্পনাকারী, মদদদাতা, পৃষ্ঠপোষক, অর্থ ও অস্ত্র সরবরাহকারী এবং প্রশিক্ষকদের খুঁজে বের করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাই।
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নের জন্য অর্থায়ন, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি হস্তান্তরসহ বিভিন্ন খাতে স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশসমূহকে আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিশ্রুত সহায়তা দেওয়ার জন্য উন্নত দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানাই।
দ্বিপাক্ষিক বৈঠকসমূহ:
আমার এ সংক্ষিপ্ত সফরের সময় বেশ কয়েকজন রাষ্ট্র/সরকারপ্রধানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয়।
১৯ সেপ্টেম্বর মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রী অং সান সুচি’র সঙ্গে আমার দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয়। মিয়ানমারের দীর্ঘমেয়াদী জাতিগত সংঘাত নিরসনে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব মি. কফি আনান-এর নেতৃত্বে “Advisory Commission” গঠনকে স্বাগত জানাই। আমরা প্রতিবেশী দ’ুটি দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিদ্যমান সমস্যাসহ সকল দ্বিপাক্ষিক সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের বিষয়ে একমত পোষণ করি। আমি মিসেস সুচিকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানালে তিনি তা সাদরে গ্রহণ করেন।
১৯ সেপ্টেম্বর কমনওয়েলথ-এর মহাসচিব ব্যারোনেস প্যাট্রিসিয়া স্কটল্যান্ড-এর সঙ্গে আমার বৈঠক হয়। সংস্থাটির ইতিহাসে প্রথমবারের মত মহিলা মহাসচিব হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় আমি তাঁকে অভিনন্দন জানাই।
কমনওয়েলথ মহাসচিব নারীর ক্ষমতায়ন, দারিদ্র্য দূরীকরণ, তরুণ জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন, পরিবেশ বিপর্যয় রোধ এবং স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে সন্ত্রাস ও সহিংস জঙ্গিবাদ দমনে আমাদের ভূমিকার প্রশংসা করেন।
২০ সেপ্টেম্বর বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট মি. জিম ইয়ং কিম-এর সঙ্গে আমার দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয়। বৈঠকে বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট সংস্থাটির অর্থায়নে বাংলাদেশে চলমান বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে তিনি আগামীতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও অবকাঠামো খাতে বাংলাদেশে সহযোগিতা বাড়ানোর আশ্বাস দেন।
২১ সেপ্টেম্বর আমি সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট মি. জোহান ¯েœইডার আম্মান-এর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করি। সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের সার্বিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের প্রশংসা করেন। ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, পর্যটন, তথ্য-প্রযুক্তি, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্য, জ্বালানি ইত্যাদি খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে আমরা একমত পোষণ করি।
একইদিন ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট মি. ডোনাল্ড টাস্ক-এর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয়। সম্প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বের হয়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে সৃষ্ট সম্ভাব্য প্রভাবসমূহ সম্পর্কে ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্টের কাছে জানতে চাই। এছাড়া সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ, জলবায়ু পরিবর্তন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
আজ সকালে World Economic Forum-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান প্রফেসর ক্লস স্কাওয়াব-এর সঙ্গে বৈঠক হয়। প্রফেসর স্কাওয়াব শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও তথ্য-প্রযুক্তি খাতের উন্নয়ন এবং জেন্ডার সমতা অর্জনে বাংলাদেশের সাফল্যের প্রশংসা করেন।
১৯ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি সংস্থা Business Council for International Understanding (BCIU) কর্তৃক আয়োজিত একটি মত-বিনিময় সভায় যোগদান করি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বেশকিছু শীর্ষস্থানীয় কোম্পানির প্রতিনিধিগণ এতে অংশ নেন। আমি তাঁদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের ইতিবাচক পরিবেশ এবং ম্যাক্র-ইকোনমির বিভিন্ন দিক তুলে ধরে তাঁদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানাই। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পোশাকের শুল্ক ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার দেওয়ার বিষয়টি আবারও তুলে ধরি।
২০ সেপ্টেম্বর দুপুরে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি-মুন কর্তৃক আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করি।
২১ সেপ্টেম্বর প্রবাসী বাঙালিদের পক্ষ থেকে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেই ।
সামগ্রিকভাবে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭১তম অধিবেশনে আমরা বাংলাদেশের এজেন্ডাগুলো জোরালোভাবে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছি। বিভিন্ন ফোরামে আমাদের সক্রিয় এবং ফলপ্রসু অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে বলে আমার বিশ্বাস।
আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ।
খোদা হাফেজ।
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Situs Streaming JAV