বাংলাদেশ থেকে দক্ষিন সুদানে আপাতত সৈন্য নেয়া হবে না :জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ প্রতিনিধি আমিরা হক
নাশরাত আর্শিয়ানা চৌধুরী, যুক্তরাষ্ট্র : জাতিসংঘের সদর দপ্তরে কর্মরত জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ প্রতিনিধি বাংলাদেশী আমিরা হক বলেছেন, দক্ষিণ সুদানের ক্রান্তিকালে বাংলাদেশ প্রথম সৈন্য পাঠানোর আহ্বানে সাড়া দিয়ে মিউনেস্ক কঙ্গো থেকে জরুরী ভিত্তিতে হেলিকপ্টার ও সৈন্য পাঠিয়েছিল। বাংলাদেশ থেকে ওই সময়ে সৈন্য পাঠিয়ে অনেক বড় ধরনের সহায়তা করে। ওই সময়ে জরুরী সহায়তা করার কারণে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য শান্তিরক্ষী রয়েছে দক্ষিণ সুদানে। যারা শান্তিরক্ষার জন্য কাজ করছে। তাই আপাতত বাংলাদেশ থেকে দক্ষিন সুদানের জন সৈন্য নেয়ার দরকার হবে না।
জাতিসংঘে আমিরা হক একজন বাংলাদেশী যিনি এতটা উচ্চ পদে আসীন হয়েছেন। তাকে নিয়ে জাতিসংঘের কর্মকর্তারাও গর্বিত। তার কাজের নিষ্ঠা ও একাগ্রতায় সন্তুষ্ট বান কি মুন নিজেও। তিনিই প্রথম বাংলাদেশী যিনি জাতিসংঘে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরো উচুঁ আসনে নিয়ে গেছেন। তার এই ব্যাপারে অনুভূতি জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার এখানে কাজ করতে ভীষন ভাল লাগছে। আমি আশা করি আরো ভাল কাজ করতে পারবো। আমি কাজ করতে ভীষন মজা পাচ্ছি। অনেক কিছুই করার আছে।
আমিরা হক বলেন, দক্ষিন সুদানে ১১ হাজার শান্তিরক্ষী নিয়োগ করা হবে। এখন চার হাজার কম আছে। শিগগিরই এই সংখ্যা পূরণ করা হবে। ৩০ মে দুপুরে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এক সাক্ষাকারে তিনি এই কথা বলেন। তিনি বলেন, আগে সুদানে সৈন্য সংখ্যা ছিল ৭ হাজার। এখন ১১ হাজার করা হবে। চার হাজার যাদেরকে নিয়োগ করা হবে আগামীতে তাদেরকে ইথোপিয়া, উগান্ডা, কেনিয়া থেকে নেয়া হবে। বাংলাদেশ থেকে আগামীতে আর কত সৈন্য নেয়া হতে পারে এই ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা কখনও কোন দেশকে বলি না যে কত সংখ্যার সৈন্য পাঠাতে হবে। এটা ওই সব দেশের সঙ্গে আলোচনা করে ও তাদের প্রস্তাব অনুযায়ীও করা হয়।
পিচ কিপাররা কোন দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য যখন কাজ করে তখন তাদের উচিত কি বাচ্চাদের রক্ষা করা ও তাদের অধিকারগুলো নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ কোন ব্যবস্থা নেয়া এই বিষয়ে তিনি বলেন, শান্তিরক্ষীরা অনেক কিছুই করে। শান্তিরক্ষার জন্য যা যা করা দরকার। তারা নিজেদের জীবনের ঝুঁিঁক নিয়ে তা করেন। কারণ তাদের ম্যান্ডেড হলো সিভিলিয়ানদের রক্ষা করা। এই সিভিলিয়ানদের মধ্যে বাচ্চারাও সম্পৃক্ত। যখন সৈন্যদের ডিমোভিলাইজ করা হয় তখন প্রথম প্রাধান্য দেয়া হয় তরুণ সৈন্যদের। পিচ কিপিংয়ের নিয়মই হচ্ছে শান্তি ফিরিয়ে আনা ও শান্তি প্রতিষ্ঠা করা।
এদিকে তিনি বলেন, ২৯ মে আন্তজার্তিক শান্তি রক্ষা দিবস হিসাবে পালিত হয়। আজও আমরা সেই দিবসটি পালন করছি।
২৯ মে আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা দিবস উপলক্ষ্যে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এরমধ্যে ছিল সংবাদ সম্মেলন ও পুরস্কার বিতরন। শান্তিরক্ষা বাহিনীতে কর্মরতদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন। শান্তিরক্ষায় বিশেষ অবদানের জন্য জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা বাহিনীতে কর্মরতদের পুরস্কৃত করা হয়। পুরস্কার প্রদান করা হয় জাতিসংঘ ভবনের পেছনের লনে। সেখানে বিভিন্ন দেশের পুরস্কার বিজয়ীরা অংশ নেন। আমিরা হক ও জাতিসংঘের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই সময়ে উপস্থিত ছিলেন। আমিরা হক বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
আমিরা হক বলেন, আন্তর্জাতিক শান্তি রক্ষা দিবস পালন করা হয় যারা শান্তিরক্ষা মিশনে কর্মরত থেকে শান্তি প্রতিষ্ঠার কাজ করেছেন। এই কাজ করতে গিয়ে প্রাণ দিয়েছেন তাদের স্মরণে। এছাড়াও এখনও যারা নিরলস ভাবে শান্তিরক্ষী বাহিনীর অংশ হিসাবে বিভিন্ন দেশে জাতিসংঘের হয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য এটা করা হয়। জাতিসংঘ তাদের প্রতি সম্মান দেখায় যারা ইউনিফর্ম কিংবা সিভিলিয়ান অফিসার হিসাবে কর্মরত। তিনি জানান, ১৯৪৮ সাল থেকে এই পর্যন্ত মোট ৩০০০ শান্তিরক্ষী বিভিন্ন সময়ে নিহত হয়েছেন।
২০১৩ সালে আমরা ১০৬ জন শান্তিরক্ষী বাহিনীর সদস্যকে হারিয়েছি। শেষ যিনি মারা যান তিনি ডাফু-তে কিছুদিন আগে মারা গেছে।
শান্তিরক্ষী মিশনে কোন কোন টেকনোলজি সৈন্যদের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে এই প্রশ্নের উত্তরে বলেন, তারা যাতে ভাল অবস্থানে থেকে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করতে পারেন। তাদের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এরিয়াল সিস্টেম আধুনিকীকরণ করা হচ্ছে। এটা করা গেলে তারা রিয়েল টাইম ইনফরমেশন পাবে। আরো সতর্কভাবে কাজ করতে পারবে।
কোন মিশনে সবচেয়ে বেশি শান্তিরক্ষী ক্যাজুয়েলটি হয়েছে এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সবচেয়ে বেশি হয়েছে দক্ষিন সুদানে।আমাদের সময়.কম
- Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN
- এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ
- Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda
- নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ
- নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার অঙ্গীকার
- State Minister for Foreign Affairs Urges Stronger Global Action to Protect Civilians, Uphold Humanitarian Law and Support Rohingya Repatriation
- বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন সমুন্নত রাখা ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামার
- মহররম মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত!